somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এন ইডিয়ট ইন লাভ!!! (এক)

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
(এই সিরিজের পোস্টগুলা শুধু বিনুদনের জন্য! এইখানকার কোন ইনফরমেশন লেখকের বিরুদ্ধে ব্যাবহার করা যাইবে না।)



এই কাহিনীটা অনেক পুরনো। তখন হয়ত আমি ক্লাস থ্রি কিংবা ফোর এ পড়ি। আমার আব্বা হাইস্কুলের টিচার হবার সুবাদে সমাজের মধ্যবিত্ত লোকজনের কাছে তার বেশ ভালোই গ্রহণযোগ্যতা ছিল। ফলাফল, বিভিন্ন সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে দাওয়াতের সংখ্যাটাও বেশ হ্যান্ডসাম ছিল। বাপের বড় ছেলে হবার সুবাদে আমার আব্বা মাঝে মাঝেই আমাক নিয়া যাইত তাঁর সাথে করে।যাহোক, একবার পাশের গ্রামে আব্বার সাথে দাওয়াতে গেছিলাম। খাওয়া দাওয়ার আগে সাধারণত বাইরের ছোট প্যান্ডেলে বসে অপেক্ষা করা লাগত আগের ব্যাচটা শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত। প্যান্ডেলের বাইরে বাপের সাথে বসে থাকতে থাকতে দেখলাম, একটা মোটরসাইকেল এসে থামল,নামল এক ভদ্রলোক আর একটা রাজকুমারীর/পরীর মত ফুটফুটে সুন্দর বাচ্চা মেয়ে। আমিও কিন্তু বাচ্চা আছিলাম! আমার স্টিল মনে আছে, মেয়েটা সাদা ধবধবে ফ্লাফি একটা ড্রেস পরে আসছিল (ফেস মনে নাই) ।এরপর মেয়েটার বাবা আমার আব্বার সাথে কথা বলল। এন্ড দেন নাথিং আনইউজুয়াল, এভ্রিথিংওয়েন্ট এজ ইট ইজ সাপোজট টু গো। খাইয়া দাইয়া, একটা পান সিস্টেমে পকেটে চালান কইরাবাড়ি! বাপের সামনে পান খাইলে থাবড়াইয়া দাঁত ফালাই দিবে নাহ!

কিছুদিনের মধ্যে মেয়েটার চেহারা ভুলে গিয়ে মারবেল নিয়া ব্যাস্ত হইয়া পরছিলাম। বছরের পর বছর চলে গেছে। এর পরের বছর গুলোতে যদি কখনো কেউ কোন সুন্দর মেয়ের কথা বলত, তখন আমার ওই পরীর মত মেয়েটার কথা মনে হইত। আহা!!!

ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দেবার পর যখন আমার হাজী দানেশে ভেটেরিনারিতে চান্স হইল, তখন করার মত হাতে কিছু ছিল না। দিনাজপুরে বইসা বইসা মাছি মারতেছিলাম! এর মধ্যে একটা মেয়ের কথা শুনছিলাম যে নাকি ওই মটরসাইকেল থেকে নামা লোকটার মেয়ে (লোকটার কথা আমার মনে ছিল)। ঘটনা চক্রে মেয়েটা নাকি আবার আমার ব্যাচমেট!!! বহুত কায়দা কানুন করে সেই মেয়েটার নাম্বার যোগাড়করে ফোন দিলাম এক রাতে! তখনকার আমলে কারো কাছে কুনো মাইয়াপাইনের ফোন নাম্বার থাকলে অর আর নাস্তার অভাব হইত না।

এলাকায় ভদ্র ছেলে খ্যাতি ছিল আমার (এখনো আছে!)! তো কল দিয়াই পরিচয় দিয়া দিলাম সেই ক্রেডিবিলিটিটাকে পুঁজি কইরা। মেয়েটা বেশ ডিসেন্টলিই কথা বলছিল।মেয়েটার সাথে আমার আলাপ আলোচনা গুলা মূলত এডমিশন টেস্ট ঘিরেই চলছিল। কথা বলতে বলতে একসময় মেয়েটা কান্নাকাটি শুরু করে দিল। তার কোথাও চান্স হয়নি সে খুবই ডিপ্রেসড। এন্ড সি গাট মি!!! এই মাইয়াপাইনের কান্নাকাটি আমি সহ্য করতে পারি না। এই দুরবস্থা দেখে খুব মায়া লাগা শুরু করল মেয়েটার জন্য। আমি চেষ্টা করলাম কমফোরট দেবার প্লাস আমার বেস্ট এডভাইস গুলাও দিচ্ছিলাম। সেই মুহূর্তে আমার একটাই টার্গেট ছিল, সেইটা হইল মেয়েটারে হেল্প করা। এইভাবে প্রায় তিন চার দিন গেল। এর মধ্যে মেয়েটার সাথে একদিন দেখাও হয়ে গেল! দেখে “জ-ড্রপিং” কোন রিয়্যাকশন হয়নি। আসলে মেয়েটা খুব সাধারণ একটা মেয়ে ছিল! মেয়েটার সাথে আমার পিরিত করার কোন ইচ্ছা ছিল না,জাষ্ট একটা নজর দেখার ইচ্ছা ছিল। সি ওয়াজ ইন মাই ড্রিমস! আই মেড এ মিস্টেক বাই টারনিং ইট ইন্টু এ রিয়্যালিটি।

সপ্তাহখানেক পরঃ
মেয়েটার সাথে একটু ফ্রি হবার সুবাদে দু একটা বাকা-তেড়া কোথাও হচ্ছিল। এক সময় মেয়েটারে জিগাইলাম পিরিত করে কিনা? মেয়েটা কয় নাতো! আমার ইন্টেল ছিল অন্যরকম। আমি জানতাম, ও পিরিত করে। তাও এলাকার একজন ফেমাস প্লেবয়ের সাথে। মাইয়া তো আমারে পুরা তব্দা খাওয়াই দিছে! আমি অর কথা বিশ্বাস করতাম না আমার সোর্সের কথা? আমার সোর্সের হাতে ফ্যাকচুয়াল ইনফো আছে আর মাইয়ার আছে চোখের জল। মাইয়া কান্দে আমারে কয়, অর দুর্নাম করানোর জন্যে লোকজন অর নামে এইসব কথা ছড়াচ্ছে! ওদের জিগরি দোস্তি ভাঙ্গার জন্য এরাম ষড়যন্ত্র করতেছে! এমুন কান্দাকাটি আমার আর সহ্য হইল না। ফ্যাক্ট ইগনোর করে মাইয়ার কথাই বিশ্বাস করলাম! এইজন্য মাইয়ার ভালোর জন্যই কইলাম, দেখ মাইয়া, পিরিত কর ভালো কথা, সমস্যা নাই। যা মন চায় তাই কর। কিন্তু চোখ কান একটু খুলা রাইখো! সব লোকের চরিত্র তো আর সুবিধার হয় না! আর এর সাথে জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলগুলার একটা কইরা লাইলাম!

তার পরদিন দুপুরে একটা কল পাইলাম ওই ছেলের (প্লেবয়ের)! ইমিডিয়েটলি একটা ভারবাল বিটডাউন খাইলাম ফোনের উপ্রে! তারপরে যে তওবা করছি মাইয়াপাইনরে বিশ্বাস না করতে, আর সহজে কাউরে সেই লেভেলের বিশ্বাস পাই না!

কথাটা হইল, এইখানে মাইয়ার আর কি দোষ দিমু? মাইয়া তাই করছে যা আর দশটা পুলা মাইয়া করতো! ইট ওয়াজ মি হু ওয়াজ দ্যা ডাম্ব ওয়ান। এই মাইয়াটারে আমি বিউটির দিক থেকে আইডিয়াল মনে করতাম একসময়। আমি জানি না মেয়েটা এখন কোথায় আছে, ক্যামন আছে। চাইলেই অবশ্য জানতে পারি। আমি মন থেকে আশা করি, এই মাইয়ার সকল মনের আশা পুরন হোক।

(চলপে.........।)
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:০৬
৮টি মন্তব্য ৮টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×