
গতকাল আমােরিকান রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সুচনা হয়েছে: প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইমপিচ করার পদ্ধতি শূরু করতে বললেন স্পীকার নেনসী পলোসী। স্পীকারের অনুরোধে কংগ্রেসের জুডিসিয়ারি কমিটি আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্টে (ইমপিচ প্রস্তাব) তৈরি করে কংগ্রেসে উত্থাপন করবে; প্রসেস শুরু হতে হতে জানুয়ারী মাস এসে যাবে, হয়তো!
প্রস্তাব কংগ্রেসে পৌঁছলে, উহা প্রথমে যাবে হাউজ অব রিপ্রেন্টেটিভস'এ(কংগ্রেস'এর লোয়ার হাউস); সেখানে আলাপ আলোচনার পর, প্রস্তাবের উপর ভোট হবে; এখানে প্রস্তাবটি পাশ হলে, উহা সিনিটে(আপার হাউস) যাবে। প্রস্তাবটি হাউজ অব রিপ্রেন্টেটিভস'এ পাশ হবে, এখানে ডেমোক্রেটদের সংখ্যা বেশী (ডেমো: ২৩৩, রিপাব: ১৯৭)।
সমস্যা দেখা দেবে সিনেটে: এখানে রিপাবলিকানরা বেশী (ডেমো: ৪৭, রিপাব: ৫৩); এবং প্রেসিডেন্টকে ইমপিচ করে ক্ষমতাচ্যুত করতে হলে ৬৭ জনের ভোটের দরকার হবে, যা ডেমোক্রেটদের নেই বলেই মনে হয়; অর্থাৎ ইমপিচ ও ক্ষমতাচ্যুত না হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ৯০ ভাগ। ডেমোক্রেটদের আশা, রাজনীতিবিদরা ট্রাম্পের বিপক্ষে এক হবে; কারণ, ট্রাম্প আমেরিকান রাজনীতির বরপুত্র নন, এবং তিনি সেই কারণেই গতবার জয়ী হয়েছেন, মানুষ রাজনীতিবিদদের শিক্ষা দিতে চেয়েছিলেন।
আর্টিকেলস অব ইমপিচমেন্টে'এ প্রসেডেন্ট ট্রাম্পের বিপক্ষে মুল অভিযোগ হিসেবে কি আনা হবে, সেটা এখনো পরিস্কার নয়; মুলার রিপোর্ট'এ বলা হয়েছে যে, ট্রাম্প ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে, এটা একটা বড় পয়েন্ট; আরেকটা হচ্ছে, ট্রাম্প টেলিফোনে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে বলেছে, ডেমোক্রেটদের সম্ভাব্য প্রেসিডেন্সিয়াল কেন্ডিডেট, ও আগের ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইনেডেনের ছেলের কর্মকান্ডের ইনভেস্টিগেশন করার জন্য, ইহা একজন আমেরিকান নাগরিকের বিপক্ষে প্রেসেডেন্টের হস্তক্ষেপ। আগামী ২/১ সপ্তাহের মাঝে পরিস্কার হবে, কি অভিযোগ নিয়ে ডেমোক্রেটরা এগুবে।
অভিযোগ যাই হোক, ট্রাম্প কিন্তু এখনো শক্তমুখে কথা বলছে; সে গতকাল বলেছে, ইমপিচমেন্ট প্রসেস তাড়াতাড়ি শুরু করার জন্য, কারণ তার অনেক কাজ পড়ে আছে এখনো। সে এত শক্ত কিভাবে? সময় কিন্তু তার পক্ষে: ১১ মাস পরে আমেরিকার প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশান, কংগ্রেসের ইলেকশান; মানুষ সেইদিকে ব্যস্ত থাকবে, শেষ বছরে এসে ট্রাম্পকে ইমপিচ করার জন্য মানুষ তেমন আগ্রহী হবে না।
ডেমোক্রেটরা নিশ্চয় হুজুগের মাথায় ইমপিচ শুরু করছে না, তারা নিশ্চয় ভেবেচিন্তে এগুচ্ছে; কিন্তু তারপরও মনে হচ্ছে, তারা অকারণ রিস্ক নিচ্ছে, ইমপিচ হওয়ার সম্ভাবনা কম; ইমপিচ হলেও, সে ক্ষমতায় থেকে যাবে, বরং এতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা বেড়ে যেতে পারে।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:৪০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



