somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তিন বন্ধু ও একটি রুটি

০৫ ই এপ্রিল, ২০১৪ দুপুর ২:১৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"ভুল ব্যাখ্যা ও মিথ্যা তথ্য দিয়ে মুক্তিযোধ্যা সনদ নেওয়ায় ৩৯ জন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধাবিষয়ক মন্ত্রণালয়" (সূত্র: প্রথম আলো - ০৫/০৪/২০১৪)।

হায়রে ! সোনার বাংলা তোমার বুকে দাড়িয়ে অতীতে কি দেখেছি ? এখন কি দেখছি ? আর ভবিশ্যতে কি দেখতে হবে ? এভাবে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা বাড়তে থাকলে হয়তো এক সময় আসল মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের মাঝ থেকে হাড়িয়েই যাবে। যে মিথ্যা, জালিয়াতি, জুলুম থেকে রেহাই পেতে আমাদের মুক্তিযোদ্ধ হয়েছিল, আর সেই মুক্তিযোদ্ধার সনদ নেওয়ায় সেই জালিয়াতির উত্থান। তাই বলিতে হয় " বঙ্গদেশে কতকালে কতই রঙ্গ দেখিব"। ভুয়া সনদধারীরা হয়তো নিন্মলিখিত কৌশলটি ভালো ভাবেই আয়ত্ব করিয়া ছিলো।

হতদরিদ্র তিন বালক খাবারের জন্য মাত্র একটি রুটি কিনেছিল। কারণ তাদের কাছে খাবার কেনার মত যথেষ্ট টাকা ছিল না। খাবারের উদ্দেশ্যে রুটিটি নিয়ে যখন তারা ঘরে ফিরলো তখন এক বালক বলে উঠলো - এক রুটি খেয়ে তো তিনজনের পেট ভরবে না। তাই চল, আমরা এক কাজ করি। রুটিটা সযত্নে রেখে আমরা তিনজন ঘুমিয়ে পরি। ঘুমের মাঝে যে সবচেয়ে ভালো স্বপ্ন দেখবে, সেই এই রুটিটা খাবে। অন্য দুই বন্ধু তার কথায় সায় দিলো। যেই ভাবা সেই কাজ। তারা তিনজনই ঘুমিয়ে পরলো।

বেশ কিছুক্ষণ পর তারা ঘুম থেকে জেগে উঠলো। এবার তাদের দেখা স্বপ্নের ব্যাখ্যা করার পালা। প্রথম বন্ধু বলল, কি আর বলবো দোস্ত। আমিতো স্বপ্নে বারাক ওবামার সাথে দেখা করলাম। ওবামার আমন্ত্রনে আমি আমেরিকায় চলে গেছিলাম। সে কি আয়োজন। আমাকে আমেরিকান সৈন্যরা আমাকে গার্ড অফ অনার দিল। আমি তো মহাখুশি। এর মধ্যেই স্বপ্ন ভাঙ্গয়া দিলি। দ্বিতীয় বন্ধু বলল, আরে রাখ তোর বারাক ওবামা। আমিতো গেছিলাম ঐ বান কি মুনের অনুরোধে এক সভায়। ঐখানে তো বিভিন্ন দেশের সরকারগো মধ্যে কি এক গন্ডগোল লাগছিলো ? আমি গিয়ে সবাইরে নিয়ে বসলাম। অনেক আলোচনার পরে আমি ওদের মাঝে একটা মিমাংসা কইরা দিলাম। নিজেরা তো আর নিজেগো সমস্যা মিমাংসা করতে পারে না, তাই আমিই একটা ধমক দিয়ে সব কিছুর ফয়সালা কইরা দিলাম আর কি। সবাই তো আমারে বাহবা দিল। বলে কি না, আমার জন্যি নাকি তারা অনেক বড় একটা সমস্যা থেকে বেঁচে গেল। আমি বললাম, আরে না, এ আর এমন কি ? আমগো মাঝে মাঝেই এই কাম করতে হয়। আমরা এইগুলান না করলে করবোই বা কেডা ? এর মাঝেই তোর ডাকে আমি ঘুম থেকে জাইগা উঠলাম। এবার দুই বন্ধু তৃতীয় বন্ধুর দিকে তাকাইয়া কইলো বল, তুই স্বপ্নে কি দেখলি ? এবার স্বপ্ন দেখার পরিকল্পনাকারী বন্ধু বলল, আমিও তোদের সাথে ঘুমিয়ে পরলাম। ঘুমের মাঝে আমি দেখলাম লাঠি হাতে ইয়া মোটা এক লোক আমার কাছে আইসা কইলো, ঐ ওঠ। রুটিটা খাইয়া ফালা। আমি কইলাম, না রুটি আমি খামু না । সে কইলো, যদি তুই এই রুটি না খাস, তাইলে আমার হাতের এই মোডা লাঠি তোর মাথায় মারমু। আমি তো জাইগা উঠে তোদের ডাকাডাকি শুরু করলাম। কিন্তু তোরা কেউ উঠলি না। শেষে নিরুপায় হয়ে আমি রুটিটা খাইয়া লইলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ সকাল ৯:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×