লালবাগে ভর্তি হয়ে পরিচিত হলাম ইমরান এর সাথে। সময়ে সময়ে কথায় কথায় একদিন বলে ফেললাম, আসেন, পত্রিকা করি, সময় কাটবে, ভাল লাগবে। তিনি আর্থিক ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে পারছিলেন না। আমি নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানালাম, তিনি রাজী হলেন। কলকাতা থেকে কাজী নজরুলের সম্পাদনায় বের হত নবযুগ। আমি এ নামটি পছন্দ করে জানালাম এবং এ নামেই ঝটপট বিজ্ঞাপনের চিঠি লিখলাম। ততদিনে আমি কিছুটা হলেও অভিজ্ঞ হয়ে উঠেছি বিষয় নির্বাচন, লেখা চয়ন, সূচী বিন্যাস ও পাঠকবান্ধব কিছু নতুন বিভাগ তৈরীতে। এক সকালে নীলক্ষেত থেকে চিঠি কম্পোজ করিয়ে ফটোকপি করালাম এবং একটি রসিদ বই বাধিয়ে আনলাম। ব্যাপক শোরগোল কিংবা ঢাকঢোল না পিটিয়ে নীরবে কাজ গুছিয়ে নিলাম প্রথম সংখ্যার। নতুন পরিচিত সালাহুদ্দীন জাহাঙ্গীরকে অনুরোধ জানালাম একটি লেখা দিতে। পরীক্ষা চলছিল, তবুও অনেকদিন পর নতুন পত্রিকা সাজাতে পারছি, এ আনন্দে ক্লান্তি ভুলে ছাপাখানা ও কাগজের দোকান ঘুরে ঘুরে সব ঠিক করলাম। নীলক্ষেত ও কাটবনের ছাপাখানা সম্পর্কে কোন অভিজ্ঞতা ছাড়াই মা মণি প্রিন্টার্সে ছাপতে দিয়ে দিলাম প্রাইম ট্রেডার্স থেকে দুই রীম চায়না নিউজ কিনে। ততদিনে বেশ কিছূ ব্যক্তিগত বিজ্ঞাপন পেয়েছি ভেতরের পাতায়। তবে প্রথম সংখ্যা হিসেবে রঙীন কভার ছাপা হলো কোন বিজ্ঞাপন ছাড়াই। অল্প পরিচয়ে আপন হয়ে যাওয়া নাজমুল হায়দার ভাই দারুণ একটি প্রচ্ছন ডিজাইন করে দিলেন মাত্র পনের শ টাকার বিনিময়ে। বৃহস্পতিবার ছিল শেষ পরীক্ষা। আকাশ ছিল মেঘাচ্ছন্ন। অভ্যাস মাফিক পরীক্ষার হল থেকে আগে আগে বের হয়ে ছুটলাম প্রেসের দিকে। সবার পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে পত্রিকা আনতে না পারলে ছুটির মধ্যে সারাদেশে পৌঁছানোর সুযোগ হাতছাড়া হবে। যথারীতি পত্রিকা নিয়ে এলাম হলে। প্রথম সংখ্যাটি নগদ পাঁচ টাকায় কিনে আমাকে প্রথম উৎসাহ দিল বন্ধু মাহফুজুর রহমান ফিরোজ। আর নিজের লাইব্রেরীর বিজ্ঞাপন দিতে রাজী হয়ে আমাদের সাহস বাড়িয়েছিলেন আব্দুল কুদ্দুস ভাই। যদিও মাত্র পঞ্চাশ টাকা, তবু নিজের পাঠাগারের নামে শুভেচ্ছাবাণী ছাপিয়ে সর্বপ্রথম বিল পরিশোধ করেছিলেন শাহজালাল ভাই। নতুন সাইজ, ভিন্নধর্মী আয়োজনের কারণে খুব সাড়া পেলাম এবং আমার সাথের ইমরান তৈরী হল সামনে এগিয়ে যেতে। ২০০৭ সালের মার্চ থেকে এভাবেই যাত্রা শুরু হল নবধ্বনির পূর্ব সংস্করণ নবযুগের। সেই সাথে শুরু হল পাঠকদের চিঠির মিছিল। কেউ বাহবা জানাচ্ছে, কেউ তা যেন টিকে থাকে সেজন্য আর্শিবাদ জানাচ্ছে। বলতে দ্বিধা নেই, পাঠকদের পাঠানো আবেগমূলক প্রশংসা কিংবা সম্পাদক বরাবর বিশেষ চিঠি পড়ে আমি কখনো ভেতরে ভেতরে ফাঁিপনি, ফুলিনি। এভাবে চলল পথচলা। এরমধ্যে কত ঘটনা, দূর্ঘটনা। কত তিরস্কার কত পুরস্কার। সেসব নিয়ে আরেকদিন।
প্রথম পর্ব

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


