somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজনীতি, মন খারাপ এবং আমার আজাইরা সাত-সতেরো

১৬ ই ডিসেম্বর, ২০০৬ দুপুর ১:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজকে ব্লগে ঢুকে খুব মন খারাপ হলো, কেমন জানি অস্থিরতা সবার মধ্যে। আমি অল্পজ্ঞানী মানুষ, বড় বড় মানুষদের বড় বড় কথা প্রায়ই বুঝিনা। আমার স্বল্প বুদ্ধিতে আমি ধর্ম নিয়ে ঝগড়া-ঝাঁটির হেতু খুঁজে পাইনা। আমি নিজে যে অনেক ধার্মিক এমনও না, গড়পড়তা সাধারণ মানুষ যতোখানি হয়, অতোখানি। শুধু একটা জিনিস মনে হয়, ধর্ম মানলেই কেউ রাজাকার হয়ে যায় না ( যেমন একজন বলেছেন সামহ্যোয়ার ইনের কেউ কেউ দাঁড়ি রাখেন এবং ঘোমটা দেন , যেটা নাকি রাজাকার হওয়া ইন্ডিকেট করে)। এই ব্যাপারটা আমিও অনেকবার ফেস করেছি.. আমাকেও শুনতে হয়েছে এধরণের মন্তব্য (যেহেতু আমি ঘোমটা দেই)। এই জেনারালাইজেশানের ব্যাপারটা সবজায়গাতেই ঘটছে.. আমেরিকার টুইন টাওয়ারে হামলার পর যেমন ওরা মুসলিম মাত্রেই সন্দেহ করা শুরু করলো.. অথচ একটা ধর্মের প্রতিটা মানুষ তো খারাপ হতে পারেনা!
আমার স্বল্পবুদ্ধিতে যেটুকু বুঝি... একজন মানুষের পরিচয় যখন অন্য কারো কাছে তার মানুষ হবার পরিচয়টাকে ছাড়িয়ে দল, গোত্র, জাতি কিংবা ধর্মে আটকে যায় তখনই সংঘাতের শুরু। স্বাভাবিকভাবে ভেবে দেখেন... মানুষ তো মানুষই.... তার ভেতরে ভালো-মন্দ দুই ই আছে, সে আসলে কি করবে, কিভাবে চলবে সেটা একেবারেই তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।

অনেককে আবার এরকম আওয়াজ দিতে শুনি যে মুক্তিযোদ্ধারা এই করছে, সেই করছে... সো জামাত নিয়ে তাদের বাড়াবাড়ি করা উচিত না.... কিন্তু যে যাই বলুক, জামাতের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সংশ্লিষ্টতা সবাই খানিকটা জানে... আর তখন দেশের প্রতি, দেশের মানুষের প্রতি যে অন্যায় করা হয়েছে রাজাকার কতর্ৃক, সেটা অস্বীকার করার কোন রাস্তা নেই। আমাকে কেউ জামাতের লোক বললে আমার কষ্ট লাগে, কারণ এই দলটার সাথে আমার কোনরকমের সংশ্লিষ্টতা নাই... ইনফ্যাক্ট কোন দলের সাথেই নাই, ব্যক্তিগত ভাবে আমি বাংলাদেশের কোন দলকেই সমর্থন করতে পারিনা.. কারণ আমার মনে হয়েছে কোন দলই স্বার্থের উর্দ্ধে উঠতে পারেনি। ( এটা অবশ্য একান্তই ব্যক্তিগত মত)

প্রতিবার রাজনৈতিক পালাবদলের সময় আমি প্রার্থনা করি যেনো ভালো কিছু ঘটে...কিন্তু আমি পোড়াকপালে দেশের মানুষ যে দেশের অধিকাংশ রাজনীতিবিদ দেশকে নিয়ে মোটেই ভাবেন না... আমার আরো আশ্চর্য লাগে কিছু মানুষের দলের প্রতি অন্ধবিশ্বাস দেখে, যারা ইনফ্যাক্ট দল সম্পর্কে তেমন কিছু জানেই না.... আমার ব্যক্তিগত জীবনে আমি এমন কিছু লোককে চিনি... যারা কোন বেসিক কারণ ছাড়াই একেকটা দলের অন্ধ সমর্থক... একটা নেশার মতোন দল তাদেরকে আটকে রাখে। (অনেকেই নিজ নিজ বিশ্বাস অনুযায়ী দল সমর্থন করেন তাদের কথা বলছি না, যারা কিছু না বুঝেই শ্লোগান দেন তাদেরকে বুঝিয়েছি)।

বাংলাদেশের রাজনীতির অনেকগুলা খারাপ দিক আছে.. এর মধ্যে সাদা চোখে যেগুলা বুঝা যায় এরকম কিছু দিক নিয়ে বলছি:
**) প্রতিটা দলই অন্য দলকে তার চেয়ে নিচু প্রমাণ করতে ব্যস্ত, কারণে হোক অকারণে হোক অন্য দল যে চুরি করছে এটা বলবেই, অথচ তারা নিজেরা যে ডাকাত সেটা বেমালুম চেপে যাবে।
**) পরমতসহিষ্ণুতার চরম অভাব... ওমুক দল বলছে বাঁয়ে যাবো, অতএব জান থাকতে আমরা ডানে ছাড়া কোথাও যাবোনা.. এই নীতিতে মনে হয় সবাই বিশ্বাসী।
**) ক্ষমতায় এসেছি, যত পারি লুটে নেই ...কে জানে "কাল হো না হো"। সবাই জানে ক্ষমতায় গেলেই কয়েকগুণ উঠে আসবে... এজন্যে নির্বাচনী প্রচারণার সীমানার বাইরে খরচ করতে অনেকেই বিন্দুমাত্র দ্্বিধা করেনা। যে টাকাটা প্রচারণায় ব্যয় হয়... শুধু ঐটুকু দিয়ে কত মানুষের মেরুদন্ড শক্ত করা যেতো কেউ ভেবে দেখে কি?

আসলে লিখতে শুরু করলে সারাজীবন লিখেও শেষ হবেনা.. আর লিখেও টেনশনে আছি.. আমি সযত্নে বিস্ফোরণমূলক মন্তব্য এড়িয়ে যাই, কারণ উন্মুক্ত গালি-গালাজ আমার সহ্য হয়না ( হয়তো এটা কাপুরুষতা, কিন্তুI am what I am।)। আমি আসলে কোন উদ্দেশ্য নিয়ে লিখতে বসিনি, যা মনে হয়েছে বলেছি, হয়তো অসম্পূর্ণ ভাবনা... তবে ব্লগ তো নিজের ডায়েরি লেখার মতোই... ডায়েরিটা একটা কমিউনিটিতে পাবলিশড হচ্ছে এই যা।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে অক্টোবর, ২০১৪ ভোর ৬:০১
১৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মায়াময় স্মৃতি, পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫….(৯)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:১৬

অষ্টম পর্বের লিঙ্কঃ পবিত্র হজ্জ্ব- ২০২৫ এর মায়াময় স্মৃতি….(৮)

১০ই জিলহজ্জ্ব তারিখে (০৬ জুন ২০২৫) সূর্যোদয়ের আগেই আমরা মুযদালিফা থেকে রওনা হয়ে সকাল সকাল ‘বড় জামারাত’ বা জামারাত আল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুদিত, অনূদিত এবং অনুবাদিত, কোনটার কী অর্থ?

লিখেছেন নতুন নকিব, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১:৫৪

অনুদিত, অনূদিত এবং অনুবাদিত, কোনটার কী অর্থ?

অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

প্রথমেই বলা দরকার, "অনূদিত" শব্দটি সাধারণত সঠিক এবং প্রমিত বানান হিসেবে ব্যবহৃত হয় যখন অর্থ "অনুবাদ করা হয়েছে এমন" বা "ভাষান্তরিত"... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ শেকল ভাঙার গান

লিখেছেন ইসিয়াক, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:০২

রক্ত-আগুনে প্রতিবাদ চলুক,
বিক্ষোভের অনলে সারাদেশ জ্বলুক ।
শেষ থেকে শুরু হোক না আবার,
নতুন করে তো কিছু নেই হারাবার!

পুনরায় বিনাশিব তিমির রাত
আঁধার কেটে জাগবে প্রভাত।

দিকে দিকে সংগঠিত হও... ...বাকিটুকু পড়ুন

এসি ছাড়াই ঘর থাকবে বরফ শীতল: মেনে চলুন বিশেষজ্ঞদের বিশেষ টিপস

লিখেছেন শিমুল মামুন, ২১ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৬


তীব্র তাপপ্রবাহে (Heatwave) জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন ঘর ঠান্ডা রাখাটাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ঘর শীতল রাখতে যে সবসময় এসির (Air Conditioner) প্রয়োজন হবে, তা নয়। বিশেষজ্ঞরা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

Diplomacy is not tourism

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:৫৯


আফ্রিকার পশ্চিম প্রান্তে আটলান্টিকের তীরে সেনেগালের রাজধানী ডাকার। এপ্রিলের শেষে সেখানে বসেছে 'Dakar International Forum on Peace and Security in Africa'-এর দশম আসর। নামটা দীর্ঘ হলেও এবারের হাওয়া বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×