দীর্ঘদিন ধরে বাজারে নেতিবাচক প্রবনতা থাকায় ব্যাপক লোকসানের মুখে বিনিয়োগকারীদের পক্ষে বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাব নবায়ন ফি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যে কারণে চলতি বছর বিও হিসাবের নবায়ন ফি না নেয়ার আহবান জানিয়েছেন তারা।
বিনিয়োগকারীরা জানান, ভয়াবহ ধসের ধাক্কা তারা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি। এ অবস্থায় তাদের ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনা করে এবং বাজারের বৃহৎ স্বার্থে চলতি বছর বিও নবায়ন ফি না নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি তাদের এ আহবান।
এ বিষয়ে বিনিয়োগকারী মিজান, আনোয়ার, সাইফুল শেয়ারনিউজ২৪ডটকমকে বলেন, ভয়াবহ ধসের কবল থেকে এখনো বের হতে পারিনি। ভেবেছিলাম বাজার এই বুঝি ভালো হবে। এ ভাবনার প্রহর গুণতে গিয়ে আজ লোকসানের পাল্লা এতোটাই ভারি হয়ে উঠছে যে, আজ দুইশ’ টাকাও কাউকে পরিশোধ বা ধার দেয়া অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শেয়ারবাজারে আমাদের মতো অসংখ্য ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীর কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট রেগুলেটর প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিও নবায়ন ফি না নিয়ে সহমর্মিতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি রকিবুর রহমান শেয়ারনিউজ২৪ ডটকমকে বলেন, সামনে যে বাজেট আসছে সেখানে ডিএসই’র পক্ষ থেকে বিষয়টি তুলে ধরা হবে। আমি মনে করি বর্তমান পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের জন্য কিছু করা গেলে তা বাজারের জন্য ইতিবাচক ধারা বইয়ে আনবে।
তিনি আরো বলেন, নবায়ন ফি কিভাবে না নেয়া যায় সে বিষয়টি আমাদের মাথায় রয়েছে। এজন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা একটি সিদ্ধান্তে যাব। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বাজারকে কিভাবে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে নেয়া যায় সেদিকটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
এদিকে বিও হিসাবের নবায়ন ফি না নেয়ার জন্য গত বছর আগষ্ট মাসে ডিএসই কর্তৃপক্ষ একটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিল। বিনিয়োগকারীদের নানা সমস্যার কথা চিন্তা করে বিও নবায়নে ডিএসই’র অংশ অর্থাৎ ১০০টাকা না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। অবশিষ্ট ৪০০ টাকা সরকার, সিডিবিএল এবং এসইসি যাতে বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব নবায়ন ফি না নেয় সেজন্য এসব প্রতিষ্ঠানকে ডিএসইর পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তাই চলতি বছর বিও নবায়ন ফি প্রত্যাহরের বিষয়টি নিয়ে বিনিয়োগকারীরা ডিএসই’র দিকে তাকিয়ে আছেন।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



