
লিখিতভাবে ইরানের রেভুলিউশনারী গার্ডের জেনারেল হলেও, আসলে সোলাইমানী ছিল পুরো মিডলইষ্টে "শিয়া মিলিশিয়া বাহিনীর" সৃষ্টিকর্তা ও কমান্ডার; হত্যার দিন সোলাইমানী যে বাগদাদ এসেছে ও এক হিজবুল্লা কমান্ডারসহ গাড়ীতে ছিল, ইহা ইরাকী সরকারের উঁচু পদের লোকেরা জানতো। আমেরিকার জন্য ইহা এক বিশাল সংবাদ, ইরাকীদের ভয়ংকর বিশ্বাসঘাতকতা। আমেরিকা ইহা নিয়ে নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরাকের বিপক্ষে।
ইরাকী পার্লামেন্ট ভোট দিয়েছে আমেরিকান সৈন্যদের ইরাক ত্যাগের পক্ষে। বাগদাদে অবস্হিত আমেরিকান কমান্ডার ইরাকী সরকার প্রধানকে জানায়েছে যে, আমেরিকান বাহিনী ইরাক ত্যাগ করছে না, এবং তারা আজকে থেকে দরকার মতো ইরাকের বিভিন্ন এলাকায় অবস্হান নেবে। ইরাকে এখন মাত্র ৫ হাজার সৈন্য আছে; আগামী ২ দিনের ভেতর অনেক নতুন সৈন্য ইরাকে পৌঁছবে। তাছাড়া, ভারত মহাসাগরে বি-৫২ বোমারু বিমান অবস্হান নিয়েছে।
আজকে ২ দিন আসলে, ইরাক ও আমেরিকা অনেকটা মোটামুটি মুখোমুখী অবস্হানে চলে গেছে; ইহা নতুন সমস্যার সৃষ্টি করছে। ইরাক সরকারের লোকজন সোলেমানীকে ইরাকে আসতে দিয়ে আমেরিকার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে; এই সমস্যা এখন কিভাবে সমাধান করবে কে জানে!
এরপরেও আমেরিকা ইরাক ছাড়লে আমেরিকার লাভ হতো; অকারণে আমেরিকান প্রাণ দেয়ার কোন অর্থ নেই। কিন্তু আমেরিকা ভয় পাচ্ছে যে, শিয়া প্রধান ইরাকী সরকার কখনো নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারবে না; সরকারী সৈন্য বাহিনীর শিয়া রেজিমেন্টগুলো ও "শিয়া মিলিশিয়ারা" ইরাকের সরকারকে ইরানের "অধীনস্হ সরকারে" পরিণত করবে। তখন ২ দেশের শিয়ারা একই সাথে সৌদী ও ইজরায়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করবে। ২ দেশের শিয়ারা মিলে এক ভয়ংকর বাহিনী গড়ে তুলতে পারে।
এখন আমেরিকাকে যদি অনেকটা জোর করে ইরাকে থাকতে হয়; তারা ইরাক সরকার ও শিয়াদের ইচ্ছার বিপক্ষে অবস্হান করবে; আমেরিকানরা অবশ্য কুর্দি ও সুন্নীদের সাপোর্টে থাকবে সেখানে। কিন্তু কুর্দিরা সুন্নীদের মোটেই সহ্য করে না ও ইরাকের উত্তরান্চল দখল করে নতুন দেশ গঠনের পক্ষে; আমেরিকা এক ভয়ংকর অবস্হার মাঝে পড়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই জানুয়ারি, ২০২০ সকাল ৯:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



