somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

গেছো দাদা
আমি মোদি ভক্ত ! এটা জেনে আপনি দুঃখ পেলে আমি আনন্দিত হব।

রম্য রচনা : লকডাউন ও লুঙ্গি

১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:২৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

লকডাউন আবার তার সময় সীমা বাড়িয়ে নিলো ।আপাততঃ ৩ মে । সে বাড়ুক ,আমরা তো তাকে এতোদিনে নিকট আত্মীয় বলে মেনেও নিয়েছি।
এখন মুশকিল হচ্ছে ,এত বজ্র আটুনির মধ‍্যেও কিছু ফস্কা গেরো আমাদের হাতে দিয়েছেন ,যা খুলে আমরা লকডাউন সংসারে দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে সচল রাখতে পারি ।সরকারের তার একটা গালভরা নাম আছে " অত‍্যাবশ‍্যকীয় পন‍্য সামগ্রী"
এখানেই কিছু গোলমাল হয়ে যাচ্ছে !
কার কখন কোনটা অত‍্যাবশ‍্যকীয় তখন তো বোঝা যায় না ,আর সরকারের পক্ষেও তা মেটানো সম্ভব নয় ।
যেমন ধরুন পাড়ার গদাইদা ।লকডাউনের পরে ঐ এক হাওয়াই চপ্পল পড়ে ঘরে বাইরে রোজ হাঁটছে ,
ফিতে গেল ছিঁড়ে ! পাবে কোথায় ,দোকান বন্ধ!
পাড়ারই সুদেব পুরোহিত ,দৈনিক চারটে মন্দিরে পূজো করেন ,দু চারজন যজমানের বাড়িতেও যান,
গড়ে দৈনিক ১৫/২০ টা ছোট বড় মিষ্টি তার বিরাট উদরে স্থান পেত ,এখন ফক্কা !সব মিষ্টির দোকান বন্ধ ।কে খাওয়াবে ? নেশাখোরদের কথা আর নাইবা বল্লাম ।কখন কার কোনটা অতি আবশ‍্যক হবে ,ভগবানও জানেন না ।
এই যেমন আমি কী বিপদে পড়েছি ,কি আর বলবো । তবু বলি :-
আমি বাড়িতে লুঙ্গিই পড়ি ।বছরে ৩/৪টে লুঙ্গি কিনতে হয় ।মার্চের প্রথম সপ্তাহে দেখি লুঙ্গি দুটোতে দাঁড়িয়েছে ।কিনতে চাইলাম ,গিন্নী ধেয়ে এলো ,আরে হাঁদা ,এখন কেন কিনবে ,সামনেই তো চৈত্র সেল শুরু, তখন তো আমি গোটা কয়েক শাড়ি কিনবই ,তখন তোমার জন‍্য লুঙ্গিও কিনবে ।
কি আর বলি ,আমিও তাতেই সায় দিলাম ।
ব‍্যস ,এসে গেল লকডাউন ।মেয়াদ বাড়ছে বাড়ছে,লুঙ্গির পট পট আওয়াজ ক্রমশ বাড়ছে,
কয়েকদিন আগে চেয়ার থেকে উঠতে গিয়ে এমন ককিয়ে উঠলো আর ধরে রাখা গেলোনা ।
অবশিষ্ট একটা । এটার উপর একটু বিস্বাস ছিল হয়তো লকডাউন টা কাটিয়ে দেবে । দিয়েও ছিলো কিন্তু যেই শুনলো ,লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে গেল অমনি ,রাগে হোক বা দুঃখেই হোক ,আজ ঘুম থেকে উঠতেই এমন আর্তনাদ করে উঠলো,আর রাখা গেলোনা । নববর্ষের দিন ,চোখের জলে বিদায় দিলাম ।
যাকগে ,লুঙ্গি তো আমার দেহ ত‍্যাগ করে চললো গিন্নীর ঘর মোছায় ,আমি এখন কি করে লজ্জা ঘোচাই । টাওয়েল জড়িয়ে বাথরুম সেরে চা'এর টেবিলে বসে গিন্নীকে সব বলতে ,তিনি নির্বিকার চিত্তে বলে দিলেন ,এ কটা দিন ট্রাউজার পড়ে কাটিয়ে দাও ।
৩৭ ডিগ্রি গরম ,সারাদিন ,বাড়ির মধ‍্যে প‍্যান্ট পড়ে থাকা যায় ? তুমি বরং তোমার ৫/৬ শ শাড়ী থেকে দুটো আমাকে দাও ,লুঙ্গি করে পড়ি ।
যতটা উত্তেজিত হবে ভেবেছিলাম তা হলোনা।শুধু নিস্পৃহ গলায় বললো , আমার যেকটা শাড়ি আছে, সেগুলো তোমার শরীরে লুঙ্গি হয়ে শোভা বর্ধন করার জন‍্য জন্মায়নি , তুমি ওঘরে গিয়ে মোদিজির ভাষনটা শোন ,আমি দেখছি কি করা যায় ।
আমি অনেক আশ্বস্ত হয়ে টিভি খুলে বসে গেলাম।
কিছুক্ষন বাদে উনি হাতে করে কিছু একটা নিয়ে আমার কাছে এলেন,পাশে বসলেন ।
আমি ওকে জানালাম ,তিনদিন লকডাউন বেড়ে গেল ।
তা বারুক । এই নাও ,এই দুটো লকডাউন পর্যন্ত পড়বে ।
এগুলো কী ?
আমার সায়া
হোয়াট !! সায়য়া ! এই রংচটা ৩৬" সায়া ভদ্রসমাজে কোনো ভদ্রলোক পড়ে ? তুমি বল্লে কি করে ?
দ‍্যাখ চেঁচিও না ,ঠান্ডা মাথায় শোন ,এখন সমাজ বলে কিছু নেই ,লকডাউনে আছি তুমি আর আমি।
চাণক‍্য তো বলেছিলো " শত্রু যখন অদৃশ‍্য তখন বুদ্ধিমানের কাজ হলো ,নিজেকে লুকিয়ে ফেলা"।

আপাতত আমি গিন্নীর দেওয়া রংচটা ৩৬" সায়া পড়ে চ‍্যানেলে Madly ম‍্যান দেখছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:৪৫
৬টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গানটি বন্ধুত্বের, গানটি শান্তির প্রতি ভালোবাসায় সিক্ত

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ ভোর ৪:০০

আমেরিকা ও ইরানের শান্তি চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে এই গানটি বুনেছি, নিজের বেসুরো গলা 'ব্যবহার' করেই।
এবারে কি ভারত - বাংলাদেশ সীমান্তে শান্তির আলো দেখা দেবার কথা?



বন্ধু হে অনেক... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল || একটা রোমান্টিক গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৪ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪

সে আমার দিকে তাকিয়েছিল
ওওও
বহুবার সে তাকিয়েছিল
আমি ভাবতে চেয়েছি
আমাকে তার ভালো লেগেছিল



সে দেখতে এতটা সুন্দরী
তার উপমা যেন সে নিজেই
মাঝে মাঝে অধরে তার ফুটছিল হাসি
মুগ্ধতায় আমি হারিয়েছিলাম খেই
তখন মিহিসুতোর মতো বৃষ্টিরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল গ্রহের শেষ প্রেম // কেয়া এবং আমি।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৪ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯



আমি ভেসে আছি মহাশূন্যে।
আমার শরীরে রূপালী স্পেসস্যুট।
চারপাশে অসীম অন্ধকার।
আর আমার সামনে দূরে জ্বলছে এক নীলাভ-সবুজ গ্রহ—
Earth-666।
এই গ্রহেই আমার জন্ম।
এই গ্রহেই আমি প্রথম প্রেমে পড়েছিলাম।
আর এই গ্রহই আমার কাছ থেকে সবকিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৪



“নির্বাচিত সরকার যখন সেনাবাহিনী মাঠে নামায়, গণতন্ত্র তখন নিজের সত্ত্বা নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে।”

এই বক্তব্যের মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক দর্শনে। গণতন্ত্রের ভিত্তি হলো জনগণের... ...বাকিটুকু পড়ুন

=কিছু গোপন ব্যথা রেখে দিলাম অন্তরে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৪ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৩



আমার হয়ে থাকুক কিছু
মন কুঠুরির আড়াল হয়ে
দুঃখগুলো যাক না নিরব
একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে।

বাড়ুক ব্যথা বুকের গহীন
কেউ না জানুক গোপন থাকুক
ব্যথার কাঁপন উঠুক না হয়;
হেলা বুকে কষ্ট আঁকুক।

যাক না এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×