somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প: পাপ - ৫

২৬ শে জুন, ২০১০ রাত ৩:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ব্যাঙ্কে খুব ঝামেলা চলছে । নবাবগঞ্জে বিদেশ থেকে টাকা আসে অনেক। কেউ একজন জাল স্বাক্ষর দিয়ে তিন লক্ষ টাকার চেক তুলে নিয়ে চলে গেছে । ম্যানেজারে ঘাড়ে দায় এসেছে । মৌরিরা কিছুদিনের জন্য বেড়াতে গেছে বলে ওর চ্যাপ্টার আপাতত বন্ধ ।

ব্যাঙ্কের কাউন্টারে বসে আছি হঠাৎ একটি বয়স্ক সাদা লোকের সঙ্গে সুরভীকে দেখতে পেলাম । ও এই ভদ্রলোক তাহলে সুরভীর বাবা? তিনি আগেও এসেছেন এই ব্যাঙ্কে । আমি সামনে যেতেই সুরভী নিজে এগিয়ে এসে বললো, ভাইয়া, আপনি কি ঘটনা শুনেছেন?
- কি?
- আপনি মৌরির হাত দেখেছিলেন বলে তারা বিরাট বিপদ থেকে বেচে গেছে।
দৌলতপুরে তাদের আত্মীয়ের বাড়িতে যাবার জন্য কলিম চাচা “পদ্মা” লঞ্চের টিকেট কেটেছিল । বাড়ির কাছে ইছামতি লঞ্চঘাট। ওটাতেই সব সময় যান । আপনি পানি তে সাবধান থাকতে বলেছিলেন না। মৌরি ওটার জন্য জোর করে, কান্নাকাটি করে টিকেট বাদ দিয়েছে । অগত্য সবাই বাসে গেছে ।

বাসার সবাই জিজ্ঞেস করছিল লঞ্চে কী সমস্যা । মৌরি চুপ ছিল । খবরের কাগজে দেখেছেন? যে লঞ্চটি অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে নিমতলীর চরে ডুবে গেছে সেটাতেই তাদের যাওয়ার কথা ছিল । তিরিশ জন যাত্রীর লাশ তুলেছিল । মৌরিরা গেলে হয়তো আর ফিরে আসতো না। যা হোক কাল রাতে ওরা ফিরেছে ।

আমি আৎকে উঠি । কী ভয়ানক কান্ড । পুরোটাই তো বানানো কথা । যদি আমি তাদের বলতাম স্থল পথ অশুভ তাহলে তো আমার কথায় তারা জাহাজেই উঠতো ।

মৌরির জন্য একটা মায়া অনুভব করতে থাকে আসাদ সাহেব । মেয়েটা তাকে কত বিশ্বাস করে ! অনেক রাত অবধি তাকে ব্যাঙ্কে কাজ করতে হলো । রাত এগারোটার পর বাড়ি ফিরলেন বলে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও কলিম শেখের পরিবারের সঙ্গে দেখা হলো না । এসেই শুয়ে পড়লেন।

হঠাৎ আসাদুজ্জামান দেখতে পেলেন মৌরিকে । মৌরি সাদা শাড়ী পরেছে । বাঙালী মেয়েদের সবচেয়ে সুন্দর দেখায় সুতী শাড়ি আর লাল টিপে। মৌরিকে অনেক বড় দেখাচ্ছে । আবেগে, অস্থিরতা যেন হাপাতে হাপাতে এসে বাসায় এসে নক করছে ।

দরজা খুলতেই বলছে, ভাইয়া, আপনি আমাদের যে কী উপকার করেছেন। আমরা হয়তো সব মারা যেতাম আপনি যদি সেদিন সাবধান করে না দিতেন । আর কথা বলতে পারছেনা ।

- ভাইয়া, সেদিন সময় ছিল না । আজকে যতটা সময় লাগে নিয়ে আমার হাত দেখতে হবে । আসাদুজ্জামানের বলছেন ভেতরে এসো । মেঘের আনাগোনার মত ধীরে মৌরিকে দেখছেন । সুরভী থাকলে মৌরির দিকে দীর্ঘক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারেন না।

বাম হাতের তলায়, কাঠের বাড়ির পাটাতনের মত তার হাত রেখে দেখে নিচ্ছেন হাতের গভীরতা, রঙ, কমনীয়তা । মৌরি বুঝেতে পারছে হয়তো । সে বড় মেয়ে । না বোঝার কারণ নেই। তার অনিচ্ছা থাকলে হাত সরিয়ে নিতো । রেগে যেত ।কিন্তু সে হাত সরাচ্ছে না ।

আসাদুজ্জামানের শক্ত কব্জি কখন যেন মৌরির আয়ুরেখার রেললাইন থেকে লাইনচ্যুত হয়ে বাহুর ওপর উঠে গিয়েছে । মৌরি কী চোখ বুজে ফেলছে? মাখনের মত গলে যেতে যেতে তার হাত জোড়া আসাদ সাহেবের হাতে আটকে গেছে । মোরি এখন চাইলেই পালাতে পারবে না ।

বাতাস বইছে বাইরে ঝড় হবে । মৌরি বাড়ি গেল না । বাতাসে তার চুলের ঝাপটা আসাদ সাহেবের মুখে আসছে । লম্বা কালো চুলের গোছায় একটা অচেনা গন্ধ পেলেন । উঠতি বয়সের ছেলেরা যেমন নানান ছুতোয় স্পর্শ চায়, তেমন করে তেমন করে তিনি বলতে চাইলেন, মৌরি তোমার চুলে এটা কি ..দাড়াও বলে চুলটা পরিস্কার করতে দিচ্ছি । কিন্তু কী দরকার । তার হাত এর মধ্যে হালকা স্পর্শে চিরুণীর মত তার কঠিন আঙুলগুচ্ছ আঁচড়ে দিচ্ছে মৌরিকে ।

বাইরে ঝড় শুরু হচ্ছে । বৃষ্টির ঝাপটা । বজ্রপাতের শব্দে অনেকটা নাটকীয় ভাবে মৌরি আসাদ সাহেবকে জাপটে ধরছেন । আসাদ সাহেব যেন পুরো ঘটনা আগেই জানতেন। অভয় দিতে মৌরিকে চুমু খেয়ে বললেন, আমি আছি । মৌ, আমি তোমাকে আমি ভালবেসে ফেলেছি । আমাকে বাঁচাও ।

আসাদ সাহেব ঘুম থেকে জাগলেন ।পানি খেলেন দুই গ্লাস।

ভিতরের মানুষটা তাকে থুতু ছেটানোর মত শব্দ করে ধমকাচ্ছে - ছি আসাদুজ্জামান তুমি না কর্মে সৎ থাকার কথা বলেছ? এখন এ কেমন তরো বিচ্যুতি? একটি মেয়েকে একা পেয়ে তাকে চুম্বন করার ইচ্ছা পোষন করছো? গায়ে হাত বুলাচ্ছ, তোমার আর ধর্ষকামী পশুর তফাৎ কই?

আবার দ্বিতীয় মনটি বলতে লাগলো,
- কী এমন ক্ষতি? ও যদি রাজি হয়ে থাকে তাহলে বয়সের দোষ দিয়ে কী লাভ? আমি কি রক্তমাসে গড়া মানুষ না? শুনেছি মেয়েরা বয়স নিয়ে ভাবেনা । এই বয়সে সে চায় নৈকট্য, ভালবাসা ..

.....................
আজকে ব্যাঙ্কে কলিম শেখ এসেছেন । সম্ভবত: লঞ্চের ঘটনাটার রহস্য জেনে গেছে বাড়ির সবাই। অনেক লোক দেখে বলে গেলেন, আজকে রাতে বাসায় আসবেন । অনেক কথা আছে ।

(চলবে...)
পর্ব ১: Click This Link
পর্ব ২: Click This Link
পর্ব ৩: Click This Link
পর্ব ৪: Click This Link
পর্ব ৫: Click This Link
পর্ব ৬: Click This Link
পর্ব ৭: Click This Link
পর্ব ৮: Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জুন, ২০১০ সকাল ৯:৪৮
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×