somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বেকারত্ব হারানোর সুখানুভূতি ১

১১ ই অক্টোবর, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সেদিন নদীর পাড়ে আড্ডা দিচ্ছিলাম, সাথে ছিলেন রুপালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপক, বেশ ক'জন কলেজ শিক্ষক।

এই আড্ডায় বিভিন্ন বিষয় এ আলাপ হচ্ছিল।

একটা বিষয়ে আড্ডার সকল সভ্যই একমত ছিল, সেটা হচ্ছে ঘুষ ও দুর্নীতির বিরোধিতা।

খুবই আশাব্যঞ্জক হওয়ার মত কথা।

অবশ্য উপস্থিত সকলকেই আমি কমবেশী জানি, তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো সুযোগ নাই।

তাদের এই আড্ডায় ১টা প্রশ্ন তুললাম, আচ্ছা আপনাদের মাঝে কারো ছেলে বিশ্ববিদ্যালয় এ পড়াশোনা করে কিনা?

একজন শিক্ষক জানালেন, তার ছেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১ম বর্ষে অধ্যয়নরত।

জানতে চাইলাম, আপনার ছেলে ঢাকাতে থাকে, তার ঢাকায় থাকা খাওয়া বাবদ কত টাকা পাঠান?

১৫০০০/- টাকা পাঠাই, ইচ্ছে আছে ২০০০০/- করে টাকা পাঠানোর, এই মুহূর্তে পারছি না, তবে শুরুতে পাঠাইছিলাম।

ভেরি গুড।

এইবারে বলেন, আমরা এখানে যারা ই আছি, সবাই নিশ্চয়ই চাইব আমাদের পুত্র সন্তানেরা গ্রাজুয়েশন কম্পলিট করে একটা সরকারি চাকরি নিক।

সবাই ই সম্মতিসূচক মাথা নাড়ালেন, কেউ কেউ হু, হ্যা বলে সম্মতি দিলেন।

এইবারে আসেন, আপনার ছেলে পড়াশোনা শেষে সরকারি চাকরি নিল, ধরেন দশম গ্রেড, এই গ্রেডে তার মাসিক বেতন আসবে সর্বসাকুল্যে ২২কে টাকা, টিএডিএ ইত্যাদি মিলিয়ে ২৪+-কে হবে। আপনি তাকে বেকার অবস্থায় পাঠাইছেন প্রতি মাসে ১৫০০০/- থেকে ২০০০০/- টাকা, সে এবারে পড়াশোনা শেষ করে দেশের ২য় শ্রেনীর চাকরি নিল ২৪কে +- বেতনে।

যেহেতু এবারে তার চাকরি হইছে, তার জীবনযাত্রার মান নিশ্চয়ই বাড়বে, সে চাইবে তার জীবনযাত্রার মান বাড়াতে।

এই ৪০০০/- টাকায় সে তার জীবনযাত্রার মান কতটুকুন বাড়াবে!

আর ও প্রশ্ন আছে, যেহেতু এতদিন তার পেছনে বিনিয়োগ করা হইছে, সেহেতু পরিবার তার নিকট থেকে রিটার্ন চাইবে, সেটা পরিবার যে অর্থ বিনিয়োগ করেছে, তার কাছাকাছি বা সমান, এর সাথে ছোট ভাই বোন, এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে তার আর্থিক অনুদান এর চাহিদা সৃষ্টি হবে।

এইবারে কন, সে তার এই ২৪ কে+- স্যালারি থেকে নিজের জীবনযাত্রার ব্যয় কিভাবে নির্বাহ করবে আর কিভাবেই তার পরিবারকে সাপোর্ট দিবে, খেয়াল রাখতে হবে, তাকে অবশ্যই সমাজে "অফিসার" হিসেবে স্ট্যাটাস বজায় রেখে চলতে হবে।

আচ্ছা, আবার একটু দেখি, আপনার ছেলে যেহেতু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে, সেহেতু সে নি:সন্দেহে মেধাবী, ও সে ৯ম গ্রেডের ১টা চাকরি জুটিয়েছে।

এবারে তার প্রমোশন হল, বেতন বেড়ে দাড়াল এরাউন্ড ৩৩কে। সে এবারে ফার্স্ট ক্লাস কর্মকর্তা, ভাবছেন, এখন সে তার সকল ব্যয় সঠিকভাবে নির্বাহ করতে পারবে।

যখন ই তার ফার্স্ট ক্লাসে প্রমোশন হইল, তখনই তার চারিপাশের চাহিদা বৃদ্ধি পাইল। এর পূর্বে তার যে পারিবারিক ও সামাজিক চাহিদার কথা বলা হইছিল, উহারে দ্বিগুন করে দেখুন, পোশাতে পারছেন কিনা?
উক্ত সকল চাহিদা কমপক্ষে দ্বিগুন হারে বৃদ্ধি পাবে।

উপরন্ত অনেকেই আছেন, যারা মনে করেন, এই বেতনের টাকাটা বেশী। বেশী বটে, সেটা যাদের জন্য প্রযোজ্য।

ভাবছেন, সরকারি চাকরি করা যাবে না, প্রাইভেট এ যাবেন।

ওয়েল, ওয়েল, বছর তিনেক পূর্বে অফিসে এক ভদ্রমহিলা আসলেন, টাকা তুলতে, জানতে চাইলাম, কাকি, টাকা নিয়ে কি করবেন?

জানালেন, ছেলে ম্যাটস এ পড়াশোনা করে ঢাকাতে, তাকে হাজার পনের টাকা পাঠাতে হবে খরচবাবদ।

যারা হেলথ সেক্টরে জড়িত আছেন, তারা জানবেন, ম্যাটস থেকে বের হয়ে একটা ছেলে কত টাকা বেতন পাবে?

সে টাকায় সে নিজে চলবে, নাকি...

যাক, এইবারে ধরুন ছেলে বিয়ে করবে।

বিয়ে করলে কি হবে?
সদ্য বিবাহিত ছেলে এবারে কি করবে!
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই অক্টোবর, ২০২৩ সন্ধ্যা ৭:২০
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরছে অনলাইন ক্লাসঃ বাস্তবতা অফলাইনে কিন্তু সিদ্ধান্ত অনলাইনে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০




সরকার তিনদিন অনলাইন, তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস, ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এসব কি সবার নাগালে আছে? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিলশানা পারুলদের অযাচিত, অপার্চুনিস্টিক রুপান্তর

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২২



দিলশানা পারুল বা দিশেহারা পারুল, যাই বলি না কেন, একসময় তাহাকে আমাদেরই সহযোদ্ধা মনে করিতাম। মনে পড়ে হাসিনা পতনের বছরখানেক আগে পিনাকি ওরফে আবর্জনাকি ভট্টাচার্য যখন তাঁর একটা ভিডিও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×