somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গেছো দাদা
আমি মোদি ভক্ত ! এটা জেনে আপনি দুঃখ পেলে আমি আনন্দিত হব।

রম্য গল্প : মলি পিসির কাম

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মলিপিসির গল্পটা অনেককে শুনিয়েছি, কেউ বিশ্বাস করেনি। বিশ্বাস বস্তুটাই পৃথিবী থেকে বেপাত্তা হয়ে গেছে। আপনারাও শুনুন, আদ্যন্ত সত্যি ঘটনা...
.
মলিপিসি একদিন খুব গরমের মধ্যে আমাকে ফোনে ডেকে পাঠালেন। মলিপিসি একটা স্কুলের হেড মিসট্রেস ছিলেন। খুব কড়া ধাতের মহিলা।
আমরা পারতপক্ষে কেউ মলিপিসির সামনে ঘেঁষতাম না। পড়ার কথার বাইরে কোনও কথা বলতেন না। কিছু একটা বললেই বলতেন, "সঠিক উচ্চারণ করে কথা বল। 'শ' আর 'স' দুটোর উচ্চারণ আলাদা। গুলিয়ে দিচ্ছিস কেন রে?" ইত্যাদি ইত্যাদি।
মলিপিসির এই উচ্চারণ শেখানোর বাতিকের ফলে উনি যেখানে থাকতেন তার আশেপাশে বিশেষত ছোটদের কাউকে খুঁজে পাওয়া যেত না।
.
মলিপিসি বিয়ে করেননি। রিটায়ার্ড করে গেছেন বছর কয়েক আগে। এখন মাঝে মাঝেই আমার ডাক পড়ে বাজার থেকে কিছু এনে দেওয়ার জন্য। শুধু আমি নয় আশেপাশের অন্যদের দিয়েও দরকার মতো বাজার করিয়ে নেন মলিপিসি।
আজ আবার কী দরকার এইসব ভাবতে ভাবতে তাঁর ঘরে গেলাম।
মলিপিসি আমাকে সোফায় বসতে বললেন।
তারপর বললেন, "কাম খুব ভালবাসি তুই তো জানিস। সবরকম কামই ভালবাসি তাও জানিস।"
আমার মনে হল সোফাটা দুলে উঠল। এসব কী বলছেন মলিপিসি! কাম! আমি ঘামতে শুরু করলাম। মলিপিসিকে বললাম, "ফ্যানটা ফুলস্পিডে করে দিন না।"
মলিপিসি বললেন, "ফুলস্পিডেই চলছে।"
আমি বললাম, "আমি মানে আ-আমি কী করব?"
মলিপিসি বললেন, "তুই কামের ব্যবস্থা করবি।"
মলিপিসির বিশাল চেহারার দিকে তাকিয়ে আমার বুকের মধ্যে গুড়গুড় করতে লাগল।
কী ঝামেলায় পড়লাম রে বাবা! এখন কী করি! এই চেহারা টপকে পালানোও তো অসম্ভব।
আমি অসহায় ভাবে বললাম, "কিন্তু আমি কেন?"
মলিপিসি গর্জন করে বললেন, "মানে? তুই করবি না তো কে করবে?"
.
মলিপিসি একা থাকেন। খুব শক্তপোক্ত মহিলা। নিজের সব কাজ নিজেই করেন। এর আগে বাজার থেকে মাঝে-সাঝে এটা-ওটা এনে দিয়েছি। কিন্তু এমন গেরোয় পড়িনি কোনও দিন। মাথাটাই বিগড়ে গেল নাকি রে বাবা!
বললাম, "আমি এখন আসি মলিপিসি।"
মলিপিসি বাজখাঁই গলায় বললেন, "মানে? কামের কী হবে?"
আমি বললাম, "আমাকে ছেড়ে দিন মলিপিসি।"
.
মলিপিসি বললেন, "শোন কাল তুই ভাল দেখে এক কেজি কাম এনে দিবি। না না দু'কেজি।"
লে হালুয়া! কাম আবার কেজি দরে পাওয়া যায় নাকি!
বললাম, "দু কেজি কাম?"
মলিপিসি হুঙ্কার দিয়ে বললেন, "কী বললি? কাম? মেরে হাড় ভেঙে দেব আর একবার বাজে কথা বললে।"
এ তো মহামুস্কিলে পড়া গেল! বললাম, "আপনিই তো তখন থেকে কাম কাম করছেন!"
এবার মলিপিসি উঠে পড়লেন, "কী বলছিস এসব? কামি কাম বলেছি?"
আমি বললাম, "আজ নির্ঘাত আমার মাথা খারাপ হয়ে যাবে। কামি আবার কী?"
মলিপিসি রেগে আগুন তেলে বেগুন হয়ে বললেন, "কাম-কামি এসব কী শুরু করেছিস তুই? কামার মাথা কিন্তু খুব গরম হয়ে যাচ্ছে বলে দিলাম।"
কামার! কামি! কাম!
হঠাৎ আমার মাথায় বিদ্যুৎচমক খেলে গেল! আমি মোবাইলের রেকর্ডার অন করে বললাম, "আচ্ছা মলিপিসি বলুন তো, অ'য় অজগর আসছে তেড়ে আ'য় আমটি আমি খাবো পেড়ে।"
মলিপিসি জলদগম্ভীর গলায় বলল, "ফাজলামি হচ্ছে? আচ্ছা বলছি শোন, কয় কজগর কাসছে তেড়ে কায় কামটি কামি খাবো পেড়ে।"
আমি রেকর্ডিংটা মলিপিসিকে শুনিয়ে দিলাম। শুনে মলিপিসির মাথায় হাত! জোঁকের মুখে নুন পড়ল যেন! রাগ-ফাগ কোথায় হাওয়া হয়ে গেল!
সারাজীবন অন্যের উচ্চারণের ভুল ধরা মলিপিসি ডুকরে উঠলেন, "কামার তাহলে 'ক' উচ্চারণ হচ্ছে না!"
আমি বললাম, "হ্যাঁ আপনি 'অ' বলতে গেলে 'ক' বলছেন আর 'আ' বলতে গেলে 'কা'।"
অত ব্যক্তিত্বশালী মানুষটা কাঁদো কাঁদো গলায় বললেন, "কী হবে রে তাহলে কামার? কামি কী করব এখন?"
আমি একটু চিন্তা করে বললাম, "আপাতত কাউকে দিয়ে আম আনানোর দরকার নেই।"
মলিপিসি ঘাড় কাৎ করে বলল, "কাচ্ছা তাহলে তুইই কামার জন্য কাম এনে দিস, কেমন?"
আমিই তারপর থেকে আম এনে দিই।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১:১৮
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×