বালিকার বয়স চৌদ্দ ছুঁই ছুই। বালিকাটির বাবা মারা গেছেন কবেই। বালিকার চাচা জাফর আহমেদ উঠে পড়ে লাগলেন তার বিয়ে দিয়ে দিতে। সবকিছু ঠিকঠাক ও হলো। গতকাল ছিল বিয়ে, আজ বৌ-ভাত।
বরের বয়স বালিকাটির চেয়ে দ্বিগুনের চেয়ে ও এক বছর বেশি। কনে মৌসুমী মত দিলো না এ বিয়েতে। কিন্তু চৌদ্দ বছরের বালিকা চাচার মুখের উপর না করে দেয়ার শক্তি কিংবা সাহসই বা পাবে কোথায়?
কাল যথাসময়ে বর আসলেন কনের বাড়িতে। বর কুলাউড়ার ভাটেরার দণিভাঙ্গা গ্রামের তাহের মিয়ার পূত্র দৌলত মিয়া। কাজি ও ডাকা হলো। এভরিথিং ইজ কোয়াইট ওকে। বিয়ে পড়ানো শুরু হবে। তারপরই পিচ্চি বালিকা মৌসুমীকে বধূ করে তুলে নিয়ে যাবেন বর। এই বাড়া ভাতে ছাই ঢাললেন বালিকাটির খালাত বোন রেসকানা আক্তার । ভদ্রমহিলা নগরীর একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ-তে পড়েন।
স্বামীর সাথেই সিলেট নগরীতেই থাকেন। বিয়ের কথাবার্তা হওয়ার সময় বালিকার চাচাকে অনেক বুঝাতে চেষ্টা করেছেন তিনি। বলেছেন-মেয়েটির বয়স হয়নি। আরো বড় হোক। এরপর সুপাত্রে কন্যা দান করা যাবে। কিন্তু চোর না শুনে ধর্মের কাহিনী। শুনলেন না বালিকাটির একঘুয়ে চাচা। তাই ভিন্ন পথই ধরতে হলো রেসকনাকে। চিরায়ত নিয়মে আঙ্গুল বাঁকা করেই ঘি তুলতে হলো তাকে। রেকসা’র বুদ্ধিমত্তা আর সাহসিকতায়ই নিশ্চিত দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে গেল চতুদ্দর্শী বালিকা মৌসুমী আক্তারের জীবন।
কাল বিয়ে ঠেকাতে রেকসনা আক্তার জিডি করলেন সিলেট কোতোয়ালী থানায় যোগাযোগ করলেন সিলেট মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার সাথে। তারা কুলাউড়া থানায় যোগাযোগ করতে পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শ মোতাবেক রেকসনা গিয়ে হাজির হন কুলাউড়া থানায়। থানা পুলিশকে সবিস্তারে খুলে বলেন সব।
গতকাল দুপুর ১টা। কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরার হোসেনপুর গ্রামের মৃত হেলার মিয়ার বাড়িতে তখন সাজসাজ রব। কনেকে ঘিরে আছেন বরযাত্রীসহ আগত অতিথিরা। সবার মুখ থেকেই ধ্বনিত হচ্ছে একটি বাণী ‘গাঙের ঢেউয়ের সাথে বলো কন্যা কবুল কবুল। কনের মুখ থেকে এই বর্ণত্রয় বেরিয়ে গেলেই সব কাজ সারা। একেবারে কেল্লাফতে।
এমন সময় রেসকনা আক্তার কুলাউড়া থানার এএসআই মাহবুব সহ কয়েকজন পুলিশকে নিয়ে হাজির হন বিয়ে বাড়িতে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাড়ি ছেড়ে পালান বিয়ের আয়োজক কনের চাচা জাফর আহমদ। নিজের জান বাঁচানো ফরজ ভেবে চম্পট দেন কাজী সাহেবও। ভেঙ্গে গেল বিয়ের আয়োজন, বেঁেচ গেল বালিকাটি।
এ সময় বিয়ে করতে ব্যর্থ হওয়া বরের পক্ষ থেকে খোঁজ নিতে থাকেন এলাকায় কোন বিবাহযোগ্য মেয়ে আছে কিনা? যে কোন মেয়ের সাথেই বরকে বিয়ে দিয়ে লজ্জার হাত থেকে চাঁচার হাত থেকে প্রাণপন চেষ্টা চালান তারা। কিন্তু কপাল নেহায়েতই মন্দ বর বেচারার। সে চেষ্টায়ও সাফল্য মেলেনি। খালি হাতেই ফিরতে হলো বরসহ বরযাত্রীদের।
এই অপমানের শোধ নিতে বদ্ধপরিকর কনের চাচা জাফর আহমদ। তিনি এখন রেসকনা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করারও হুমকি দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে জুন, ২০০৭ দুপুর ১:৩০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



