জীবনে হতাশ হতে নেই। আমি আমার কথাই বলবো। কোনো এক সময় আমার পুরো শিক্ষাজীবনটাই ছিল একেবারে অনিশ্চিত। একসময় দারুণ অভাবের সংসার ছিল আমাদের। মাত্র দশ টাকার জন্য প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারি নি। ফলে পর পর দুই বছর আমাকে প্রথম শ্রেণিতে থেকে যেতে হয়। এটি ১৯৮৮ সালের কথা।
পঞ্চম শ্রেণি পাশ করার পর আমার শিক্ষা জীবনে নেমে আশে বিশাল ট্রাজেডি। সে এক বিরাট ইতিহাস। অনেকেই ভেবেছিলেন, ওখানেই আমার সমাপ্তি। কিন্তু না। আমি ঘুড়ে দাঁড়িয়েছি।
এস এসসিতে আশানুরূপ ফলাফল হলো না আমার। ফার্স্ট বয় ছিলাম। কিন্তু ক্লাসের দশম ছেলেটিও আমার চেয়ে ভালো রেজাল্ট করলো। লজ্জা ও ভয়ে আমার এস এসসির সঠিক রেজাল্টটি বাসায় জানাই নি।
ঐ রেজাল্ট নিয়েই ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে নটরডেম কলেজে এ ভর্তি হবার সুযোগ পেলাম। আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। নটরডেম আর ঢাকা কলেজ ব্যতীত কোনো কলেজের ফরম আমি কিনি নি। ঢাকা কলেজে আমার আর পরীক্ষা দেয়া হয়নি।
এইচ এস সির রেজাল্টও আশানুরূপ হলো না। আসলে এইচ এস সিতে আমি প্রচুর পড়াশুনা করেছিলাম। তারপরও রেজাল্ট আশানুরূপ না হওয়াতে হতাশ হইনি।
মানবিকের ছাত্র ছিলাম আমি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীর নগর ব্যতীত অন্য কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরম কিনি নি। আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। ঢাবিতে সুযোগ পেয়ে যাই।.....
প্রথম বর্ষেই দৈনিক ইত্তেফাকে ফিচার প্রতিবেদ হিসেবে কাজ করতে শুরু করি। মাস্টার্স এ উঠার পর সেই কাজ ছেড়ে দেই। মাস্টার্স শেষে প্রথম বিসি এস দিয়ে প্রিলিতে ফেল করলাম। আমি বিন্দুমাত্র হতাশ হইনি। শুধু চিন্তা চেতনা বদলালাম। এক সময় স্বপ্ন ছিল বিসিএস ক্যাডার হবো। অনেক সময় মানুষকে কিছু স্বপ্নের ঘোর থেকে বের হয়ে আসতে হয় নিজের মঙ্গলের জন্যই। চিন্তা চেতনা বদলাতে হয়।....
সময় নষ্ট না করে উদ্যোক্তা হিসেবে জীবন শুরু করলাম। শুরুতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। কিন্তু মাত্র তিন বছরে আমি আমার ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে সারা বাংলাদেশে প্রথম তিন জনের একজন হতে সক্ষম হই। আমরা কোমল পানীয় খেয়ে যে বোতলটি ফেলে দেই- সে ফেলনা জিনিসটি প্রক্রিয়াজাত করে চীনের বাজারে রপ্তানি করে গত বছর প্রায় চল্লিশ লাখ মার্কিন ডলার বাংলাদেশে নিয়ে আসতে সক্ষম হই।
আমার শিক্ষাজীবন শেষ হয় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন বছর পর।
এক বছর নষ্ট হয় দ্বিতীয় শ্রেণিতে দুইবার থাকার ফলে। আর বাকি দুই বছর নষ্ট হয়, এক বার পঞ্চম শ্রেণি পাশ করার পর বিরতি দিয়ে এক বছর পর নতুন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবার পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তি হতে হয় বলে।
প্রশ্ন করতে পারেন আমার জীবনে কি কোনো প্রেম ভালোবাসা আসে নি?
হুম এসেছিল।
আবার চলেও গিয়েছে। অনেক বছরের সম্পর্ক ছিল। চলে যাবার পর কষ্ট পেয়েছি বেশ কিন্তু মোটেও হতাশ হইনি।... নতুন করে ঘুড়ে দাঁড়িয়েছি।
এত ছোট্ট একট জীবন আমাদের। তাতে এত এত হতাশা থাকলে চলে?? বলুন চলে?? তাই আর হতাশার কথা নয়। আশার কথাই শুনতে চাই ভবিষ্যতে...। আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলবো এটাই হওক আমাদের প্রতিজ্ঞা।.....

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


