somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নবিজীর ওপর কুরাইশদের অত্যাচার

২২ শে মে, ২০১৩ সকাল ৯:০৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বুখারি, মুসলিম সহ আরও অনেক হাদিস কিতাব ঘাটলাম বহুদিন কিন্তু কোথাও নবিজীর ওপর কুরাইশরা যে সীমাহীন অত্যাচার নির্যাতন করত সে বিষয়ে নিচের হাদিসটি ছাড়া আর কোন হাদিস পাই নি, যেমন -

মুহাম্মদ ইবনে মুছান্না এবং মুহাম্মদ ইবনে বাশশার বর্ণনা করেছেন…. আব্দুল্লাহ বলেন, রাসুলুল্লাহ সিজদায় ছিলেন এবং তাঁর আশে পাশে কতিপয় কুরাইশ ব্যক্তি উপস্থিত ছিল। এমন সময় ওকবাহ ইবনে আবু মুআইদ উটনীর নাড়ীভুড়ি নিয়ে আসল এবং তা রাসুলুল্লাহ এর পিঠের উপর নিক্ষেপ করল। যাতে তিনি তাঁর মাথা তুলতে পারলেন না। তারপর ফাতিমা এসে তাঁর পিঠের উপর হতে সেগুলি সরাইয়া দিলেন এবং যে ব্যক্তি এই কাজ করেছে তাকে অভিসম্পাত করলেন। তখন রাসুলুল্লাহ বললেন, হে মাবুদ!আপনার উপরেই কুরাইশদের আবু জেহেল ইবনে হিশাম, ওতবাহ ইবনে রাবীয়া, শায়বাহ ইবনে রাবীয়া, ওকবা ইবনে আবু মুআইত, উমাইয়া ইবনে খালাফ এদের বিচারের ভার সমর্পিত। তবে বর্ণনাকারী শো’বা শেষের দুটি নামের কোনটি রাসুলুল্লাহ বলেন তাতে সন্দেহ প্রকাশ করেন।……………. মুসলিম, বই নং-১৯ হাদিস নং- ৪৪২২

এ কাজটাও মনে হয় কুরাইশরা করেছিল একারনে যে , কাবা ঘরকে তারা তাদের উপাসনালয় মনে করত। নবিজী ইসলাম চালু করে দাবী করে সেটা তার । এখানেই কুরাইশরা আপত্তি করে। তাদের বক্তব্য - মুহাম্মদ যদি নতুন ধর্ম চালু করেই থাকে তাহলে সে আলাদা উপাসনালয় তৈরী করে নিক। তাদের উপসনালয়ে কেন সে অনধিকার প্রবেশ করে ভিন্ন ধর্ম প্রচার করবে? মক্কার কাবা শরিফ যে হযরত আদম বা ইব্রাহিম তৈরী করেছিল এর কোন নিরপেক্ষ ঐতিহাসিক সূত্র নেই তবে কিছু হাদিসে উল্লেখ আছে যে এটা নূহ নবীর প্লাবনের পর ধ্বংস প্রাপ্ত হলে হযরত ইব্রাহিম ও তার পূত্র ইসমাইল পূন: নির্মান করেন। হাদিস ছাড়া অন্য কোন সূত্র এ তথ্যকে সমর্থন করে না। বলা বাহুল্য, হাদিস কোন ইতিহাস গ্রন্থ নয়। আরবরা যে নবিজীর ইসলামের প্রতি দারুন সহনশীল ছিল তারও একটা ঘটনা দেখলাম আছে আর একটা হাদিসে -

-ইসহাক ইবনে ইব্রাহিম হানজালি, মুহাম্মদ ইবনে রাফে এবং আবদ ইবনে হুমাইদ বর্ণনা করেন, উসামাহ ইবনে যায়েদ বলেন যে রাসুলুল্লাহ একটি গাধায় সওয়ার হলেন যার উপর বসার গদির নীচে একটি ফদকের তৈরী মখমল বিছানো ছিল। তিনি তার পিছনে উসমাহ কে বসালেন। বনূ হারেছ ইবনে কজরায় গোত্রের আবাস এলাকায় অসুস্থ সা’দ ইবনে উবাদাহকে তিনি দেখতে যাচ্ছিলেন। তা বদর যুদ্ধের পূর্বেকার ঘটনা ছিল। এমন একটি মজলিসের নিকট দিয়ে যেতেছিলেন, যে মজলিসে মুসলমান, মুশরিক, মূর্তিপূজারী ও ইহুদি সব সস্প্রদায়ের লোক ছিল। আবদুল্লাহ ইবনে উবাই ও ঐ মজলিসে ছিল এবং আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহাও ছিলেন। কাফেলার সওয়ারীদের পায়ের ধুলায় মজলিসকে আচ্ছন্ন করে ফেলল। এতে আব্দুল্লাহ ইবনে উবাই চাদর দিয়ে তার নাক ঢাকিয়া বলল, আপনারা আমাদের মাঝে ধূলা উড়াইবেন না। রাসুলুল্লাহ তাদেরকে সালাম করে যাত্রা বিরতি করলেন এবং বাহন হতে অবতরণ করে তাদেরকে আল্লাহর পথে দাওয়াত দিলেন। আর তাদের সামনে কুরআন পাঠ করলেন। তখন আব্দল্লাহ ইবনে উবাই বলে উঠিল, আপনি যা বলতেছেন তা সত্য হলেও আপনি আমাদেরকে কষ্ট না দিয়ে উত্তম ব্যবস্থা হল, আপনি আপনার বাসস্থানে চলে যান। সেখানে আমাদের মধ্যকার যে ব্যাক্তি আপনার নিকট যাবে তাকে আপনি উপদেশ দান করবেন। তখন আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাদের এই মজলিসে আপনি যেমন ইচ্ছা দাওয়াত দিন আমরা তা পছন্দ করি। আমাদের তা পছন্দনীয়। তখন মুসলমান, মুশরিক ও ইহুদির মধ্যে পরস্পর ঝগড়া ও কলহের সৃষ্টি হলো। এমন কি একটি তুমুল সংঘর্ষ সৃষ্টির উপক্রম হল।………… সহি মুসলিম, বই-১৯, হাদিস-৪৪৩১

এ হাদিস থেকে বোঝা যাচ্ছে আরবরা নবির ধর্মের ব্যপারে উদার ছিল। তবে এ হাদিসের ঘটনার কাল নবির মক্কার জীবন নাকি মদিনার জীবনকালে সে সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। তবে মদিনার জীবনের সময়েই হবে কারন বলা হচ্ছে বদরের যুদ্ধের আগের ঘটনা। যাহোক, এখানে যে জনসভা দেখা যাচ্ছে দেখা যায় অমুসলিমরা নবির ধর্ম প্রচারে বাধা দিত না , তারা যেটা করত তা হলো তিনি যেন তাদের মধ্যে গিয়ে সেটা জোর করে প্রচার না করেন। অথচ দেখা যাচ্ছে এক মুসলমান সে অসহিষ্ণু ও অমুসলিমদের কোন রকম আপত্তি বা অসুবিধাকে পাত্তা বা সম্মান করছে না।

তবে নবিজীর ওপর নির্মম অত্যাচারের যে কাহিনী শুনে এসেছি এতকাল , এ সম্পর্কিত কোন হাদিস বা নির্ভরযোগ্য সূত্র থাকলে পাঠকবর্গ সেগুলো এখানে রেফারেন্সসহ জানাতে পারেন যাতে করে প্রকৃত চিত্রটা বুঝতে পারি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×