আমার জন্ম একদম অজপাড়াগাঁয়ে.... আম্মা ছিলেন স্কুল টিচার..... বয়স যখন চার .. তখন আব্বা ঢাকায় বদলি হলেন.... আম্মা আমাকে নিয়ে শহরে চলে এলেন.... হঠাৎ ঢাকায় এসে বেশ ধন্দে পড়ে গিয়েছিলাম..... স্কুলে ভর্তি হবার পরে আমার গাঁইয়া উচ্চারণ নিয়ে ক্লাসমেটরা খুব হাসাহাসি করতো। বাচ্চারা অবুঝ হয়... কিন্তু কতটা নির্দয় যে হয় সেটা আমার মতো অভিজ্ঞতা যাদের আছে তারা জানে.... সব দেখেশুনে ভঢ়কে গিয়ে আমি একদম খোলসের ভেতরে ঢুকে গিয়েছিলাম..... অনেক পরে.... ক্লাস সেভেনে উঠার পরে কিছু বান্ধবী পেয়েছিলাম যাদের সাপোর্টে আমার আস্তে আস্তে বিশ্বাস জন্মালো... যতোটা আনস্মার্ট-গাঁইয়া নিজেকে ভাবি ... ততোটা আমি না আসলে..... কিন্তু সমস্যা যেটা দাঁড়িয়ে গিয়েছিলো তা থেকে এখনও বের হতে পারিনি..... এখনও নতুন কারো সাথে কথা বলতে গেলে .. কিংবা কোন ইন্টারভিউ বোর্ডে গেলে আমার ভেতর থেকে সেই চার বছরের ভীতু আনিকা বের হয়ে আসে..... আমি কিছুতেই স্বাভাবিক হয়ে কথা বলতে পারিনা.... আজকাল তো যেকোন জায়গায় ইংলিশ স্পিকিং এর উপর অনেক জোর দেয়া হয়.... আমি ইংরেজিতে খুব ভালো যে এমন না... কিন্তু নতুন মানুষদের সাথে কথা বলার সময় যতোটা বিধধস্ত থাকি.... অতোটা খারাপও না... আমি আজ অবধি শুধু দুই জায়গায়ই চাকরির জন্য ইন্টারভিউ দিয়েছি.... সবখানেই আমি কোন এক আজীব কারণে কথা বলার জন্য কোন শব্দ খুঁজে পাইনা..... এবং যা বলতে চাইতেছি...ঐ মুহূর্তেকিছুতেই গুছিয়ে বলতে পারিনা..... মাঝে মাঝে মনে হয় ভার্চুয়াল ইন্টারভিউ দিতে পারলে বেশ হতো..... আমি জানি এই "বাইলা খাতুন" টাইপ সমস্যা থেকে বের হয়ে আসা উচিত...... কিন্তু কেমনে যে আসবো কে জানে.....
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৪ ভোর ৫:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




