somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ইসমাঈল আযহার
জীবন যদি মানুষের উপকারে না আসে, সেই জীবনের মূল্য নেই। সবার মাঝে বিলিন হতে পারাই জীবনের স্বার্থকতা। কান্না নিজের জন্য আর হাসি সবার জন্য।

সবকিছু স্মৃতি হয়ে যায় একদিন

২৭ শে নভেম্বর, ২০১৯ দুপুর ১২:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



ক'দিন এভাবে ভালবাসবেন আমাকে? ক'দিন আমাকে সম্মান করবেন? স্নেহ করবেন? ক'দিন মনে রাখবেন আমাকে? যদি আমি অনেক অনেক দূরে চলে যাই, কোথাও হারিয়ে যাই, তাহলে কোনদিন মনে কি পড়বে আমার কথা? আমার ত্যাগ আর ঘামের কথা? একসঙ্গে থাকার কথা? সুখ দুখের গল্পের কথা? পাশাপাশি হাঁটার কথা? ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাট করার কথা? রাত জেগে জেগে জোসনা উপভোগ করা সেইসব রাতের কথা? হয়ত কিছু দিন মনে থাকবে অথবা থাকবে না। কিছু দিন কথা না হলেই আমাকে ভুলে যাবেন। এমনই হয়। এখানে আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। পৃথিবী তার নিয়ম মেনেই চলবে।
আমার মনে হয় আমি মানসিক রোগী। কারণ, আজ থেকে পাঁচ বছর আগে রিকশার চাকায় যে বৃদ্ধাকে ঘায় খেয়ে কাঁদতে দেখেছিলাম তাকে আজও ভুলতে পারিনি। ছোট বেলায় মাঠে খেলতে গিয়ে যে ছাগলছানাকে খুউব আদর করতাম ওর কথা আজও আমার মনে পড়ে। সাত বছর আগে দিনাজপুর থেকে আসার পথে বাসের জানালা দিয়ে যে বাচ্চাটিকে চোখ মুছতে দেখেছিলাম আজও ভাবি ছেলেটির কথা। চার বছর আগে ফেরির হেলান দিয়ে যে বালিকাটিকে আমার ভাল লেগেছিল। তাকে কি ভুলতে পেরেছি কখনও?
চোখ বুঝলে সবকিছু একসঙ্গে ভেসে ওঠে চোখের পাতায়। শত শত স্মৃতি ভিড় জমায়। আপনিও হয়ত স্মৃতি হয়ে আজীবন আমার সঙ্গে থেকে যাবেন। আমি ভুলতে পরবো না, পারি না। কষ্ট আমার উত্তম সঙ্গি। আচ্ছা আমি কি সত্যি মানসিক রোগী? জানেন? কখনও নিজের ছাঁয়া দেখে নিজেই ভয় পাই, কেঁপে উঠি। সহজে সাভাবিক হতে পারি না। সামান্য শব্দেও কখন লাফিয়ে উঠি। তীব্র ভয় পাই। বুক ধুকধুক করতে থাকে।

কয়েকদিন ধরে একটা কথা বার বার শুনছি। প্রত্যেকটা ব্যক্তি কারও না কারও কাছে গুরুত্বপূর্ণ। কেউ না কেউ তাকে ভালবাসে। আচ্ছা, তাহলে আমি কার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। মা বাবা, ভাই বোনের কাছে তো সবাই গুরুত্বপূর্ণ। সেটা আর আলাদা করে বলার কী আছে। ভালবাসার কিছু মানুষ থাকে। মানুষকে কাজে অনুপ্রেরণা উৎসহ দেয়ার মতো কিছু মানুষ থাকে। কিছু মানুষ থাকে ভালবাসার সঙ্গে সমালোচনা করার জন্য। কিন্তু আমি শুধু চারপাশে নিন্দুককে, আমার শত্রুকেই দেখি। অন্ধত্ব আমি চাই না। তবে অন্ধ ব্যক্তি নিশ্চয় অনেক ভাল আছেন, নিন্দুক-হিংসুকের হিংস্র হাসি তার দেখতে হয় না।

এই মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে স্টিফেন হকিংয়ের বিখ্যাত সেই উক্তিটি। যেটা ২০১১ সালে দ্য গার্ডিয়ানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘মৃত্যু নিয়ে আমি ভীত নই। কিন্তু মরার জন্য তাড়াও নেই আমার। তার আগে করার মতো অনেক কিছু আছে আমার।’
মনে পড়ছে শৈশবে মায়ের মুখে শোনা শেখ সাদীর সেই উপদেশটি -‘যে সৎ হয় নিন্দা তার কোন অনিষ্ট করতে পারে না’।

আমরা ভাই বোনরা মায়ের কাছে থেকে অনেক উপদেশ পেয়েছি তিনি আমাদের অনেক শিক্ষা দিয়েছেন। বাবা কোনদিন উপদেশ দেননি, কিছু বলেননি সেভাবে। কিন্তু বাবার জীবনটা আজ আমাদের জন্য বড় উপদেশ। একটা সময় এটা আমরা বুঝতে পারিনি। আমার মনে হয় প্রতিটা বাবার জীবনই তার সন্তানের জন্য বড় শিক্ষা।

ভারতের একশ কোটি মানুষের দেবতা এবং পৃথিবীর হাজারও মানুষের ভালবাসার পাত্র এ পি জে আব্দুল কালামের জীবনী, তার উক্তি ও উপদেশ থেকে আমি অনেক শিখেছি। বড় বড় মণীষীদের থেকে বড় প্রেরণা পেয়েছি, উৎসহ পেয়েছি। বড় হওয়ার জন্য স্যার আইজাক নিউটন, লুইস পাস্তুর, গ্যালিলিও, আলবার্ট আইনস্টাইন, মেরি কুরি, অটো হান, চার্লস ডারউইন, নিকোলা তেসলা, জেমস ক্লার্ক ম্যাক্সওয়েল, অ্যারিস্টটলসহ অনেকের জীবনী মুখস্ত করে বসে আছি। কিন্তু.......।

স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত স্বপ্ন দেখে যাও। স্বপ্ন সেটা নয় যা তুমি ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে দেখো, স্বপ্ন হলো সেটাই যা তোমাকে ঘুমোতে দেয় না -এ পি জে আব্দুল কালাম

২৫ নভেম্বর সোমবার, 2019। স্থান. পাবিলক ভয়েস। সময়. রাত 11-59
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে নভেম্বর, ২০১৯ রাত ১১:০১
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সিটিজেন ভিজিল্যান্টি থেকে কালেমার মিছিল: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া কতগুলো অশনি সংকেত - প্রথম পর্ব

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৮


গত মাসে আমেরিকায় "সিটিজেন ভিজিল্যান্টি" নামে মুসলিম ও অভিবাসীবিদ্বেষী একটি সিনেমা মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি প্রথমদিকে দর্শকদের মধ্যে তেমন জনপ্রিয় হয়নি। পরে যখন ইলন মাস্ক এক্স প্ল্যাটফর্মে তার ২৪ কোটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

'গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড' আন্দোলন কেন ব্যর্থ হলো

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:১৩



মাও সে তুং-এর গৃহীত "গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড" (১৯৫৮-১৯৬০) আন্দোলনটি মূলত অবাস্তব লক্ষ্যমাত্রা, চরম অব্যবস্থাপনা এবং ভুল কৃষি নীতির কারণে মানব ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও মানবিক বিপর্যয়ে পরিণত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ ফিরতে পারে, তবে…

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০২ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:২০




১। ২০১২ থেকে সংঘটিত আওয়ামী লীগের দীর্ঘ ১২ বছরের গু/ম, খু/ন, অ*পশাসন, গণতন্ত্র হ*ত্যা, নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বং*স, দুর্নী*তি, বাকস্বাধীনতা ও সাংবিধানিক অধিকার হরণের মাত্রা এমন চরমই ছিল যে, শুধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা-গান-খেলাধুলা

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ২:১৭

আইন সমাজ নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি নয়। আইন দৃশ্যমান, প্রতিরোধযোগ্য। সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো মানুষকে নিজেই নিজের আনন্দ নিষিদ্ধ করতে শেখানো। জীবন থেকে আনন্দের উচ্ছেদ ঘটানো। এই কাজটি বাংলাদেশে গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রতি বছর জুলাই আসলেই কি কাউয়া ক্যাচাল লাগতে হবে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:৫০


জুলাই মাসটা আবার ঘুরে ফিরে আসতেই দেশের রাজনৈতিক পাড়ায় পারদ চড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে যারা গত দুই বছর আগের আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলেছেন, তাদের কাছে এই জুলাইয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×