১
‘তুমি একা এলে আপা? দুলাভাই এল না যে?’
মার এই সহজ সরল প্রশ্নটা শুনেই মেজাজটা খিঁচড়ে গেল খালার। রাশভারী চেহারা তার। ভ্রু কুঁচকে ইজি চেয়ারে সোজা হয়ে বসলেন তিনি। ‘আচ্ছা, এই প্রশ্নটা না করলে তোদের পেটের ভাত হজম হয় না, না? যত বারই আসি খালি ঐ একই প্রশ্ন তোদের।’
খালার গজগজানিতে মা বেশ উৎসাহ পেলেন। মুখের সামনে হাত এনে হাই তুলতে তুলতে নির্বিকার ভঙ্গিতে বললেন,‘কেন? দুলাভাইয়ের ব্যস্ততা আরো বেড়েছে নাকি?’
কাঙ্খিত ফলটুকু সাথে সাথেই পাওয়া গেল। ডিনামাইটের মত ফেটে পড়লেন খালা,‘বেড়েছে মানে.. দেশের সব চিন্তা তো উনার একার। আর তো কেউ সরকারী চাকরী করে না এই দেশে।’
নিজেকে সামলে নেবার চেষ্টা করলেন খালা। ইজি চেয়ারে আবার গা এলিয়ে দিলেন। তবে রাগের মাত্রা তাতে কমলো না। ‘এখন আর ওকে আমি কিছু বলি না। থাক ও তার অফিস নিয়ে। ক্লান্ত হয়ে গেছি আমি।’
এবার বিমর্ষ হলেন মা। ‘তোমার আর চিন্তা কি। ছেলে মেয়েরা সব বড় হয়ে গেছে। নিজের নিজের সংসার করছে।’
‘কেন?’ খালার কন্ঠে বিরক্তি। ‘তোর ছেলে মেয়েরা খারাপ কিসে? সোমা কম্পিউটার সায়েন্স পড়ছে। ছোটনও ভাল ছাত্র। মেট্রিকে মাশাল্লাহ এ প্লাস পেয়েছে। রিমার ভাল ঘরে বিয়ে ঠিক হয়েছে। আর কি চাস?’
মা খানিকটা ইতস্ততঃ করে বললেন,‘হ্যাঁ। বিয়ে ঠিক হয়েছে, কিন্তু বিয়ে তো আর হয়নি। এংগেজমেন্ট ভাংতে কতক্ষণ।’
খালা আবারও ভ্রু কুঁকালেন। তবে এবার বিরক্তিতে নয়, দুশ্চিন্তায়। ‘কেন রে? কিছু হয়েছে নাকি?’
‘কি জানি,’ বাতাসে হাত নাড়লেন মা। ‘মতি গতি তো কিছুই বুঝছি না।’
‘কাদের?’ গর্জে উঠলেন খালা। ‘ছেলে পক্ষের? কি বলছে তারা, বিয়ে করবে না? মগের মুল্লুক নাকি?’
‘না,’ তাড়াতাড়ি বলে উঠলেন মা। ‘ছেলে পক্ষ তো ঠিকই আছে। সেদিনও বেয়াই বেয়ান এসে রাত পর্যন্ত থেকে গেল। মূরাদও এসে দেখা সাক্ষাৎ করে যায়।’
‘তো?’ বিভ্রান্ত বোধ করলেন খালা। ‘সমস্যাটা কোথায়?’
‘ওরা বলছিল,’ মার কন্ঠে অস্বস্তি, ‘ছেলের একটা প্রমোশন হবার কথা চলছে। কি সব ট্রেনিং ফ্রেনিং নাকি আছে। এসব শেষ হয়ে গেলেই বিয়ের দিন তারিখ ঠিক করা হবে।’
‘তো?’ খালা এখনও মূল ব্যাপারটা ধরতে পারছেন না। ‘ছেলের প্রমোশন কি আটকে গেছে? তোর দুলাভাইকে বললেই তো ..’
‘না, প্রমোশন, ট্রেনিং সবই ঠিক মত হয়েছে।’ কিছুক্ষণ চুপ করে ভাবলেন মা, খালাকে এভাবে কথাটা বলা ঠিক হবে কিনা। যা মেজাজ। শেষে বলেই ফেললেন। ‘কিন্তু বিয়ের কথাবার্তা তো এখনও কিছু তুলছে না ওরা আপা।’
খালা এবার মার উপর এতটাই রেগে গেলেন যে চেঁচাতেও পারলেন না। শুধু ইজি চেয়ারে আবার হেলান দিতে দিতে বিরক্ত মুখে বললেন,
‘এতে এত আপসেট হবার কি আছে? ওরা তুলছে না তোরা তোল।’ এটুকু বলার পরই খালা তার খানদানী মেজাজটাকে আর নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলেন না। ‘আচ্ছা, কোথাও কি লেখা আছে, মেয়ে পক্ষ বিয়ের আলাপ তুলতে পারবে না।.. তোরা সব না.. কি বলব? আংটি পরানো হয়ে গেছে, বেয়াই বেয়ান এ বাড়ীতে আসছে, ছেলেও ঠিক আছে, আর তোরা.. যত্তসব। আমি আরো ভাবলাম না জানি কি হয়েছে।’
মা তার মোড়ায় একটু নড়েচড়ে বসলেন। বারান্দার গ্রীলের দিকে একবার অযথাই তাকালেন। নিজের পরিষ্কার শাড়ির পাড় হাত দিয়ে ঝেড়ে আরো পরিষ্কার করলেন। তারপর মিনমিন করে বললেন, ‘সমস্যা তো আপা অন্যখানে।’
‘আবার অন্যখানে কোথায়?’ খেঁকিয়ে উঠলেন খালা। ‘উফ.. মেয়ের বিয়ে দিচ্ছিস, দুদিন পরে নাতি নাতনীর মুখ দেখবি, অথচ প্যাঁচ লাগিয়ে কথা বলার অভ্যাসটা তোর এখনও গেল না।’
এবার মাও রেগে যান। ‘প্যাঁচ আর কি.. তোমার ভাগনিকে তো চেনোই।’
সাবধানে ভুরু কুঁচকালেন খালা। হ্যাঁ, রিমাকে তিনি চেনেন। খেয়ালী আর একগুঁয়ে। ‘রিমার আবার কি হল? তার কি ছেলে পছন্দ নয়? তাহলে আংটি পরানোর আগে বলল না কেন?’
‘না, ছেলে তার পছন্দ।’ মাথা ঝাঁকিয়ে বললেন মা।
‘তাহলে?’ খালা আর টানতে পারলেন না। দুপুরে খাবার পর একটু আরাম না করলে তার সারাটা দিন খুব খারাপ যায়। আর মা যেভাবে তার উপর একের পর এক মানসিক চাপ সৃষ্টি করছেন, আজকে তার দিনটা নির্ঘাৎ খুবই খারাপ যাবে। এবার তিনি সত্যি সত্যি ধমক দিলেন মাকে। ‘দেখ নাঈমা, মুখের মধ্যে অর্ধেক কথা ঢুকিয়ে রাখবি না। স্বভাবটা একটু পাল্টা।’
‘রাগ করছ কেন?’ নরম সুরে বলেলন মা। ‘আমার মনে হয় রিমা মূরাদকে কিছু বলেছে।’
এবার খালা আগ্রহী হন। ‘কি বলেছে?’
‘তা জানি না।’ ডানে বাঁয়ে মাথা নাড়লেন মা। চেহারায় দুশ্চিন্তার ছাপ। ‘কিন্তু নিশ্চয়ই কিছু বলেছে। আমার মেয়েকে তো আমি চিনি। নয়ত এতো আগ্রহ ওদের, হঠাৎ করে সব চুপচাপ হয়ে গেল কেন?’
খালার দৃষ্টি নরম হয়ে এল। এবার সত্যি চিন্তায় পড়লেন তিনি। ‘রিমা কোথায়?’
‘বোধ হয় ঘরেই আছে।’ বলেলন মা।
খালা বিশ্রামের আশা ত্যাগ করে উঠে দাঁড়ালেন। রিমা তার খুব আদরের। ছোট বেলা থেকেই মেয়েটা একটু অন্য ধাতে গড়া। মাঝে মাঝে বড় চিন্তা হয় তার জন্যে। সব দিক থেকে ভাল হবার পরও মেয়েটা হয়ত সুখী হতে পারবে না। ‘ঠিক আছে আমি কথা বলছি ওর সাথে। তুই অযথা টেনশন করিস না।’
চলে গেলেন খালা। মা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে মোড়া ছেড়ে ইজি চেয়ারে গা এলিয়ে দিলেন। অনেক কাজ পড়ে আছে। কিন্তু করতে ইচ্ছা করছে না।
২
বিয়ের কথা ঠিক হবার পর থেকে আর তেমন একটা বাইরে যায় না রিমা। বিছানায় বসে বাঁ হাতের অনামিকায় পরা হীরার আংটিটা আনমনে নাড়ছিল সে। পাশে একটা গল্পের বই আধ খোলা অবস্থায় পড়ে আছে। আজকাল আর আগের মত গল্পের বইয়েও তার মন বসে না।
‘কি রে, কি করছিস একা একা?’ পর্দা সরিয়ে উঁকি মারলেন খালা। রিমার সাথে তার বরাবরই ছেলেমানুষী সর্ম্পক।
‘এস খালা, বস।’ বইটা কোলে তুলে নিল রিমা। একটু সরে খালাকে বসবার জায়গা করে দিল। খালা বসতেই মুচকি হাসল সে, ‘তাহলে এবারও খালু তোমার সঙ্গে এল না?’
ভুরু কুঁচকে রিমার দিকে তাকালেন খালা। রিমার হাসিটা আরো বিস্তৃত হল। শেষে কি ভেবে খালা ব্যাপারটাকে পাত্তা না দেবার সিদ্ধান্ত নিলেন। রিমার বাঁ হাতটা নিজের হাতে তুলে নিয়ে আংটিটাতে সস্নেহে হাত বুলালেন। ‘তোর খালু আমাকে এই এত্তটুকু একটা আংটি দিয়েছিল।’
রিমার চোখে মুখে দুষ্টুমী খেলে গেল। ‘না দিলেও অবাক হতাম না।’
আর পারলেন না খালা। ঝটকা মেরে রিমার হাতটা ছেড়ে দিলেন। ‘কেন রে, লোকটা তোদের কি ক্ষতি করেছে? সব সময় তোরা খালি ওর দূর্নাম করিস।’
খালাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরলো রিমা। ‘দূর্নাম কোথায় করলাম খালা। আমি তো তোমাকেই সাপোর্ট করছিলাম।’
‘না।’ ছেলেমানুষী ভঙ্গিতে বললেন খালা, ‘যা বলবার আমি বলব, তোরা কেন বলবি?’
আনমনা হল রিমা। উদাসী ভঙ্গিতে ছেড়ে দিল খালাকে। ‘খুব ভালবাসো তাই না খালা?’
খালা রিমার দিকে তাকিয়ে থাকলেন এক পলক। এ কয়দিনে কেমন মলিন চেহারা হয়েছে মেয়েটার। হাত বাড়িয়ে রিমাকে কাছে টানলেন তিনি। কাছে এল রিমা। খালার কাঁধে মাথা রাখল। এই কঠোরে কোমলে মেশানো মহিলাটি বরাবরই তার কাছে একটা বড় আশ্রয়।
‘সংসার তো ভালবাসারই জায়গা।’ খালার কন্ঠে কেমন যে একটা স্বপ্নিল ভাব। ‘যখন বিয়ে হল তখন লোকটাকে খুব অগোছালো আর আত্মকেন্দ্রীক মনে হত। তারপর কেমন কেমন করে যেন শেষ পর্যন্ত ভালবেসে ফেললাম লোকটাকে। এখনও তোর খালু আগের মতই নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত, নিজের কাজ, নিজের জগৎ। বাকি সব এলোমেলো, অগোছালো। খারাপ লাগে না এখন আর সেগুলোকে গোছাতে। বরং মনে মনে ভীষণভাবে কামনা করি আমার প্রতি তার এই নির্ভরতাটুকু যেন কোনদিন ফুরিয়ে না যায়।’
রিমা সোজা হয়ে বসে। খালার চোখে চোখ রাখে। ‘খালা তুমি কি আমাকে কিছু বলতে চাও?’ খালা চুপ করে থাকলেন। রিমা আবার বলল, ‘মা পাঠিয়েছে তোমাকে?’
খালা এবার সোজাসোজি কথায় আসলেন। ‘তুই কি মা এই বিয়েতে রাজী না?’
রিমা দৃষ্টি সরিয়ে নেয়। অযথাই বইটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ‘রাজী না একথা তো কখনও বলিনি।’
‘রাজী যে আছিস সে কথাও তো বলছিস না।’ রিমার মুখটা নিজের দিকে ঘোরালেন খালা। এবার তিনি রিমার চোখে চোখ রাখলেন। ‘তোর কি ছেলে পছন্দ নয়?’
রিমা বই নাড়াচাড়া বন্ধ করল। কিন্তু চোখ সরাল না। বরং আগের চেয়েও পূর্ণদৃষ্টিতে খালার দিকে তাকালো। ‘তা কেন হবে? তোমরা এত যাচাই বাছাই করে ছেলে পছন্দ করেছো।’
একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন খালা। মেয়েটার একগুঁয়েমি কি কোন দিনই যাবে না। মৃদু কন্ঠে বললেন, ‘কিন্তু সংসার তো তুই করবি।’
রিমা কোন কথা বলল না। বইয়ের পাতা উল্টাতে গিয়েও খালার হয়ত আরো কথা বলবার আছে ভেবে আর উল্টালো না। তবে খালার দিকে তাকালোও না। খালা আরো একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন।
‘দেখ মা, আমি এটুকু বিশ্বাস করি যে সুখী হতে গেলে ভাগ্যও লাগে। তোর খালু তো খারাপ লোকও হতে পারতো। এমনটা নয় যে, যাচাই বাছাই করে নিলেই বা দীর্ঘ দিনের জানা শোনা থাকলেই তার সাথে সুখী হওয়া যায়।’
এবার বিরক্ত হল রিমা। ‘এসব কথা আসছে কেন খালা? তোমরা ভাল মতই জানো আমার কারো সাথে কোন সর্ম্পক নাই। থাকলে আমি জানাতাম।’
এরপরে আর কথা চলে না। চুপ করে থাকলেন খালা। ভয় হল তার মেয়েটাকে নিয়ে। শ্বশুর বাড়ীতে টিকতে পারবে তো? ‘তাহলে তোর আপত্তিটা কোথায় মা?’
রিমা অধৈর্য্য কন্ঠে বলল, ‘আমি তো আপত্তি করিনি খালা।’
‘দেখ মা,’ এবার মরিয়া হয়ে শুরু করলেন খালা, ‘বিয়ের সময় আমি তোর খালুকে চিনতাম না। তোর খালুও আমাকে চিনতো না। কিন্তু আমরা দুজনেই দুজনকে ভালবাসতে রাজী ছিলাম। তাই আমাদের সংসার হয়েছে, সন্তান হয়েছে, নাতি নাতনীর মুখও দেখেছি। আমরা এখন খুব সফল একটা জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। কোন ক্ষোভ নাই আমাদের এই জীবন নিয়ে।’
‘আমি সেটা জানি খালা।’ মৃদু কন্ঠে বলল রিমা।
খালা স্থির কন্ঠে বললেন, ‘তুই কি মূরাদকে ভালবাসতে রাজী আছিস মা?’
রিমার নির্বিকারত্বের প্রাচীরে এবার যেন ফাটল ধরল। ম্লান হেসে বলল, ‘জানি না। ...খালা তুমি জানো আমি আর সবার মত নই।’
মাথা ঝাঁকালেন খালা। ‘তোকে নিয়ে সেখানেই তো আমার ভয় রে মা।’
হঠাৎ একরাশ অস্থিরতা ভর করল রিমার মাঝে। ‘খালা আমার যে ব্যাপারগুলো নিয়ে তোমরা হাসাহাসি কর, বিরক্ত হও সেগুলো তো অন্যায় কিছু না। অথচ আমার আশেপাশের কাউকেই আমি ব্যাপারগুলোকে সহজ ভাবে মেনে নিতে দেখিনি।’ রিমার বুকের ভিতরটা মোচড় দিয়ে উঠল। সে জানে তার ভাগ্যে কি ঘটতে যাচ্ছে। ‘খালা মূরাদ যে ব্যাপারগুলোকে সহজ ভাবে নেবে.. এটা আশা করা কি আমার উচিৎ হবে?’
খালার চোখ দুটো ছলছল করে উঠল। মেয়েটা অনেক বড় হয়ে গেছে। ডানে বাঁয়ে মাথা ঝাঁকালেন খালা। মৃদু কন্ঠে বললেন, ‘না।’
‘তাহলে?’ রিমার কন্ঠে অসহায়ত্ব।
খালা উত্তর না দিয়ে দুই হাত দুপাশে সামান্য মেলে ধরে ম্লান হাসলেন।
বিব্রত বোধ করল রিমা খালার এমন অসহায় ভঙ্গি দেখে। বলল, ‘খালা, আমি তাকে ভালবাসতে রাজী নই, এটা ঠিক। কিন্তু আমি তো অরাজীও নই।’
হাসলেন খালা। তাকে সান্তনা দিতেও শিখে গেছে মেয়েটা। রিমার মাথায় হাত বুলালেন তিনি। সহজ গলায় জানতে চাইলেন, ‘এসব নিয়ে কি মূরাদের সাথে কোন কথা হয়েছে তোর?’
উত্তর দিল না রিমা। কোলের বইটার দিকে তাকিয়ে শুধু হ্যাঁ ভঙ্গিতে মাথা ঝাঁকালো।
একটা দীর্ঘশ্বাস চাপলেন খালা। ‘কি বলেছে সে?’
বইটা নিয়েই ব্যস্ত থাকল রিমা। খালার মনে হল মেয়েটা বোধহয় আর কোন উত্তরই দেবে না। কিন্তু উত্তর দিল রিমা। মৃদু কন্ঠে বলল, ‘ও জানতে চেয়েছিল বিয়েতে আমার মত আছে কিনা?’
হঠাৎ করেই খালা বুঝে ফেললেন উত্তরে রিমা কি বলেছে। কষ্ট হল তার। তারপরও যেন স্রেফ জানতে হয় বলেই জানতে চাওয়া এমন ভঙ্গিতে প্রশ্ন করলেন, ‘কি বললি তুই?’
‘বলেছি... আমার মতামতে কিছু যায় আসে না।’ তার দৃষ্টি এখনও বইয়ের দিকে। তবে হাত এখন আর নড়ছে না।
কষ্টটা বেড়ে গেল খালার। মার চিন্তা হওয়াটাই স্বভাবিক| মেয়েটা অযথাই ব্যাপারটাকে জটিল করে ফেলেছে। রিমার গালে হাত রেখে আদর করলেন খালা। রিমা খালার চোখের দিকে তাকাল। হাসতে চেষ্টা করলেন খালা। মনটা খারাপ হয়ে গেল রিমার। উঠে দাঁড়ালেন খালা। দরজার দিকে পা বাড়ালেন। রিমার মনে হল খালাকে তার কিছু বলা দরকার। কিন্তু বলবার মত কিছু খুঁজে পেল না সে। শেষে জানতে চাইল,
‘কদিন আছো তো খালা?’
‘হ্যাঁ। আছি কদিন।’
বেরিয়ে গেলেন খালা।
পর্ব - ২
পর্ব - ৩
শেষ পর্ব
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে মে, ২০১১ রাত ৯:১৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



