somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি প্রজাপতি ও একটি শিশির কণা ......

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১২ রাত ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি প্রজাপতি রোজ ভোরে একটি বাগানে ফুলে ফুলে মধু নিতে আসতো । একদিন ভোরে প্রজাপতিটি যখন ফুলের মধু নিতে বাগানে আসলো , সে দেখল বাগানের এক কোণে ঘাসের উপরে ছোট্ট একটা শিশির কণা ।সে উড়ে শিশির কণাটির কাছে আসলো, কিছুক্ষণ কণাটির আশেপাশে উড়াউড়ি করে সে মধু নিতে চলে গেলো। পরদিন ভোরে প্রজাপতিটি বাগানে আবারও মধু নিতে আসলো ,সে দেখল শিশির কণাটি তখনও ঘাসের উপরে। শিশির কণাটিকে আজ অনেক সুন্দর লাগছিলো ।প্রজাপতিটি তার কাছে এসে কিছুক্ষণ উড়ে চলে গেলো ।পরদিন ভোরে প্রজাপতিটি মধু নিতে এসে দেখে শিশির কণাটি চুপচাপ সেভাবেই বসে আছে ঘাসের উপর। প্রজাপতিটি উড়ে কণার কাছে আসলো।
প্রজাপতিটি বললঃ শিশির কণা ,শিশির কণা , তুমি সবসময় এভাবে চুপটি করে বসে থাকো কেন? তোমার কি মন খারাপ?
শিশির কণাটি বলেঃ না ভাই ।
প্রজাপতি বলেঃ তাহলে তুমি কেন প্রতিদিন এখানেই চুপটি করে বসে থাক? আমি রোজ তোমায় এখানে বসে থাকতে দেখি।
শিশির কণাটি বলেঃ আমিও রোজ তোমায় বাগানে উড়তে দেখি। আমার খুব ভালো লাগে।
প্রজাপতি বলেঃ তুমি অনেক সুন্দর শিশির কণা।
শিশির কণা বলেঃ তুমিও অনেক সুন্দর।
প্রজাপতি বলেঃ তুমি উড়তে পারোনা ?
শিশির কণা বলেঃ না , আমার তো পাখা নাই ভাই ।
প্রজাপতি বলেঃ তুমি তাহলে কোথাও যেতে পারোনা ?
শিশির কণা বলেঃ না , আমাকে সবসময় এখানেই থাকতে হয়। বেলা হলে আমি আর এখানে থাকতে পারিনা।
প্রজাপতি প্রশ্ন করেঃ কেন?
শিশির কণা বলেঃ আমি খুব ভোরে এখানে আসি, যখন সূর্য মামা ঘুমিয়ে থাকে। সূর্য মামা ঘুম থেকে উঠে গেলে আমাকে চলে যেতে হয় , নয়ত আমি মারা যাবো ।
প্রজাপতি বলেঃ তুমি আমার বন্ধু হবা শিশির কণা ?
শিশির কণা বলেঃ হবো ।
প্রজাপতি বলেঃ আমি রোজ ভোরে তোমার কাছে আসবো ...
এভাবে প্রতিদিন প্রজাপতি খুব ভোরে শিশির কণার কাছে আসে, দুজনে গল্প করে। প্রজাপতি শিশির কণাকে রোজ গল্প শোনায় । দূর দূরান্তের খবর, ফুলের খবর,ফলের খবর,পাখির খবর আরও কতো কি... এইসব শুনে শিশির কণার খুব ইচ্ছে হয় , তার যদি পাখা থাকতো !! সে যদি এভাবে উড়ে বেড়াতে পারতো !! কতই না মজা হতো !!
একদিন শিশির কণা প্রজাপতিকে বলেঃ ভাই প্রজাপতি, আমার তোমার মতো উড়ে উড়ে অনেক দূরে যেতে ইচ্ছে করে, তুমি আমায় তোমার পিঠে করে দূরে নিয়ে যাবে???
প্রজাপতি বলেঃ এ আর এমন কি?? আমি কাল তোমাকে আমার পাখায় নিয়ে উড়ে বেড়াবো ।
শিশির কণা সারাদিন খুব উত্তেজিত হয়ে থাকে, সে ভাবতে থাকে সে যখন প্রজাপতির পাখায় করে উড়ে বেড়াবে তখন কতো মজা হবে !!! সে আর প্রজাপতি একসাথে উড়ে উড়ে ফুলে বসবে, মধু খাবে,দূরে যাবে, আরও কতো কিছু !!!
পরদিন খুব ভোরে শিশির কণা প্রজাপতির জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু কই প্রজাপতি?? আজ এতো দেরি করছে কেন সে আসতে? অন্যদিন তো কত্ত আগে আসে। শিশির কণার আর দেরি সহ্য হয়না। সে অস্থির হয়ে যায় । পথের দিকে চেয়ে থাকে অধীর আগ্রহে। কিছুক্ষণ পর দেখে প্রজাপতি উড়ে আসছে।
সে অস্থির হয়ে প্রশ্ন করে প্রজাপতিকেঃতুমি এতো দেরি করলে কেন প্রজাপতি?? আমি সেই কখন থেকে তোমার জন্য অপেক্ষা করছি।
প্রজাপতি হাসে, বলেঃ আমি ঠিক সময়ে এসেছি বন্ধু, তুমিই আজ অনেক আগে চলে এসেছ ।
শিশির কণা লজ্জা পায়।
প্রজাপতি শিশির কণাকে তার পাখায় তুলে নেয় আলতো করে। ধীরে ধীরে তারা উপরে উড়তে থাকে। প্রজাপতি শিশির কণাকে নিয়ে এ ফুলে যায়,ও ফুলে যায়।পাখির কাছে যায় ,গাছের উপরে বসে। শিশির কণার তো আনন্দ আর ধরেনা। সে অবাক চোখে সব দেখে। পৃথিবীটা কত্ত সুন্দর!! কত্ত বড় !! আর সে এসবের কিছুই জানতোনা । সে প্রজাপতিকে বলে আমাকে আরও উপরে উড়িয়ে নিয়ে চলো প্রজাপতি ।প্রজাপতি উপরে উড়ে চলে। শিশির কণা মুগ্ধ হতেই থাকে। তার বিস্ময়ের সীমা থাকেনা। সে প্রজাপতিকে বলে আরও উপরে উড়তে ।প্রজাপতি উড়ে চলে। শিশির কণা দেখে আরও কতো প্রজাপতি উড়ে বেড়াচ্ছে ,ছোট বড় ,কত সুন্দর তারা দেখতে। উড়তে উড়তে কখন বেলা উঠে আসে প্রজাপতি, শিশির কণা জানতেই পারেনা। তারা উড়তেই থাকে। এক সময় যখন শিশির কণার গায়ে সূর্যের আঁচ লাগে সে চমকে ওঠে।
প্রজাপতিকে বলেঃ ভাই আমাকে এখনি নিচে নিয়ে চলো ।সূর্য মামা ঘুম থেকে উঠে গেছে, আমাকে এখনি নিচে যেতে হবে। প্রজাপতি দেখে উড়তে উড়তে তারা অনেক উপরে চলে এসেছে। প্রাণপণে সে নিচে নামতে থাকে। শিশির কণা সূর্যের আঁচে ধীরে ধীরে শুকিয়ে যেতে থাকে। একসময় শিশির কণা হারিয়ে যায় ।প্রজাপতি নিচে নেমে দেখে শিশির কণা হারিয়ে গেছে। প্রজাপতি খুব কাঁদে ।খুঁজে বেড়ায় শিশির কণাকে । কিন্তু তাকে কোথাও পায়না। কোথাও না......
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এফএম রেডিও

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:২০

২০০৯ সাল। একটি ছেলে। সে তার নানা নানীর সাথে মুন্সীগঞ্জ এ থাকতো। নানা তার নাতিকে একটি মোবাইল উপহার দেয়। নকিয়া ১৬৬১। সেই মোবাইলে এফএম রেডিও ছিলো। সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্রীয় সফর, আম তারেক আর চার সিটের দূরত্ব!

লিখেছেন জুয়েল তাজিম, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৪

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নেপালে রাষ্ট্রীয় সফরে যাবেন। সস্ত্রীক আমন্ত্রণ পেয়েছেন তিনি। তখন কিশোর তারেক রহমানেরও শখ জাগল—তিনিও নেপাল যাবেন।

বাবা বুঝিয়ে বললেন, রাষ্ট্রীয় সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ মানেই পরিবারের সবাইকে রাষ্ট্রীয় টাকায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরনাম হীন

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

তুমি চাইলেই মুঠোর ভেতর
একটা গোটা চাঁদ লুকিয়ে রাখতে পারো,
ইচ্ছে করলেই মেঘের গায়ে
শুকোতে দিতে পারো তোমার ভেজা চুল।
পুরো পৃথিবীর বিস্ময়
তোমার কাছে এসে দাঁড়ায় হাতজোড় করে,
শুধু আমার বুকের কাঁপনে
তোমার এত ভয় কেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহজালাল রুমি দেশ ছেড়েছেন কার ভয়ে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৮


থাপ্পড়-কাণ্ডের পর দেশ ছেড়েছেন শাহজালাল রুমি। টঙ্গীতে নিজের মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করাই যেন কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর জন্য। গণমাধ্যমের সামনে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি, ব্যক্তিগত বার্তায় ভয়ভীতি প্রদর্শন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ওসমান হাদী সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্যান

লিখেছেন এল গ্যাস্ত্রিকো ডি প্রবলেমো, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

এ আমি কী দেখলাম! ব্লগের প্রতিবাদী মুখ, ভারতের যম, ওসমান হাদীর মুখপাত্র, একাত্তরকা গণ্ডগোলের ব্যাপারে সচেতন মুখ সৈয়দ মশিউর রহমানের ব্লগটি স্থগিত অথবা বাতিল করা হয়েছে। দেশে যখন সামান্য চুমু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×