somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন বিজয়ীর গল্প

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ৭:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সোহেলের সাথে আমার পরিচয় এখানে আসার দুইমাস পুর্বে। সদ্য প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশীয় এজেন্টের অফিসে বসে স্পন্সরশীপের জন্য কাগজপত্র জমা প্রস্তুত করার সময় তার আগমন ঘটে। শার্ট-প্যান্ট ইন করা ছেলেটির চোখেমুখে প্রতিভার ছাপ স্পষ্ট। পরিচয় পর্ব শেষে জানা গেল, ঢাবিতে ফার্মাসিতে মাস্টার্স করে একটা ভাল কোম্পানিতে চাকরি করছে। আমার চেয়ে এক বছরের সিনিয়র, আমার মতই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছে। আমার কোর্সেই পড়তে আসতে চায়।

ক্লাস শুরুর এক মাস পরে একই ফ্লাইটে করে Frankfurt পৌছালাম। সেখান থেকে ভার্সিটির গাড়িতে করে আমাদেরকে ডর্মেটরিতে আনা হল। রুমমেট হিসেবে পেলাম তাকে। অস্থায়ী ক্যম্পাসটি গ্রামে হওয়ায় পুর্বে আসা দেশীয় ছাত্র/ছাত্রীরা হতাশাজনক কথা শোনাতে লাগল। আমি কয়েকমাসের খরচের টাকা এনেছিলাম, সেও ব্লক একাউন্টসহ সমস্ত খরচের ১১ লাখ টাকার মধ্যে প্রায় ১০ লাখের মত আত্মীয় স্বজনের কাছ ধার করে এনেছিল। একসপ্তাহ পরে একদিন সকালে আমাকে বলল, “আমি তিন চার দিনের মধ্যে দেশে চলে যাচ্ছি”।
কারণ জানা ছিল তবুও তাকে স্বান্তনা দিতে লাগলাম। তাছাড়া দেশে ফিরে গেলেও তার কমপক্ষে ২ লাখ টাকা ক্ষতি হবে যেটা পুরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অতল সাগরে হাবুডুবু খাওয়া আমরা দুজন সিদ্ধান্ত নিলাম, আমাদের রুমে কোন নিরাশাবাদীদের জায়গা হবে না। যারাই হতাশার কথা বলত আমরা ভদ্রভাবে তাদেরকে টপিক পরিবর্তন করতে অনুরোধ করতাম। এতে অনেকেই আজীবনের জন্য প্রচন্ড ক্ষুদ্ধ হলেও আমরা সেটা পাত্তা দিলাম না।

কিছুদিন পরে আমি অন ক্যম্পাস জব পেলাম, এক সেমিষ্টার পরে সেও জব পেল। আমাদের লোণগুলো ধীরে ধীরে কমতে শুরু করল। পাশ করার আগেই আমার রিসার্চ জব আর বন ইউনিভার্সিটিতে স্কলারশীপসহ তার পিএইচডি নিশ্চিত হয়ে গেল।

তার সুপারভাইজার বায়োমেট্রিক ম্যাটেরিয়ালের একজন স্বনামধন্য বিজ্ঞানী। প্রথম দিকে একটু পেইন দিলেও সম্প্রতি তার একটি পেপার খুব ভাল একটি জার্নালে গৃহীত হওয়ায় প্রফেসর খুশি হয়ে তার কাজের পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছেন। মাস ৮ পরে তার পিএইচডি শেষ হওয়ার কথা। শুনেছি, পোষ্টডক পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রফেসরের সাথে তার আলাপ চলছে।

শেষ কথা: চেষ্টা থাকলে সবই সম্ভব। আমি মেকানিক্যাল, আইপিই, ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রির অনেককেই চিনি যারা ম্যাটেরিয়াল সাইন্স নিয়ে অসাধারণ কাজ করছেন। আমার জানা মতে, ম্যাটেরিয়াল সাইন্স বিশেষ করে বায়োমিমেটিক ম্যাটেরিয়ালস নিয়ে প্রচুর গবেষণা হচ্ছে যেখানে ফান্ডিং পাওয়া কঠিন কিছু নয়। যারা MME পড়ে, তারা হয়ত নিজেরাও জানে না- অনেক ভাল ভবিষ্যত তাদের জন্য অপেক্ষা করছে যদি তারা বাহিরে আসতে চায় গবেষণার জন্য। যদিও দেশীয় চাকরির ব্যাপারে আমার তেমন জ্ঞান নেই।

Author : Shariat Rahman
বর্তমানে রাইন-ওয়াল ইউনিভার্সিটি অফ এপ্লায়িড সাইন্সে সায়েন্টিফিক এসিস্ট্যান্ট (Wissenschaftlicher Mitarbeiter) হিসেবে কাজ করছেন ।

লেখাটি আগে http://www.germanprobashe.com/archives/2602 এখানে প্রকাশিত হয়েছে ।
********************************************
জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার নিয়ে যে কোন তথ্য পেতে দেখতে পারেন- http://www.germanprobashe.com/

ফোরাম: http://www.facebook.com/groups/BSAAG
*******************************************
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×