somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সম্ভবত এবারের উপজেলা নির্বাচনে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে তারা এই কঠিন ও কঠোর বার্তাটাই দিয়ে দিয়েছে।

১৫ ই মার্চ, ২০১৪ রাত ১১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিএনপি তথা খালেদা জিয়া কখনই উপজেলা ব্যবস্হাকে মনে প্রাণে সমর্থন করতে পারে নাই। শুধুমাত্র এরশাদ কর্তৃক সৃষ্ট এ কারনে তারা ১৯৯১ সালে (এরশাদ আমলের সবচাইতে এবং এ বারের উপজেলা নির্বাচনের চাইতে হাজার গুন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ হওয়া সত্বেও) আমাদের নির্বাচিত উপজেলা পরিষদকে এক কলমের খোঁচায় বাতিল করে দিয়েছিলেন।

আমি নিজে ততকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সমিতির কেন্দ্রীয় যুগ্ন আহবায়ক হিসেবে, আমার সাথে গাজীপুরের আহসান উল্লাহ মাষ্টার, ফরিদপুরের মাহামুদুন্নবী সহ অনেকেই তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাথে একবার দেখা করার চেষ্টা করেও সফল হতে পারি নাই। আমার প্রিয় মানুষ, ততকালীন মন্ত্রী মেজর জেনারেল মাজেদুল হক সহ আরো অনেক মন্ত্রী চেষ্টা করেও খালেদা জিয়াকে রাজী করাতে পারেন নাই। আমরা শুধু উনাকে বুঝাতে চেষ্টা করেছিলাম যে উপজেলা সিস্টেমটা এরশাদের সৃষ্ট হলেও আপনি এটাকে আরো উন্নত করতে পারেন, এর মাধ্যমে বাংলাদেশে সত্যিকার অর্থেই ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরন করতে পারেন, স্বাধীনতার স্বাদ তৃণমুলের অবহেলিত মানুষের দৌরগৌড়ায় পৌছে দিতে পারেন।

কিন্তু সেদিন তিনি কোন কথাই শুনতে চাইলেন না। এরপর আমরা হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট করলাম। সুপ্রিম কোর্টের একটা রায়ের কারনে খালেদা জিয়া বাধ্য হলেন উপজেলা নিয়ে কিছু একটা করতে। তিনি তখন নাজমুল হুদাকে দিয়ে একটা কমিশন করে বছরের পর বছর সময় ক্ষেপন করে দীর্ঘদিন উপজেলার মানুষগুলোকে নির্বাচিত প্রতিনিধি ও উন্নয়ন বন্চিত করলেন এবং আমলা শাষন অব্যাহত রাখলেন। আজ এত বছর পর প্রশ্ন আসে, আজ কেন তিনি উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। কারন এটাতো চতুর্থ উপজেলা নির্বাচন। তাহলে প্রথম দুটোতে নেন নাই কেন। দ্বিতীয়টা টার্ম শেষ হবার আগেই বাতিল করলেন কেন? এবারও যে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও বলেন নাই যে তারা এই যুগান্তকারী ব্যবস্হাকে মেনে নিয়েছেন বা নিজেরা ক্ষমতায় এলে এই ব্যবস্হাকে কি আবারও বাতিল করে দিবেন নাকি এর দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে আরও যুগপোযোগী করবেন? তাহলে একথা সহজেই বলা যায় যে তারা এটাকে আন্দোলনের অংশ হিসেবে নিয়েছেন, ব্যবস্হাটাকে ভালবেসে নয়।

তবে একথা অনস্বীকার্য যে শেখ হাসিনা, আওয়ামি লীগ এবং জামাত প্রথম থেকেই এই উপজেলা ব্যবস্হার পক্ষে ছিলেন। যদিও ১ম উপজেলা নির্বাচনটা তারা আনুষ্ঠানিক ঘোষনা দিয়ে বয়কট করেছিলেন কিন্তু ২য় উপজেলা নির্বাচনে আমার সাথে অনেক আওয়ামী লীগ ও জামাতের উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। এছাড়া ১৯৯১ সালে, বেগম খালেদা জিয়া আমাদের উপজেলা চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সাথে দেখা করতে অস্বীকার করলেও ততকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা এবং জামাত ই ইসলামের নেতারা আমাদের সাথে সাক্ষাত দেন এবং উপজেলা পরিষদ ভেংগে দেবার খালেদা জিয়া সরকারের সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধীতা করেন এবং আমাদেরকে সার্বিক সহযোগীতা করেন।

সেই কৃতজ্ঞতা সত্বেও আজ বলতে হচ্ছে এবারকার উপজেলা নির্বাচনটা শুধুই নির্বাচন নয় এটা বিগত ৫ই জানুয়ারীর ভোটার বিহীন ও প্রহসনের সংসদ নির্বাচনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগনের একটা গণভোট হিসেবেই বিবেচিত হবে। আর বলা বাহুল্য, এ গণভোটে, শত বাধা বিপত্তি সত্বেও বিএনপি ও জামাত এগিয়ে রয়েছে। জনতার রায় পরিস্কারভাবে তাদের পক্ষে। এক্ষেত্রে আর একটা বিষয়ও পরিস্কার যে জামাতের পক্ষে বাংলাদেশের এত ব্যাপক ও বিশাল সংখ্যক জনগনের রায়ও প্রমান করছে যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ঢালাওভাবে রাজনৈতিক ফায়দা লুটার বিষয়কে জনগন মেনে নেয় না, ৭১ এর অপরাধীদের বিচারে অবশ্যই জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টি করে করতে হবে, মুষ্টিমেয় বিশৃংক্ষলা সৃষ্টি কারী ও দেশকে বিভক্তকারী কোন অপশক্তির কু উদ্দ্যেশ্য সাধনের জন্য নয়। জনগন সকল দলের যুদ্ধাপরাধীদেরই বিচার চায়, সাথে সাথে দুর্ণীতিবাজদেরকেও প্রত্যাখান করে, ঘৃনা করে, গনতন্ত্র চায়, আইনের শাষন চায় সম্ভবত এবারের উপজেলা নির্বাচনে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে তারা এই কঠিন ও কঠোর বার্তাটাই দিয়ে দিয়েছে।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭ নভেম্বরঃ যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০৭

৭ নভেম্বরঃ
যা ঘটেছিল এবং ভাবুন- না ঘটলে কী হতো?

১৯৭৫ থেকে ২০২৬, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে অর্ধশত বছর! এই সময়ের মধ্যে ঘুরেফিরে সরকার পরিচালনা করেছে- বিএনপি, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা সেতু চালুই কি বিআইডব্লিউটিসির লোকসানের একমাত্র কারণ? নাকি প্রশাসনিক স্থবিরতার মাশুল?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০১

টানা পাঁচ বছর ধরে ধারাবাহিক লোকসান গুনছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি)। সম্প্রতি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সংস্থার নিজস্ব মূল্যায়নে সোজাসাপ্টা বলে দেওয়া হলো—পদ্মা সেতু চালু হওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশেষ গণতন্ত্র: গণতন্ত্রের প্যাকেজে রাজতন্ত্র!

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:১৬



বিশেষ গণতন্ত্র: গণতন্ত্রের প্যাকেজে রাজতন্ত্র!

পৃথিবীতে একসময় একটি দেশ ছিল, যেখানে রাজতন্ত্র প্রচলিত ছিল। রাজাই ছিলেন রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। রাজার কথাই ছিল আইন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

পুরানো সেই দিনের কথা ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে এলোমেলোভাবে কেটে দিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, শিশুদের চুল বড় হয়ে চোখের ওপর পড়ছিল, দেখতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×