somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জিন্নাহর ঐতিহাসিক ভাষণ পাকিস্তানকে দিল ভারত

০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৩ দুপুর ২:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আকাশবাণীর মহাফেজখানায় সংরক্ষিত পাকিস্তানের জনক মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর দুটি ঐতিহাসিক ভাষণের রেকর্ডিংস দেশটির হাতে তুলে দিলেন ভারতীয় বেতার সংস্থার মহানির্দেশক৷ ভারতের এই সহযোগিতাকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানায় পাকিস্তান৷

পাকিস্তানের প্রথম প্রেসিডেন্ট মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর একটি ভাষণ দিয়েছিলেন দেশভাগের দু'মাস আগে ৩ জুন ১৯৪৭ সালে এবং অন্যটি ১১ আগস্ট ১৯৪৭-এ পাকিস্তান গণপরিষদে৷ ঐতিহাসিক এই দুটি ভাষণই অল ইন্ডিয়া রেডিও (এআইআর)-র মহাফেজখানায় সংরক্ষিত ছিল এতগুলি বছর৷ যা পাকিস্তান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের প্রধান মুর্তাজা সোলাঙ্গি ২০১১ সালে অল ইন্ডিয়া রেডিও পরিদর্শনে এসে জানতে পারেন৷

তারপর ২০১২ সালের মার্চ মাসে অল ইন্ডিয়া রেডিও-র মহানির্দেশক লীলাধর মাণ্ডলোইকে চিঠি দিয়ে জিন্নাহর ওই দুটি ভাষণের রেকর্ডিংস পাকিস্তানকে দেয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়৷ তাতে সাড়া দিয়ে এআইআর সম্প্রতি তা ইন্টারনেটে ‘আপলোড' করলে পাকিস্তান তা ‘ডাউনলোড' করে নেয়৷ পরে তার সিডিও করা হয়৷

রেকর্ডিংস পাবার পর পাকিস্তান বেতারের কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের প্রধান এডিটর জাভেদ খান জাদুন ভারতের এই সহযোগিতাকে বিপুলভাবে স্বাগত জানান৷

জিন্নাহর ওই ভাষণ কবে প্রচার করা হবে সে সম্পর্কে উনি বলেন, ‘‘এডিটোরিয়াল স্তরে এখনো এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি৷ তবে ভাষণ দুটি প্রচার করা হবে কোনো একটি বিশেষ দিনে৷ হয়তো বা সেটা হতে পারে এ বছরের ১১ সেপ্টেম্বর, জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে৷

১৯৪৭ সালের জুন মাসে দিল্লি থেকে দেয়া জিন্নাহর ভাষণে ছিল উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশ কোনদিকে, অর্থাৎ ভারতে যাবে নাকি পাকিস্তানে যাবে, সে বিষয়ে গণভোটের কথা৷ গণভোট না হওয়া পর্যন্ত শান্তি বজায় রেখে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করার জন্য মুসলিম লীগের প্রতি তার আবেদনও ছিল তাতে৷

দ্বিতীয় ভাষণটি ছিল ১১ আগস্ট ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদে দেয়া৷ ওই ভাষণ প্রকৃত অর্থেই ছিল ঐতিহাসিক৷ সেখানে তিনি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের ওপরই সবথেকে বেশি জোর দিয়েছিলেন৷ জিন্নাহর রাজনৈতিক দর্শনে ধর্মনিরপেক্ষতার এক দলিল হিসেবে চিহ্নিত সেই ভাষণ৷ ভারতের অন্যতম স্বাধীনতা সংগ্রামী সরোজিনী নাইডু জিন্নাহকে অভিহিত করেছিলেন হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতির দূত হিসেবে৷

প্রসঙ্গত, হিন্দু জাতীয়তাবাদী বিজেপির সভাপতি এল. কে আদবানি ২০০৫ সালে পাকিস্তান সফরে গিয়ে জিন্নাহর মাজারে লিখে আসেন, ‘‘এমন অনেক ব্যক্তি আছেন, যাদের নাম ইতিহাসে লেখা থাকবে, আবার এমন অনেক ব্যক্তি আছেন যারা ইতিহাস গড়েন৷ জিন্নাহ সেই বিরল ব্যক্তিত্বের একজন৷” এই মন্তব্যের জন্য আদবানিকে দেশে ফেরার পর কম বিপাকে পড়তে হয়নি৷ বিজেপি সভাপতি পদে তাকে ইস্তফা দিতে বাধ্য করা হয় এবং ক্ষমা চাইতে হয়৷ হিন্দুত্ববাদী বিজেপি মনে করে সাম্প্রদায়িক ভিত্তিতে দেশ ভাগের জন্য দায়ী জিন্নাহ৷

পাকিস্তানের গণপরিষদে দেয়া ওই ভাষণে জিন্নাহ বলেছিলেন, পাকিস্তানে জাতি ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার৷ ধর্মীয় অর্থে একজন হিন্দু বা মুসলিম হতে পারেন, তবে রাজনৈতিক অর্থে সকলেই পাকিস্তানের নাগরিক৷ সূত্র: ডিডব্লিউ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×