somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

''ইসলামে বহূবিবাহ ''নিয়ে ইসলামবিদ্্বেষীদের অপব্যাখ্যা

০৫ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৩:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইসলামে বহূবিবাহের অনুমোদন নিয়ে বিতর্ক চলছে যুগ যুগ ধরে । বিশেষ করে আধুনিক বিশ্বে ইহা একটি চরম বিতর্কিত বিষয় । ইসলাম বিদ্্বেষীরা এর অপব্যাখ্যা করে ইসলামকে হেয় প্রতিপন্ন করেই ক্ষান্ত হয়না বরং একে বর্বরতার পরিচায়ক বলতেও কুন্ঠিত হয়না । ইসলামি শরীয়তের দৃষ্টিতে বহূবিবাহের যে ব্যাখ্যা আছে , যারা তার অপব্যাখ্যা করে - তারা হয়তো ইসলাম সম্মন্দে নেহায়েতই অজ্ঞ অথবা বিদ্্বেষের বশবর্তী হয়ে এরকম আচরন করে । ইসলাম যেহেতু এসেছে সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে , তাই সকল সমস্যার সমাধানের ব্যাবস্তা করার দায়িত্ব তার উপড় বর্তায় । বহূবিবাহের ব্যাপারে কোরআন শরীফের যে আয়াত খানা নিয়ে বিতর্ক ; সে আয়াতটি নিয়ে খুবই সংক্ষিপ্ত আলোচনা করব । ওহূদের যুদ্্বের পর যখন অসংখ্য মুসলিম সেনা নিহত হলেন তখন তাদের পরিবারের যারা বিধবা ও এতিম হয়ে বেঁচে রইলেন , তাদের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এসে দাড়াল জীবিত মুসলমানদের উপড়ে । এমনি এক সামাজিক পরিসহিতিতে এই আয়াত খানা নাজিল হয়ে ছিল । তার অনবাদ হল নিম্নরূপ । ''তোমরা যদি মনে কর যে এতিম মেয়েদের প্রতি সুবিচার করতে পারবেনা তবে বিবাহ করবে নারীদের মধ্যে , যাদেরকে তোমাদের ভাল লাগে দুই তিন অথবা চার আর যদি আশংকা কর যে সুবিচার করতে পারবেনা তবে একজনকে অথবা তোমাদের অধিকারভুক্ত দাসীকে , ইহাতে পক্ষপাতিত্ব না করার অধিক সম্ভবনা '' (সুরা নিসা ঃ 3 ) উপরোক্ত আয়াত থেকে সুস্পষ্টভাবে কিছু তথ্য বেরিয়ে আসে যেমন ঃ (ক) বহূবিবাহ যেমন বাধ্যতামুলক করা হয়নি তেমনি উৎসাহও প্রদান করা হয়নি । (খ) আয়াতটির শানে-নুযুল থেকে বুঝা যায় যে, শূধু বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রেই এর অনুমতি দেওয়া হয়েছে । তবে কেবল মাত্র মানবিক কামনা-বাসনা আদায় করার জন্য নয় বরং বিধবা এবং এতিমদের প্রতি দয়া ও করূণা প্রদর্শনের উদ্দেশ্য আছে । (গ) এক বিশেষ পরিসহিতির মোকাবিলার জন্য যদিও অনুমতি দেওয়া হয়েছে তথাপি তৎকালীন আরব সমাজে প্রচলিত দশটি বিয়ে বা তারও অধিক বিয়ের প্রথা থেকে কমিয়ে এনে সীমিত করা হয়েছে । (ঘ) ইসলামের বিধান মত একস্বামীর জন্য তার স্ত্রীর সম্পুর্ণ অধিকার আদায় করা কর্তব্য । এখানে স্ত্রীর অধিকার বলতে অন্ন,বস্ত্র, বাসসহান, সুন্দর ব্যাবহার এবং শারীরক চাহিদা ইত্যাদির কথা বলা হয়েছে । এই সব অধিকার আদায়ে সন্দিহান ব্যক্তির জন্য এক বিবাহের কথা বলা হয়েছে । আল্লাহ তায়ালা কিভাবে বহূবিবাহকে নিরূৎসাহিত করেছেন অন্য একটি আয়াতে তা স্পষ্ট বুঝা যায় । ''তোমরা কখনও স্ত্রীদের মধ্যে সমতা রক্ষা করতে পারবেনা যদিও ইহা তোমার পক্ষ থেকে চরমভাবে কাংখিত হয় ।'' একজন স্ত্রীর প্রাপ্য অধিকার আদায় করতে যেখানে আমরা অক্ষম সেখানে চারজনের দায়িত্বকি ভাবে পালন করতে পারি ? (ঙ) উপড়ল্লেখিত আয়াতে বলা হয়েছে ''বিবাহ কর"এখানে কিডন্যাপ,প্রতারনা,প্রলোভন বা যৌতুক আদান-প্রদানের কোন বালাই নেই । ইসলামে বিয়ে হচ্ছে - উভয় পক্ষের সম্মতিতে একজন পুরূষ-মহিলা জীবন সঙি হিসাবে একে অপরের জীবনে নিজেকে আবদ্্ব করা । একজন পুরূষ আরেকটি বিয়ে করতে পারেন , প্রথমা স্ত্রী যদি বন্দ্ব্যা হন অথবা এমন কোন দীর্ঘ শারীরিক অসুসহতায় ভোগেন যার ফলে তাহার স্বামীর ন্যায্য অধিকার আদায়ে অপারগতা প্রকাশ পায় , ইত্যাদি কারনেও তখন প্রথমা স্ত্রীর অনুমতি নিয়ে তিনি আরেকটি বিয়ে করতে পারেন । যার বিস্তারীত আলোচনা আগামিতে করা যেতে পারে । যাক ঃ সর্বদা আমাদেরকে মনে রাখতে হবে যে , ইসলামের সাধারণ নিয়ম হচ্ছে এক বিবাহ । একাধিক বিয়ের সুফলের প্রতি লক্ষ্য রেখে ব্যক্তি-সমাজের বিশেষ বিশেষ পরিসহিতিতে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষ চারটি বিবাহকে বৈধ বলা হয়েছে । যেখানে সৃষ্ট পরিসহিতি মোকাবেলার জন্য এর চেয়ে সুন্দর ব্যাবস্তার বিকল্প নেই । কারন ইসলাম হচ্ছে আল্লাহ তায়ালার দেওয়া এক চিরন্তন জীবন বিধান । কিন্ত আমাদের অজ্ঞতার কারনেই ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় আমাদের মাধ্যমেই তাহার অপব্যাখ্যা হয় । আমরা ইসলামের প্রকৃত মর্ম না বুঝে বলে থাকি যে,মুসলিম পুরূষ চারটি বিয়ে করতে পারে । এই অজুহাতে কেউ কেউ একাধিক বিয়ে করে এবং অন্যকেও উৎসাহ দেয় । তাদের এই আচরণে একদিকে যেমন তাদের নারীবিলাসী , যৌনসমভোগে পাগল এবং বহূ গামী চরিত্রের পরিচয় ফুটে উঠে তেমনি এর ফলে ইসলাম বিদ্্বেষী নাস্তিক-মুরতাদরা ইসলামকে হেয় করে অপপ্রচার চালায় । তাই আমাদেরকে আরো প্রচুর ইসলামি জ্ঞান আহরন করে ওদের মোকাবেলা করতে হবে ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাসাগরের ধারের সেই ছোট্ট দ্বীপ সামোয়া এবং বিশ্বকাপ ফুটবল

লিখেছেন হাসান মাহবুব, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ১০:৩২

বিশ্বকাপের এই মৌসুমে ফুটবল নিয়ে একটা দারুণ হার্ট লিফটিং মুভি দেখে ফেললাম - "Next Goal Wins"
গল্পটা আমেরিকান সামোয়ার জাতীয় ফুটবল দলকে নিয়ে। ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩১-০ গোলে হেরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা ভয়ংকর

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:৪৯



বাঙালির উদরঘাটতি থাকলেও উৎসবে সদা মশগুল!
দ্যাশ নতুন কইরা স্বাধীন হইছে গো!
রঙবেরঙে পতাকায় বিলুপ্ত স্বজাতির মানচিত্র!

শুধু পতাকায় সীমাবদ্ধ নেই!
মনে হচ্ছে পাল্টে গেছে জাতীয়তা!
মধ্যরাতে ভেঙে যায় সুনিদ্রা কর্কশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

জাপান যেভাবে মাত্র ৭ বছরে অর্থনৈতিক পরাশক্তিতে পরিণত হয়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৭



জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হায়াতো ইকেদা ১৯৬০ সালের শেষভাগে তাঁর বিখ্যাত "ইনকাম ডাবলিং প্ল্যান" বা "আয় দ্বিগুণকরণ পরিকল্পনা" চালু করেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো জাপানের অর্থনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×