somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Justine,the misfortunes of virtue(অনুবাদ,ধারাবাহিক)Marquis de Sade এর লেখা

১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


Justine,the misfortunes of virtue(অনুবাদ,ধারাবাহিক)Marquis de Sade এর লেখা
সময়কাল (১৭৪০-১৮১৪)
বিতর্কিত চরিত্র,কন্ডে এলাকার রাজ পরিবারের একজন
সাধারণ চিন্তাধারার বাইরে তার লেখাগুলোয় বিকৃত মনোভাব,দুঃখবাদী
justine the misfortunes of virtue,Juliette,120 days of Sodom,The crimes of love ছাড়াও অন্যান্য


(৩) বিস্রাকের কাউন্ট নিকোলাস
ঘুম ভাঙ্গলো যখন,তখন সকাল হয়ে গেছে।হতাশ,অসহায় মানুষের জেগে ওঠায় জগতটা ঘুমের দেশের স্বপ্নের রাজ্য ছেড়ে,ফিরে আসতে হয় যন্ত্রনায় ছড়ানো বাস্তবে,দৈনন্দনিতায়,অত্যাচার আর অন্যায়ে,দুঃখে ভঁরে যায় মন আবার।
‘এই জন্ম,বেঁচে থাকায় এই যন্ত্রনা,এই জীবন কি জন্যে’?কান্না ভঁরা চোখে জাষ্টিন প্রশ্ন করছিল নিজেকে।চোখ মুছে উঠে দাড়ানোর আগেই সে দেখলো,দু জন লোক দাড়িয়ে।
‘দাঁড়াও,আর যাই হোক আমার মায়ের ডাইনী বোনটা,অন্ততঃ এখন আর কিছু বলতে পারবে না’।
জাষ্টিন কিছু না বলে কৌতুহলের সাথে তাদের দেখছিল,আর যা ঘটলো দেখে হতবাক হয়ে গেল সে,এ ও কি স্মভব?দুই পুরুষের যৌন যোগাযোগ,দুই বিকৃতকামী পুরুষের অদ্ভুত কার্যকলাপ,চেহারায় সম্ভ্রান্ত একজন বয়সে বছর পচিশ,আরেকজন সম্ভবতঃ তার কাজের লোক।ফিরে যাওয়ার সময় মনিব চেহারার লোকটার ঝোপে জাষ্টিনের পোষাকটা চোখে পড়লো।
‘জাসমিন,আমাদের রহস্য ফাঁস হয়ে গেছে,মেয়েটা সবকিছু দেখে ফেললো।এখন তো সবকিছু জানাজানি হয়ে যাবে,একেবারে কেলেঙ্কার,ওকে থামাতে হবে।তাড়াতাড়ি বের হয়ে আয় বেশ্যা,আমাদের যেন জোর যার না করতে হয়’।
‘এই গরীবের প্রতি একটু অবশ্যই করুণা করবে তোমরা,আমি হতাভাগা,অসহায় এক মেয়ে,তোমাদের কোন ক্ষতি করবো না’।
কাউন্ট বিস্রাক,বয়সে বছর পচিশ,তবে চিন্তাধারায় ছিল অদ্ভুত,অন্য আরেক পৃথিবীর মানুষ।তার কাছে মেয়েরা ছিল শুধু নিম্ন শ্রেনীর মানুষ না,অসহনীয় এক জীব।তা ছাড়াও মানুষটা ছিল বেশ নিষ্ঠুর প্রকৃতির,সহানুভুতি,সমবেদনার রাজ্য তার কাছে ছিল অচেনা।
‘শোন আমাদেরকে কি তোমার বোকা মনে হচ্ছে?তুমি ভাবছো মিষ্টি কথায়,কান্নায় পার পেয়ে যাবে,তা হলে তোমার বোঝায় বেশ ভুল আছে কোথাও।তা ছাড়া তোমাকে দিয়ে আমাদের কোন উপকার হবে না,তাই জানি না তোমার ভাগ্যে কি আছে?এই বুদ্ধু মেয়ে এখন বলো,কি কি চোখে পড়লো তোমার’?
জাষ্টিন বললো, ‘আমি কোন কিছুই দেখতে পাইনি,শুধু কটা কথা কানে আসলো,আমি তো ঘাসে শুয়ে ছিলাম,আমাকে সুযোগ দিলে আমি অনেক ভাবেই সাহায্য ক্রতে পারবো,তোমাদেরকে।
‘তোমার কথা বিশ্বাস করছি,যদি বিশ্বাস না করতাম তা হলে কি অবস্থা হতো বুঝতেই পারছো।জাসমিন,কি মনে হয় ওকে বিশ্বাস করা ঠিক হবে?না,তবে তাড়াহুড়া করা সিদ্ধান্ত নেয়ার কোন দরকার আছে কি?বলছে মেয়েটা শুনে,তারপর না হয় বিচার করবো,কি বল’?
কাউন্ট জাষ্টিনকে এক পাশে বসে সব কিছু খুলে বলার জন্যে বললো,সর্তক করে দিল কোন কিছু যেন বাদ না পড়ে।জাষ্টিন খুলেই বললো তার ভাগ্যের পরিহাসের ইতিহাস।
কাউন্ট নিকোলাস বললো, ‘জাসমিন,এই হতভাগা মেয়েটার পৃথিবীতে বেঁচে থাকার কোন দরকার নাই,এ বেচারী বেঁচে থেকে শুধু শুধু কষ্টই ভোগ করবে।ওকে মেরে ফেললেই বরং ভাল,বেচারীকে আমরা ঐ যন্ত্রণার থেকে উদ্ধার করলাম’।
জাষ্টিনকে দুজনে টেনে নিয়ে গেল গাছের পাশে,গাছের ছাল বাকল কিছুটা পরিষ্কার করতে বললো কাজের লোককে কাউন্ট নিকোলাস।
‘ওর হাত পা,চারপাশের চারটা গাছের সাথে বেঁধে দাও’।
সার্ট,রুমাল,টাই দিয়ে সহজেই রশির মত তৈরী করে ওরা জাষ্টিনকে বেঁধে দিল চারপাশে,আর সেটা যতদুর যন্ত্রনাদায়ক হতে পারে।জাষ্টিনের মনে হচ্ছিল যে কোন সময় তার শরীর ছিঁড়ে টুকরো টুকরো হয়ে যাবে, ব্যাথায় অস্থির হয়ে ছিল সে,তবে শোনার কোন কান ছিল না কোথাও।কাউন্ট বিস্রাক আর জাসমিন জাষ্টিনের যন্ত্রনায় হাসাহাসি করতে করতে এঁকে অন্যকে জড়িয়ে ধরছিল।
কাউন্ট নিকোলাস এক্সময় বললো, ‘জাসমিন,ঠিক আছে,অনেক হলো,এবার ওকে ছেড়ে দাও।তেরেসা,যদি আমার কথা শোন আর কোন উচ্চবাচ্য না কর,তা হলে সকলেরই উপকার হয়।আমার মায়ের ছোট বোন বিস্রাকের কাউন্টেস মারিয়ানা,তার কাজের লোকের দরকার,আমার পরিচিত,পরিশ্রমী কাজের লোক হিসাবে নিয়ে যাব তার কাছে।তবে ভুলে যেও না কোন ধরণের প্রতারনা করলে,আর আমার প্রস্তাবে রাজী না হওয়ার পরিনতি হবে চার গাছে পড়ে থাকবে তোমার শরীরের চার অংশ’।
জাষ্টিন ভুলে যায়নি অত্যাচারিত শরীরের যন্ত্রনার চীৎকার,সে ছুটে গিয়ে কাউন্টের পা ধরে বলল, ‘আমি কখনও তোমার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা ক্রবো না,যে ভাবে যা ক্রতে বলবে,তাই করবো আমি’।
হেঁটে যাচ্ছিল সবাই একসাথে,জাসমিন,কাউন্ট নিকোলাসের সাথে মাঝে মাঝে ফিসফিস করে কি সব আলাপ আলোচনা করছিল তারা,যার কোন কিছুই জাষ্টিনের পক্ষে বোঝা সম্ভব ছিল না।ঘণ্টা খানেকও হয়নি তারা বিশাল এক প্রাসাদে পৌছালো।কাউন্ট নিকোলাস জাষ্টিনকে একপাশের ঘরে অপেক্ষা করতে বললো,তারপর ছুটে গেল তার আত্মীয়া কাউন্টেসের কাছে।এর মধ্যে জাসমিন জাষ্টিনকে কিছু খাবারদাবার দিয়ে গেছে।
একস্ময় কাউন্ট নিকোলাস জাষ্টিনকে নিয়ে গেল, বিস্রাকের কাউন্টেস মারিয়ানার কাছে,বয়স বছর চল্লিশ বা হয়তো একটু বেশি,সাদামাটা পোশাক,ব্যাবহারে,জাকজমকের তেমন একটা বালাই ছিল না।স্বামী মারা গেছে বেশ কিছুদিন,আর উঠতি বয়সী নিকোলাসের বিলাসিতা অনেকটা নির্ভর করতো কাউন্টেস মারিয়ানার উদারতায়।নিকোলাস বাবার কাছে যে কটা টাকা পেত তাতে তার খরচের চারভাগের এক ভাগও পূরণ করা সম্ভব ছিল না,আর কাউন্টেস মারিয়ানার কাছে হাত পাততো বোনের ছেলে নিকোলাস।
কাউন্টেসের মাস তিনেক কাটতো নিকোলাসের সাথে বিস্রাকের প্রাসাদে,আর বছরের বাকী অংশটা প্যারিসে নিজের প্রাসাদে।যদিও কাউন্টেসের সঙ্গ ছিল নিকোলাসের অসহনীয় তবুও সহ্য ছাড়া আর কোন উপায় ছিল না,তার।
জাষ্টিনের দুঃখী জীবনের কথা শুনে কাউন্টেস বললো, ‘তোমার এই কষ্ট,মানুষের অবিশ্বাস্য অত্যাচারর কথায় আমার কান্না আসছে।তবে কাজে নেয়ার আগে,তুমি যা কিছু বললে আমাকে পরখ করে দেখতে হবে।তুমি যে ব্যাঙ্কের মালিকের কথা বললে,আমারই পরিচিত একজন,সেটাও একটা কারণ যাতে আমি তোমাকে যতটুকু পারি সাহায্য করতে চাই,তবে আমাকে পরখ করতে হবে।শোন,তোমার আগের মনিব মিষ্টার হেয়ারপিনের, প্যারিসে ফিরে আমি যথাযথ শাস্তির বন্দোবস্ত করবো।আমার পরিচিত একজন মন্ত্রী আছে তার সাহায্যে তোমার নির্দোষিতা প্রমান করতে পারবো।আমি শুধু নিশ্চিত হতে চাই তুমি যা বললে সব সত্যি’।
জাষ্টিন বিস্রাকের কাউন্টেস মারিয়ানার হাত জড়িয়ে ধরে বারে বারে তাকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিল,নতুন জীবন আরম্ভ হলো জাষ্টিনের কাজের মেয়ে হিসাবে।দিন তিনেক পরে কাউন্টেস বিস্রাক হাসিমুখে জানালো, ‘জানতে পারলাম তুমি যা বললে সবই সত্যি,এখন নিশ্চিত থাকতে পার,তোমার ভঁয়ের কিছু নাই,আমি যথাযথ সব ব্যাবস্থা ক্রছি’।

দেবতার চেহারায় অমানুষ-বিস্রাকের কাউন্ট নিকোলাস
নিকোলাস দেখতে শুনতে বেশ সুপুরুষ,তবে তার মেয়েলী স্বভাব লুকানো ছিল ঐ পুরুষালী মুখটার আড়ালে। নিষ্ঠুর,অত্যাচারী এক মানুষ,সহানুভুতি,দয়া ছিল না তার পৃথিবীতে।আপাতঃ দৃষ্টিতে বেশ ভাল এক মানুষ যেন,পরিচয়ের পর জাষ্টিনও পড়লো মানুষের স্বভাবজাত ভুল বোঝার চক্রে, খুবই পছন্দ করতো মানুষটাকে। তার প্রতি এমনই এক অনুভুতি জন্মালো জাষ্টিন যা ভাষায় বর্ননা করা সম্ভব না,জানা ছিল না তার কাউন্টের চরিত্রের বিপরীত মেরু,নিষ্ঠুর,অত্যাচারী,মেয়েরা ঘৃনিত যার কাছে।জানা ছিল না কাউন্টের মেয়েলী স্বভাব আর সমকামিতার প্রভাব,পুরুষের সঙ্গের জন্যে পাগল হয়ে থাকতো নিকোলাস।দরকার হলে জাষ্টিন হাজারবার জীবন দিতে পারতো,সুপুরুষ কাউন্টের হাসিমুখের জন্যে।জাষ্টিনের কান্না,অনুভুতি বুঝে ওঠার ক্ষমতা ছিল না কাউন্টের,তবে প্রয়োজনে জাষ্টিন তার এক প্রিয়পাত্রী হয়ে উঠলো।
জাষ্টিনের ভাললাগার মাত্রা বেশ বেড়ে গেছে,মাঝে মাঝে জাষ্টিন,কাউন্টকে সময়ে খাওদাওয়া না করার জন্যে,নিজেকে অবহেলার জন্যে স্নেহসুলভ তিরস্কারও করতে দ্বিধা করতো না।প্রতিবাদ করেনি কাউন্ট কখনও, শুধু বলতো, ‘এ ভাবে কেউ কোনদিন আমাকে আদর করে ধমক দেয়নি’।
‘আহ তেরেসা!তোমাকে কি ভাবে বোঝাবো,পুরুষদের ঐ সুপ্ত আনন্দ জিজেকে নারী হিসাবে ভাবতে,সেটা ভাষায় বর্ননা করা সম্ভব না।আমাদের সকলের মনেই আছে বৈপরীত্ব যা মাঝে মাঝে উকি সিয়ে আমাদের অবাক করে দেয়।আমরা ঘৃনা করি যাদের তাদেরই অবচেতন মনে নকল করার চেষ্টা করি, আবার। আহ,ভাবতেই আমার গা শিউরে উঠে তোমার সারি সারি প্রেমিকের কথা ভেবে।এ কি আমার বিকার!না কি তোমার আনন্দ অনুভুতির প্রতিচ্ছবি!একই দিনে কখনও তুমি কোন কুলীর শরীরে,কখনও কোন রাজকর্মচারীর ঠোঁটে,কখনো কোন কাজের লোকের বিছানায়, আবার আছ কোন জমিদারের সাথে শরীর খেলায়।কখনও কেউ আদর করছে তোমাকে,কেউ করছে অত্যাচার,বলো ভাবতেই ঈর্ষা হবে না কার?ওহ,না,না,হয়তো তুমি জান না সেই আনন্দ যা তোমাকে ছুঁয়ে যাচ্ছে নানান সুরে।পাপ পুন্যের কথা না ভেবে আমরা যদি শরীরের ঐ স্বর্গীয় সুখের কথা ভাবি-তখন আমাদের মন সহজেই ঠেলে দেয় পারিপার্শ্বিকতাকে হাজার যোজন দুরে।এ এমন এক আনন্দ,এমন এক আকাশ যা নেই আর কোন অনুভুতিতে…যে কোন মানুষ হারায় তার ভাষা, সাধারণ বিচার ক্ষমতা…।হাজার হাজার চুমু…একটার আনন্দ ছাড়িয়ে যায় আরেকটাকে…।প্রিয়জনকে জড়িয়ে ঠোঁটে ঠোট,দুই হয় এক,আমরাই দেবতা তখন স্বর্গের।আমরা অভি্যোগ করি শুধু অবহেলায়।আমরা প্রেমিক খুঁজি সে যেন হয় হারকিউলিসের চেয়েও শক্তিশালী।তেরেসা,আমরা ঐ সব পশুদের মত না,যারা নিজেদের পুরুষ বলে,আমরা সাজানো অন্যভাবে।তোমার আর আমার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই,আমাদের আনন্দের সুরে পার্থক্য নাই কোথাও।অনেকে আমার এই চিন্তাদারা বদলাতে,কোনভাবেই বদলাবে না আমাদের এই চিন্তাধারা, তাতে আসবে উন্মাদনা।আর কিছু না হয়তো’।
কাউন্টেস বিস্রাকের জানা ছিল বোনের ছেলের বিকৃতকামিতা,তবে অনেক চেষ্টা কিছুই করতে পারেনি কাউন্টেস। কাউন্টেসের চাপে কাউন্ট নিকোলাস অনেক কিছু বির্সজন দিতে বাধ্য হলো,আর তার ঘৃনা আরও বেড়ে গেল কয়েক মাত্রায়।নানান ভাবে কাউন্ট চেষ্টা করতো এমন সব কাজের লোক আনতে যাতে তার নিজের বিকৃত কামনা অপুর্ন না থাকে।
দুঃখ পেত কাউন্টেস,কান্নায় ভেসে যেত,আর সেটাই ছিল যেন কাউন্টের আনন্দের কারণ।জাষ্টিন যখন ভেজা গলায় কাউন্টেসকে দুঃখের কাহিনী শোনাতো,আরও রেগে যেত কাউন্ট।
‘তেরেসা,তুমি হয়তো ভাবছো,আমার মায়ের বোন খুব ভাল মানুষ,তবে ও তোমার বোঝার ভুল,সব কিছু শুধু লোক দেখানো।তুমি তো জান না,তোমার কথায় আমাকে বারে বারে খোঁচা খেতে হয়,লোক দেখানো সহানুভুতি।বেশ গর্ব করে কাউন্টেস বলে বেড়াচ্ছে,অজানা অচেনা এক অসহায় মেয়ের জন্যে কাঠ খড় পুড়িয়ে কত কিছুই না করতে হলো তাকে।যা কিছু হলো সে তো আমার জন্যে,যদি কারও কাছে তোমাকে কৃতজ্ঞ হতেই হয় সেটা আমার কাছে।জানি তুমি সুন্দরী,তোমার শরীর অনেকের কাছেই স্বপ্নের,আমার কাছে না।তেরেসা,আমি তোমার কাছে অন্য কিছু একটা সাহায্য চাই। যদি মনে কর,তোমাকে উদ্ধার করার পেছনে আমার কোন সাহায্য আছে,তা হলে আমি তোমাকে সব কিছু খুলে বলতে পারি’।
কাউন্টের নিজের মায়ের বোনকে ও ভাবে ঘৃনার কারণ জাষ্টিন কোন ভাবেই বুঝে উঠতে পারেনি।যতই সে ভাবছিল ততই হতবুদ্ধি হয়ে যাচ্ছিল,তা ছাড়া কাউন্টের ও সব হেয়ালী কথাবার্তাও তার বোধগম্য হয়নি। জাষ্টিন ভাবছিল যদি কোনভাবে কাউন্ট,পাপ পুন্য আর ঈশ্বরের শাস্তির ক্ষমতার কথা বোঝাতে পারে,হয়তো ঠিক পথে আসবে কাউন্ট।তবে কাউন্ট ছিল অন্যায়ের অন্ধ ভক্ত,বিচার শাস্তির কথা তাকে আ্রও রাগিয়ে দিচ্ছিল,বরং বিরক্তিতে পারলে মারধ্র করতো কাউন্ট।
‘তেরেসা যে পুন্যের কথা তুমি বলছো,তার জন্মই অন্ধ বিশ্বাসে।যদি প্রকৃতির নিয়মে সবাই প্রয়োজনে খুঁজে নিত আয়োজন,তবে ঈশ্বরের অবস্থান থাকতো কোথায়?তুমি যে পুন্যের কথায় এত সোচ্চার,তাতে কি কমে গেছে দুর্বলের ওপরে সবলের অত্যাচার,গরীবের কান্নায় ধনীর হাসি,না ক্ষমতার মানুষের ক্ষমতার অপব্যাবহার?তোমার পুন্যের ক্ষমতাই মানুষকে বেঁধে রাখছে,শিকলে।আর মানুষ আরও দুর্বল হয়ে শুধু তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে।তুমি কি মনে কর তোমার এই চিন্তাধারা আনবে মুক্তি,আনন্দ ঐ দুর্বলদের?তোমার এই পাপ পুন্যের বিশ্বাসে আছে শুধু অন্ধত্ব।ঐ বিশ্বাসে আছে রহস্য যা সহজেই অবজ্ঞা করা যায়,মতবাদ যা প্রকৃতির বিরুদ্ধে,আর আনুষ্ঠানিকতা যা শুধুই লোক দেখানো,হয়তো তোমাকেও অবাক করে।
তুমিই বলো,আছে কোথাও এমন কোন পুন্যবান যে বদলে দিতে পারে পৃথিবীর অন্যায়ের চেহারা,দুর করে দিতে পারে অসুস্থতা,অস্থিরতা যাতে কান্নায় অস্থির হয়ে আছে,দুর্ব্ল,দরিদ্র মানুষ।তবুও মানুষ ভান করে শুধু বিশ্বাস করে যায়,যেন কোন এক অলৌকিক সুত্রের বলে কেউ তার কাছে পৌছে দিবে সব প্রশ্নের উত্তর।সবই সার্কাসের খেলা দেখানোর মত মন ধাঁধানো,আর কিছু না।সেই বিশ্বাসের খেলার পৃথিবী ক্রীতদাস, দুর্ব্ল, অশিক্ষিতদের নিয়ে।ক্ষমতাশালী মানুষেরা,ঐ সবল,অত্যাচারীর দল নিজেদের স্বার্থে সাজিয়ে নেয় সবকিছু,আইন হয়,পাপ,পুন্যের বিচারে নতুন শাস্তির,সাজানো হয় আকাশের কোন এক স্বপ্নের রাজ্য।
এমন কি তথাকথিত বুদ্ধিজীবি তারাও যোগ দেয় ঐ নতুন বক্তার দলে,নতুম পাপ,পুন্যের হিসাবে।কথাগুলো যে ঈশ্বরেরই বক্তব্য,সেখানে অবিশ্বাসের কি আছে?যদি পৃথিবীতে সত্যের জয়জয়কার হতো,থাকতো পাপ,পুন্যের হিসাব,তা হলে ঐ সব সাজানো মানুষের মুখে কেন থাকবে ঈশ্বরের কথা?যার হাতে এত ক্ষমতা সুর্য,চাঁদ, পৃথিবী যার নিয়মে সাজানো,কেন সেই ক্ষমতা সাজিয়ে দিল না পাপ,পুন্যের ব্যাখা?কেন সেই ঈশ্বর সাজানো কটা সাজানো মুখে,উপাসানার আসরে,সাজানো কয়েকজনের কথায়?তোমার এই পাপ পুন্যের হিসাব যদিও বিশ্বাস করে তোমার চারপাশের মানুষ,তবে হয়তো ঐ দূর এশিয়ার মানুষের কাছে সেটাই আবার অবিশ্বাস্য?তেরেসা,আমি হাজার বার মরতে রাজী আছি যন্ত্রনায়,ওই ঠগদের চক্রান্তে পড়ার চেয়ে’।
‘হায়,তুমি কি এক অভাগা মেয়ের ঐ ছোট্ট একটু সান্তনা সেটাও কেড়ে নিতে চাও?মানুষ ভুলে যায় তার বেঁচে থাকার কারণ,ওটা কি শুধু ক্ষন কয়েকের আনন্দের জন্যে,আমরা ভুলে যাই পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্বের কারণ,ভুলে যাই ঈস্বর কে?এটা শুধু বিশ্বাস না,অজানাকে খুঁজে নেয়ার পথ।আমি কি ভাবে বির্সজন দিতে পারি আমার ঐ বিশ্বাসের পথ,তোমার ঐ পাপের চতুরতার কাছে’?
জাষ্টিনের কথা শুনে কাউণ্ট শুধু হাসছিল,তারপ্র কিছু পত্রপত্রিকার উদ্ধৃতি দিয়ে জাষ্টিনকে বোঝানোর চেষ্টা করছিল।তবে জাষ্টিন ছিল তার বিশ্বাসে অটল।কাউন্ট বিস্রাকের অবিশ্বাসী ঐ উন্নাসিকতা দেখেও জাষ্টিনের কাউন্টের প্রতি আর্কষন একটুকুও কমে নি,সে চেষ্টা করে যাচ্ছিল নিজের বিশ্বাসের ক্ষ্মতায় কাউন্টকে সরিয়ে আনতে বিশ্বাসের রাজ্যে,ভালবাসা যে অন্ধ।যতই মন থেকে তাকে সরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করুক না কেন জাষ্টিন,পারেনি বরং আর্কষন আরও বাড়ছিল।

সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪৩
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সরকার বদলায়, স্বাধীনতার ঘোষকও বদলায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:০৫


বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ৫৫ বছর আগে। এই দীর্ঘ সময়ে দেশে অনেক কিছু হয়েছে। সরকার এসেছে, সরকার গেছে, সামরিক শাসন এসেছে, গণতন্ত্র এসেছে, আবার গণতন্ত্রও চলে গেছে। কিন্তু একটা কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৫ ফুলদল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:২৭

প্রকৃতি যখন যন্ত্রণার ভারে নুয়ে পড়ে, সূর্য ক্লান্ত অভিমানে আড়াল করে তার দীপ্ত মুখ। তাপমাত্রা ১৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেড। শীতের নিঃশব্দ আগ্রাসনে নিস্তব্ধ চারপাশ। জীবনের স্পন্দন নেই।... ...বাকিটুকু পড়ুন

‘Why you come here?’ সুবিধামতো পরিচয়ের প্রবাসী

লিখেছেন মুনতাসির, ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৮:১৬

কারো সঙ্গে রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। প্রতিবাদ করার অধিকারও আছে। কিন্তু প্রতিবাদের ভাষা দিয়েই বোঝা যায় প্রতিবাদকারী কে। “Why you come here?” বা “I fuck your country system” কোনো রাজনৈতিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রপ্রেমী ও রবীন্দ্রবিরোধী - কারা ভালো লেখে-মন্তব্য করে ব্লগে

লিখেছেন অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫


আখতারুজ্জামান আজাদ নামে এক লেখকের একটা লেখা দৃষ্টিগোচর হলো কাল। লেখাটা দিয়েই আমার পোস্ট শুরু করব।

স্বল্প-বাংলা-জানা এক জাপানি ভদ্রলোক কোলকাতার এক দাদাকে জিজ্ঞেস করলেন— ‘এই যে আপনারা নামের শেষে দা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জানের বদলে জান: ব্যাপারটায় প্রতিহিংসার ফ্লেভার মেশানো

লিখেছেন অপলক , ১৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৩৬

ইসলামে কি বলা আছে সেটা নিয়ে আলোচনা করতে চাই না। দেশের আইনে কি আছে সেটাও না। ইংরেজীতে দুটো শব্দ আছে: Equality (Sameness: সমতা) এবং Equity (Fairness: নায্যতা)।




একটা অপ্রাপ্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×