somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গেছো দাদা
আমি মোদি ভক্ত ! এটা জেনে আপনি দুঃখ পেলে আমি আনন্দিত হব।

রম্য রচনা : লকডাউন ও আমার বৌএর বেগুনভাজা

১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকালে ঘুম থেকে উঠে মনটা লুচি আর বেগুনভাজার জন্য উতলা হয়ে উঠল। মনে হল পৃথিবীর সবচেয়ে উপাদেয় জলখাবার হল লুচি আর বেগুনভাজা। আহা কতদিন খাইনি! আজ জরুর খায়েগা।
বউকে বলতে বউয়ের চোখ কপালে উঠে গেল! মনে হল বউয়ের কাছে কোহিনুর হিরে গচ্ছিত আছে আর সেইটে চেয়েছি।
বলল, "সাদা তেল বেশি নেই আর বেগুনও মাত্র দুটো আছে। আজ ঢ্যাঁড়শ বেগুন আলুর তরকারি করব আর ডাল-ভাত। আচ্ছা লুচি ভেজে দিচ্ছি। কালকের আলুছেঁচকি ফ্রিজে আছে, গরম করে দিচ্ছি, খেয়ে নাও।"
আমি বললাম, "সামান্য বেগুনভাজাও করা যাবে না?"
বউ বলল, "না। কারণ ঘন ঘন বাজার যাবে না তুমি। এখন লকডাউন চলছে। গোটা দেশ কৃচ্ছ্রসাধন করছে। আর আমরা রোজ ভূরিভোজ করব এটা হয় না, বুঝলে?"
.
আমার মাথা গরম হয়ে গেল। লোকে ডালগোনা কফি খাচ্ছে আর আমি বেগুনভাজা খেতে পাব না? এ হতেই পারে না। এমনিতে আমি শান্তশিষ্ট টাইপের কিন্তু রেগে গেলে আমি বাপের কুপুত্তুর!
ফোন নিয়ে সোজা ছাদে চলে গেলাম। মানিককে ফোন করলাম। ও বাজারে আনাজ নিয়ে বসে। আমাকে ফোন নম্বর দিয়ে বলেছিল, "কিছু লাগলে একটু ফুনিয়ে দেবেন ব্যাস! বাড়িতে মাল পৌঁছে যাবে।"
ওকে ফোন করতে বলল, "বলেন দাদা কী লাগবে?"
আমি বললাম, "ভাল বেগুন দিয়ে যাও তো।"
মানিক বলল, "বেগুন? খুব ভাল মাল আছে। একটু বেশি করে দিয়ে দেব?"
হ্যাঁ তাই ভাল! আর যেন না বউ বলতে পারে বেশি নেই। বললাম, "তাই দিও।"
মানিক উত্তেজিত হয়ে বলল, "আচ্ছা দাদা দিয়ে আসছি। আমার কাছে যা আছে সবই তাহলে কিছু কিছু দিয়ে আসছি।"
আমি বললাম, "শোনো তুমি বলবে তোমার গাছে হয়েছে তাই দিয়ে গেছ, বুঝেছ? আমি কিনছি এ কথা ঘুণাক্ষরেও বলবে না।"
মানিক হেসে বলল, "সব বুঝে গেছি দাদা কিচ্ছু চিন্তা করতে হবেনি। আমি এক্ষুনি যাচ্ছি।"
.
আমি সোজা বাথরুমে ঢুকে গেলাম। অনেকক্ষণ পরে বাথরুম থেকে বেরোলাম। ততক্ষণে মানিকের ডেলিভারি হয়ে গেছে।
বউ বলল, "ওহ্ তুমি এতক্ষণে বেরোলে? জানো একজন এসেছিল, মানিক নাম বলল, ওরে বাবা কত্ত আনাজ দিয়ে গেল! বলল, সব ওর গাছের। কে গো এই মানিক? কোনও দিন শুনিনি তো এর কথা?"
আমি হেসে বললাম, "ও মানিক এসেছিল? বড় ভাল ছেলে। সেই কবে ওর উপকার করেছি ভোলেনি দেখছি।"
মনে মনে বললাম, শালাকে বেগুন দিয়ে যেতে বললাম, আর ব্যাটা মনে হয় যা ছিল ওর কাছে সব দিয়ে গেছে।
একটু পরেই মানিকের ফোন এল, "দাদা বউদিকে সব বুঝিয়ে দিয়ে এসেছি। মোট দু হাজার ছশো পঁচাত্তর টাকার মাল।"
আমার আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেল, বললাম, "বলো কী! এত টাকা? এত্ত টাকার আনাজ?"
মানিক বলল, "আরে দাদা সওব দিয়েছি। ধরুন গিয়ে আটটা মোচা, দশটা এঁচোড়, চার কেজি পটল, পাঁচ কেজি বেগুন, আট কেজি টম্যাটো, পাতি লেবু..."
আমার মাথা ঘুরছে! বললাম, "প-পরশু বাজার যাব তখন তোমার টাকা দিয়ে দেব।"
মেজাজ খিঁচড়ে গেল। ইস এতগুলো টাকার আনাজ! যাকগে জম্পেশ করে খাওয়া তো যাবে কদিন ধরে! নেই নেই আর শুনতে হবে না।
.
বিকেলে বউকে ভুরু নাচিয়ে বললাম, "তাহলে কাল থেকে রোজ সকালে বেগুন ভাজা খাব। আর তো বলতে পারবে না যে বেশি নেই!"
.
বউ বলল, "বেশি নেইই তো। দুটো-চারটা করে রেখে দুপুরবেলা গিয়ে মিত্তিরবাড়ি, ঘোষদের বাড়ি, মন্ডলদের বাড়ি আর বোসেদের বাড়ি সব ভাগ করে দিয়ে এসেছি। এই দুঃসময় বিনে পয়সায় পাওয়া জিনিস একা একা খেতে নেই, বুঝলে মশাই? ওহ্ সবাই কী খুশি হয়েছে!"
আমি চেঁচিয়ে উঠলাম, "তুমি? তুমি..."
রাগে-দুঃখে আমার কথা বন্ধ হয়ে গেল। আর কিছু বলতে পারলাম না।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই এপ্রিল, ২০২০ রাত ১১:৪৪
২১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×