জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেছেন, এ দেশের রাজনীতি অত্যন্ত জটিল। এ জটিলতা দূর করতে হবে। অবশ্য রায়ে রাজনৈতিক জটিলতার কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, এর ব্যাখ্যা তিনি দেননি। আজ সোমবার সকালে স্থানীয় পুলিশ হলে রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির আয়োজনে বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের প্রধান অতিথির বক্তৃতার একেবারে শেষে তিনি এ কথা বলেন।
হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেন, ‘গোলাম আযমের ফাঁসি হয় নাই। ৯০ বছরের জেল হয়েছে। কী জন্য, তোমরা কি জান? আবার শাহবাগ। আবার আন্দোলন। আবার সেই ফাঁসির দাবি। বাংলাদেশের রাজনীতি সরল পথে চলে না। ৯৬ বছরের মানুষকে ৯০ বছরের জেল দিয়েছে। ভালো কথা, ফাঁসি দেয় নাই। সেই আন্দোলন। আবার সেই অবস্থার পুনরাবৃত্তি। তাই একটা কথা বলি। এ দেশের রাজনীতি অত্যন্ত জটিল। এ জটিলতা দূর করতে হবে।’
এরশাদ বলেন, অস্ত্র, অর্থ ও সন্ত্রাসের কাছে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশা দুরাশা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো নীতিবাক্য মানে না। এমন সরকার হতে হবে, যেখানে দলবাজি চলবে না। দলীয়করণ করবে না।
এরশাদ বলেন, ‘আমাদের সংসদ হয়েছে আজ অকার্যকর সংসদ। সংসদ হয়েছে আজ কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার স্থান। এ সংসদ আজ দুর্নীতির সংসদ হয়েছে।’
মহাজোট ছাড়া না-ছাড়া প্রসঙ্গে এরশাদ বলেন, ‘আমি মহাজোট ছাড়লে এ মুহূর্তে কোথায় যাব? আর যদি ছেড়ে দিতে হয়, তাহলে এককভাবে আমাদের নির্বাচন করতে হবে। সে নির্বাচনে আমাদের জয়ী হতে হবে। এ জন্য প্রতিটি জেলা-উপজেলায় দলের কমিটি গঠন করুন। দলকে শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে হবে।’
প্রতিনিধি সম্মেলনে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা নেতাদের বিরূপ মন্তব্য প্রসঙ্গে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে এরশাদ বলেন, ‘আমি যা বুঝি, তোমরা তা বোঝো না। আমি যা করছি, তা ঠিক করছি। তোমরা যদি যোগ্য হও, তাহলে তৃণমূল জাতীয় পার্টি থেকে প্রার্থী নির্বাচন করো। প্রার্থী হতে হলে অর্থ ও পেশিশক্তি থাকতে হয়, যা তোমাদের নেই।’
জাতীয় পার্টির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও রংপুর জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মশিউর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবুল মাসুদ চৌধুরী, মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন কাদেরীসহ রংপুর বিভাগের আট জেলার নেতারা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


