
গোপাল ভাবল, ভাত খেয়ে একটু গড়িয়ে নিই তারপর উঠে যাব।
.
ইদানীং গোপাল ইয়া মোটা গোঁফ রেখেছে। পুরুষ্টু গোঁফ থাকলে লোকে মান্যিগণ্যি করে। বাড়ির সব্বার আপত্তি এই পেল্লাই গোঁফে, তার বান্ধবী তিন্নি'র তো দু চোখের বিষ। কিন্তু গোপালের সাফ কথা, রেললাইনে বডি দেবো গোঁফ দেবো না।
.
থানার ডিউটি অফিসার গোপালের লিখে নিয়ে যাওয়া দরখাস্তের একটা কপিতে সই করে, নম্বর লিখে, স্ট্যাম্প দিয়ে ফেরত দিয়ে দিলেন।
গোপাল থানা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে, এমন সময় বড়বাবু তাঁর বিশাল বডি নিয়ে থানায় ঢুকলেন। গোপালের মুখোমুখি হতেই বললেন, "হুম, বেড়ে গোঁফ তো । তা কী জন্য থানায়?"
গোপাল বলল, "আজ্ঞে ফোন চুরি হয়ে গেছে তাই ডায়েরি করতে।"
বড়বাবু থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে জিগ্যেস করলেন, "কী করা হয়?"
-- "চাকরি না মানে বেকার তাই চাকরির জন্য দরখাস্ত।"
বড়বাবু একজন কনস্টেবলকে বললেন, "একে বসিয়ে রাখ।"
গোঁফের গর্বে গর্বিত গোপাল ভাবল, গোঁফ কী করে মেনটেন করতে হয় বড়বাবু তারই টিপস নেবেন বোধহয়। কয়েকবার গোঁফে তা দিয়ে নিল গোপাল।
.
বড়বাবু নিজের চেম্বারে ঢুকেই চেঁচামেচি শুরু করে দিলেন। বাইরে একটা চেয়ারে গোপালকে বসতে বলা হলো।
চারদিন আগেই এই থানা এলাকায় একটা খুব বড় ডাকাতি হয়েছে। এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে। পুলিশ কাউকে এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
এস পি বড়বাবুকে তলব করেছিলেন। সাফ সাফ বলে দিয়েছেন, চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে ডাকাত দলকে না অ্যারেস্ট করতে পারলে, চাকরি ঘচাং ফু হয়ে যাবে। উপরমহল নাকি টগবগ করে ফুটছে। অন্তত একটা ডাকাতকে ধরলেও এ যাত্রায় চাকরি বেঁচে গেলেও যেতে পারে।
.
তারপর বড়বাবু যা বললেন শুনে গোপালের অজ্ঞান হওয়ার জোগাড়।
-- "অই যে গুঁফো ছেলেটা, যাকে বসিয়ে রাখতে বললাম, ওকেই চালান করে দাও। বেশ একটা পেল্লাই গোঁফ আছে। ডাকাত বললে লোকের মনে ওইরকম গুঁফো একটা মুখের ছবিই ভেসে ওঠে।"
শুনেই গোপালের ভয়ে পটি-টটি সব পেয়ে গেল। শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ কাঁপতে শুরু করল।
কী বলছে বড়বাবু? তাকে গ্রেপ্তার করবে? সে ডাকাত? সাধের গোঁফ আজ তাকে ডাকাত বানিয়ে দিল?
-- "এই যা ওকে লক আপে ভরে দে। আগে এস পি সাহেবকে খবরটা দিই তারপর মিডিয়াকে ডাকব।"
.
তারপরেই বড়বাবু ফোন করে এস পি সাহেবকে বললেন, "স্যার আমি আইসি তফাদার বলছি, ওই ডাকাতির কেসটায় একজনকে ধরেছি স্যার। অ্যাঁ? কী বলছেন? ডাকাতগুলো ধরা পড়ে গেছে? টাকা -গয়না সমেত? ও আচ্ছা স্যার, হ্যাঁ স্যার, স্যার..."
ফোন রেখে দিয়ে বড়বাবু হাঁকলেন, "অ্যাই ওই গুঁফো ছোকরাটাকে ভাগিয়ে দে। ডাকাতের দলটা বিহার বর্ডারে ধরা পড়ে গেছে।"
.
...শুনেই চোঁ চা দৌড় লাগাল গোপাল। ওহ্ , কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেল গুলিটা। আর একটু হলেই জেলের চাক্কি পিসিং পিসিং...
থানা থেকে বেরিয়েই প্রথমে যে সেলুনটা দেখতে পেল সেই সেলুনে ঢুকে পড়ল গোপাল.. চেয়ারে বসে বলল, "গোঁফটা উড়িয়ে দাও! আভি উড়াও!"
.
.
-- "কী রে গোপাল পড়ে পড়ে আর কত ঘুমাবি? সন্ধে হতে চলল যে।"
মায়ের ডাকে ঘুম ভেঙে গেল গোপালের। উঠেই এক লাফে আয়নার সামনে দাঁড়াল।
দেখল, 'গোঁফ জোড়া তো তেমনি আছে, কমেনি এক রত্তি....'
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই মে, ২০২০ রাত ১১:১৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



