somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধর্মীয় মৌলবাদের চাষাবাদ-2

১২ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১১:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মৌলবাদের সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো
কার্টিসের মৌলবাদের সংজ্ঞা আমরা পড়েছি আগের কিসত্দিতে এবং এও জানি যে, মৌলবাদী ধারনাটির উদ্ভব হয়েছিল প্রোটেস্ট্যান্ট খ্রিস্টানদের ধর্মীয় আন্দোলন থেকেই। কিন্তু যখন এক ধর্ম তার পদ্ধতিকে মহান দাবী করে আন্দোলন করা শুরুকরে তখন এর ফলে অন্য ধর্মেরা তাদের অনুসারীদের নিয়ে পরে সংকটে। আমাদের ধর্মই সেরা-এটি প্রমাণের জন্য তারাও তখন নানা উদ্যোগ-আয়োজন শুরম্ন করে। সেজন্য বার বার দেখা গেছে যে, কোনো এক ধর্মের অনুসারীরা মৌলবাদী আচরণ শুরুকরলে অন্য ধর্মরাও অনুরূপ কিছু ফেঁদে বসে। এটি হয়তো অস্তিত্বের সংকটের কারণেই।

কিন্তু বিভিন্ন ধর্মের মৌলবাদী আন্দোলনের মধ্যে বিরাট ফারাক রয়েছে। হিন্দু মৌলবাদী, মুসলিম মৌলবাদী, ইহুদি মৌলবাদী বা খৃস্টান মৌলবাদীদের মধ্যে কাজের ভঙ্গিতে রয়েছে বিস্তর ফারাক। এমনকি একই ধর্মের বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠনগুলোর মধ্যেও বিশাল পার্থক্য রয়েছে। নির্দিষ্ট ধর্ম সংক্রান্ত মৌলবাদের স্বরূপ আলোচনার সময় আমরা সেগুলো একটু বিস্তারিত বুঝতে চেষ্টা করবো। তবে যার যার ধর্মের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং কোন সমাজ থেকে মৌলবাদী আন্দোলনটি শুরু হচ্ছে তার উপর এধরনের আন্দোলনের বৈশিষ্ট্য নির্ভর করে। কিন্তু বিভিন্ন ও বিচিত্র পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আমরা অন্তত: তিনটি বৈশিষ্ট্যের কথা বলতে পারি যা সবগুলো ধর্মভিত্তিক মৌলবাদী সংগঠনের মধ্যে দেখা যায়।

প্রথমত: তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থের শ্রেষ্ঠত্ব। হোক তা খ্রিস্টানের বাইবেল, ইহুদিদের তোরাহ বা মুসলিমদের কোরা'ন, বেশিরভাগ মৌলবাদীরা তাদের ধর্মগ্রন্থের বর্ণনাকে অক্ষরে অক্ষরে বিশ্বাস করেন। তারা মনে করেন এর প্রতিটি বাক্য নিভর্ুল, সত্য, এবং এই বই সরাসরি ঈশ্বরের কাছ থেকে এসেছে। এর কোনো বাক্য গল্প-গাঁথা বা মিথ নয়, আক্ষরিকভাবেই সত্য। যেহেতু তারা তাদের নিজস্ব ধর্মগ্রন্থকে চূড়ান্ত সত্য মনে করে সেহেতু অন্যদেরগুলোকে তারা চিহ্নিত করে জাল, ভ্রান্ত, ত্রুটিযুক্ত, ও মানুষ দ্বারা সংশোধিত এবং সে কারণে কলুষিত হিসেবে। যেহেতু তারা মনে করে এই গ্রন্থের কথাগুলো স্বয়ং ঈশ্বরের নির্দেশ সুতরাং তারা মনে করে সমাজের সর্বস্তরে এই বইয়ে বর্ণিত আইন ও নিয়ম-নীতি বাসত্দবায়িত হবে। এবং এসব আইন সময়ের সাথে, জায়গা ভেদে পাল্টানোর কোনো প্রশ্নই উঠে না কারণ তা ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত ঈশ্বরের আইন।

দ্বিতয়ত: মৌলবাদীরা ধর্মগ্রন্থের আলোকে তৈরি করা তাদের ব্যাখ্যার সাথে যদি সমাজের কোনো নিয়ম-কানুন না মেলে তবে সেগুলোকে প্রচন্ডভাবে বিরোধিতা করে। বিশেষ করে মানুষ, পরিবার ও সমাজ-সংক্রান্ত যেসব নির্দেশ ধর্মগ্রন্থে আছে বলে তারা ব্যাখ্যা দেয় তার ব্যত্যয় তারা সহ্য করতে নারাজ। সভ্যতার পরবর্তী অর্জন বা উন্নত যুক্তিসঙ্গত চিনত্দা-ভাবনা ও দর্শনের বিরুদ্ধে তারা সবসময় সোচ্চার ভূমিকা পালন করে। নারী-পুরুষের সাম্যতা, সমকাম বা গর্ভপাতের বিরম্নদ্ধে তারা সরব। সমাজের বিভিন্ন অগ্রগতি ও প্রগতিমূলক পদক্ষেপকে তারা ব্যাখ্যা করে অবক্ষয়ের লক্ষণ হিসেবে।

তৃতীয়ত: সব মৌলবাদীরাই বিশ্বাস করে যে তাদের ধর্মের বা বিশ্বাসের একটি স্বর্ণযুগ ছিল। যখন পৃথিবীর মানুষ ঈশ্বরের আইন মেনে চলতো। আবেগ-আপ্লুত এসব মৌলবাদীরা তখন সংকল্পবদ্ধ হয় সেই স্বর্ণযুগ ফিরিয়ে আনার। সেই সোনালী দিন পুন:প্রতিষ্ঠার। যেমন, প্রোটেস্ট্যান্টরা মনে করে চার্চ চালু হওয়ার শুরুতেই ছিল সেই স্বর্ণযুগ। অন্যদিকে মুসলিমরা মনে করে নবী মুহাম্মদের জীবনকালে অর্থাৎ সপ্তম শতাব্দীই ছিল সেই স্বর্ণযুগ।

এই তিনটি বৈশিষ্ট্য আমরা সব মৌলবাদী আন্দোলনের মধ্যেই দেখতে পাই। কিন্তু মৌলবাদী সংগঠনের সংখ্যা বাড়ছে কেন? কেন বৌদ্ধ বা হিন্দু ধর্মের মধ্যেও মৌলবাদী বিষয়গুলো মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।

( ছবি: ধর্মগ্রন্থগুলোকে নির্ভুল দাবী করলেও বিভিন্ন বিষয়ে এতে স্ববিরোধী বক্তব্য পাওয়া যায়। তখন মৌলবাদীরা তাদের মত করে এর ব্যাখ্যা দেন যা সাধারণ যুক্তি-বুদ্ধিতে অনেক সময় বুঝা যায় না। বাইবেলের এরকম ব্যাখ্যা না বুঝা নিয়েই এই ছবিটি। অন্য ধর্মগ্রন্থ ও মৌলবাদী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও এ কথা খাটে। )
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০০৬ সকাল ১১:৩৪
১৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একান্ত ভাবনা

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪০

একবার রিয়েক্টর ফিজিক্স ক্লাসে আমাদের একজন শিক্ষক বলেছিলেন, "এই দেশে আসলে সবাই সবার সঙ্গে বাটপারি করে।" কথাটা শুনে প্রথমে একটু অবাক হয়েছিলাম। কিন্তু যতদিন গেছে, চারপাশটা যতটুকু দেখেছি, ততই মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুর্ভিক্ষের আওয়াজ কি আমরা বাংলাদেশিরা শুনতে পাচ্ছি?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৪৩

মুচলেকা দিয়ে, গোপন সমঝোতা করে মীর জাফর কিংবা মীর কাসিমের মতো “কথিত ক্ষমতার” সিংহাসনে বসা যায় ঠিকই কিন্তু বসে বসে জনগণের সর্বনাশ দেখা ছাড়া তাদের বিশেষ কিছু করার থাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্ভাবনার বন্দি

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:১৮



বান্দরবান জেলা কারাগারের চারপাশে পনেরো ফুট উঁচু পাথর ও কংক্রিটের নিরেট প্রাচীর। তারও ওপরে পেঁচানো ধারালো কাঁটাতারের জাল।

বর্ষার কুয়াশাচ্ছন্ন সকালে ৩ নম্বর ব্লকের সংকীর্ণ সেলে শান্ত হয়ে বসে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১০

মাজার থেকে নৌকাবাইচ- এরপর কোথায়?
মাজার বিদ্বেষ, বাউলগান বিদ্বেষ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপত্তি- এরপর কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় কলেমা লেখা পতাকা টানানো; আর এখন সিলেটের বিয়ানীবাজারে ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে ঐতিহ্যবাহী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঢাবিতে "মব সায়েন্স" পড়তে হলে কী কী যোগ্যতা লাগে?

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২২ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:১৮



- রাজনৈতিক সুবিধার জন্য তৌহিদী জনতার ব্যবহার করা জানতে হবে।

- রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী চোখের সামনে থাকা সত্ত্বেও মবকে থামাতে না পারলে সেটাকে রাষ্ট্রের ব্যর্থতা না বলে "জনতার শক্তি" বলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×