গতকাল দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় দেশী চিনির করুণ পরিণতির পরিসংখ্যান উঠে এসেছে। বাজারের দিকে তাকালে শুধু দেশী চিনি নয়, প্রত্যেকটি দেশী পণ্যের একই চিত্র লক্ষ্য করা যায়। কিছুদিন আগেও আমরা ১৪০ টাকা কেজি দরে পিয়াজ কিনতে বাধ্য হলাম। অথচ যখনি আমাদের দেশের কৃষকদের উৎপাদিত পিয়াজ বাজারে আসল তখন দেশী পিয়াজের কেজি প্রতি বাজার দর দেখা গেল ২০ থেকে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা। কৃষক নিজের উৎপাদিত আলুর ন্যায্য দাম না পেয়ে রাস্তায় আলু ঢেলে তার প্রতিবাদ জানালো। এখন সেই আলু আবার ১৫ টাকা কেজি দরে কিনে খাচ্ছি। হাজার হাজার মেট্রিক টন আলু সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে গেল। যদি আলু গুলো কৃষকের কাছ থেকে ন্যায্য দামে কেনা হতো তাহলে কৃষক এতো ক্ষতিগ্রস্ত হতো না। একই ভাবে খামারিরা রাস্তায়, নদীতে দুধ ঢেলে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষনের চেষ্টা করলো। কাজের কাজ কিছুই হলো না। এর কারণ যে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তাদের কান্নার আওয়াজ এতটাই ক্ষীণ যে তা কর্তৃপক্ষের কান পর্যন্ত পৌছায় না। এই অবস্থায় চলতে থাকলে আমাদের অবস্থা হবে ভয়াবহ। আমাদের বর্তমানে তো কাদতেই হবে, ভবিষ্যতের জন্য কান্নার প্রস্ততি নিতে হবে। এক্ষেত্রে প্রিয় পাঠদের একটা কথা স্মরন করিয়ে দিতে চাই।
গ্রামের এক লোকের বাবা মারা গেছে। পুরো বাড়িসহ সবার মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেক কান্নাকাটির পর মরদেহ কবর দেওয়া হলো। এবার মরহুমের ছেলে আরও জোরে কান্নাকাটি শুরু করে দিল। সবাই ভাবলো সে তার বাবাকে অনেক ভালোবাসত। তাই একটু বেশী কান্নাকাটি করছে। সবাই তাকে সান্তনা দিতে লাগল। এবার লোকটা কান্না থামিয়ে বলল, আমি কান্দি কি আর সাধে ? বাবা মারা গেছে আমার কষ্ট নাই। সবাইকে তো মরতেই হইবো। আমি চিন্তা করতাছি আযরাইল তো আমার বাড়ি চিনে গেল। এরপর আযরাইল আামার খোজে বাড়ি আইবো। এতদিন আযরাইল আমার বাড়ি চিনতো না। আমি অহন কই লুকামু। বলে লোকটা আবার হু হু করে কাদতে লাগলো।
দেশী কৃষকদের কথা চিন্তা না করে বাহির থেকে পণ্য আমদানী করা আর আযরাইলকে বাড়ি চেনানো একই কথা। এই ভাবে চলতে থাকলে আমার দেশের কৃষক, ক্ষুদ্রব্যবসায়ী, উদ্যেক্তাসহ সকল জনসাধারনকে একের পর এক ঠকতে হবে আর কাদতে হবে। আমরা হব অর্থনৈতিক দিক থেকে একটি পঙ্গু জাতি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



