somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অলৌকিক ঘটনায় ভরপুর আল ইসরা ওয়াল মিরাজ

১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজ (রাত্রির যাত্রা ও আরোহণ) একটি অলৌকিক ঘটনা যা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ঐশরিক মুজেযার পর দ্বিতীয় বিস্ময়কর মুজেযা।

মিরাজ বিষয়ে বিভিন্ন ইসলামি পুস্তকে বিস্তারিত বিবরণ দেখতে পাওয়া যাবে। এই ব্লগে ব্লগার নতুন নকিবের এই বিষয়ে একটি পোস্টে আরো বিন্তারিত তথ্যমালা ও বিবরণ রয়েছে ।

আমি এখানে মিরাজ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের সুরা আল নাজম ও আল ইসরা এবং সহীহ বুখারী এবং সহীহ মুসলিম হাদীসে থাকা বর্ণনাগুলিকে মূল হিসেবে অবলম্বন করে ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যবহুল এই ঘটনার মোটামুটি একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছি । এছাড়াও মিরাজ বিষয়ে প্রাসঙ্গিকতা বিবেচনায় অন্যান্য বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থে থাকা বিবরণ সেই সাথে বৈজ্ঞানিক বিষয়গুলিতে ইন্টারনেট ও গুগলে থাকা প্রাসঙ্গিক তথ্য চিত্রের সহায়তা নিয়েছি।

আল ইসরা ওয়াল মিরাজের ঘটনা রাসুল হযরত মোহাম্মদ (সা.)এর জীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, নবীজীর রিসালাতের অনেক বড় মুজিযা আর উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য আল্লাহ প্রদত্ত একটি বড় নিয়ামত। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে আল্লাহ তাআলা যেমন প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সম্মান আরো বৃদ্ধি করেছেন, তেমনি তাঁর উচ্চ মর্যদা সম্পর্কে অবগত করেছেন সৃষ্টিজগৎকে। এই ঘটনা যেভাবে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর জীবন ও সীরাতের সাথে সম্পর্কিত, সেভাবে তা ইসলামী আক্বীদা ও বিশ্বাসেরও অংশ।
এই ঘটনায় একদিকে উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা ও নির্দেশনা, অন্যদিকে সেখানে লুকিয়ে রয়েছে অসংখ্য ইলাহী হিকমত ও রহস্য। কিন্তু নবীজীর সশরীরে ইসরা ও মিরাজের বাস্তবতার উপর ঈমান আনার পর মুমিনের জন্য যে প্রয়োজনটি সর্বাগ্রে অনুভূত হয় তা হল কুরআনে কারীম ও সহীহ হাদীসের আলোকে ইসরা ও মিরাজের পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ইলম হাসিল করা।

মিরাজ সংঘঠিত হয়েছিল নবিজী(সা.)মদিনায় হিজরতের আগে। মতান্তরে অনেকেই দিনটিকে ২৭ রজব হিসাবে তাদের লেখায় তুলে ধরেন । সহি মুসলিম হাদিস গ্রন্থের ১ম পর্ব , পৃষ্ঠা ২৬৬ এ মিরাজের বর্ণনা প্রসঙ্গে ফুট নোট ৪২ এ বলা হয়েছে ‘’নবুয়ত প্রাপ্তির দ্বাদশবর্ষের ২৭ এ রজব এবং হিজরতের তের বছর পুর্বে মিরাজের ঘটনা সংগঠিত হয়েছিল । হযরত খাদিজা ( (রা.) ইন্তেকালের পর এই ঘটনা ঘটে।

আমরা অনেকেই আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজের মৌলিক গল্পটি জানি - যে নবী (সাঃ) কে মক্কআর আল-মসজিদ আল-হারাম থেকে জেরুজালামে অবস্থিত আল-মসজিদ আল-আকসায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, যেখান থেকে তিনি (সা,) উর্ধাকাশে আরোহণ করেছিলেন। আসলে, এই অভুতপুর্ব যাত্রায় অনেক যাত্রাবিরতি ছিল, এবং কাহিনীটি বিস্ময় এবং অলৌকিকতায় ভরপুর।

আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজ এমন এক সময়ে সংঘটিত হয়েছিল যখন নবী (সা,) তীব্র কষ্ট ও যন্ত্রণার মুখোমুখি ছিলেন। কুরাইশরা, যারা তাঁর গোত্র এবং তার পরিবার ছিল, তারা ক্রমাগত নবী (সাঃ) ও তার অনুসারীদের উপহাস, অপমান ও নিপীড়ন করত। অধিকন্তু, নবী (সাঃ) সবেমাত্র দুঃখের বছরের ('আম আল-হুজন) মুখোমুখি হয়েছিলেন, যে সময়ে রাসুল (সা,) তাঁর প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রাঃ) এবং তাঁর চাচা আবু তালিবকে হারিয়েছিলেন, যিনি ছিলেন তাঁর অভিভাবক এবং সহযোগী।

এই সমস্ত দু:খ ভারাক্রান্ত বিষয় ছাড়াও, যখন নবী (সা,) ইসলামী বাণী প্রচারের জন্য তায়েফ ভ্রমণ করেছিলেন, তখন তায়েফের লোকেরা তাকে সবচেয়ে নিষ্ঠুরভাবে প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং তাদের সন্তানদেরকে নবিজীর প্রতি পাথর মারতে রাস্তায় পাঠিয়েছিল। তিনি শহর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

এত দুঃখ ও কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন পার করা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা,) কে সত্যিই একটি সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক উপহার দেওয়া হয়েছিল। তাঁকে কেবল পবিত্র কাবা শরীফ এবং আকাশের মধ্য দিয়েই নয়, শেষ পর্যন্ত ঐশ্বরিক উপস্থিতিতে, সমস্ত সান্ত্বনা এবং আশাদায়ী উৎসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাই আল-ইসরা ওয়াল-মি’রাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার মধ্যে একটি হল, ‘প্রত্যেক কষ্টের সাথেই স্বস্তি থাকবে’ فَاِنَّ مَعَ الۡعُسۡرِ یُسۡرً সুতরাং কষ্টের সাথেই রয়েছে সুখ ( সুরা আল ইনসিরাহ আয়াত ৫)।

আল-ইসরা: কাবা থেকে আল-আকসা পর্যন্ত ঘটনাবলী

মালেক ইবনে সা’সাআ (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন নবী সাল্লালাহু আলাইহেসসাল্লামকে যে রাতে আকাশ ভ্রমন করানো হয়েছিল সে রাতের বর্ণনা প্রসঙ্গে তিনি সাহাবাদের বলেছেন : আমি কাবার হাতিম অংশে ( মক্কার কাবা ঘরের সংলগ্ন উত্তরের অর্ধচন্দ্রাকার বৃত্ত দ্বারা ঘেরাও করা অংশটি হাতিম বা হিজরে ইসমাইল নামে পরিচিত। ৯০ সেন্টিমিটার উচ্চতা ও ১.৫ মিটার প্রস্থের একটি স্থান যা এই পোস্টের প্রচ্ছদ ছবিতে দেখানো হয়েছে) শুয়েছিলাম, হঠাত একজন আগন্তক (জিবরাইল)আমার কাছে আসলেন (সহি বুখারী,৩য় খন্ড , হাদিস নং ৩৬০০)। বিভিন্ন বর্ণনার মধ্যে সমন্বয়কারী ইসলামি আলেমগন বলেন, নবী (সাঃ) কে তখন কাবায় যমযমের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, কাবার অর্ধবৃত্তাকার প্রাচীর, যেখানে নবী (সাঃ) বলেছিলেন যে জিব্রাইল(আঃ) আমার বক্ষ খুলে দিয়েছিলেন এবং ধুয়েছিলেন জমজমের পানি দিয়ে। তারপর তিনি জ্ঞান ও বিশ্বাসে ভরা একটি সোনার খাঞ্জা এনেছিলেন এবং এর বিষয়বস্তু আমার বুকে ঢেলে দিয়ে তিনি তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন। (বুখারী ইংলিশ ভার্সান , প্রথম খন্ড বুক ৮ হাদিস নং ৩৪৯)।

এখানে প্রসঙ্গক্রমে একটি বিষয়ের অবতারনা করার ইচ্ছা পোষন করি। জনান্তিকে বলে রাখি এটা নেহায়েতই এই পোস্ট লেখকের একটি ধারণা মাত্র , এর সাথে কোন ইসলামিক স্কলারের লেখা বা কথা যুক্ত নয় ।

আমার ব্লগের অন্য একটি পোস্টে দেখানো হয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেশনা সংস্থা নাসা প্রেরিত পার্কার সোলার প্রব নামক একটি মহাকাশযান এবছরের জানুয়ারীতে সুর্যের পৃষ্ঠদেশের বেশ কাছাকাছি পর্যন্ত গিয়েছে, তাদের লক্ষ্য ছিল ২০২৪ এর শেষ দিকে সুর্যকে স্পর্শ করা ।
ঐ মিসনে তাদের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল কিভাবে মহাকাশযানটি সুর্যের কাছে গিয়ে সূর্যের প্রচন্ড উত্তাপে গলে না গিয়ে অক্ষত থাকতে পারে । উল্লেখ্য সূর্যের পৃষ্ঠদেশের তাপমাত্রা প্রায় ১০৪৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট( প্রায় ৫৬০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস) আর সূর্যের কেন্দ্রের তাপমাত্রা ২ কোটি ৭০লক্ষ ডিগ্রী ফারেনহাইট (প্রায় ১কোটি ৫০লক্ষ ডিগ্রি সেলসিয়াস )।

সুর্যপৃষ্টের তাপমাত্রা । ধনুকের মত দেখায় ছবিটি সুর্য হতে উত্থিত জলন্ত করুনা


বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে বৈজ্ঞানিক গবেষনা করার পর সুর্যের কাছে গিয়ে তার বিশাল তাপমাত্রায় মহাকাশযানটি গলে না গিয়ে টিকে থাকার জন্য Thermal Protective Symtem(TPS) কৌশল/প্রযুক্তিটি বিজ্ঞানীগন উদ্ভাবন করে ফেলেন । উদ্ভাবিত এই প্রযুক্তির মাধ্যমে তারা পার্কার সোলার প্রব নামক মহাকাশযানটির ভিতরে নিন্মের চিত্রের মত খুবই ছোট ও সুক্ষ কার্বন প্লেট সংস্থাপন করেন ।


এর ফলে মহাকাশযানটিকে শুধুই যে সুর্যের পৃষ্টদেশের তাপমাত্রা সহনীয় করে তুলে তাই নয় এটির নীজের তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রী সেলসিযাস( ৮৬ ডিগ্রী ফারেনহাইটে) নিয়ে আসে যাতে করে এর নীজ বডিসহ ভিতরের সকল ইকুইপমেন্টসই অক্ষত ও কার্যকরী থাকে।


আগ্রহী পাঠকগন নীচে দেয়া লিংকটি কপি করে কম্পিউটারে ব্রাউজ করে দেখতে পারেন স্পেসক্রাফ্টটি সুর্যের কাছে গিয়েও কেন প্রচন্ড তাপমাত্রায় গলে যায়নি https://www.youtube.com/watch?v=q1A6JRy9sWY


এখন কথা হলো মানুষ বিজ্ঞানীগনই যদি আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানে বলিয়ান হয়ে কারিগরী প্রযুক্তি উদ্ভাবন করে ১০০০০ ডিগ্রী ফারেনহাইট তাপমাত্রায় টিকে থেকে উর্ধাকাশে সুর্যের তাপমাত্রাকে এড়িয়ে তার যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারে, সেখানে মহাকৌশলী সৃস্টিকর্তা আল্লাহ তাঁর প্রিয় রাসুল সাল্লালাহু আলাইহের সাল্লামের কালবে একটি অতীব ক্ষমতাশীল ও হিকমতময় ধাতব পিন্ডটি তারঁ ফেরেসতার মাধ্যমে সংস্থাপন করে দিয়েছেন তাতে আশ্চর্য হওয়ার মত কিছু নেই। এটা নিশ্চিত যে এর ফলেই আল্লাহর অশেষ হিকমতে ও রহমতে তিনি বোরাকের মত দ্রুতগামী (যা আলোর গতির থেকেও বেশী দ্রুতগামী ) এবং মহাকাশের যেকোন মাত্রার প্রচন্ডতম তাপ ও পরিবেশের মধ্য দিয়েও গমন করতে পারার সক্ষমতার অধিকারী হয় । অসীম ক্ষমতার অধিকারী আল্লাহর কাছে কোন কিছুই অসম্ভব নয় ।

যাহোক, ফিরে যাই আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজ বিষয়ক পুর্ব কথায় ।
রাসুল (সা,) বলেন, 'তারপর আমার কাছে একটি সওয়ারী বহনকারী বাহন ( উল্লেখ্য পোস্টের প্রচ্ছদ ছবিতে দেখানো ছ বুরাকের ছবিটি কোন বাস্তব ফটোগ্রাফ নয়, সেটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা তৈরি একটি শৈল্পিক ইমেজ) আনা হয়েছিল যাকে বলা হয় আল-বুরাক (আরবী শব্দ বারক থেকে, যার অর্থ বজ্রপাত) বোরাকের চলার গতিবেগ সম্পর্কে বলা হয়েছে তার চোখ যতদুর দেখতে পারে এর প্রতি পদক্ষেপের গতি ছিল তারো বেশী। (সহিহ বুখারী শরীফ, হাদিস নম্বর ৩৬০০ )

এখানে উল্লেখ্য আলোর গতি প্রতি সেকেন্ডে ৩০০০০০ কিলোমিটার, এই গতিতে আলো একবছরে পারি দেয় ( ৩৬৫দিন X ২৪ ঘন্টা X ৬০ মিনিট X ৬০ সেকেন্ড = ৩১,৫৩৬,০০০ সেকেন্ড =১ আলোক বর্ষ )। এ হিসাবে এক আলোকবর্ষ সমান দুরত্ব হলো ৩১,৫৩৬,০০০ সেকেন্ড X ৩০০০০০ কিলোমিটার/সেকেন্ড =
৯,৪৬০,৮০০,০০০,০০০ কিলোমিটার)তথা ৯লক্ষ ৪৬হাজার ৮০কোটি কোটি কিলোমিটার। এখানে আরো উলেখ্য, বিজ্ঞানিগন হিসাব করে দেখেছেন যে মানুষ খালি চোখে রাতের আঁধারে ২.৫মিলিয়ন আলোক বর্ষ দুরে থাকা আকাশের তারাটি পর্যন্ত দেখতে পায় ছোট এক উজ্জল বিন্দুর মত ।

আমাদের পৃথিবীর সবচেয়ে নিকটবর্তী তারা প্রক্সিমা সেন্টরাই প্রায় ৪.২৪ আলোক বর্ষ দুরে। অপর দিকে এনড্রমিডো গ্যালাক্সিটি আমাদের পৃথিবী হতে ২.৫০ মিলিয়ন আলোক বর্ষ দুরে । অর্থাৎ সেখান হতে পৃথিবীতে আলো পৌঁছতে ২.৫০ মিলয়ন আলোকবর্ষ সময় লেগেছে । অথচ রাতে খোলা আকাশের নীচে আমরা চোখের পলকেই আকাশে সেই তারাটি দেখতে পাই কারণ মানুষের চোখ দুরবীন ছাড়াই খালি চোখে ২.৫০ মিলিয়ন আলোক বর্ষ দুরের তারা দেখতে পারে।
On a clear, dark night, if a person with good eyesight has an unobstructed view, they can see the Andromeda Galaxy, around 2.5 million light-years away. The human eye can also see the Triangulum Galaxy. At around 3 million light-years away, it’s thought to be one of the farthest objects visible from Earth by the human eye.
(source:https://www.warbyparker.com/learn/how-far-can-the-human-eye-see )
যে কেও নিকশ কালো আঁধার রাতে আকাশের দিকে তাকিয়ে প্রথমে একবার দেখে তারপরে চোখ বন্ধ করে দ্বিতীয় বার ঠিক একই তারকা রাজি দেখতে পাবেন । এই যদি হয় আমাদের মত সাধারণ মানুষের চোখের এক পলকের দৃষ্টি ক্ষমতা, তাহলে আল্লার সৃস্ট এত দ্রুতগতি সম্পন্ন বোরাক প্রতি পদক্ষেপে কত পথ পারি দিতে পারে চোখের পলকে তা একমাত্র রাব্বুল আলামীন আল্লাই ভাল জানেন । আমাদের চোখের দৃষ্টিকেও এমন পাওয়ারফুল করে তৈরী করার জন্যও মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লার কাছে শোকরিয়া জানাই ।

যাহোক, ফিরে যাই আবার আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজ বিষয়ক পুর্ব কথায় ।
বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ ও প্রভাবশালী আলেমতের মতামত হল যে নবীজি জিবরাইলল (আ.) এর সাথে তারপর আস-সাখরাহ আল-মুশাররাফাহ এর দিকে অগ্রসর হন যেটি বর্তমানে রক মসজিদের পবিত্র গম্বুজ দ্বারা অচ্ছাসিত। বরকতময় মসজিদ আল-আকসার হারাম আশ-শরীফ।


রাসুল ( সা.) আল-আকসায় পৌঁছান
অবশেষে, আল্লাহর রাসুল (সাঃ) পবিত্র শহর আল-কুদস (জেরুজালেমে) এলেন এবং তিনি বাইত আল-মাকদিসে পৌঁছলেন (আক্ষরিক অর্থে 'পবিত্র ঘর' বরকতময় মসজিদ আল-আকসার অপর নাম) জিবরাইল (আঃ) বুরাককে মহান পবিত্র স্থানের পশ্চিম দেয়ালের কাছে রেখেছিলেন' (সহিহ মুসলিম )।
( অমার ব্লগের অন্য একটি পোস্টে আল আকসার বিষয় অলোচনায় এই বিখ্যাত ইসলামী ঐতিহ্যময় স্থানগুলি চিত্র দেখানো হয়েছে। )

মিরাজ বিষয়ে আল্লাহ বলেন-
لَقَدۡ رَاٰی مِنۡ اٰیٰتِ رَبِّهِ الۡکُبۡرٰی
‘নিশ্চয়ই সে তার প্রভুর সবচেয়ে বড় নিদর্শন দেখেছে’।(সুরা আন নজম আয়াত ১৮ )
এখন দেখা যাক জিবরাইল (আঃ) কে নিয়ে নবী (সাঃ) যখন আকাশের স্তরে স্তরে উঠেছিলেন তখন কি হয়েছিল আর কি কি দেখেছেন।

প্রথম আকাশ থেকে সপ্তম আকাশ পর্যন্ত ভ্রমন বিবরণ


প্রথম আকাশ
আল্লাহ রাসুল (সা,) পবিত্র পাথরের গম্ভুজ থেকে আকাশের মধ্য দিয়ে আরোহণ করেছিলেন, যেখানে তিনি কেবল অনেক অলৌকিক দৃশ্য এবং অসংখ্য ফেরেশতাই দেখেননি, তিনি অতীতের নবীদের সাথেও সাক্ষাৎ করেছিলেন। যাত্রা পথের মাঝে, রাসুল (সাঃ)কে উত্তেজনা ও আনন্দের সাথে অভ্যর্থনা জানানো হয়েছিল, কারণ তাঁর আগমনটি অনেক প্রত্যাশিত ছিল।
তাঁকে স্বাগত জানানো হয় এই শব্দে, ‘স্বাগত হে ধার্মিক নবী ও পরহেজগার ভাই!’ ( সহি বুখারি)। (আদম (আ.) এবং ইব্রাহীম (আ.) অবশ্য তাকে ‘ধার্মিক পুত্র’ হিসেবে স্বাগত জানিয়েছিলেন)।

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অতঃপর প্রথম আসমানে আরোহন করলেন (আকাশের প্রথম স্তর এবং পরিচিত মহাবিশ্বের শেষ)।
এখানে কুরআনে বর্ণিত খোদা সৃষ্ট এই মহাবিশ্ব যার আকার ও বিস্তৃতি বিশাল তারকারাজী আর গ্যালাক্সি নিয়ে গঠিত, এবং জ্যোতিবির্জানীরা এখন পর্যন্ত এ মহাবিশ্বের যতটুকু দেখেছেন, জেনেছেন ও কল্পনা করেছেন তা এই প্রথম আসমানের নীচে থাকা তারকারাজী তথা গ্রহ ,নক্ষত্র ও গ্যালাক্সির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিষয়গুলি এই পুস্তকের ২য় অধ্যায়ে সচিত্র আলোচনা করা হয়েছে । আল্লাহ কুরআনে বলেছেন আমি অকাশকে সুসুভিত করেছি উজ্জল তারকা রাজি দিয়ে এবং সেগুলিকে সুরক্ষিত করেছি যমিনের উপর আসমান স্থাপন করে ।
আল্লাহ বলেন,
تَبٰرَکَ الَّذِیۡ جَعَلَ فِی السَّمَآءِ بُرُوۡجًا وَّ جَعَلَ فِیۡهَا سِرٰجًا وَّ قَمَرًا مُّنِیۡرًا
কতই না কল্যাণময় তিনি যিনি আসমানে নক্ষত্ররাজির সমাবেশ ঘটিয়েছেন আর তাতে স্থাপন করেছেন প্রদীপ আর আলো বিকিরণকারী চন্দ্র(সুরা ফুরকান, আয়াত ৬১)।
আকাশে ঊর্ধ্বগমনের পথ সম্পর্কে সুরা আম্বিয়ার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ পাক বলেন,
وَ جَعَلۡنَا السَّمَآءَ سَقۡفًا مَّحۡفُوۡظًا ۚۖ وَّ هُمۡ عَنۡ اٰیٰتِهَا مُعۡرِضُوۡنَ
এবং আকাশকে করেছি সুরক্ষিত ছাদ। কিন্তু তারা আকাশস্থিত নিদর্শনাবলী হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়( সুরা আম্বিয়া , আয়াত ১৭)।
তিনি কুরআনে অন্য একটি আয়াতে বলেছেন,
وَحَفِظْنَاهَا مِن كُلِّ شَيْطَانٍ رَّجِيمٍ
অর্থাৎ, আমি আকাশকে প্রত্যেক বিতাড়িত শয়তান হতে সুরক্ষিত করেছি। ( সুরা হিজর, আয়াত ১৭)।

সুরা আরাফের ৪০ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন,
اِنَّ الَّذِیۡنَ کَذَّبُوۡا بِاٰیٰتِنَا وَ اسۡتَکۡبَرُوۡا عَنۡهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمۡ اَبۡوَابُ السَّمَآءِ وَ لَا یَدۡخُلُوۡنَ الۡجَنَّۃَ حَتّٰی یَلِجَ الۡجَمَلُ فِیۡ سَمِّ الۡخِیَاطِ ؕ وَ کَذٰلِکَ نَجۡزِی الۡمُجۡرِمِیۡنَ
নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহঙ্কার করেছে, তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে। আর এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দেই( সুরা আরাফ , আয়াত ৪০)

আকাশমন্ডলী সৃজন করা নিয়ে আল্লাহ বলেন,
فَقَضٰهُنَّ سَبۡعَ سَمٰوَاتٍ فِیۡ یَوۡمَیۡنِ وَ اَوۡحٰی فِیۡ کُلِّ سَمَآءٍ اَمۡرَهَا ؕ وَ زَیَّنَّا السَّمَآءَ الدُّنۡیَا بِمَصَابِیۡحَ ٭ۖ وَ حِفۡظًا ؕ ذٰلِکَ تَقۡدِیۡرُ الۡعَزِیۡزِ الۡعَلِیۡمِ
অতঃপর তিনি আকাশমন্ডলীকে সাত আকাশে বিন্যস্ত করলেন দু’দিনে আর প্রত্যেক আকাশকে তার বিধি-ব্যবস্থা ওয়াহীর মাধ্যমে প্রদান করলেন। আমি আলোকমালার সাহায্যে দুনিয়ার আকাশের শোভাবর্ধন করলাম আর সুরক্ষারও ব্যবস্থা করলাম। এ হল মহা পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর সুনির্ধারিত (ব্যবস্থাপনা) (সুরা ফুরসিলাত , আয়াত ১২ )।

আসমানের বিবরণ, প্রথম আসমানে তথা আমাদেরকে যতটুকু তিনি জ্ঞাত করিয়েছেন এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানীগন যতটুকু জানেন সেই আসমানের বিষয়বস্তু এবং নিরাপত্তার বিষয়ে কুরআনে উপরে বর্ণিত আয়াতসমুহে বলা কথামালার বাস্তবসম্মত প্রমান পাওয়া যায় মিরাজের আলোচনায় আসমানসমুহের নিরাপত্তা রক্ষী ও তাদেরকে আল্লাহর আদেশের কথা বলে আসমানের দরজা খুলে দেয়ার বিবরণগুলি হতে। যা এ লেখাটি পাঠে এগিয়ে গেলে দেখা যাবে।
যেমনটি হাদিসের বর্ণনায় জানা যায় যখন জিব্রাইলল (আ,) তারপর (আকাশের দরজা) খুলে দিতে বললেন (এর একটি দরজায় ধাক্কা দিয়ে)। (সহিহ বুখারী ৩৪৯)
বলা হলো, "আপনি কে?" তিনি বললেন, জিবরাইলল (আ,)।
বলা হলো, "এবং তোমার সাথে কে আছে?" তিনি বললেন, "মুহাম্মদ [সা,]"।
বলা হল, "তাকে কি পাঠানো হয়েছে?" তিনি বললেন, “নিশ্চয়ই তাকে পাঠানো হয়েছে”।
এবং এটি (আকাশের দরজা) "আমাদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে তিনি (নবী) আদম (আ.) এর দেখা পেলেন। অতঃপর রাসুল (সা.) স্বাগত জানালেন এবং তাঁর জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করলেন"। ( সহিহ মুসলিম , ১ম পর্ব , হাদিস নম্বর ৩১৯)।
অন্য বর্ণনায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রিয় নবী (সাঃ) এর আগমনে ফেরেশতা দারোয়ানরা আনন্দিত হয়েছিল এবং ঘোষণা করেছিল, 'তাঁকে স্বাগতম! কী আশ্চর্যজনক আগমন ঘটেছে!' (মুসলিম, হাদিস নম্বর ৩১৯) এবং 'তিনি স্বাগত এই পরিবারের মধ্যে!' ( সহিহ বুখারী ৩৪৯ )।
অন্যান্য বর্ণনায় আমরা নবী (সা,) এবং হযরত আদম (আ,) এর সাক্ষাতের আরও বিশদ বিবরণ পাই:
’ সেখানে আমরা দেখলাম একজন লোক বসে আছেন কিছু লোক তার ডানদিকে আর কিছু লোক তার বামে। যখন তিনি তার ডান দিকে তাকান, তিনি হাসতেন এবং যখন তিনি তার বাম দিকে তাকান তখন তিনি কাঁদতেন। অতঃপর তিনি বললেন, হে পূণ্যবান নবী ও সৎ পুত্রকে স্বাগতম! (অথবা অন্য বর্ণনায়, "স্বাগত তোমাকে পরিবারের মধ্যে, হে বৎস! কি আশ্চর্যজনক পুত্র তুমি!" ( সহিহ বুখারি ,ইংলিশ ভার্ষান , ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩৪৯)।
আমি জিবরাইল (আ,)-কে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কে? তিনি উত্তর দিলেন,
“তিনি আদম [আ,] এবং তার ডান ও বাম দিকের লোকেরা তার বংশধরের আত্মা। তার ডানদিকে যারা জান্নাতী এবং যারা তার বাম দিকে তারা জাহান্নামী এবং যখন সে তার ডান দিকে তাকায় তখন সে হাসে এবং যখন সে তার বাম দিকে তাকায় তখন সে কাঁদে।" (সহিহ মুসলিম, ১ম খন্ড , হাদিস নম্বর ৩২৩)

অতঃপর নবী (সা,) জিব্রাইল (আ.)-এর সাথে আকাশের ২য় স্তরে আরোহণ করতে থাকেন। আবার প্রবেশের অনুমতি চাওয়া হল এবং ফেরেশতা রক্ষীরা আনন্দিত হয়ে রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে স্বাগত জানাল।

দ্বিতীয় আকাশে, নবী ঈসা (আ.) এবং ইয়াহিয়া (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ )

তৃতীয় আকাশে, নবী (সা,) হযরত ইউসুফ (আ,)এর সাথে সাক্ষাত করেছিলেন।(সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ )

চতুর্থ আকাশে, রাসুল (সা,) হযরত ইদ্রিস (আঃ)-এর সাথে সাক্ষাত করেছিলেন, তিনি নবী সাল্লালাহু আলাইহেস সাল্লামকে খোশ আমদেত জানিয়ে তাঁর জন্য মঙ্গল প্রার্থনা করেন (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ ) । উল্লেখ্য ইদ্রিস (আ.) এ বিষয়ে কুরআনে প্রশংসা করা হয়েছে:
وَّ رَفَعۡنٰهُ مَکَانًا عَلِیًّا
'আমরা তাকে একটি উচ্চ অবস্থানে উন্নীত করেছি'। ( সুরা মরিয়ম আয়াত ৫৭)

পঞ্চম আকাশে তিনি হযরত হারুন (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন((সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ )

ষষ্ঠ আকাশে তিনি হযরত হারুনের ছোট ভাই হযরত মুসা (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন।(সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯ )

উপরে বর্ণিত প্রতিটি স্তরে, এই নবীগণ আমাদের রাসুল (সাঃ) কে স্বাগত জানিয়েছেন এবং তাঁর জন্য কল্যাণ প্রার্থনা করেছেন এই বলে যে, ‘স্বাগত হে ধার্মিক নবী ও পরহেজগার ভাই!’ ( সহিহ বুখারি ১ম খন্ড হাদিস ৩৪৯)

সপ্তম আকাশ

সপ্তম আকাশে, নবী (সা,) তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ পূর্বপুরুষ হযরত ইব্রাহীম (আ.)-এর সাথে সাক্ষাৎ করেন, যিনি ‘আল-বাইত আল-মামুর’-এর দিকে পিঠে হেলান দিয়ে ছিলেন। আর এই মসজিদে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেশতা প্রবেশ করেন , আর কিয়ামত পর্যন্ত তাঁদের কেও দ্বিতীয়বার সে ঘরে ফিরে আসবেন না। (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নম্বর ৩১৯) আল্লাহর সৃষ্ট ফেরেসতাদের সংখ্যা যে কি বিপুল সংখক তা এর থেকেই বুঝা যায়। মিরাজে নবীজির স্বচক্ষে দেখার মধ্যে আমাদের জন্য কুরআনের বাণী সমুহের যতার্থতা যাচাই এর অপুর্ব সুযোগ রয়েছে। যথা কুরআনে প্রতিটি আমলনামা লিপিবদ্ধকারী ফেরেশতার আলোচনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে –
اَمۡ یَحۡسَبُوۡنَ اَنَّا لَا نَسۡمَعُ سِرَّهُمۡ وَ نَجۡوٰىهُمۡ ؕ بَلٰی وَ رُسُلُنَا لَدَیۡهِمۡ یَکۡتُبُوۡنَ
তারা কি মনে করে যে আমি তাদের গোপন বিষয় ও মন্ত্রণার খবর রাখি না। অবশ্যই রাখি।ামার ফেরেসতারা তাদের সঙ্গে থেকে সব কিছু লিপিবদ্ধ করে।’ (সুরা জুখরুফ, আয়াত ৮০)।
অপর আয়াতে া আল্লাহ বলেন
اِذۡ یَتَلَقَّی الۡمُتَلَقِّیٰنِ عَنِ الۡیَمِیۡنِ وَ عَنِ الشِّمَالِ قَعِیۡدٌ
‘যখন দু’জন লিপিবদ্ধকারী (ফেরেশতা) লেখক ডানে ও বামে বসে (মানুষের আমল লিখছে( সুরা কাফ , আয়াত ১৭)
مَا یَلۡفِظُ مِنۡ قَوۡلٍ اِلَّا لَدَیۡهِ رَقِیۡبٌ عَتِیۡدٌ
মানুষ যে কথাই উচ্চারণ করে তা গ্রহণ করার জন্য তার কাছে সদা প্রস্তুত প্রহরী রয়েছে( সুরা কাফ , আয়াত ১৮)
সপ্তম আকাশে বাইত আল মামুরের মসজিদে প্রতিদিন সত্তর হাজার ফেরেসতার আগমনের কথা ও উপরের আয়াতে বলা প্রতিটি মানুষের ( উল্লেখ্য সারা বিশ্বে এখন ৮ বিলিয়ন তথা ৮০০ কোটি মানুষ রয়েছেন ) দেনিক সার্বক্ষনিক আমলনামা লিবিবদ্ধ করার জন্য আল্লাহর ফেরেসতার সংখার কোন সীমা পরিসীমা যে নেই তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই ।
যাহোক ফিরে যাওয়া যাক আবার মিরাজ কাহিনীর আলোচনায় -

বাইত আল-মা’মুর আক্ষরিক অর্থ হল 'অনেক পরিদর্শন করা ঘর'। এটি সরাসরি পৃথিবীর কাবা ঘরের উপরে জান্নাতি কাবাঘর ( সহি বুখারী, ৩য় খন্ড , হাদিস নম্বর ৩৬০০ এর বিবরণীর পৃষ্ঠা নং ৬৮৭ তে থাকা ফুট নোট ৭৮ এ বর্ণিত ) ।
আদম (আ.)এর মতো ইব্রাহিম(আ.) নবী (সা.)-কে অভিবাদন জানিয়ে বলেছেন, ‘হে ধার্মিক নবী ও পূণ্যবান পুত্রকে স্বাগতম!’ [সহি বুখারি, তয় খন্ড , হাদিস নম্বর ৩৬০০ পৃষ্ঠা ৬২৭)।

অন্য বর্ণনায়, ইব্রাহীম (আ.) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উম্মতকে তাঁর সালাম জানিয়েছিলেন এবং আমাদেরকে উপদেশ দিয়েছিলেন যে, 'জান্নাতে রয়েছে বিশুদ্ধ মাটি এবং সুস্বাদু পানি, এবং এটি একটি সমতল সমভূমি), সুবহানাল্লাহ (আল্লাহর মহিমা), আলহামদুলিল্লাহ (সকল প্রশংসা আল্লাহর), লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ (আল্লাহ ছাড়া কোন উপাস্য নেই), এবং আল্লাহু আকবার (আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ)। [তিরমিযী]

সিদরাহ তিল-মুন্তাহা

নবী (সাঃ) তাঁর যাত্রা চালিয়ে সিদরাতিল মুনতাহার নিকটে পৌঁছেছিলেন।
عِنۡدَ سِدۡرَۃِ الۡمُنۡتَهٰی
সিদরাতিল মুনতাহার নিকট (সুরা আন নাজম আয়াত ১৪) ।
অভিধানে ‘সিদরাহ' শব্দের অর্থ কুল বৃক্ষ। মুন্তাহা শব্দের অর্থ শেষপ্রান্ত। পৃথিবী থেকে যা কিছু নীত হয় তা ওখানে গিয়েই থেমে পড়ে অতপর তার অপরপারে যারা রয়েছেন তরা সেখান হতে তা গ্রহণ করে উপরে নিয়ে যান ( সহিহ বুখারী , তয় খন্ড , হাদিস নম্বর ৩৬০০ এর বিবরণীর ফুট নম্বর ৭৭, পৃষ্ঠা ৬২৭)
মহানবী (স,) এই বিশাল বৃক্ষের বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন!
‘[এর] পাতা ছিল হাতির কানের মতো এবং এর ফল বড় মাটির পাত্রের মতো’( সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড নং ৩১৯]
‘অত:পর যখন তা আল্লাহর নির্দেশে আচ্ছাদিত হল, তখন এমন পরিবর্তন হল যে সৃষ্টির মধ্যে কেউই এর সৌন্দর্যের প্রশংসা করার ক্ষমতা রাখে না’। (সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস ৩১৯)
তিনি আরও বলেছেন: 'অনেক রঙ এটিকে ঢেকে দিয়েছে যা আমি জানি না (অর্থাৎ এই গাছের রঙগুলি বর্ণনাতীত ছিল)'। [ সহিহ মুসলিম ১ম খন্ড হাদিস নং ৩১৯]
সুবহানআল্লাহ, মহানবী (সা,) আল্লাহর পক্ষ থেকে সত্যিই এক আশ্চর্য নিদর্শন প্রত্যক্ষ করেছেন।

নবিজীর দেয়া উপরের ঐসব বিবরণ ছাড়া কোনো মানুষের সাধ্য নেই সিদরাতিল মুনতাহার সৌন্দর্য বর্ণনা করার। নবিজির এই সব বিবরনের উপর অনেক শিল্পীই কল্পনায় আঁকেন সিদরাতিল মুনতাহার কিছু দৃষ্টি নন্দন কাল্পনিক ছবি, সিদরাতিল মুনতাহার প্রকৃত দৃশ্য সেসল থেকে আরো অনেক অবর্ণনীয় সুন্দর ।
শিল্পীর তুলিতে আঁকা সিদরাতিল মুনতাহার একটি দৃষ্টি নন্দন কাল্পনিক চিত্র(এটি সত্যিকার কোন ছবি নয় )


রাসুল (সা.) এর উর্ধাকাশে ভ্রমনের স্তর ও যে সমস্ত নবীদের সাথে তাঁর সাক্ষাত হয়েছ



সপ্তম আসমান ভ্রমনে অনুষ্ঠিত হয় ঐশ্বরিক মিলন /যোগাযোগ সভা


এই যাত্রার শেষে, মহানবী (সা,) এর সন্নিকটে ঐশ্বরিক উপস্থিতিতে আনা হয়েছিল, শক্তি ও স্বস্তির চূড়ান্ত উৎস। ঐ দৃশ্যের সৌন্দর্য মহানবী সাল্লালাহু আলাইহেস সাল্লাম যে কতটা সম্মানিত ও বিনীতভাবে আনন্দ চিত্তে অনুভব করেছিলেন তা কল্পনা করাও অসম্ভব ।
আল্লাহ এবং তাঁর প্রিয় হাবিব রাসুল (সা,) এর মধ্যে কি বার্তা আদান প্রদান হয়েছিল সে সম্পর্কে আমরা খুব বেশি কিছু জানিনা তবে সহিহ বুখারী ও সহিহ মুসলিমে দেখা যায় পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের বিধানকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধানে পরিনত করার বিষয় নিয়ে আল্লাহর কাছে তাঁর কয়েকবার প্রার্থনা জানানোর পর পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজের বিধান প্রাপ্তির উল্লেখ রয়েছে (সহিহ বুখারী , হাদিস ৩৪৯ , সহিহ মুসলিম হাদিস ৩১৯)।
পবিত্র কুরআনেও উল্লেখ দেখা যায় যেখানে আল্লাহ বলেন-
فَاَوۡحٰۤی اِلٰی عَبۡدِهٖ مَاۤ اَوۡحٰی
‘অত:পর আল্লাহ তাঁর বান্দার কাছে যা অবতীর্ণ করেছেন তা প্রকাশ করলেন।
( সুরা আন নাজম আয়াত ১০)

এখানেই আল্লাহ তাঁর উম্মতকে বাধ্যতামূলক সালাহ উপহার দিয়েছিলেন, যা মুসলমানদের জন্য একটি দৈনিক শক্তির উৎস, কারণ এটি আমাদেরকে আল্লাহর সাথে যোগাযোগ করার এবং তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগ দেয় - এটি মুমিনের আরোহন তথা মিরাজ!

সপ্তম আকাশ হতে ঘরে ফেরা


ছবি: পবিত্র রক মসজিদে আল-আকসা কমপ্লেক্সের কেন্দ্রে ।
অবশেষে, মহানবী (সা,) কে বরকতময় মসজিদ আল-আকসায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি বুরাকে করে মক্কায় ফিরে আসেন।
তাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার সময়, তিনি মক্কার দিকে বিভিন্ন কাফেলাকে যাত্রা করতে দেখেছিলেন, যা তিনি পরে কুরাইশদের কাছে বর্ণনা করবেন যে তিনি সত্যিই এই অলৌকিক যাত্রা করেছিলেন। এমনকি বায়তুল মাকদিসকে নবী (সা,) এর কাছে আল্লাহ প্রদর্শন করিয়েছিলেন, যখন কুরাইশরা কাবাঘরের হিজরে তাঁকে জেরা করছিল । পুরো যাত্রাটি একটি রাতের একটি ছোট অংশে সংঘটিত হয়েছিল, এবং এমন অনেক লোক ছিল যারা এই ধরনের দাবি করার জন্য নবী (স,)-কে উপহাস করবে।

এ প্রসঙ্গে জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন, মিরাজের ব্যাপারে কুরাইশরা যখন আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে চেষ্টা করল তখন আমি কাবার হিজর অংশে দাঁড়ালাম। আর আল্লাহ বাইতুল মাকদিসকে আমার সামনে উদ্ভাসিত করলেন। ফলে আমি তার দিকে তাকিয়ে তার চিহ্ন ও নিদর্শনগুলো তাদেরকে বলে দিতে থাকলাম। (সহিহ মুসলিম,১ম খন্ড হাদিস নং ৩৩৬)।

মুসলমানদের জন্য মিরাজের এই কাহিনীটি হলো বিস্ময় ও আশার উৎস, যেমনটি আজও আমাদের জন্য অব্যাহত রয়েছে। এই রাতে, সৃষ্টির সেরা মানবকে পৃথিবীর বিভিন্ন বরকতময় স্থানে ভ্রমণের সম্মান দেওয়া হয়েছিল, তারপর আকাশের সর্বশেষ স্তরে আরোহণ করানো হয়েছিল এবং অবশেষে সপ্তম আসমানে সিদরাতিল মুনতাহায় স্বাগত জানানো হয়েছিল! এই সব প্রিয় নবী (স,)-কে সম্মান করার জন্য এবং ‘তাঁকে আল্লাহর সৃষ্ট কিছু নিদর্শন দেখানোর জন্য!’ যেমনটি কুরআনে বলা হয়েছে
سُبۡحٰنَ الَّذِیۡۤ اَسۡرٰی بِعَبۡدِهٖ لَیۡلًا مِّنَ الۡمَسۡجِدِ الۡحَرَامِ اِلَی الۡمَسۡجِدِ الۡاَقۡصَا الَّذِیۡ بٰرَکۡنَا حَوۡلَهٗ لِنُرِیَهٗ مِنۡ اٰیٰتِنَا ؕ اِنَّهٗ هُوَ السَّمِیۡعُ الۡبَصِیۡر
পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা ( সুরা আল ইসরা ,আয়াত ১)

এই হল মিরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র। এর মাঝে জান্নাত ও বৈচিত্র্যময় সৃষ্টির অনেক কিছুই প্রত্যক্ষ করেছেন নবীজী। নবিজীর মিরাজের আরো অসংখ্য বিচিত্র ঘটনাবলির বিবরণ জানার জন্য নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থসমুহ পাঠ করা যেতে পারে।

মিরাজ এর মাধ্যমে প্রাপ্ত ৫ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ

মিরাজের মাধ্যমে নামাজের এই ৫ টি ওয়াক্ত পবিত্র কুরআনুল কারিমের আরো আয়াত দ্বারাও বলা হয়েছে । দিন এবং রাতের যেই যেই সময় গুলোতে এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হবে তারও নির্দেশনা এসেছে কুরআনুল কারিমে। যদিও অজ্ঞতার কারণে কেউ কেউ বলে থাকেন যে, কুরআনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের নির্দেশনা কোথায়? কুরআনে তো এ কথা উল্লেখ নেই।

উহাদের কথার ভিত্তি নেই, কুরআনের আয়াতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময় নির্ধারিত।পবিত্র কুরআনুল কারিমের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি দিন ৫ ওয়াক্ত নামাজ নির্ধারিত। আল্লাহ তাআলা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়গুলো সুস্পষ্ট করে দিয়ে বলেন-

فَسُبْحَانَ اللَّهِ حِينَ تُمْسُونَ وَحِينَ تُصْبِحُونَ

সুতরাং, তোমরা আল্লাহর তাসবিহ তথা পবিত্রতা ঘোষনা কর, যখন সন্ধ্যায় (মাগরিব ও ইশার নামাজ দ্বারা) উপনীত হবে এবং সকালে (ফজর নামাজ দ্বারা) উঠবে। (সুরা রূম আয়াত ১৭)

وَلَهُ الْحَمْدُ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَعَشِيًّا وَحِينَ تُظْهِرُونَ

আর অপরাহ্নে (আসর নামাজ দ্বারা) ও জোহরের সময়ে। আর আসমান ও জমিনে সব প্রশংসা একমাত্র তাঁরই (সুরা রূম আয়াত ১৮)।

আল্লাহ তাআলা সুরা রূমের উল্লেখিত দু'টি আয়াতে তাসবিহ বলতে নামাজ পড়াকে বুঝিয়েছেন। এ আয়াতদ্বয়ে যে সময়ের কথা বলা হয়েছে তাহলো- পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের সময়ের কথা।

প্রথম আয়াতে 'তুমসুনা' (সন্ধ্যা) শব্দ দ্বারা মাগরিব ও ইশা, 'তুসবিহুন' (সকাল) শব্দ দ্বারা ফজর নামাজকে বুঝিয়েছেন। আর দ্বিতীয় আয়াতে 'আশিয়ান' (বিকাল/অপরাহ্ন) শব্দ দ্বারা আসর নামাজ এবং 'তুজাহিরুন' (দুপুর) শব্দ দ্বারা জোহর নামাজের সময়ের উল্লেখ করেছেন।(ফাতহুল কাদির, আহসানুল বয়ান)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ রাসূলে কারিম(সা.)আজীবন নিয়মিত আদায় করেছেন।

যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কুরআনে নির্ধারিত নেই বলে নামাজীদের অন্তরে ওয়াসওয়াসা দিতে চান তাদের জন্য আরেকটি বিষয় জেনে রাখা উচিত যে, রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সারা জীবনের প্রাকটিস ছিল দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা। মুসলিম উম্মাহ তো তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শই অনুসরণ করে থাকেন। সুতরাং,যারাই বিভ্রান্তির বীজ যতই বুনতে চান না কেন, প্রকৃত মুসলিম কোনও অবস্থায়ই ষড়যন্ত্রের জালে আটকে যাবেন না। তাঁরা রাসূলে কারিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদর্শ অনুযায়ী প্রতি দিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। করেই যাবেন ইনশাআল্লাহ।

তাওফিক প্রার্থনা করছি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার নিকটে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলিম উম্মাহকে যাবতীয় ওয়াসওয়াসা ও কুমন্ত্রণা সৃষ্টিকারীদের চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে ইবাদতে মগ্ন-নিমগ্ন হওয়ার তাওফিক দান করুন। তাদের পেতে রাখা ঈমান বিধ্বংসী আকর্ষনীয় ও লোভনীয় বহুমাত্রিক রঙিন ফাঁদে পা না দিয়ে এবং সকল বিভ্রান্তির হাত থেকে নিজেদের মুক্ত রেখে যথাসময়ে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

নামাজের উপকারীতা
১. একজন পরহেজগার ইমামের অধীনে চলার অভ্যাস আনে
২. নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কাজ করার অভ্যাস আনে
৩. সমাজে সাম্য একতা ও ভ্রাতিত্ব আনে
৪. বাহ্যিক নৈতিক আধ্যাত্মিক শুদ্ধতা আনে
৫. একাগ্র চিত্ততার অভ্যাস আনে
৬. পাপ হতে মুক্তি দেয় ও পুণ্য কর্মে শক্তি দেয়
৭. আল্লাহ তাআলার সহিত কথোপকথনের দার খুলে দেয় এবং নিত্য ইমান বদ্ধক নিদর্শন সু দর্শনের সৌভাগ্য আনে
৮. এর সাহায্যে মানুষের সকল মুশকিল দূর হয় এবং সৌভাগ্যের ধার উন্মুক্ত হয় এবং আত্মার শান্তি নেমে আসে
৯. এর সাহায্যে মানুষ নিজের জীবনে পরিবর্তন আনতে পারে এবং অপরের জীবনে এমনকি জাতীয় জীবনেও পরিবর্তন সাধিতে পারে যেমন নবীদের জীবনে পরিদৃষ্ট হয়
১০ নামাজ মানুষ ও জাতিকে মহা সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করে ইহকালে চিরস্মরণীয় এবং পরকালে মহা সাফল্যের অধিকারী করে।

সকলের প্রতি শুভেচ্ছা রইল । আল্লাহ সকলের মঙ্গল করুন। আমীন
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০৮
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

লর্ড ক্লাইভ, মীরজাফর এবং জুলাই যোদ্ধা

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৭



১৭২৫ সালে একটি রেস্টুরেন্ট চালু হয়।
স্পেনের মাদ্রিদ শহরে। যা আজও আছে। বেশ জনপ্রিয় রেস্টুরেন্ট। এই রেস্টুরেন্টে শুয়োরের মাংস অনেক জনপ্রিয়। করোনা কালেও রেস্টুরেন্টটি একদিনের জন্য বন্ধ রাখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আকাশ ভালোবাসি তাই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:১৮



দুপুর বিদেয় নিলেই বিকেল হয়ে উঠে মিঠে রোদ প্রহর
আর আকাশের কিনারে রক্তিম মেঘ কিছু - থাকে ঝুলে
বিকেলের আকাশে উঁকি দিলেই দেখি ঝরে মুগ্ধতার লহর,
আমি দাঁড়াই তুমিহীন খোলা ছাদে - এলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রকৃতি ও প্রবৃত্তি

লিখেছেন আরোগ্য, ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ৯:৩৪

প্রকৃতির নিয়মে আমি আপাদমস্তক অবরুদ্ধ ,
জন্ম হতে ঝরা অবধি পচনশীল দেহে আবদ্ধ ,
মানব নামক প্রাণীর মাঝে স্বভাব নামক ব্যধি,
পানির মত প্রবাহিত হয় ছোঁয়াচে থেকে মহামারী,
সহজ সরল... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি তো এমপি হবো ...

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৫৮


আমি তো এমপি হবো, মন্ত্রী হবো কিসের আবার ক্রিকেট? ভোটের খেলায় জিত্তে গেলে ভরবে আমার পকেট...নচিকেতার এই অমর সুরটা মাথায় বাজছে আর সামনে রুমিন ফারহানার সেই 'বিস্ফোরক' বক্তৃতার ক্লিপটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অলৌকিক ঘটনায় ভরপুর আল ইসরা ওয়াল মিরাজ

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই জানুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯


আল-ইসরা' ওয়াল-মি'রাজ (রাত্রির যাত্রা ও আরোহণ) একটি অলৌকিক ঘটনা যা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার ঐশরিক মুজেযার পর দ্বিতীয় বিস্ময়কর মুজেযা।

মিরাজ বিষয়ে বিভিন্ন ইসলামি পুস্তকে বিস্তারিত বিবরণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×