বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী।
সাংবিধানিক ভাবে স্বীকৃত। প্রজাতন্ত্রে প্রজারাই সর্বময় ক্ষমতার উৎস। প্রজাদের প্রদত্ত করের টাকাই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন দেয়া হয়।
সেই কর্মচারী যদি প্রজাদের সেবার বদলে তাদের প্রভূ হয়ে বসতে চায়! কেমন লাগে? তারা যদি কারো ভুলকে চোখে না দেখে ক্রিয়াকে উপেক্ষা করে কেবলই প্রতিক্রিয়া নিয়ে গলাবাজি করে তখন তা দলান্ধ রাজনৈতিক তল্পি বহন ছাড়া আর কি?????
বৃহস্পতিবার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বললেন, “পেট্রল বোমা হামলাকারীরা আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করলে জানমাল রক্ষায় প্রয়োজনে গুলি চালানোর নির্দেশ দেয়া হতে পারে।তিনি বললেন, “বিজিবি মানুষ হত্যা করতে চায় না। তবে মানুষ হত্যা করতে দেখলে এবং নিজে আক্রান্ত হলে জীবন বাঁচানোর তাগিদে যেকোনো আক্রমণ প্রতিহত করবে বিজিবি। এজন্য বিজিবি সদস্যদের অস্ত্র ধরতে হতে পারে।”
পেট্রল বোমা হামলাকারীরা জনগনের শত্রু,দেশের শত্রু-তাদের ব্যাপারে কোনো ছাড় নেই।যারা পেট্রল বোমা মারছে তাদের অবশ্যই চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।তাই বলে সরাসরি গুলির নির্দেশ------
জনাব বাদল খানের বক্তব্যের সঙ্গে বিজিবি প্রধানের বক্তব্যের তফাৎটা কোথায়?
বিজিবি গঠিত হওয়ার পর সীমান্তে বহু সাফল্য দেখিয়েছে,ফালানির লাশ তিন দিন পর উদ্ধার করেছে।প্রতিদিন সীমান্তে বিএসএফ'র গুলিতে বাংলাদেশি নিহত হচ্ছে।সেখানে তারা কিছু করে দেখাতে না পারলেও আজিজ আহমেদের নির্দেশের পর নিজ দেশের জনগনের উপর গুলি চালাতে তাদের হাত কাঁপবে না।এদেশের মানুষ এমনই হতভাগা যে,সীমান্তে জীবন দেবে বিএসএফ-এর গুলিতে আবার নিজ দেশেও জীবন দেবে নিজ ভাইএর গুলিতে !!!!
পুলিশের নতুন আইজি সাহেবও যোগদানের দিনউ তল্পিবাহকের পরিচয়টা নগ্ন ভাবেই প্রকাশ করেছেন বিবৃতিতে!!!!!
প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী থাকবে দল নিরপেক্ষ! সত্যের সাথে। দেশ ও জনতার স্বার্থের সাথে! সেখানে অন্য সকল প্রতিষ্ঠানতো দলীয় পরিচয়ে নিজেদের হারিয়ে ফেলেছেই- শেষ ভরসা আর্মি, বিজিবি, আদালত!
সেখানে বিজিবির মতো সকল জনতার নির্ভরতার স্থানকে যদি আমজনতার মূখোমূখি দাড় করানো চেস্টা করা হয় পাক বাহিনীর মতো তবে তা হবে নিতান্তই আত্মঘাতি!
পাকি বাহিনীর কাছে বাঙালী ছিল ভিনদেশী! তারা পোড়ামাটি নীতিতে শুধু জমিন চেয়েছীল!
অনির্বাচিত, ১৫৪ সিটে সিলেকশনের এমপি নিয়ে সংবিধঅন রক্ষার দোহাই দিয়ে ক্ষমতা গ্রহণেও মানুষ নিরব ছিল- কিন্তু তাকে ভর করে যখন ৫ বছররে স্বৈরাচারের স্বপ্ন দেখতে থাকল- তখন মানুষ তা মুনতে পারছে না। মানা সম্ভবও নয়। না রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায়, সংজ্ঞায়, না গণতন্ত্রের প্রেক্ষাপটে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ বলেছেন, ‘‘জানমালের নিরাপত্তায় বিজিবি সদস্যরা অবশ্যই অস্ত্র ব্যবহার করবেন৷'' বিজিবি মহাপরিচালক বলেন, ‘‘কেউ পেট্রোল বোমা ব্যবহারের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা বসে থাকবেন না৷ জানমালের নিরাপত্তায় তারা তখন অবশ্যই অস্ত্র ব্যবহার করবেন৷''
তিনিকি দেশের বাস্তবতা জানেন না?
তিনি কি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের নূণ্যতম জ্ঞান রাখেন না?
তিনি কি গণতন্ত্রের নূন্যতম ধারনা রাখেন না?
তিনি কি দেশের চলমান ঘটনা অবহিত নন?
তবে কেন এত দলান্ধতা! তবে কেন আমজনতা ও দেশের স্বার্থের বিপরীতে নগ্ন ভাবে দাড়িয়ে পাক বাহিনীর জেনারেল কন্ঠস্বর তার কন্ঠে!
বিজিবি প্রধানের এই বক্তব্য রাজনৈতিক এবং এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া অবৈধ। কাজেই এখন ক্রস ফায়ারের ন্যায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদেরকে ধরে ধরে গুলি করার একটা ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মনে হচ্ছে দেশ গৃহযুদ্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার বিভিন্ন আইন শৃংখলা বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাড় করাতে চাইছে। আর এই কাজ যখন কোন সরকার করতে যায়, তখন তার পতন হয়। মনে হয় সরকার নিশ্চিত পতনের দিকে যাচ্ছে। স্বৈরশ্বাসকরা ক্ষমতা থেকে নামানোর সব রাস্তা বন্দ করে দিলেও নিজের পতনের রাস্তা কিন্তু বন্দ করতে পারে না। এটাই সত্য, এটাই ইতিহাস।
আমরা চাই সকল বিবেকবান, দেশপ্রেমিক, মুক্তিযোদ্ধা, আমজনতা সকলে সুন্দ একটা গ্রহনযোগ্য সমাধানের জন্য উচ্চকন্ঠ হোন। আপনার নিরবতা আপনার পক্ষকে নির্ধারিত করে দেয়!
হয় আপনি দেশ জনতা গণতন্ত্রের পক্ষে
নয় আপনি স্বৈরাচারের পক্ষে!!!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

