somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অণুগল্প: আহারে!

০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ১২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
মানুষ আর শুয়োরের মধ্যে কি কোনো পার্থক্য আছে? আমরা শুয়োর খাই, মানুষ খাই না। আর কিছু? হিমেলের ইচ্ছে করে ক্যাফের সবগুলো ছাত্রছাত্রীকে শুয়োরের শিরদাঁড়ার মতো চিবিয়ে খেয়ে ফেলতে। ওই যে সামনে খিলখিল করে হাসছে কিছু এশিয়ান ছেলেমেয়ে। কোন দেশী? কোরিয়ান সম্ভবত। এত হাসি কিসের শুয়োরের বাচ্চাগুলোর? ইচ্ছে করে প্রত্যেকের মাথা ধড় থেকে ছিড়ে নেই। চুলের মুঠি ধরে একটা হ্যাঁচকা টান। গলা ছিঁড়ে যাবে। ফোয়ারার মতো রক্ত ছিটাবে সারা ক্যাফে জুড়ে। আর ওই দিকে ওই কালোগুলো? প্রকান্ড দেহ জুড়ে বসে গর্দভগুলো। হাতির মতো নিনাদ করছে, আর চেয়ার ধাপাচ্ছে। ক্যানো শুনি? চেয়ারগুলো কি তোর বাপের? প্রতিটি জিনিস স্কুলের পাওয়া ট্যুইশন থেকে কেনা। প্রতিটি চেয়ারে হিমেলেরও সমান ভাগ। ওই হারামজাদারা এভাবে ধাপাচ্ছে কেনো ওর চেয়ারগুলো? প্রত্যেকটার মাথা মেঝেতে ফেলে মাড়িয়ে পিষে দেয়া যায় না? টুকরো টুকরো করে দেয়া যায় না খুলি? সেই খুলির সাদা সাদা টুকরোর সাথে মিশে যাবে শুয়োরগুলোর হলুদ ঘিলু। লেপ্টে দেবে মেঝের সাথে। আর সাদা ছেলেমেয়েগুলো সাদা স্রাবের মতো বসে আছে। আরে মাতারীর বাচ্চারা, তোদেরকেও ছাড়বো না। তোদের পাট ছিবড়ে পাট-পাট করবো। ভেজা গামছা যেভাবে ঝাড়ে, ঠিক সেভাবে তোদের মোচড়াবো। পটপট শব্দে হাড় ভাঙবে। ভাঙা হাড় বেরিয়ে আসবে এখানে সেখানে চামড়া ভেদ করে। গামলা গামলা রক্ত পড়বে চুঁইয়ে চুঁইয়ে। আরব, ল্যাটিন আমেরিকান হারামীগুলোকে বানাবো কাবাব। কুত্তাগুলোকে কুচিকুচি কাটবো করাত দিয়ে। শুরু করবো পা দিয়ে। অল্প অল্প করে মাথার দিকে যাবো। দেখ শালারা ব্যাথা কাকে বলে! আর ওইদিকে ওই শালারা কী বাংলাদেশী নাকি? নাকি ইন্ডিয়ান? পাকি? তোদেরও রেহাই নাইরে। যেই দাঁত বের করে হাসছিস সেই দাঁতগুলো একটা একটা করে তুলে নেবো প্লায়ার্স দিয়ে। এরপর প্রতিটি নোখ, চোখ, কান। এরপর আঙ্গুল, এরপর হাত, এরপর...

নাকি আগুন ধরিয়ে দেবো এই ক্যাফেতে? এই স্কুলে? এই শহরে? এই দেশে? সারা পৃথিবীতে? তোদের আনন্দের শেষ আমি দেখবো। কুত্তার বাচ্চারা। শুয়োরের বাচ্চারা। হারামজাদার দল। জ্যান্ত পোড়াবো তোদেরকে। চামড়া খসে পড়বে। চর্বি গলে গলে পড়বে। পটপট করে পপকর্নের মতো ফাটবে তোদের সুখী মাংস। এক লাথিতে ভেঙে ফেলবো পুরো দালান। সব দালান। মুচড়ে ফেলবো সব গাড়ি। সব স্থাপত্য।

নাহ! তোরা সবাই ভালো রে। খারাপ এই আমি। আমিই খাবাপ। আর নষ্ট। আমি নিজেকেই ধ্বংস করবো। নিজেকেই জ্বালাবো। নিজেকেই কুচিকুচি করবো কেটে। এরপর...

‘জনাব তাহলে এইখানে? লাইব্রেরিতে দেখা করার কথা ছিলো না?’

মরার মতো গ্যাবির দিকে তাকায় হিমেল। সোনালী চুল, আর সবুজ চোখ। তাই না? এই সব চুরমার হবে। আমিই সব চুরমার করবো। তোর চুল ছিঁড়ে নেবো। চোখ উপড়ে ফেলবো। তোর...

হিমেলকে দেখে কেমন ভয় পেয়ে যায় গ্যাবি। ওর গা ঘেঁষে বসে কেমন আকুলকা নিয়ে জিজ্ঞেস করে, ‘কি হয়েছে হিমেল?’

হিমেল হয়তো এই মমতার অপেক্ষাতেই ছিলো। কিংবা এই মমতাই ওর অপেক্ষায় ছিলো। পাজল বোর্ডের বিচ্ছিন্ন টুকরোর মতো হিমেলের চারপাশে খসে পড়তে থাকে ওর এতক্ষণের পৃথিবী। সব হিংসা বদলে কেমন ঝাপসা হয়ে যায়। হিমেল ফুঁপিয়ে উঠে বলে, ‘আমার মা মারা গেছে।’ গ্যাবি সঙ্গে সঙ্গে হিমেলকে জড়িয়ে ধরে।

***

ক্যাফেতে ওইদিন মোট সাতাশজন ছাত্রছাত্রী ছিলো। সেদিনের পর থেকে ওদের প্রত্যেকের মনে শ্যামলা একটি ছেলের চিৎকার করে কান্নার ছবি সারা জীবনের জন্য বাঁধা পড়ে যায়!

© অমিত আহমেদ
ব্যবহৃত ছবি © "The Edge of Sorrow" by Tony Hamilton.
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই আগস্ট, ২০০৮ বিকাল ৩:৫৪
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নালন্দাকেন্দ্রিক বৌদ্ধ ঐতিহ্যের পতন: বঙ্গবিজেতা তুর্কি সেনাপতি বিন বখতিয়ার খলজি-ই কি ইতিহাসের একমাত্র খলনায়ক?-(পর্ব:২)

লিখেছেন রূপম রিজওয়ান, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১০:২৩


পর্ব ১ এর পর থেকে...
সাত শতকের শুরুর দিকের কথা। গুপ্ত সাম্রাজ্য অস্তমিত প্রায়; ভারতবর্ষ ততদিনে খন্ড-বিখন্ড হয়ে স্বাধীন আঞ্চলিক রাজা-মহাসামন্ত-অধিপতিদের অধীনে চলে গিয়েছে। উত্তর ভারতের থানেসরের সিংহাসনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

Dr. Jahangir Kabir

লিখেছেন চোরাবালি-, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ১১:২৮



বর্তমান সময়ে ফেসবুক ও ইউটিউব জগতের সারা জাগানো বাংলাদেশী Dr. Jahangir Kabir। যদিও পত্রিকায় তাকে নিয়ে কোন সংবাদ আমার চোখে পরে নাই বা দেখা মেলে নাই "ইত্যাদি"তেও, কেননা আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন জীবন- সোফি

লিখেছেন করুণাধারা, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:২৪



 আমি আবার বললাম,
"জুতা না খুলে কোনভাবেই পা বের করতে পারবেনা!"

সোফি আবারো আতঙ্কিত গলায় বলল,

" না না, কিছুতেই না! আমি কিছুতেই জুতা খুলব না!"

আমি বুঝতে পারলাম না কি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ডিসিসি নির্বাচন : প্রতিশ্রুতি - আওয়ামী লীগ vs বিএনপি

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২০ দুপুর ১২:৫২



ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনী প্রচারণা -
প্রতিশ্রুতি -
আতিকুল ইসলাম - অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে চাই। যানজট কমাতে চাই। ব্লা ব্লা ব্লা...
তাবিথ আউয়াল - এই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ ভোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি গ্রাম্য সালিশ এবং আমাদের নারীবাদি সমাজ।

লিখেছেন জাহিদুল ইসলাম ২৭, ২৫ শে জানুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৫:১২


এক গ্রামে বিচার সালিশ বসেছে--ধর্ষনের বিচার।মতিন নামের এক ব্যাক্তি শরিফা নামের এক মেয়েকে ধর্ষন করেছে।গ্রামের মাতবর সবদিক বিচার করে রায় দিল ধর্ষক মতিনকে সবার সামনে প্রকাশ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×