
এখন মুশকিল হচ্ছে ,এত বজ্র আটুনির মধ্যেও কিছু ফস্কা গেরো আমাদের হাতে দিয়েছেন ,যা খুলে আমরা লকডাউন সংসারে দৈনন্দিন চাহিদা মিটিয়ে সচল রাখতে পারি ।সরকারের তার একটা গালভরা নাম আছে " অত্যাবশ্যকীয় পন্য সামগ্রী"
এখানেই কিছু গোলমাল হয়ে যাচ্ছে !
কার কখন কোনটা অত্যাবশ্যকীয় তখন তো বোঝা যায় না ,আর সরকারের পক্ষেও তা মেটানো সম্ভব নয় ।
যেমন ধরুন পাড়ার গদাইদা ।লকডাউনের পরে ঐ এক হাওয়াই চপ্পল পড়ে ঘরে বাইরে রোজ হাঁটছে ,
ফিতে গেল ছিঁড়ে ! পাবে কোথায় ,দোকান বন্ধ!
পাড়ারই সুদেব পুরোহিত ,দৈনিক চারটে মন্দিরে পূজো করেন ,দু চারজন যজমানের বাড়িতেও যান,
গড়ে দৈনিক ১৫/২০ টা ছোট বড় মিষ্টি তার বিরাট উদরে স্থান পেত ,এখন ফক্কা !সব মিষ্টির দোকান বন্ধ ।কে খাওয়াবে ? নেশাখোরদের কথা আর নাইবা বল্লাম ।কখন কার কোনটা অতি আবশ্যক হবে ,ভগবানও জানেন না ।
এই যেমন আমি কী বিপদে পড়েছি ,কি আর বলবো । তবু বলি :-
আমি বাড়িতে লুঙ্গিই পড়ি ।বছরে ৩/৪টে লুঙ্গি কিনতে হয় ।মার্চের প্রথম সপ্তাহে দেখি লুঙ্গি দুটোতে দাঁড়িয়েছে ।কিনতে চাইলাম ,গিন্নী ধেয়ে এলো ,আরে হাঁদা ,এখন কেন কিনবে ,সামনেই তো চৈত্র সেল শুরু, তখন তো আমি গোটা কয়েক শাড়ি কিনবই ,তখন তোমার জন্য লুঙ্গিও কিনবে ।
কি আর বলি ,আমিও তাতেই সায় দিলাম ।
ব্যস ,এসে গেল লকডাউন ।মেয়াদ বাড়ছে বাড়ছে,লুঙ্গির পট পট আওয়াজ ক্রমশ বাড়ছে,
কয়েকদিন আগে চেয়ার থেকে উঠতে গিয়ে এমন ককিয়ে উঠলো আর ধরে রাখা গেলোনা ।
অবশিষ্ট একটা । এটার উপর একটু বিস্বাস ছিল হয়তো লকডাউন টা কাটিয়ে দেবে । দিয়েও ছিলো কিন্তু যেই শুনলো ,লকডাউনের মেয়াদ বেড়ে গেল অমনি ,রাগে হোক বা দুঃখেই হোক ,আজ ঘুম থেকে উঠতেই এমন আর্তনাদ করে উঠলো,আর রাখা গেলোনা । নববর্ষের দিন ,চোখের জলে বিদায় দিলাম ।
যাকগে ,লুঙ্গি তো আমার দেহ ত্যাগ করে চললো গিন্নীর ঘর মোছায় ,আমি এখন কি করে লজ্জা ঘোচাই । টাওয়েল জড়িয়ে বাথরুম সেরে চা'এর টেবিলে বসে গিন্নীকে সব বলতে ,তিনি নির্বিকার চিত্তে বলে দিলেন ,এ কটা দিন ট্রাউজার পড়ে কাটিয়ে দাও ।
৩৭ ডিগ্রি গরম ,সারাদিন ,বাড়ির মধ্যে প্যান্ট পড়ে থাকা যায় ? তুমি বরং তোমার ৫/৬ শ শাড়ী থেকে দুটো আমাকে দাও ,লুঙ্গি করে পড়ি ।
যতটা উত্তেজিত হবে ভেবেছিলাম তা হলোনা।শুধু নিস্পৃহ গলায় বললো , আমার যেকটা শাড়ি আছে, সেগুলো তোমার শরীরে লুঙ্গি হয়ে শোভা বর্ধন করার জন্য জন্মায়নি , তুমি ওঘরে গিয়ে মোদিজির ভাষনটা শোন ,আমি দেখছি কি করা যায় ।
আমি অনেক আশ্বস্ত হয়ে টিভি খুলে বসে গেলাম।
কিছুক্ষন বাদে উনি হাতে করে কিছু একটা নিয়ে আমার কাছে এলেন,পাশে বসলেন ।
আমি ওকে জানালাম ,তিনদিন লকডাউন বেড়ে গেল ।
তা বারুক । এই নাও ,এই দুটো লকডাউন পর্যন্ত পড়বে ।
এগুলো কী ?
আমার সায়া ।
হোয়াট !! সায়য়া ! এই রংচটা ৩৬" সায়া ভদ্রসমাজে কোনো ভদ্রলোক পড়ে ? তুমি বল্লে কি করে ?
দ্যাখ চেঁচিও না ,ঠান্ডা মাথায় শোন ,এখন সমাজ বলে কিছু নেই ,লকডাউনে আছি তুমি আর আমি।
চাণক্য তো বলেছিলো " শত্রু যখন অদৃশ্য তখন বুদ্ধিমানের কাজ হলো ,নিজেকে লুকিয়ে ফেলা"।
আপাতত আমি গিন্নীর দেওয়া রংচটা ৩৬" সায়া পড়ে চ্যানেলে Madly ম্যান দেখছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে এপ্রিল, ২০২০ রাত ১২:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




