9pota আমার দেখা প্রথম রাশিয়ান মুভি, এই মুভি টা দেখার আগে আফগানিস্তানে সোভিয়েত ইউনিয়ন এর যুদ্ধ সম্পর্কে আমার কোন ধারনাই ছিলো না,এই মুভিটা আমাকে এই রক্তাক্ত যুদ্ধ সম্পর্কে বেশ আগ্রহী করে তোলে,মুভিটা Battle for Hill 3234. সত্যি কাহিনী থেকে অনুপ্রানিত।ভ্লাদিমির পুতিন পর্যন্ত এই মুভিটা দেখে প্রশংসা করেছেন।
মুভিটা শুরু হয় ২বছরের জন্য বাধ্যতা মুলক সামরিক সার্ভিস দিতে আসা একদল সৈনিকের বিদায় দৃশ্য দিয়ে,এখানে আসার কেউ হয়ত ছিলো কৃষক,কেউ চিএকর কেউ পরিবার সন্তান নিয়ে সংসার করা একদম সাধারন মানুষ।সাইবেরিয়া থেকে আসা এই লোক গুলো যখন আপনজনদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিল প্রবল বৃষ্টির মধ্যে,তখন আসলেই এক্টা অন্যরকম অনুভূতি হয় কেউ মা এর কাছ থেকে কেউ বান্ধবী কেউবা সন্তানের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছিল,ঘুরে ফিরে সবাই একই প্রতিস্রুতি দিচ্ছিল “আবার দেখা হবে”বস্তুত এই ঘটনাটা রাজনৈতিক ভন্ডামির একটা আদর্শ উদাহরন,যে মানুষটা আফগানিস্তানের নাম পর্যন্ত শোনেনি তাকে মাত্র ৩মাসের প্রশিক্ষন দিয়ে হাতে প্রায় অচল অস্ত্র ধরিয়ে দিয়ে একটা সম্পুর্ন অচেনা পরিবেশে পাঠিয়ে দেয়া হলো যেখানে নিজে বাঁচতে হলে অন্যকে মারতেই হবে,এবং তারা এটা বুঝে যায় আফগানিস্তানে পা দেয়ামাত্রই, তাদের চোখের সামনেই রানওয়ে থেকে উড়াল দেওয়া একটা বিমান আবার রানওয়েতেই আছড়ে পড়ে মিসাইল এর আঘাতে।
এই মুভিটার যে দিকটা সবচেয়ে ভাল লেগেছে তা হচ্ছে এখানে সত্য লুকানো হয় নি যেমন সোভিয়েত সৈনিকদের অনভিজ্ঞতা,সরজ্ঞামের অভাব,খাবারের অভাব,সোভিয়েত সৈনিকদের দল ত্যাগ, ভয়ঙ্কর মার খাওয়া অথবা তাদের মধ্যে থাকা সুপ্ত বর্নবা্দ তবে আফগান সাধারন মানুষের ওপর এই ভয়ংকর যুদ্ধটির প্রভাব কেমন ছিলো তা খুব সযত্নে এরিয়ে যাওয়া হয়েছে।
সাইবেরিয়া থেকে আসা এইসব সৈনিকদের ৯ম কম্পানী তে অন্তরভুক্ত করা হয়,রাশিয়ান 9pota শব্দটির অর্থ ৯ম কম্পানী,এবং ৯ম কম্পানির এই অনভিজ্ঞ সৈনিকদেরই দায়িত্ব দেয়া হয় যে কোন মূল্যে 3234নামক পাহাড়টি ধরে রাখতে,এবং এরাই একটা ভয়াবহ আক্রমন ঠেকিয়ে দেয়,বাস্তবে কমপক্ষে ২টি সূত্র থেকে এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে সোভিয়েত সৈনিকদের উপর আক্রমন করা ব্যাক্তিরা ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনির বিশেষ একটা ইউনিট।যুদ্ধ থামলে দেখা যায় দুপক্ষ মিলিয়ে মাত্র ১জন বেঁচে আছে।যদিও মুভি প্রথম দিকটা দেখে আমার মনে হয়েছিল এটা যুদ্ধ বিরোধী একটা মুভি কিন্তু শেষে এসে আমার সেই ভুল ভেঙ্গেছে,সেই দিক থেকে দেখলে হলিউডে নির্মিত ভিয়েতনাম যুদ্ধ নির্ভর কোন মুভির থেকে এটি খুব বেশি আলাদা কিছু নয়।
এই মুভিটা দেখার সময় আমার বারবার একটা কথাই মনে হয়েছে বন্দুক ধরে থাকা মানুষটা এবং বন্দুকের সামনে থাকা মানুষটা একি তবে কে ঠিক এবং কে ভুল তা নির্ধারন করে বন্দুকের কোন পাশে কে আছে।
আলোচিত ব্লগ
ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা এবং "দি ম্যাট্রিক্স" এর নীল বড়ি

বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কল্যানে এদের ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে।
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক যুবককে পিটিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন
যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন
শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রাইভেট টেলিফোন কম্পানি হলে কেমন হতো?

গত ব্লগে টেলিফোন নিয়ে বলেছিলাম। মোবাইল থেকে টেলিফোনে কল দেওয়া বা রিসিভ করা যেতো না। শুধু টিএনটি একটিভ করা সিমে টেলিফোনে কল করা যেতো। বা টেলিফোন... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি
কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।