আশরাফুলের একদিন - তৃতীয় পর্ব
(এই গল্পের চরিত্রগুলো আংশিক কাল্পনিক)
আজ দুপুরে নাকি আমাদের হাফ লাঞ্চ দিবে! ম্যাচ হারলে পরের দিন- হাফ লাঞ্চ আর হাফ-ম্যাচ ফি। মনটাই খারাপ। শালা’র দামী হোটেলে থাকি... কত টাকার কারবার... অথচ হাফ লাঞ্চ! জিতলে কি ডবল লাঞ্চ দিবে পরদিন? আর ডবল ম্যাচ ফি? তাড়াতাড়ি সিরিজটা শেষ হলেই বাড়ি গিয়ে মায়ের হাতের মজার মজার খাবার খাব; কে যে এই হাফ-লাঞ্চ প্রথাটা আবিস্কার করলো? তারে পাইলে ধরে... ... ...।
এত করে সাকিবকে বললাম, রুবেলকে বল দিস না, বল দিস না, বল দিস না। শুনলো আমার কথা? কালকের ম্যাচটা হারলেই বুঝবা মজা! এ যে বাংলাদেশ, গুণীর কদর নাই, আছে আমাদের (আশরাফুলদের)! হাহ। আর আমি তো যথারীতি টুয়েন্টি মেরেছি! গড়ে ভালই। একটা ছক্কাও মেরেছি। খুব একটা খারাপ না, সামনে ৪টা ম্যাচ, একটা কি ফিফটি মারতে পারবো না?
আর ওদিকে আমাদের তামিম ভাই- তিনি তো ৫ ম্যাচের ৫ টাতেই সেঞ্চুরী মারার স্বপ্ন দেখেন! শুধু স্বপ্নই দেখে না, সেটা আবার সাংবাদিকদের বলেও ফেলে! কী আজব! আমার মনে হয় মিথ্যা বলছে; ও মনে হয় ৫ ম্যাচে ৬/৭ টা সেঞ্চুরীর স্বপ্ন দেখছিলো। ওর আমার জিম্বাবুয়ের সাথে লাক ফেভার করে কিনা; আমার যেমন শ্রীলংকা! আরে গাধা এত ভাবাভাবির কিছু তো নাই; ৫টা ম্যাচ এর মধ্যে ১টা ফিফটি ২টা টুয়েন্টি-ই যথেষ্ট। আর যদি কপালগুণে ২টা ফিফটি করতে পারিস তাহলে তো হয়েই গেলো! ছয়মাস দল থেকে বাদ পড়বি না... দলের অবস্থা জাহান্নামে যাক! আর এখন দল হারলেই যে সব দোষ আমার উপর এসে পড়বে এমনটা তো না। আমাদের দলে আছে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার! কাজেই তার উপর তো দায় আমার চেয়ে বেশি চাপবে। দেখি আজ প্রাকটিসের সময় তামিমকে ডেকে বোঝাতে হবে কথাগুলো; আরও একটা বিষয় জরুরী আছে- “কোন ভাবেই বাঙালীকে বোঝানো যাবে না যে, আমি রেগুলার ভাল রান করতে পারি! শুধু বোঝাতে হবে যে, আমি রান করলেই বাংলাদেশ জিতে! কাজেই আমার জন্য সবাই দোয়া কর। আর রেগুলার রান করতে পারি না বলেই যে আমাকে বাদ দিবা তা হয় না, তাহলে তো দল জেতাই ভুলে যাবে!” সুতরাং নো টেনশন।
এখন দলে আফতাব এলে আরেকটু ভাল হবে। ৩ নম্বর পজিশনে সে নামলে আমি খানিকটা রিলাক্স ফিল করতে পারবো। এখন যা করি! বুঝিই না- মারবো না ঠেকাবো! কাল করলাম ৪১ বলে ২০। এখন ওই মুহূর্তে যদি আমি না ঠেকিয়ে মারতাম, তাহতে তো টুয়েন্টি মারার আগেই আউট হয়ে যাইতাম, বাঙালী বুঝে না। রান রেট নিয়ে ভাবার চেয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবাটাই তো বড় বিষয়। ছোট বেলা থেকে আমারদের শেখানো হয়, “চাচা আপন জান বাঁচা”। আর তাছাড়া আমার তো বয়স বাড়তাছে, বুড়া হইতেছি না! আর কত খেলবো?
চিগুম্বুরা! এর জন্য তো সমাধান করেই ফেলেছি। পাড়ায় পাড়ায় খেলা হলে দেখতাম পাশের পাড়া থেকে যখন অ্যাওয়ে ম্যাচ খেলতে আসতো কোনো দল, তখন আমাদের বড় ভাইরা যা করতো তাই করতে হবে। আমি অবশ্য তখন বল কুড়াতাম। বল বয়! অন্য পাড়ার চিগুম্বুরাদের বলা হতো “ভাল খেললে হাত-পা নিয়ে সুস্থ অবস্থায় বাড়ি যাইতে পারবি না!” একবার হলো কি- খেলার পর হঠাৎ পাড়ার মাস্তানরা রাস্তায় দিল গ্যানজাম বাঁধিয়ে; এক চিগুম্বুরার দিল পা ভেঙ্গে! এরপর থেকে আমাদের পাড়ায় যখন আমরা হোম ম্যাচ খেলতাম তখন আর কেউ চিগুম্বুরা হবার সাহস পায়নি। যেহেতু আমরা ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং কোনো দিক দিয়েই তাকে আটকাতে পারতেছি না, কাজেই এখন এটাই একমাত্র উপায়। পাকিস্তানে যেরকম হলো! কিন্তু আফসোস, কাউকেই তারা যক্ষম করতে পারলো না!
যাই হাফ-পেট লাঞ্চ করে আসি।
(চলবে)
বি.দ্র.: হাফ-লাঞ্চ আর হাফ-ম্যাচ ফি প্রথা চালু হয়নি। এটি লেখকের একটি প্রস্তাব মাত্র। পাঠক সমর্থিত হলে বিসিবি’র কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো যেতে পারে!
আশরাফুলের একদিন - প্রথম পর্ব
আশরাফুলের একদিন - দ্বিতীয় পর্ব

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

