somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাত্র দুই দিন আর ৩,৫৫০ টাকায় ঘুরে আসুন হালের ক্রেজ মেঘালয়ের “সোনাংপেডেং” এবং “ক্রাংসুরি ফলস” - (কম খরচে ভারত ঘোরাঘুরি)

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ১০:৫২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আজকের কম খরচে ভারত ভ্রমণের গল্পে থাকছে হালের ক্রেজ “সোনাংপেডেং” এবং “ক্রাংসুরি ফলস” ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং বাজেট। তো এই ট্যুরের জন্য আপনার অতি অবশ্যই ভারতীয় ভিসা নেয়া থাকবে এবং তাতে ডাউকি বর্ডার এন্ট্রি এবং এক্সিট বর্ডার হিসেবে থাকতে হবে। আসুন এবার পরিকল্পনা’র আলোচনায় যাওয়া যাক। অতি অবশ্যই আমাদের এই পরিকল্পনায় দল হতে হবে নূন্যতম চারজনের। সেই হিসেবেই পুরো পরিকল্পনা সাজানো। এবার আসুন শুরু করা যাক।

ঢাকা টু তামাবিল বর্ডারঃ
প্রথমেই আগের রাতে রওনা হতে হবে ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে। ইউনিক, শ্যামলী, হানিফ ইত্যাদি বাস যায় সিলেট। ভাড়া ৫০০-৫৫০ টাকার মধ্যে। এছাড়া সায়েদাবাদ থেকে আহমেদ পরিবহণের বাসে সরাসরি তামাবিল বর্ডার এর কাছে নামিয়ে দেবে; ভাড়া ৪০০ টাকা। সিলেট এর বাসে গেলে সিলেটে সকাল বেলা নেমে পাঁচভাই/পানসী/পাকশী’তে সকালের নাস্তা সেরে নিয়ে বাস/সিএনজি করে চলে যান তামাবিল বর্ডার। ভাড়া ৫০-১০০ টাকার মধ্যে। আমরা আমাদের এই প্ল্যানে আহমেদ পরিবহণই বেঁছে নিব।

বর্ডার পারাপারঃ
তামাবিল নেমে সেখানেও ট্রাভেল ট্যাক্স দিতে পারেন; কিন্তু যাওয়ার আগে ঢাকা থেকে ট্রাভেল ট্যাক্স দিয়ে গেলে ভাল। যেহেতু নিজেরা নিজেরা ভ্রমণ করছি, তাই এটাই বেটার। এরপর বাংলাদেশ সাইডের ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস পার হয়ে প্রবেশ করুন ভারত ভূখন্ডে এবং সেখানকার ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস পার হওয়ার সাথে সাথে আপনার বর্ডার পারাপার শেষ। খুব একটা ভীড় না থাকলে ঘন্টাখানেকের কম সময়ে আপনি ভারতে প্রবেশ সম্পন্ন করতে পারবেন। এই বর্ডারে তেমন উৎকোচ এর প্রাকটিস নাই বলেই জানি, তারপরও একশত টাকা বাজেট ধরে রাখলাম।

বর্ডার টু সোনাংপেডেং ভায়া ক্রাংসুরি ফলসঃ
সব কাজ শেষ করে বর্ডার জীপ স্ট্যান্ড হতেই একটি চার আসনের প্রাইভেট গাড়ী ভাড়া করে নিন ১৫০০-২০০০ রুপী’তে যা আপনাকে ক্রাংসুরি ফলস দেখিয়ে বিকেলের মধ্যে সোনাংপেডেং ড্রপ করবে। ঘন্টাখানেকের একটু বেশী সময়ে আপনি পৌঁছে যাবেন ক্রাংসুরি ফলস। পার্কিং এরিয়ায় গাড়ী হতে নেমে আপনাকে প্রায় ৪০০ মিটারের মত নীচে নামতে হবে। পেয়ে যাবেন অপরূপ এক ঝর্ণা, নীলপানি’র ঝর্ণাকুন্ড যেখানে আয়েশ করে সাঁতরে আপনি অতি অবশ্যই বিমুগ্ধ হবেন। তবে আরও ভাল লাগবে ঝর্ণায় ভেজার আগে ঝর্ণামুখে, উপরিভাগে বোটিং করে নিলে। নীলাভ জলে লাল রঙের বোটে করে চারিপাশে সবুজের মাঝে নীল জলের লেকের ন্যায় জলাশয়ে ভেসে বেড়াতে দারুণ লাগবে নিশ্চয়ই। বোটিং এবং জলকেলি শেষে এখানে যে রেস্টুরেন্টটি আছে সেখানে ইন্ডিয়ান থালি অথবা চাউমিন/ফ্রাইড রাইস দিয়ে লাঞ্চ সেরে নিন, খরচ ১০০-২০০ রুপীর মধ্যে। আর এখানে বোটিং চার্জ নিবে ১০০ রুপী, লাইফ জ্যাকেট ভাড়া ৩০ রুপী। ও হ্যাঁ বলা হয় নাই, লাইফ জ্যাকেট ছাড়া পানিতে নামতে দিবে না আপনাকে নিরাপত্তারক্ষী।

ক্রাংসুরি টু সোনাংপেডেং যাত্রাঃ
এরপর ক্রাংসুরি হতে যাত্রা শুরু করুন উমাংগট নদী তীরের শান্ত ছোট্ট গ্রাম সোনাংপেডেং এর উদ্দেশ্যে। প্রায় ঘন্টা দেড়েকের এই যাত্রাপথও আপনার পছন্দ হতে বাধ্য। বিকেল নাগাদ সেখানে পৌঁছে নদী তীরের তাবুবাসের জন্য তাবুর খোঁজ করুন। এক তাবুতে দুজন, ভাড়া ৭০০ রুপী। এছাড়া কটেজ রুম আছে, ভাড়া ১২০০-২৫০০ টাকা রুমভেদে। এখানে চেকইন করে নেমে পরুন কাঁচ স্বচ্ছ জলে। বরফ শীতল জলে ভিজে নিন। চাইলে জলের মাঝে স্থির দাঁড়িয়ে থাকা বড় বড় পাথরে বসে আড্ডা দিতে পারেন। রাতেরবেলা চাইলে ক্যাম্প ফায়ার, বারবিকিউ করতে পারেন। এখানে ১৩০ থেকে ১৫০ রুপীতে রাতের খাবার পাওয়া যাবে হোম মেইড। মেন্যু হবেঃ ভাত, মিক্সড ভেজিটেবল, ডাবল ডিমের কারী, ডাল। তো ডিনার সেরে অনেক রাত অবধি আড্ডা দিয়ে ঘুমিয়ে পরুন।
সকালে উঠে সাসপেনশন ব্রীজ হতে স্বচ্ছ নদীর বুকে ভেসে বেড়ানো নৌকার ছবি, মাছ ধরার ছবি, চাইলে ভাল ক্যামেরা দিয়ে জলের নীচের জগত, ঘুরে বেড়ানো মাছের ছবিও নীতে পারুন। এরপর আটটা নাগাদ গ্রামের রেস্টুরেন্টে আলু পরাটা দিয়ে নাস্তা সেরে নিন সাথে এককাপ চা। নাস্তার আরও ভ্যারাইটি আছে, চেখে দেখতে পারেন। দশটা থেকে বোটিং শুরু হয়। ঘন্টা খানেক বোটিং করে ব্যাগপত্তর নিয়ে রওনা হয়ে যান ফিরতি যাত্রায়।

ব্যাক টু প্যাভিলিয়নঃ
সোনাংপেডেং থেকে ডাউকি বর্ডার গাড়ী ভাড়া নেবে ৩০০-৪০০ রুপী’র মধ্যে, চার সিটের গাড়ী। আগের রাতে বা সকাল সকাল গাড়ী ঠিক করে নিবেন। এরপর ডাউকি ফিরে উভয় পাশের ইমিগ্রেশন এবং কাস্টমস শেষ করে দুপুরের মধ্যে চলে আসুন তামাবিল। এবার এখান হতে বাসে করে চলে যান সিলেট শহরে। চাইলে সারাটা বিকেল এবং সন্ধ্যে সিলেটে কাটিয়ে রাতের খাবার খেয়ে রাতের বাস বা ট্রেনে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারেন। আমাদের প্ল্যানে আমরা দুপুরের মধ্যে সিলেট এসে লাঞ্চ করে ঢাকার বাস ধরবো যেন রাতের মধ্যে ঢাকায় থাকা যায়।

জনপ্রতি খরচের বৃত্তান্তঃ
ঢাকা-তামাবিল (আহমেদ পরিবহণ) ৪০০ টাকা
বর্ডার স্পিডমানী (স্ট্রিকটলি এভয়ড) ১০০ টাকা
১ম দিন সকালের নাস্তা ৫০ টাকা
ট্রাভেল ট্যাক্স ৫০০ টাকা
ডাউকি টু ক্রাংসুরি টু সোনাংপেডেং ৪০০ রুপী
ক্রাংসুরি এন্ট্রি, লাইফ জ্যাকেট, বোটিং ১৫০ রুপী
১ম দিন দুপুরে খাবার ১২০ রুপী
১ম দিন রাতের খাবার ১৩০ রুপী
রাত্রি যাপন তাঁবুতে ৩৫০ রুপী
২য় দিন সকালের নাস্তা ৫০ রুপী
উমাংগট নদীতে বোটিং ১০০ রুপী
সোনাংপেডেং টু ডাউকি ১০০ রুপী
বর্ডার স্পিডমানী (স্ট্রিকটলি এভয়ড) ১০০ রুপী
ডাউকি টু সিলেট ৮০ টাকা
২য় দিন দুপুরের খাবার ১০০ টাকা
সিলেট টু ঢাকা ৫৫০ টাকা

মোট টাকা ১৭৮০
মোট রুপী ১৫০০
সর্বমোট খরচ টাকায় (১ রুপী = ১.১৮০ টাকা হিসেবে) ৩৫৫০ টাকা

ইউটিউব ভিডিওতে দেখে নিন স্পট দুটোঃ





=======================
এই সিরিজের আগের পোস্টগুলোঃ
=======================

কাশ্মীর ভ্রমণ পরিকল্পনা এবং বাজেট (একটি অপূর্ণাঙ্গ পোস্ট ;)
দিল্লী-হিল্লি (নিজে নিজে ঘুরে আসুন অল্প খরচে সমগ্র দিল্লী)
এবার চলুন সিমলা (ঘুরে আসি কম খরচে)
চল যাই মানালি... (কম খরচে ঘোরাঘুরি)
এবার ঘুরে আসা যাক গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেল (দিল্লী-আজমীর-জয়পুর-আগ্রা) (কম খরচে ঘোরাঘুরি - পর্ব ০৫)
পনেরো হাজার টাকায় গোয়া ভ্রমণ!!! স্বপ্ন নয়, বাস্তব... (কম খরচে ঘোরাঘুরি)
৩২,০০০ টাকায় দিল্লী-সিমলা-মানালি-লেহ-শ্রীনগর-পাহেলগাও-গুলমার্গ-সোনমার্গ ভ্রমণ এর বাজেট-প্ল্যান (কম খরচে ভারত ঘোরাঘুরি)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ রাত ৯:২৭
১১টি মন্তব্য ১১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের কাশ্মীর ভ্রমণ- ৫: অবশেষে শ্রীনগরে!

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:২৬

গাড়ীচালক মোহাম্মাদ শাফি শাহ সালাম জানিয়ে তড়িঘড়ি করে আমাদের লাগেজগুলো তার সুপরিসর জীপে তুলে নিল। আমরা গাড়ীতে ওঠার পর অনুমতি নিয়ে গাড়ী স্টার্ট দিল। প্রথমে অনেকক্ষণ চুপ করেই গাড়ী চালাচ্ছিল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চারিদিকে বকধার্মিকদের আস্ফালন!!

লিখেছেন ঘূণে পোকা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ সকাল ১১:৩৭

জাতি হিসেবে দিনে দিনে আমাদের মধ্যে এক অদ্ভুত মানসিকতা গড়ে উঠছে।
আমরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে অন্যকে বিচার করার এক অসাধারন দক্ষতা অর্জন করতে শিখে গেছি। আমাদের এই জাজমেন্টাল মেন্টালিটির... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন জনকের চোখে

লিখেছেন সেলিম আনোয়ার, ১৯ শে জুন, ২০১৯ দুপুর ১:১৬


আমি ছিলাম আল্লাহর কাছে প্রার্থনারত
হসপিটালের ফ্লোরে —পরিবারের সবাই
প্রতীক্ষার ডালি নিয়ে নতমস্তকে —আসিতেছে শিশু
ফুলের মতোন — ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শুভাগমন
কোন সে মহেন্দ্র ক্ষণে — পরম বিস্ময়ে সেই
... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা প্রেম!

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে জুন, ২০১৯ বিকাল ৫:৪০



ইনবক্সের প্রেমের আর কী বিশ্বাস বলো
এসব ধুচ্ছাই বলে উড়িয়ে দেই হরহামেশা
অথচ
সারাদিন ডেকে যাও প্রিয় প্রিয় বলে.....
একাকিত্বের পাল তুলে যে একলা নদীতে কাটো সাঁতার
সঙ্গী হতে ডাকো প্রাণখুলে।

এসব ছাইফাঁস আবেগী... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগারদের কিছু ফেসবুক ছবি

লিখেছেন :):):)(:(:(:হাসু মামা, ১৯ শে জুন, ২০১৯ রাত ৮:৩৭


হাজী জুম্মুন আলি ব্যাপারী
:P

জাহিদ অনিক
এখানে কেউ খোঁজে না কাউকে কেউ যায়নি হারিয়ে।

গিয়াস উদ্দিন লিটন ভাই।

শাহিন বিন রফিক
... ...বাকিটুকু পড়ুন

×