তোমাদের যা কিছু খাবার সাধ হয়,
খেয়ে নিয়ো প্রথমা বৈশাখে
গরম ভাতে পানি ঢেলে পান্তা, মচমচে ইলশে ভাজা
নতুন কেনা মাটির বাসনে চুমুক দিয়ে
চুকচুক করে পান্তার পানি খেয়ো, আর উগড়ে দিয়ো তৃপ্তির ঢেকুর-
আহ! বড্ড বাঙালি হলুম!
আমি সেই বাসিভাতই খাব, গতরাতে পানি ঢেলে
যত্ন করে পঁচতে না দেয়া মায়ের রেখে দেয়া ধন; পেঁয়াজকুচি
আর কাঁচামরিচ ভেঙে মাখানো অমৃতে কী স্বাদ, তোমরা জানবে না।
আমরা তো হদ্যিকাল থেকেই এসব খেয়েছি প্রতিটা সকালে
লাঙল আর কাস্তে লয়ে ক্ষেতে বেরোবার আগে।
আমাদের কালেভদ্রে ইলিশ ছিল- বিশেষত মেজবানিতে; একবেলা খেয়ে
আরেক বেলার জন্য নুন-পানিতে জ্বাল দিয়ে রেখে দিত মা।
সকালের পান্তায় ভাজা ইলিশ- কোন হালায় শেখালো
এই কৃত্রিম বাঙালিয়ানা? ওরা কেউ বাঙালি নয়; কোনোদিন বাংলার
জনপদে ওদের পদস্পর্শ পড়ে নি।
আমাদের ছিল সেঁচিশাক ডাঁটাশাক বুনোকচু কলমিলতা
আমাদের ছিল আলুভর্তা কুমড়ো ভাজা মাষকালাইয়ের লাউ
আমাদের ছিল খলসে বইচা ট্যাংরা ভেদা পুঁটিমাছের ভাগা
এসব খেয়েই সহজ জীবন কেটেছে চিরটা কাল
যখন রাতের খাবারেই কষ্টেসৃষ্টে কদাচিৎ জুটতো- আহা,
সকালের পান্তায় একটুকরো ইলিশ, কে আমায়
কবে খাইয়েছিল, কেউ কি বলবা?
গরম পান্তায় ভাজা ইলিশ- কোন হালায় তোমাগো শিখাইছে
এই কৃত্রিম বাঙালিপনা?
তোমরা আবহমান বাংলার কেউ নও, পরদেশী।
৮ এপ্রিল ২০১৮
৮ এপ্রিল ২০১৮
**
হদ্যিকাল- আদিকাল (আঞ্চলিক/কথ্য ভাষা; ক্ষোভ প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত)
হালা- শালা- (ঐ একই)
**
গত দুই বছর ১লা বোশেখে ইলিশের দাম ছিল খুবই সহনীয় পর্যায়ে। কারণ, মানুষ দেরিতে হলেও বুঝতে পেরেছে, ১লা বোশেখে ইলিশ খাওয়াটা হলো একটা স্বার্থান্বেষী মহলের ব্যবসায়িক ধান্ধা। জেলেদের কপাল ফেরে না, তারা যেই তিমিরে ছিল, সেই তিমিরেই থেকে যায়। মধ্যস্বত্বভোগীরা ইলিশের দাম বাড়াইয়া পেট ফুলাইয়া বটগাছ হইয়া যায়। যদ্দূর মনে পড়ে, দু বছর আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন ১লা বৈশাখে তিনি ইলিশ খাবেন না। ওটা একটা ঐতিহাসিক এবং অনেক কার্যকরী মনোভাব ছিল। তার ফল আমরা দেখেছি গত দু বছর। আর তার আগের বছরগুলোর কথা চিন্তা করুন, কত আকাশচুম্বী হয়ে যেত ইলিশের দাম।
১লা বৈশাখে ইলিশ খাওয়া কোনো বাঙালি ঐতিহ্য না। ইলিশ কেনা কোনোদিনই আপামর কৃষকের আয়ত্তের মধ্যে ছিল না। আপনারা খেয়াল করে দেখুন, ২০০৫ বা ২০০৬-এর দিকে, যখন বাংলাদেশে ডিশ চ্যানেল বাড়তে থাকলো, এই চ্যানেলগুলো এটাকে ইলিশ খাওয়ার উৎসব বানিয়ে ফলাও করে প্রচার করা শুরু করলো। আর তার পর থেকেই ১লা বোশেখ মানেই গরম ভাতে পানি ঢেলে পান্তা আর তার সাথে ইলিশ ভাঁজার কালচার শুরু হইয়া গেল।
সারাবছর ইলিশের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ১লা বৈশাখে ইলিশ বর্জন করা অত্যাবশ্যক। এ দ্বারা মনে কইরেন না, ইলিশের জেলেদের মাথায় হাত! তারা দাদনের শিকার। তাদের ভাগ্যের উন্নয়ন এই ১লা বোশেখের উপর নির্ভরশীল না। ইলিশের ক্ষেতে না গেলে সেটা বোঝা যাবে না।
আপনি হয়ত জানেন না, ইলিশ কেন, ১লা বোশেখে মাছ খাওয়াটাও খুব কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব জানতে হলে আমার মতো নিয়মিত বাজারে যাইতে হবে সংসারের সদাই করতে
***
তোমাদের যেখানে সাধ চলে যাও- জীবন
**
দেখতে পারেনঃ পহেলা বৈশাখ – আমাদের আসল খাদ্যসংস্কৃতি বনাম কৃত্রিম ইলিশ-সংস্কৃতি : ব্লগার ও ফেইসবুকারদের মতামত ভিত্তিক সমীক্ষা
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:৫২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




