আমি কবি,
আমি আমার কবিতায় রাঙিয়েছি
পূর্বাকাশের রবি।
আমি ছড়িয়েছি বীজ
শুনিয়েছি গান
রচেছি কত গীত ও পুরাণ।
আমি বলেছি সম্ভাবনার কথা।
আমি মত্ত হাতিরে উদ্দাম নাচিয়েছি
ঊষর জমিনে ফসল ফলিয়েছি।
আমি ভ্রমরের গুঞ্জনেরে দিয়েছি ভাষা।
আমি পায়ের বেড়ীরে শৃঙ্খলে বেধেছি
নীল আকাশকে সীমানা বানিয়েছি।
আমি কবি।
আমি কিশোরের হাতের নাটাই
মেঘ পাড়ি দেওয়া ঘুড়ি;
আমি বিধবা বোনের একখান লালী হয়ে
ছেড়া জালে মাছ-পুকুরের স্বপ্ন বুনি।
আমি ধ্বংসের মাঝে, যুবকের উদ্দাম আশা
আমি ছোট্ট ঢেউয়ের চূড়ায় না বলা ভালোবাসা।
আমি সৌন্দর্যরে দিয়েছি ঠিকানা,
নাম না জানা ফুলে
পাহাড়ের কোলে।
আমি চোখে দিয়েছি আঙ্গুল,
দেখিয়েছি সমুদ্র সফেন।
আমি চিনিয়েছি বাতাসের ভাজে ভাজে আদর
স্বামীর সোহাগ, হৃদয়ের গভীরে আবেগ।
আমার কলমে
হেমন্তের পাকা সোনা রোদ,
পেয়েছে জীবন
কিশোরী মেয়েটির চোখে ছল ছল আলাপন
মহাপ্রলয়ের পরেও বেঁচে থাকা
নয়া চরে বাধা ঘর
সাহস দুর্বিনীত, ইচ্ছা দুর্মর!
আমি কবি,
আমিই সেই কবি।
সন্ধ্যা, ডিসেম্বর ৩১, ২০০৮
উত্তরা, ঢাকা ১২৩০
টীকাঃ আমি সাধারণত কবিতা লিখতে বসলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই লিখি। যখন মাথায় আছে, তখন মনে মনে লাইনগুলো নিয়ে ঘুরাতে থাকি এবং লাইনগুলোর পরম্পরা মনে রাখতে চেষ্টা করি। তারপর সুযোগ মত লিখি; কোন কোন সময় সরাসরি টেবিলে বসে যাই (অবশ্য খুব কম ক্ষেত্রেই)। নোট রাখার অভ্যাস নেই বললেই চলে, মূলত আলসেমিই এই জন্য দায়ী। যাই হোক এই কবিতাটা যখন লিখতে বসি তখন প্রথম ৫-৬টা লাইন ঝটপট লিখে ফেললাম, কিন্তু তারপর আর আগাতে পারলাম না। ছন্দ হারিয়ে ফেললাম। অনেকক্ষণ বসে চিন্তা-ভাবনা করেও আগাতে পারলাম না। এরপর যখনি লিখতে বসতাম, প্রথম লিখে রাখা লাইনগুলো পড়তাম; কিন্তু কোন ভাবেই আগাতে পারি না। এর প্রায় বছর খানেক পড়ে আবার একদিন বসলাম, আধরা ছন্দগুলো এসে ধরা দিল শেষ পর্যন্ত।
১। প্রতিদিন একটি কবিতা ১: ‘পরবাসে বিষণ্ন কিশোরীর স্মৃতি’ – ১: Click This Link
২। প্রতিদিন একটি কবিতা ২: আজ আমি পতাকা উড়াবঃ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:২৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


