somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাঠ প্রতিক্রিয়া।। দ্বীপ সরকার এর কবিতাঃ রাজনীতিবিদ।। মতিন বৈরাগী

২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ্বীপ সরকার এর কবিতা, রাজনীতিবিদঃ কাঠামোবাদের আলোকে আলোচনা


মতিন বৈরাগী

কবি দ্বীপ সরকার, জন্ম ১৯৮১ইং খ্রীঃ বগুড়া জেলা। কবির রাজনীতিবিদ কবিতার বিষয়ে বিশ্লেষণ তুলে ধরার চেষ্টা করছি স্বল্প পরিসরে।

"মাছেরা ঘুমোচ্ছে,পুকুর /জেগে আছে- /জল,জলের ভেতর ভুটি /তুলছে/ জলের সিথানে আজ রং /চুন,হইচই /কর্দমাক্ত বালিশ ঝুলিয়ে/ দিয়েছে নোটিশ /এখানে আজ /রাজনীতিবিদরা আসলে/ ওদের মাছ বানানো হবে/ শুক্রবার,পল্টনে/ রাজনীতিবিদদের/ সমাবেশ পুকুর জেগে/ আছে,মাছপ্রজারা /জেগে আছে /জলের সিথানে আওয়াজ/ আসে/ 'এই দেশের মাছেরাও/ ভালো নেই/ বড় মাছ /ছোটো মাছরে খায়'/ রাত বারোটার পর ঘুম/ থেকে জেগে দেখে/ যারা পল্টনে অপূর্ব/ ভাষণ হাঁকিয়েছেন/ সবাই হাঙর হয়ে গেছে/ সংসারের ছোটো ছো/ে প্রাণীদের খেয়ে সাবাড়/ করছে রাজনীতির মাঠ-/বাংলাদেশ/ ঈশ্বর বুঝেন,হাঙর কেন/ হচ্ছেন রাজনীতিবিদগণ --"



কাঠামোবাদের আলোকে পাঠ করলে বোঝা যায়, কবি এখানে ভাষার বিন্যাসের ভেতর দিয়ে শব্দ থেকে শব্দের বেড়াজালে বহুস্তরীয় সংকেত তৈরি করেছেন। এখানে “মাছ” কেবল জীবজগতের প্রাণী নয়, বরং সাধারণ মানুষের রূপক। কবি ‘রাজনীতিবিদ’-এর বিপরীতে ‘মাছ’কে দাঁড় করিয়ে একটি দ্বৈত-বিন্যাস তৈরি করেছেন—শাসক বনাম শাসিত, বড় মাছ বনাম ছোট মাছ, হাঙর বনাম অসহায় মাছ।
কবিতাটি কেবল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রকাশ নয়, বরং সাংস্কৃতিক সংকেতবাহী এক ভাষার খেলা। “মাছেরা ঘুমোচ্ছে, পুকুর জেগে আছে”এ বাক্যাংশে প্রতিফলিত হয় সামাজিক বাস্তবতা ও রাজনৈতিক শক্তির সমান্তরালতা। মাছের ঘুম সাধারণ মানুষের নিষ্ক্রিয়তা, পুকুর সমাজের রূপক, আর জেগে থাকা রাজনৈতিক পরিবেশের গতিশীলতা।‘পল্টন’ এখানে শুধু ভৌগোলিক স্থান নয়, বরং রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রতীক। কাঠামোবাদের পরিভাষায় একে মিথিক সিগনিফায়ার বলা যায়, যা স্থান ছাড়িয়ে রাজনৈতিক চেতনার প্রতীকী মঞ্চে পরিণত হয়েছে।‘বড় মাছ ছোটো মাছকে খায়’ প্রবাদটি কবিতার ভেতরে এক পুনরাবৃত্ত সাংকেতিক সত্য। এটি শুধু দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা নয়, বরং রাজনৈতিক শোষণের সর্বজনীন চিত্র। দেরিদার বাইনারি অপজিশনের আলোকে দেখা যায়—রাজনীতিবিদ ↔ মাছ, বড় মাছ ↔ ছোট মাছ, মানুষ ↔ হাঙর, ভাষণ ↔ শিকার সব দ্বিমুখী জুটিই ক্ষমতার কাঠামোকে উন্মোচিত করছে। এখানে রাজনীতিবিদ ও হাঙর প্রাধান্যশীল সংকেত, আর মাছ অধীনস্ত সংকেত। এর ফলে বাস্তব সম্পর্ক প্রতিনিয়ত পুনর্গঠিত হয়।



রোলাঁ বার্তের মতে, প্রতিটি সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তিই একসময় মিথে পরিণত হয়। ‘পল্টন’ কবিতায় কেবল একটি জায়গা নয়, বরং রাজনৈতিক স্মৃতি ও সংগ্রামের প্রতীক। বারবার সমাবেশ, ভাষণ, শ্লোগান এসব মিলিয়ে এটি হয়ে উঠেছে এক সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক মিথ। একইসাথে কবিতায় পুনরাবৃত্ত শব্দ—‘মাছ’, ‘পুকুর’, ‘হাঙর’ পাঠককে এক চক্রাকার সত্যে ফেরত নিয়ে যায়। রাজনীতিবিদেরা যখন হাঙরে রূপান্তরিত হন, তখন সাধারণ মানুষের নিয়তি কেবল শিকার হওয়া। কাঠামোবাদ, দেরিদার বাইনারি অপজিশন ও বার্তের মিথ ধারণার আলোকে এই কবিতাটি কেবল রাজনৈতিক ব্যঙ্গ নয়, বরং ক্ষমতার গঠন, শোষণ এবং সাংস্কৃতিক হেজেমনির এক নির্মম প্রতিচিত্র।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৫ বিকাল ৩:৪২
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চারদিকে অদ্ভুত নীরবতা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:৪০



নিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধেয়ে চলেছি।
ঊর্ধ্বলোক আর নিম্নের অতল অন্ধকার কোন জায়গায়,
সে নিয়ে আর চিন্তা কি!

প্রিয়ার আহবানে আমরা কতো কিছুই না করি!
এবারে প্রিয়ার আহবানে দিক-শূন্যই নাহয় হলাম!... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৬ জুনের বিশ্বকাপ কড়চা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৬ ই জুন, ২০২৬ রাত ৩:২৩

দারুণ একটা ম্যাচ হয়ে গেলো একটু আগে। মিসর দারুণ খেলেছে আজ। সালাহ নেমে যাওয়ার পরে তাদের খেলার ধার বেশ বেড়ে গিয়েছিলো বলে মনে হলো! কিন্তু, বেলজিয়ামের ফরোয়ার্ডদের পাসিং আর ড্রিবলিং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমন্ত্রন পত্র থাকলে ভিসার দরকার কী! আপনি জানেন আমি কে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০০



ভারত বাংলাদেশের কোনো একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিকে আমন্ত্রণ জানাতে চাইলে সেই আমন্ত্রণপত্র ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ হাইকমিশনে পাঠাবে। সেখান থেকে আমন্ত্রণপত্র যাবে সেই রাজনৈতিক ব্যক্তির ডিপার্টমেন্টে, তারপর তার কাছে। এরপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাদিক হাসনাতের প্রোগামে রাজাকার মঈনুদ্দীন

লিখেছেন ধূসর সন্ধ্যা, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৩৫



এই ছবিটি লন্ডনে অনুষ্ঠিত হওয়া নিজেস্ব অর্থায়নে সাদিক হাসনাতের প্রোগামের। অসংখ্য আঙ্কেল আন্টিদের মাঝে একজন বিশেশ লোককে দেখা গেল সেখানে। লোকটাকে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে ছবিতে। এই লোকটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি দিতে এসেছি শ্রাবণের গান

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৬ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০৫



'এই জল ভালো লাগে; বৃষ্টির রূপালি জল কত দিন এসে
ধুয়েছে আমার দেহ- বুলায়ে দিয়েছে চুল-চোখের উপরে
তার শান-স্নিগ্ধ হাত রেখে কত খেলিয়াছে, আবেগের ভরে
ঠোঁটে এসে চুমো দিয়ে চলে গেছে কুমারীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×