উপলব্ধি......
বড় চাঁদটা যখন ধুলোয় লুন্ঠিত,
পোর্টফোলিওর আবরণে নিজেকে
স্নায়ুবিক অতিশয্যায় ভুলে গিয়েছি
ছিল এক বিষন্ন মাঠ ভরা রাত্তির;
জানি সেদিন ছিল আত্মহত্যার পুর্ণিমা;
ঠাকুর কি জানে কি বিষম বৈকল্য আমার,
জানে কি সেদিন গলিত সীসা টুকরো জার্নালে
ঢেলে দিয়েছিলাম আমার বোধে,
পুড়িয়েছিলাম তোমার গন্ধ সপ্তমির চুম্বন।
এত এত পৃথিবীতে মানুষের জনপদ
তোমার কাছে গণনার যন্ত্র আছে?
বুঝবে কি করে, বুঝবে কি করে
জীবনের অংক মিলে যায় মিশে যায়
একে অন্যের আত্ম হনন দহনে.......
ধর্মপুর গ্রামটা ছাপোশা আর আটদশটা ছিটে ফোটা পল্লীর মতোই। শহর পেরিয়েই শহরতলি, যারা গিলে ফেলে নগরের উচ্ছিস্ট, এরপর মফস্বল, তারপরেই ট্রাংক রোডের পাশেই ধুধু ঢেউ খেলানো আউশের জমি। রক্ত সূর্য যখন কৃষক বা বিষন্ন খড়ের শরীরে তখন ধানের ক্ষেতে থান মেলে দেয় নকশিকাঁথা; যেখানে ধর্মপুরের সেই গল্পের শান্ত যুবক স্নিগ্ধ যুবতী এঁকে রাখে মেখে রাখে ভেসে থাকে শরীরে। যাদের নিয়ে এ গল্পের মুল কাঠামো তারা আজ পলায়নপুর থেকে একটু দূরে আগোছালো সড়কের আস্তাবল ধর্মপুরে.. গল্প আর পদ্যের পাঁচমিশালি পাঁচনের আরেক অধ্যায় .. মুচকি হাসে সেখানে প্রেম আর পাঁজর ভাঙ্গা অক্সিজেনের পটভূমি..
যুবক....
রহস্য ময়ীতার প্রাসাদের চিলে কোঠায়,
ছোট্ট স্থানে স্নায়ুবিক জলাশয় একান্ত
শুন্য বিবেকের ছানি পরা সত্য তানপুরা
আজন্ম মিথ্যে স্নান ত্রিশুলের কাছে সমর্পন।
মাননীয় এ মূহূর্তে মোবাইল সংযোগ দেয়া সম্ভব হচ্ছেনা,
যোজন যোজন দূরের আত্ম তৃপ্তির ঢেকুর জোনাকী রোদ্দুর;
প্রলুব্ধ বাস্তবতার নিশ্চিন্তে হেঁটে যাবার আকুতি,
পাখনা গজায় পুরোনো সেন্ডেল বব মার্লির ঝাড়বাতি।
মনে কর এক বিন্দু জলে তোমাকে দেখছি,
ওই তো চোখ, অধর, গ্রীবা,কপাল, অনুপরমানু,
কান, বাহুমুল, শুন্য উদ্যান, বিছানা, ঝাউবন,
কিন্তু কোথায় যেখানে আমার প্রতিমূর্তি,
বৈকল্য যখন কাল হয় মৃত্তিকার অবগাহন
মনে কর আজ প্রচন্ড বৃষ্টি ঝড় তুষার দহন...
মনোজগতের অচিনপুরে ধর্মপুরে আরেক পরাভব বাস্তবতা। আমাদের ভেতরে আকাশ আছে , আছে এক পৃথিবী। আকাশ গঙ্গা পাহাড় ভেঙ্গে প্যারাফিন বোধে নাটক বুনি অন্যরকম খেলনায়। খেলে যায় খেলারাম দেখে যাস স্নায়ুবিক যন্ত্রনা অতঃপর যুদ্ধে রচিত হয় আরেকটি দ্বৈত মানসিক অভিযান।
যুবতী....
একটা সময় ছিল হায় একটা সময়-
মনখারাপের শাদাকান্না ছুয়ে ফড়িং ডানায় ভাসত,
হুটোপুটি গোল্লা ছুটে আকাশ ডানায় শব্দ আঁকতো,
আর মেঘ পিওন সেই মেয়েটি আঁচল খামচে ভাবত আহ লিখত।
অপেক্ষাকৃত রোদের ঝুড়ি বিকেলটা সুন্দর হতো
যদি তুমিটা থাকতে নীলের পরে সবুজ হতো,
নিস্তরঙ্গ ক্লান্ত দিঘী তখনও হিংসে করতো,
ভালোবাসছে কেন আমার বারান্দায় তালভুলে সংগীতে
ভালোবাসছে কেন অগ্ন্যুৎপাতের মত আমার অলিন্দে
পদাঘাতের সময়টা যন্ত্রণা দেয় শুন্য মন্দিরে;
পদ আর পথের ঘাস প্রজাপতি,
লেপ্টে যায় পাখিদের মতন, মানুষের মতন।
আমিও উড়ি স্নায়ুবিক যাঁতাকলে যতক্ষণনা
সেই ঘাস ফড়িং মেঘ ভাঙ্গা পাখি আর মেঘ দূত
নীল সবুজের জ্বর রাঙ্গা ছবি আঁকছে আহা বেশ ভাবছে।
হুম সত্যি একটা সময় ছিল, সেদিন একটা সময় হাত ঘড়িটার পাজামা ছিড়ে গেলে মুঠো ফোনের চশমাটাও এমনকি সেই প্রথম ঘাম বৃষ্টি ভেজা ঠোঁটের যুদ্ধ যুথবদ্ধ অনুভুতি গিলে ফেলল গেলে ফেলল মানবিক ধর্মগ্রন্থ... নিউরণের সাগরে আসলেই কিছু বিরতির পর মঞ্চস্থ স্ক্রীপ্ট যৎসামান্য তবুও বাকি...
যুবক......
জেগে আছি রাত্রি ভর ফনিমনসার আড়ালে,
যে বিষ বৃক্ষ একে একে শুষে নেয় হুইসালের মত
বিছানা, চাদর অথবা তোর চুল ভেজা বালিশে,
একটু একটু তোর নুইয়ে পড়া মশারির গল্প,
ধুসর কাচ ভাঙ্গা ধুলোর চাদরে;
স্বপ্নেরা ভিড় ঠেলে সাবধানে বেছে নেয় ইচ্ছের পেন্সিল,
এঁকে নিস, জেগে আছে প্রহরের পর প্রহর ভেসে যাওয়া পথে,
উঠানে এঁকেছি বিভোর ভাবনায় তোর নেইলপলিশ শিউলিতলা,
ধোঁয়াশা সন্ধ্যা সেই তুলসী প্রদীপ, বন্ধন হীন গ্রন্থির আড়ালে;
পাশ দিয়ে ভেবে দেখ কদম তলায় এখানো নিভে যায়নি,
সন্ধ্যার অন্তরালে মন্দিরা মাখা কির্ত্তনে জেগে আছি,
তোর জানা হারিকেনে ঘরের কোণে লুকিয়েছি তোকে ,
কোন সরিসৃপের মত লাল গালিচা ভেদ করে চেয়ে দেখ
একটু দেখ ধমনীতে দোটানার ভেন্টিলেটরে
ভেবে দেখ জেগে আছি, আছি জেগে আমাদের নিরবতায়....
সীতাকুন্ড....
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে নভেম্বর, ২০১৪ রাত ১২:৫৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



