জ্ঞান ফেরার পর থেকেই রশ্মি আম্মুকে খুঁজছে। ‘আম্মু কোথায় আম্মুর কাছে যাব’। আশে পাশে যারা ছিল- সবাই চুপ। দূরে গিয়ে কেঁদে আসছেন কেউ কেউ। উত্তর ভাষা হারিয়ে ফেলেছে এখানে। কিন্তু নীরবতার ব্যাকরণ কি শিশুটি বুঝতে শিখেছে!
ওর বাবা জেলে। বিএনপির অফিসের সামনে থেকে গ্রেফতার করা কথিত সন্দেহভাজন। ক’দিন ধরে আব্বুকে দেখতে চাচ্ছিল রশ্মি। অবুঝ শিশুর দাবি পূরণ করতে রাস্তায় নেমেই দুর্ঘটনা। দুই সন্তানকে ছুড়ে দিয়ে বাঁচাতে পারলেও নিজে বাঁচতে পারলেননা রত্না। আর বাবা তো জেলেই। জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়নি। আমার সোনার দেশে শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশরা কঠোর নিরাপত্তায় জামিন পায় কিন্তু ‘সন্দেহভাজন’ অসহায় বাবা মা হারা গুরুতর আহত মেয়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জামিন পান না। দেশপ্রেমিক দক্ষ পুলিশ বাহিনী সন্দেহভাজন রিপনদের গ্রেফতার করার ক্ষেত্রে সীমাহীন দক্ষতার পরিচয় দিলেও সাগর-রুনির হত্যাকারীরা অন্ধকারে আর পদ্মাসেতু দুর্নীতির আলোয় থাকা আসামীরা পলাতক থেকে যায়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিশুটিকে বলা হয়েছে, ‘তোমরা এক্সিডেন্ট করেছো তো তোমার আম্মু হাসপাতালের অন্য জায়গায় আছে’। কিন্তু রশ্মিকে যে জানতেই হবে মায়ের স্নেহ মায়ায় ভরা ওর ছোট্ট পৃথিবীটা ভেঙে খান খান হয়ে গেছে।
এখানে একজন রশ্মির কথা বললাম। পত্র পত্রিকায়ও কিছু লেখালেখিও হচ্ছে। কিন্তু কারাগারের বিরাট দেয়ালের ওপাশে, হাজতে উৎকট দুর্গন্ধের ভেতরে অথবা রিমান্ডের নিষ্ঠুর কক্ষের মেঝেতে অসংখ্য রশ্মির ‘সন্দেহভাজন’ মা বাবা রা আছেন, তাদের কথা কেউ বলবে না।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


