somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাহাই: পৃথিবীর নবীন, আধুনিক ও শান্তির ধর্ম

১৮ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ৮:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীর স্বাধীন ধর্মগুলোর মধ্যে সবচে নবীন হলো বাহাই বিশ্বাস। বাহাইরা বিশ্বাস করে যে বাহাউল্লাহ (1817-1892) হচ্ছেন ঈশ্বরের সর্বশেষ প্রেরিত পুরুষ, যিনি হচ্ছেন ইব্রাহিম, মুসা, বুদ্ধ, জরাথুস্ত, ঈসা, এবং মুহাম্মদের উত্তরসূরি।
বাহাউল্লাহ'র মূল বার্তা হলো যে মানবতা হচ্ছে একটি একক জাতি এবং একটি ঐক্যবদ্ধ বৈশ্বিক সমাজ গড়ে তোলার সময় এসেছে। বাহাউল্লাহ, বলেন, ঈশ্বর ঐতিহাসিক শক্তির বলে যে গতি সৃষ্টি করেছেন তা বংশ, শ্রেণী, গোত্র, ও জাতির মধ্যে প্রচলিত বাধা ভেঙে ফেলছে এবং যথাসময়ে একটি সার্বজনীন সভ্যতার জন্ম হবে। বাহাই বিশ্বাসের একটি অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানবজাতির এই একতাবদ্ধ হওয়াকে সম্ভব করে তোলা। বাহাউল্লাহ শেখান যে, ঈশ্বর এক, মানবজাতি এক, পৃথিবীর সব ধর্ম হচ্ছে এক ঈশ্বরের বিভিন্ন সময়ের প্রকাশ।
বাহাউল্লাহ বলেন যে, যেকথাটি পৃথিবীর সব ধর্মশাস্ত্রে বলা হয়েছে, সেই সময় এসেছে পৃথিবীর সব মানুষকে একটি শানত্দিপূর্ণ ও ঐক্যবদ্ধ সমাজে একতাবদ্ধ করার। তার ভাষায়, "এই পৃথিবী হচ্ছে একটি দেশ, ও মানবজাতি হচ্ছে তার নাগরিক"।
অন্য ধর্মের সাথে বাহাই ধর্মের একটি বড় পার্থক্য হচ্ছে এর একতা। অন্য যেকোনো ধর্ম - বা সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন- চেয়ে আলাদা বাহাই ধর্মে কোনো উপদল বা বিভাজন নেই। তারা তাদের একতা ধরে রেখেছে। একটি বৈশ্বিক সমাজের জন্য বাহাউলস্নাহ বলেন, কয়েকটি মৌলিক নীতি প্রয়োজন। এর মধ্যে থাকা উচিত:
যেকোনো সংস্কার থেকে মুক্তি, সব লিঙ্গের মধ্যে সম্পূর্ণ সমতা, দারিদ্র ও প্রাচুর্যের চরম পার্থক্য দূর করা, সার্বজনীন শিক্ষা, বিজ্ঞান ও ধর্মের ঐক্যতান, প্রকৃতি ও প্রযুক্তির মধ্যে টেকসই সুষম সম্পর্ক, এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা ও এক মানবতার ভিত্তিতে একটি বিশ্বব্যাপী ফেডারেল পদ্ধতির প্রবর্তন।

বাহাই ধর্ম যে অন্যান্য ধর্মের চেয়ে কত বেশি আধুনিক তা বাহাই ধর্মের একটি নীতি পড়লেই বুঝা যাবে। (এই সাইটে সবাই ধর্মগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ দিচ্ছেন। তো আমিও সে ধারা অনুসরণ করে বাহাই ধর্মগ্রন্থের ইংরেজি অনুবাদ দিলাম।)। নীতিটি হচ্ছে লিঙ্গের সমতা প্রশ্নে। (আজ এ পযন্তই। অন্য ধর্মগুলো সম্পর্কেও তো লিখতে হবে।)

THE TENTH PRINCIPLE
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Victims of enforced disappearances পার্সন হিসেবে আমার বক্তব্য.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১২:২১

গত ২৫ এবং ২৬ এপ্রিল ২০২৬ এ মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' এবং World Organization Against Torture (OMCT) এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকায় “The Prevention of Torture and the Implementation of UNCAT and... ...বাকিটুকু পড়ুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×