somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জিএম হারুন -অর -রশিদ
আমার কারো কাছে নেই কোন অভিমানের দেনাপাওনা, নেই কোন কষ্টের হিসাব, তবুও লুকিয়ে থাকা হাহাকার পরম যতনে আগলে রাখি-- প্রথম পাওয়া চিঠির মত, আমি এই রকমই বন্ধু ।

হুমায়ূন আহমেদ আপনাকেই

১৬ ই অক্টোবর, ২০২৩ রাত ২:০০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


আজ বই মেলায় গিয়েছিলাম,
প্রচন্ড ভীড় ছিলো সেই সব স্টলে
যেখানে শুধু আপনারই ছবিগুলো টানানো ছিলো,
আপনি থাকতে যে রকম, অনেকটা সেই রকমই,
সবার মুখেই আপনার জন্য হাহাকারের গল্প,
আপনি না থেকেও যেনো আরো বেশী করে আছেন,
আশ্চর্য, একটা মানুষ না থেকেও আরো বেশি করে থাকে কি ভাবে?

আমি আপনার ভালোবাসার গল্প গুলো খুব বিশ্বাস করতাম,
প্রতিটি গল্প, উপন্যাসই খুব প্রান দিয়ে পড়তাম,
হাসতাম, কাঁদতাম, ভাবতাম, ভাসতাম
আবেগে ভাসতাম, স্বপ্নে ভাসতাম, অভিমানে ভাসতাম প্রতিটি চরিত্রের সাথে।

আমি আপনার ব্যাক্তিগত ভালোবাসার গল্পগুলো খুবই পড়তাম,
আপনার বিয়ের পর, যখন আপনাকে কেউ চিনতো না,
আপনার সেই সময়ের নিজের সংসারের গল্পগুলো ছিলো
পৃথিবীর শ্রেষ্ট ভালোবাসর গল্প।

আপনার ভালোবাসা, সংসারের সুখ দু্খের কাহিনীগুলোতে নিজেকে ভাবতাম,
কিশোর বয়সে মনে মনে খুব চাইতাম,
আপনার বউ'য়ের মতো এই রকম একটা বউ যেনো পাই,
আহা কি মায়া মমতা মাখা ছিলো সেই জীবন,
ভালোবাসার চিঠির গল্প,
অভিমানের চিঠির গল্প,
কি ছিলোনা আপনার ব্যাক্তিগত জীবনের গল্পে!!

তারপর, আপনার নাম হতে হতে,
আপনি হয়ে গেলেন আকাশের সবচেয়ে জ্বলজ্বল করা তারাটা,
আপনার ভিতরে তখন কি খুব
অহংকার জমে ছিলো?
নাকি খুব হতাশা ?
আপনার লেখাতেও কেমন যেনো অস্হিরতা ছিলো,
অথবা, আমারই ভুল হতে পারে ,
পত্রিকার খবর পড়তে পড়তে হয়তো সে ভাবেই ভাবতাম,
তখন আপনাকে নিয়ে বিভিন্ন খবর ছাপাতো,
সবচেয়ে বেশী ছিলো আপনার নতুন প্রেমের খবর,
অনেক কম বয়সী একজন কে নিয়ে সেই খবর।

তারপর, একদিন পত্রিকায় দেখলাম আপনি আবার বিয়ে করেছেন,
আমি খুবই বিভ্রান্ত হয়ে পরেছিলাম তখন,
আবার আপনার দ্বিতীয় স্ত্রীর ভালোবাসার গল্পগুলো
আপনিই জানাতেন আমাদের,
আপনার বইয়ের ভুমিকাতে,
অথবা কোনো ইন্টারভিয়েতে,
খুবই ভালো লাগতো,
মনে হতো আহা কি ভালোবাসার সংসার।

প্রিয় লেখক,
আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে কোন ভালোবাসাটি শুদ্ধ ছিলো,
প্রথমটি না দ্বিতীয়টি?
নাকি দুটিই?
একজন মানুষ কি ভাবে ভুলে যায় তার প্রথম ভালোবাসার মানুষটির কথা,
কি ভাবে আরেকজন ভুলিযে দেয় একজনের কথা,
তাহলে কি দ্বিতীয় ভালোবাসাটি খুবই শুদ্ধ ছিলো?
আমার তখন মনে হতো,
লেখক’রা কারো প্রেমিক অথবা স্বামী হতে পারে না,
তারা মুহূর্তে কল্পনায় বদলিয়ে ফেলে তাদের প্রেমিকা অথবা স্ত্রী,
প্রতিটি গল্পের মতো তারাও বদলায় ।

ভালোবাসাতো শরীর লাগেনা,
প্রেম শরীর ছাড়া হয়না,
আপনি কি নতুন শরীরে নতুন কোনো প্রেমের গল্পের প্লট খুঁজছিলেন?
আপনি যখন দ্বিতীয় স্ত্রী’কে প্রেমের কথা বলতেন,
তখন কি একবারও অনুতাপে ভুগতেন?
প্রথমজনের কোনো ছায়া কি আপনার বেডরুমে হাহাকার করতো?

প্রিয় লেখক,
আপনি হয়তো জীবন নিয়ে পরীক্ষা করতে চেয়েছিলেন,
আপনি যাবেন না ,
আমার অধিকার আছে আপনার কাছে জানতে চাওয়ার,
কারন আমি আর আমরাই বানিয়েছি আপনাকে,
আপনার প্রকাশিত সব বই আমার কাছে আছে,
কি দোষ করেছিলো আপনার প্রথম স্ত্রী?
ভালোবাসেনি?
আপনি তাহলে পাঠককে ঠকিয়েছেন,
আমাকে ঠকিয়েছেন,
আমার কৈশরের কল্পনাকে ঠকিয়েছেন,
আপনার মৃত্যু আমাদের কাঁদিয়েছে,
হাহাকারে ফেলেছে,
শুধু দিশাহারা করে ফেলে আপনার জীবনের প্রেম আর ভালোবাসার ঘটনা,
মনে হয় সবই ভুল ছিলো,
ভুল ছিলো আমার কৈশরের কল্পনা,
আপনার মৃত্যুও কিন্ত্তু পারেনি আমার দিশেহারা কমাতে,
ভালোবেসে মানুষ বাঁচতে চায় জানি
আপনি কেনো চলে গেলেন সময়ের আগে
তাও বুঝিনি?
শুধু বুঝেছি,
কবি আর লেখক’রা পাঠকের হাহাকার নিয়ে খেলতে ভালোবাসে।

প্রিয় লেখক,
আপনার মৃত্যু বেঁচে থাকার চেয়েও বড় একটা অস্তিত্ব ।
----------------------------------------
রশিদ হারুন
কাব্যগ্রন্থ- সময় ভেসে যায় বৃষ্টির জলে
১৩/১০/২০১৮
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৩ রাত ২:০০
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরছে অনলাইন ক্লাসঃ বাস্তবতা অফলাইনে কিন্তু সিদ্ধান্ত অনলাইনে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০




সরকার তিনদিন অনলাইন, তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস, ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এসব কি সবার নাগালে আছে? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

দিলশানা পারুলদের অযাচিত, অপার্চুনিস্টিক রুপান্তর

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:২২



দিলশানা পারুল বা দিশেহারা পারুল, যাই বলি না কেন, একসময় তাহাকে আমাদেরই সহযোদ্ধা মনে করিতাম। মনে পড়ে হাসিনা পতনের বছরখানেক আগে পিনাকি ওরফে আবর্জনাকি ভট্টাচার্য যখন তাঁর একটা ভিডিও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×