
কতদিন অফিস যাইনি। কতদিন বায়োমেট্রিকে আঙুলের ছাপ দেওয়ার পর নারীকন্ঠের 'থ্যানক ইউ' শুনিনি। পীযূষের বানানো চা কতদিন খাইনি। কতদিন ঝন্টুর চপ-তেলেভাজা খেতে খেতে দোকানে বসে আড্ডা মারিনি।
মাঝে মাঝে অফিসের সহকর্মী ও অন্যান্যদের ফোন আসে। সবার একটাই প্রশ্ন, আর কতদিন? কতদিন চলবে এই ভাবে?
.
বউ চা করে দিয়ে গেছে। চা খেতে খেতে এইসব ছাইপাঁশ ভাবছি...
.
হঠাৎ নিস্তব্ধ সন্ধ্যেয় কেমন একটা ধুপ্ করে কিছু পড়ে যাওয়ার আওয়াজ শুনে চায়ের কাপ রেখে দৌড়ে গেলাম পাশের ঘরে।
.
যা দেখলাম তাতে মাথা ধাঁ করে ঘুরে গেল!
বউ পড়ে আছে পাশের ঘরের মেঝেতে।
কেমন উপুড় হয়ে পড়ে আছে। মাঝে মাঝে ওঠার আপ্রাণ চেষ্টা করছে।
একটু উঠেই ধুপ্ করে পড়ে যাচ্ছে। পারছে না। উঠতে কিছুতেই পারছে না। হাড়গোড় নির্ঘাত ভেঙেছে। কোমরের হাড় ভাঙা খুব সাংঘাতিক! ফিমার বোন ভাঙল না পেলভিস কে জানে! নাকি মেরুদণ্ডেই জোরদার আঘাত লাগল!
এই লকডাউনে কী করব, কোথায় যাব ভেবে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে গেল। আমার বুকের মধ্যে দুম দুম করে কেউ হাতুড়ি পিটছে।
শরীর অবশ হয়ে গেছে। বউকে যে ধরে তুলব সে ক্ষমতাও নেই। মনে হচ্ছে আমিই না এবার পড়ে যাই!
.
কেন আমি সাহসী নই কেন আমি ভীতু এই নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি একসময়। আমার এক মাসতুতো দাদা বেজায় সাহসী। মাসির বাড়িতে গিয়ে তার সাহসের কত যে নমুনা দেখেছি আর ভয়ে শিউরে উঠেছি তা বলার নয়। সেই দাদা আমাকে বলত, তুই এত ভীতু কেন জানিস?
আমি 'জানি না' বলে উত্তরটা শোনার জন্য দম বন্ধ করে অপেক্ষা করতাম। সেই দাদা তখন বলত, তুই সাহসী নয় তাই এত ভীতু।
এমন গোলমেলে উত্তর পেয়ে আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তাম। তবে এইটা বুঝেছিলাম আমি ভীতু আর চিরদিন ভীতুই থাকব।
যাইহোক মনে মনে বার কয়েক, 'বল বীর বল উন্নত মম শির' লাইনটা আবৃত্তি করে এর আগে কয়েকবার ফল পেয়েছি। এবারও বিড়বিড় করে কয়েকবার লাইনটা আওড়ানোর পর মনে একটু সাহস, বুকে একটু বল পেলাম।
.
এখন প্রথম কাজ হল, বউকে যে করেই হোক মেঝে থেকে তোলা।
আমি উপুড় হয়ে পড়ে থাকা বউকে সমস্ত শক্তি দিয়ে টেনে তোলার চেষ্টা করলাম।
.
.
.
বউ ঝাঁঝিয়ে উঠল, "টানাটানি করছ কেন? দেখছ না আমি ভুজঙ্গাসন করছি? উফফ একটু শান্তিতে আসনও করতে দেবে না। পেছন পেছন এ ঘরে চলে এল। চা করে দিয়ে এলাম বসে বসে খাবে তা নয়...."
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই মে, ২০২০ রাত ১০:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


