somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এন ইডিয়ট ইন লাভ!!! (দশ)

০৭ ই জানুয়ারি, ২০১৫ সকাল ৯:৫০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এই পুষ্টে ১৭+ ট্যাগ লাগানো হইল (আঠার প্লাস দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু লেখকের বয়স ঘটনার সময় সতের ছিল)! নিজ দায়িত্বে পড়বেন!




(আগের পুস্টের পর.........)
দরজাটা খুলে দেখি আমার নানী (আম্মার খালা)! এই নানী দিনাজপুরেই থাকত, বহুত ভালো মহিলা। মাঝে মাঝে আমার খোঁজখবর নিয়া যাইত! এইটা দেখিয়া প্রথমে ভয়টা দুর হইলেও সাথে সাথেই আরেকটা ভয় আইসা পরছে! এখন তো আমার নানী সবাইরে কইয়ে দেবে যে আমি রুমে মাইয়া লইয়া আসি! আমার আম্মারে কইলেতো আর রক্ষা নাই! এইটার মত বড় অপবাদ আমার ক্যারেক্টারে লাগানোর মত আর দ্বিতীয়টা নাই! যদিও কথাটা মিথ্যা না কিন্তু এই কথাটা যেই ব্যাপারটা ইমপ্লাই করবে সেইটা হইল প্রব্লেম! তখন আমি হড়বড় করে জগাখিচুড়ী দিয়া একটা মিথ্যা কাহিনী বানাই দিলাম! কইলাম হ্যায় আমার এক মামার ছোট ভইন, ডাক্তারের কাছে যাবে, মামা সিরিয়াল নিতে গেছে! একটু পড়ে আইসা ওরে ডাক্তারের কাছে নিয়া যাবে! আপাতত আমার এইখানে থুইয়া গ্যাছে!!! যদিও মিথ্যার ক্যারেক্টার গুলা সব রিয়েল ছিল কিন্তু আমার নানী মনে হয় ঠিকই টের পাইছিল! কইলাম নানী বসেন, একটু আলাপ সালাপ করেন!!! কিন্তু নানী আমার কি মনে কইরা তড়িঘড়ি কইরা পলাইল।


যাহোক আমার নানী প্রস্থান করার পর আমি একটু স্বস্তি পাইলাম! এইবার মাইয়ার লগে আস্তে আস্তে ফিরি হইতে লাগলাম! একটা কথা বলে রাখা দরকার যে, মাইয়া আসার আগে আমার সাথে চুক্তি করছে যে আমারে ঠোঁট মুবারকরে একবার কিচ প্রাক্টিচ করতে দেওয়া লাগপে! চিন্তা করিলাম এই ব্যাপারটা না তুলিলে আমার রিয়াল লাইফে কুনো মাইয়ারে কিচ করার স্বপ্নটা অধুরাই থাইকা যাবে (যাহা এখনো বিদ্যমান)! আমি একটু পর লাজ শরমের মাথা খাইয়া কইলাম আমার কিচ কই??? মাইয়া একটুও শরম না পাইয়া কয় দিমু। অক্ষনি দিমু! এইখানে আইসা বস। উল্লেখ্য যে আমি ওনারে বিছানায় বসাইয়া নিজে চিয়ারে বসিয়া গল্প করেচ্ছিলাম! আমি তখন বুকে বল বাধিয়া উনার থেকে দুই হাত দুরে যাইয়া বসলাম! দুর দেখিয়া উনি আমারে কন, কাছে আসো না, দুরে বসছ ক্যান? (কাছে আয়না র‍্যে......)! আমি তারপর বিছানার উপ্রে চার আঙ্গুল আগাই আর দুই আঙ্গুল পিছাই! এইবার শরমে মাইয়ার পায়ের দিকে তাকাইতেও পারি না, সো নিজের পায়ের দিকে তাকাইয়া বিনা কারণে নিজে নিজে পিচিক পিচিক করা হাস্তেছি! আমার শম্বুকগতি দেখিয়া মাইয়া পুরাই হতাশ! কয় তুমি শরম পাইতেছ! যাও বাত্তিটা বন্দ কইরা দিয়া আসো তাইলে সব ঠিক হইয়া যাইব! আর শরম লাগব না! মনে করলাম নাহ কথার মধ্যে যুক্তি আছে! নিজেরে আর কত শরম দিমু। আলো না থাকলে আমার শরমের কথা খালি আমিই জানমু! উনি তো আর দেকপেন না!!!

তারপর পুরাই বাধ্য ছেলের মতো যাইয়া ঘরের একমাত্র বাত্তিটি বন্ধ কইরা দিয়া দিলাম! জানালার ফাঁক দিয়া যেই আলো আস্তেছিল সেই আলো দিয়া পথ দেখিয়া আমি বিছানায় ফিরা আসলাম! এইবার সতর্কতাবশত আরো একটু দুরে বসলাম। বলা যায় না, চক্ষে যদি ভুল দেখি! উপ্রে যাইয়া পড়লে মনে করতে পারে যে আমি পুলার চরিত্র খারাপ!!! আমি আসন গ্রহণ করা মাত্রই দেখিলাম একটা ছায়ার মতো বস্তু আমার উপর হেলান দিতে শুরু করছে! আমি তখন আস্তে আস্তে পিছাইতে পিছাইতে দেওয়ালে লাইগা গেলাম! কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আমি পুরাই জবরদখল হইয়া গেলাম! এরপর কি হইল মনে নাই! আই ওয়াজ পাসড আউট ফর ফিউ সেকেন্ডস/মিনিটস। একটু পর যখন টের পাইলাম দেখি ঠিক ঠাক মতো নিঃশ্বাস নিতে পারতেছি না! ব্যাপারটা খিয়াল করতে যাইয়া দেখি মাইয়া আমারে পুরাই শুয়াইয়া বডি দিয়া পুরাই ঢাইকা ফালাইছে! চিন্তা করলাম এই বয়সে রেইপ খাইয়া গেলাম? আর একটু গভীরভাবে খিয়াল কইরা দেখলাম নাহ! কাপড় চুপড় আপন আপন যায়গায় আছে! সর্বনাশটা হয় নাই দেখিয়া স্বস্তি পাইলাম!

এতক্ষণ পরে আমার মাথা কাম করা শুরু করছে! করতে চাইলাম কিচ প্রাক্টিচ! প্রাক্টিচ তো হইলই না, উল্টা ইজ্জতটা খোয়াইতে বসছি! এই রকম যে কুনো কিছু হইতে পারে এইটা আমি ঘুণাক্ষরেও চিন্তা করি নাই! আসলে মাথার ক্যাপাসিটি একটুকম ছিল সেই সময়। দেন সারভাইভাল ইন্সটিঙ্কট কিকড ইন! মাথা ঝড়ের বেগে চালাইতে লাগলাম ক্যামনে এই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার পাইতে পারি! দশ বারটা লেইম অজুহাত দিয়াও যখন কাম হয়না তখন প্রায় হাল ছাইড়া দিমু আরকি! এই সময় দেমাগে আইডিয়ার বাত্তি জইল্যা উঠছে! শালার লাইটটা বন্ধ করার জন্যই ইজ্জত লইয়া টানাটানি পইড়া গেছিল! এই লাইটই এখন একমাত্র জিনিস যেইটা আমার ইজ্জত বাঁচাইতে পারে! তাড়াহুড়া কইরা উপ্রের পাহাড়ের তলা থেইকা সিলিপ কইরা উস্টা খাইতে খাইতে লাইটটা জ্বালাইলাম আরকি! লাইটটা জ্বালানো মাত্রই ম্যাজিকের মতো সবকিছু ঠিকঠাক! মাইয়া সুজা হইয়া আমার দিকে যেভাবে অগ্নিদৃষ্টিতে তাকাইল তাতে আমি যে সেই দিনই পুইড়া ছাই হই নাই সেইটাই তো একটা বিশাল মিরাকেল।

এরপর মাইয়া তো আর কুনো কথাই কয়না! আমি বহুত চেষ্টা কইরা ওরে দিয়া কথা কওয়াইতে পারি নাই! একটু পর কয় আমি চইলা যামু। আমারে বাস স্ট্যান্ডে দিয়া আসো। আমিও মনে মনে কই, এই আপদ বিদায় হইলে বাঁচি! কওয়া তো যায় কখন মাইন্ড চেঞ্জ কইরা নিজেই বাতি বন্ধ কইরা বসে! এই অ্যান্টির লাহান মাইয়া আমারে যদি আর একবার চাইপা ধরে তাইলে আমার আর কুনো আশা নাই! পুরা যমের দুয়ারে পাঠাই দিবে! এরপর ওরে খাওয়াই দাওয়াই বাসস্টান্ডে দিয়া আসলাম! আমি ইডিয়টের মাথায় তখনো আসে নাই যে এক রিকশায় যাওয়া লাগবে! এরপর তারে বাসে উঠাই দিয়া হাফ ছাইড়া বাঁচলাম।

ইট টুক মি এ লং টাইম টু ফিগার আউট দ্যাট সি অ্যাকচুয়ালি ওয়াজ অন "ফায়ার"! মাসুদ রানা পইড়া ফায়ার সম্পর্কে কিছু ভার্চুয়াল নলেজ হইছিল ঠিক, কিন্তু রিয়াল লাইফের ফায়ার সম্পর্কে কুনো গিয়ান না থাকায় এই হালত হইছে আমার। ফিউচারে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রেডি রাখা লাগবে!!! :P :P :P :P :P :P

বাসে উঠাই দিয়ে ঘণ্টা তিনেক পর কল দিলাম বাসায় ঠিকঠাকমত পৌছাইছে কিনা। যখন শুনলাম হ্যা, পৌছাইছে তখন হাফ ছাইড়া বাঁচলাম! মনে মনে পণ কইরা লাইলাম আর জীবনে পিরিত করতাম না! এক পিরিতের এত প্যাড়া! আই অ্যাম ডান! আইজ থেইকা এই মাইয়ার লগে সব রকম কানেকশন বন্ধ! পিরিত চুলায় যাক! নো মোর ফুনে কথা বলাবলি!

কিন্তু বিধি বাম! উপরঅলার পিলেন ছিল আলাদা! আমারে উনার তখনো লেসন দেওয়া শেষ হয় নাই!
(ঈষৎ পরিমার্জিত)


(চলপে.........।)
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

=মনের হিংসা দূর করো রব=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:২৯


তবুও হিংসা এসে যায় কারণে অকারণে;
পারি না সামলাতে মন আমার - ইয়া রব,
নিতে পারি না সহজ করে কিছু
মনের কিনারে ভাঙ্গে হুড়মুড় স্বার্থের কলরব।

স্বচ্ছ মনের মানুষ কী করে হই,
সহজরে করে ফেলি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি প্রবাসীর মৃত্যুদন্ড ও রটানো গুজব

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২২

আপনি যে দেশে যাবেন, সেই দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখাটা আপনার দায়িত্ব।
আমেরিকায় আপনি মদ কিনতে পারবেন। কিন্তু আপনার বয়স অবশ্যই ন্যূনতম ২১ হতে হবে। ইউরোপে হয়তো এই বয়সটা ১৮।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×