somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

মোহাম্মদ আলী আকন্দ
আমি ময়মনসিংহ জেলা স্কুল থেকে ১৯৭৭ সালে এস.এস.সি এবং আনন্দ মোহন কলেজ থেকে ১৯৭৯ সালে এইচ.এস.সি পাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮৪ সালে এলএল.বি (সম্মান) এবং ১৯৮৫ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.এম পাশ করি।

স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির জন্য বাইডেনের শান্তি প্রস্তাব:

১৯ শে জুন, ২০২৪ রাত ৯:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৩১ মে ২০২৪ প্রেসিডেন্ট বাইডেন গাজায় স্থায়ী যুদ্ধ বিরতির জন্য তিন পর্বে বাস্তবায়ন যোগ্য একটি শান্তি প্রস্তাব পেশ করেছেন।

প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনার ধাপগুলি যথাক্রমে --

প্রথম পর্ব:
প্রথম পর্বটি ছয় সপ্তাহ ধরে চলবে।

এই পর্বে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
(ক) একটি সম্পূর্ণ যুদ্ধবিরতি;
(খ) গাজার সব জনবহুল এলাকা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার;
(গ) শতাধিক ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে হামাসের কাছে থাকা নারী, বয়স্ক এবং আহতসহ বেশ কিছু জিম্মিকে মুক্তি দান। এই জিম্মিদের সাথে কিছু আমেরিকান জিম্মিকে এই পর্যায়ে মুক্তি দিতে হবে;
(ঘ) নিহত জিম্মিদের দেহ বা দেহাবশেষ তাদের পরিবারের কাছে ফেরত দিতে হবে;
(ঙ) ফিলিস্তিনিরা উত্তর অঞ্চল সহ গাজার সমস্ত অঞ্চলে তাদের বাড়িঘরে ফিরে যাবে;
(চ) গাজায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক মানবিক ত্রাণসামগ্রী নিয়ে প্রবেশ করবে;
(ছ) আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের জন্য আবাসন ইউনিট সহ কয়েক হাজার অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র সরবরাহ করবে;
(জ) অবিলম্বে এই কার্যক্রম শুরু হবে।

প্রথম পর্ব চলার সময় অর্থাৎ ছয় সপ্তাহের মধ্যে ইসরায়েল এবং হামাস দ্বিতীয় পর্বে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করবে। এই আলোচনৰ মূল লক্ষ্য হবে শত্রুতার স্থায়ী সমাধান বের করা। প্রথম পর্যায়ে আলোচনার জন্য যদি ছয় সপ্তাহের বেশি সময় লাগে, তাহলে যতক্ষণ আলোচনা চলবে ততক্ষণ যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকবে। আমেরিকা, মিশর এবং কাতার আলোচনা চালিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করার জন্য কাজ করবে।

দ্বিতীয় পর্ব:

দ্বিতীয় পর্বে অন্তর্ভুক্ত থাকবে:
(ক) ফিলিস্তিনি বন্দিদের সাথে ইসরায়েলি সৈন্যসহ অবশিষ্ট জীবিত জিম্মিদের মুক্তির বিনিময় হবে;
(খ) ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে সম্পূর্ণ ভাবে প্রত্যাহার করবে;
(গ) যতক্ষণ পর্যন্ত হামাস তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে;
(ঘ) স্থায়ীভাবে শত্রুতা বন্ধ করা।

তৃতীয় বা চূড়ান্ত পর্ব:
(ক) গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনা শুরু হবে;
(খ) নিহত জিম্মিদের যে কোন দেহাবশেষ তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

বাইডেনের এই শান্তি প্রস্তাবের আলোকে আমেরিকা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে গাজায় যুদ্ধ বিরতির জন্য একটি প্রস্তাব পেশ করে। ১০ জুন, ২০২৪ সালে প্রায় সর্বসম্মতি ক্রমে এই প্রস্তাবটি পাশ হয়। রাশিয়া এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট না দিলেও ভোট দানে বিরত ছিল। চীন সহ বাকি স্থায়ী সদস্যরা প্রস্তাবের পক্ষে ভোট প্রদান করে।

নেতানিয়াহু কূটনৈতিক ভাষায় এই প্রস্তাব সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করলেও প্রকৃতপক্ষে প্রস্তাবটি মেনে নেয়। বিশ্বের প্রায় সব দেশ প্রস্তাবটিকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে স্বাগত জানায়। অন্তত পক্ষে এখন পর্যন্ত কোন দেশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে কোন মন্তব্য করে নাই।

পক্ষান্তরে, এই প্রস্তাবের পর হামাস একেবারে নিশ্চুপ হয়ে যায়। দীর্ঘ ১২ দিন এই প্রস্তাবের পক্ষে বা বিপক্ষে তারা কিছুই বলে নাই। এখানে উল্লেখ্য যে বাইডেনের প্রস্তাবটি কাতারের মাধ্যমে ঐদিন অর্থাৎ ৩১ মে হামাস নেতৃবৃন্দের কাছে পাঠানো হয়। দীর্ঘ ১২ দিন নীরব থাকার পর এবং নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবটি পাশ হওয়ার পর গত ১১ জুন হামাস এই শান্তি প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান বা গ্রহণ না করে পাল্টা অসংখ্য সংশোধনী প্রস্তাব পেশ করে। এই সংশোধনীগুলি পেশের মাধ্যমে হামাস একটি যুদ্ধ বিরতিতে যাওয়ার আগে আলোচনা করতে চায় বলে ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাইডেনের প্রস্তাবিত শান্তি প্রস্তাবের প্রথম পর্বেই আলোচনার জন্য ৬ সপ্তাহ সময় রাখা হয়েছে। আলোচনার প্রয়োজনে এই সময় আরো বাড়ানোর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। যেখানে ফিলিস্তিনি জনগণের দুঃখ-দুর্দশা নিরসনের জন্য এমুহূর্তে প্রথমই দরকার যুদ্ধ বিরতি, সেখানে হামাস প্রথমেই যুদ্ধ বিরতিতে না যেয়ে শুরুতেই আলোচনা করতে চাইছে যা ইসরাইলের জন্য সুবিধাজনক। এতে যুদ্ধ বিরতি বিলম্বিত হওয়ার ফলে ফিলিস্তিনিদের দুঃখ-দুর্দশা আরো প্রকট হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে জুন, ২০২৪ রাত ৯:৫২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অপারেশন ইকারুস: কুয়ালালামপুরের ছায়া সম্রাট

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



বালির নীল দিগন্ত
ইন্দোনেশিয়ার বালি দ্বীপের একটি নির্জন পাথুরে সৈকত। ভারত মহাসাগরের বিশাল নীল ঢেউ আছড়ে পড়ছিল তীরে। সমুদ্রের ঠিক ওপরের একটি আধুনিক কাঁচের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহলে হাদিস বিরোধী পোষ্টে ব্লগে লাইক না থাকলেও গ্রুপে লাইক পাঁচ হাজার আটশত

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৭ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০৪



হাদিস প্রেমিক হলো নাস্তিক ও আহলে হাদিস। উভয় দল হাদিস দিয়ে মুসলিমদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। আমি যেহেতু মুসলিমদের হেদায়াতের জন্য কাজ করি সেহেতু আমাকে আহলে হাদিস বিরোধী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইসলামী ব্যাংক - সবার ভাবী !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ১৭ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:০৬

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দীর্ঘদিন ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে মো. খুরশিদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

তারেক রহমানের প্রথম সফর কেন ভারতেই হওয়া উচিত ছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৯


দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে আড়াই ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান কলম্বোর পথ ধরে দেশে ফিরে আসেন । তিনি ভারতে ঢোকার অনুমতি পেয়েছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৪শের শহীদ নাকি প্রতারক ⁉️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৮ ই জুন, ২০২৬ ভোর ৫:৪৭



'বায়বীয় গুলিতে আহত হয়ে নিহত' এক শহীদের উপাখ্যান।

ইনুস বাটপারের ভূয়া শহীদের বিতর্কিত 'জুলাই শহীদ গেজেট' যে অসংখ্য মিথ্যা, প্রতারনা, জালিয়াতিতে ভর্তি একটা বড় রকমের মিথ্যাচার, বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম... ...বাকিটুকু পড়ুন

×