
অপরিচিত এক শহরে আমার কৈশোরের কিছুটা পড়ে আছে, দমবন্ধ এক দালানের দো’তলায়। সারি সারি পুরানো দালান আর মধ্যবিত্ত মানুষের যাপিত বসবাসের অন্যপাশে নিন্মবিত্তের আশ্রম। আমি তখন মাত্র মাধ্যমিক পেরুচ্ছি। সম্ভাবত গ্রীষ্মের ছুটিতে এই অপরিচিত শহরে কিছুদিন থাকতে আসা।
অপরিচিত এবং জনমানুষের ভীড়ে আশ্চর্য্য এক একাকীত্ব। প্রতিদিন দুপুর পার হলেই বের হয়ে পড়া। হাটতে হাটতে শীতলক্ষ্যা নদীর পাড়ে চলে আসা। পথে রঙবেরঙের মানুষ মাড়িয়ে- ভীড়-ভাট্টা আর একদম অচেনা পথঘাটের সারিবদ্ধ জমায়েত। আমি কখনও থমকে, সেলুনের আয়নায় নিজেকে দেখতাম; কখনও রাস্তার পাশে ক্যানভাসারের মজমায় ঈষৎ উকি- কখনও দুরন্ত কোন সুন্দরতার দিকে ফ্যালফেলে আত্মবিনিয়োগ!
এ সময়টি আমার ছিল খুব প্রিয়। দেওভোগ থেকে একটানা রেলগেট পেরিয়ে ইস্পাহানির এপাশের ঘাট। আমি ভুলে গিয়েছি সেসব নাম, সম্ভাবত গুলশান, মেট্রো আর একটা কি যেন সিনেমা হল ছিল! দু’একটা ছবিও দেখেছি। একদম একা এবং অপরিচিত পারিপার্শ্বিকতায়!
কোনদিন ডালপুরি খেতাম, রাস্তার পাশের ছাপড়া হোটলে। পুরির সাথে সুস্বাদু ঝোল ফ্রী দিত। সম্ভাবত ১ টাকায় দু’টো। আমি ভুলে গিয়েছি। জীবনের অভিজ্ঞতার স্তবকে ঢাকা পড়েছে সেই কৈশোর, দুরন্ত মন খারাপ হওয়া বিকেল, সন্ধ্যা আর একাকীত্বের অবসর।
ক্রমশ:

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

