somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বুমেরাং।। পর্ব-৩

০৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১১:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


দারোগা সাহেব বলে উঠলো,”বাহ! ভিক্টিম অন্তত আমাদের জন্য একটা সুত্র রেখে গেসে।“

স্যার আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ ইনফরমেশনও পাওয়া গেসে। ভিক্টিমের ভাশুরের সাথে জমীরউদ্দীনের কথাপোকথনের সবকিছু শুনে দারোগা সাহেব বললেন,”এটা একটা ভাল মোটিভ হতে পারে। দুনিয়া তে এরকম হাজারো কেস আছে যে, অপমানের প্রতিশোধ নিতে খুন করেছে।“

দারোগা বলল,”বাহ! মোল্লা সাহেব। আপনি তো যবর কাজ দেখিয়েছেন। এক কাজ করেন, কাল সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে রমিজ মিয়ার বাড়ি সার্চ করেন। হাতে সুত্রতো একটা আছেই। আর এখানে শক্ত মোটিভ ও আছে। সার্চ করে দেখেন, কিছু পাওয়া যায় নাকি। পাওয়া গেলে যাইতে পারেও। আর হ্যাঁ সার্চ করার আগে অবশ্যই ভিক্টিমের মেয়ের জবানবন্দি নিবেন। রমিজ মিয়াকেও জেরা করতে ভুলবেন না। জেরা করার সময়, অনেক আসামি ভড়কে গিয়ে সত্য বলে দেয়।“

পরদিন বেশ সকাল সকালই জমীরউদ্দীন চারজন কনস্টেবল নিয়ে বড়ইডাঙ্গায় উপস্থিত। আসার আগে দারোগা সাহেবের থেকে এলাকার মেম্বারের মোবাইল নম্বর নিয়ে এসেছে। জমীরউদ্দীন অভিজ্ঞতা থেকে জানে, গ্রামে কোন কাজ করতে গেলে মেম্বার টাইপ লোকেরা বেশ কাজে দেয়। ভিক্টিমের বাড়ির কি অবস্থা সেটাও তো জানা নেই। অবশ্য কল দেয়ার দরকার পরে নাই। বাজারে ঢুকতেই মেম্বারের দেখা পাওয়া গেলো। একটা দোকানে খোশ গল্পে মশগুল ছিল। আমাদেরকে দেখেই এগিয়ে এসে, “স্লামালেইকুম স্যার।“
“ওয়ালাইকুম সালাম। চলেন মেম্বার, হাঁসিদের বাড়িটা ঘুরে আসি।“
“চলেন স্যার।“

হাঁসিদের ঘরে ঢুকে সবগুলো রুমে ঢু মারলাম। যে রুমে খুন হয়েছিলো সে রুমে দেখলাম নতুন বিছানা পাতা হইছে। কে বলবে গত পড়শু এই বিছানায় একটা লোমহর্ষক খুন হয়েছিলো। হাঁসির চাচা আমাদেরকে নিয়ে সামনের রুমে বসালেন। হাঁসির চাচাকে বললাম,”হাঁসিকে ডাক দেন। ওর সাথে কথা বলা দরকার।“
হাঁসির চাচা উঠে গিয়ে কিছুখন পর হাঁসিকে নিয়ে রুমে ঢুকল। এর আগের দুইদিন হাসিকে ভালভাবে দেখার সুযোগ হয়নি। মায়ের মৃত্যুর শোকে, এই দুই দিনে মেয়েটার চোখের নিচে কালি পরে গেসে। কিন্তু তাতে তার সৌন্দর্য খুব একটা মলিন করতে পারে নাই। বয়স কতই বা হবে। সতের বা আঠারো। কিন্তু হাঁসির উপচে পরা যৌবন দেখে সেটা বুঝার সুযোগ নেই।
জমীরউদ্দীন বলল,”হাঁসি বস। সেদিন রাতে যা হয়েছিলো তুমি কোন কিছুই টের পাওনি?”
হাঁসি কোন রকম মিনমিন করে বলল,“প্রতিদিন রাতে ওর মা ই আগে ঘুমায়। ওর পড়াশুনা শেষ করে ঘুমাইতে লেইট হয়। সকালে ওর মা ওকে ডাক দিয়ে দেয়। কিন্তু যেদিন মা খুন হয়, সেদিন ও উঠে ওর মাকে না দেখে ভিতরের রুমে গিয়ে মায়ের এই অবস্থা দেখে অজ্ঞান হয়ে যায়।।“ তারপর বাকি কিছু ওর মনে নাই। হাঁসির চাচা বলে উঠলো মনে থাকবো কেমনে! হাঁসি ওর মায়রে ওই অবস্থায় দেখে যে অজ্ঞান হয়, জ্ঞান ফিরে ঘন্টা খানেক পর।
জমীরউদ্দীন জিগ্যেস করল, “আচ্ছা হাঁসি, তুমি কাউকে সন্দেহ কর। বা তোমাদের সাথে কারো কোন রকম শত্রুতা আছে।“
“না স্যার আমার জানামতে গ্রামে কারো সাথে আমাদের কোন ঝগড়া বিবাদ নাই।“
“আচ্ছা ঘুমানোর আগে তো তোমরা তো ঘরের দরজা লাগিয়েই ঘুমাও?”
“হ্যা স্যার। আম্মা সন্ধ্যা হইতেই দরজা লাগিয়ে দিতো। আমি ঘুমানোর আগে আবার চেক করতাম।“
“সেদিন ও কি চেক করছিলা?”
“হ্যাঁ স্যার এইটা রোজকার অভ্যাস বলতে পারেন।“
আরো কিছু টুকটাক প্রশ্ন করে জমীরউদ্দীন বলল,”আচ্ছা ঠিকাচ্ছে তুমি রেস্ট নাও। পরে দরকার পরলে আবার আসবো।“

হাঁসিদের বাড়ি থেকে বের হয়ে জমীরউদ্দীন মেম্বারকে বলল,”চলেন লেকুদের বাড়িতে যাই। প্রতিবেশী হিসাবে লেকুর জবানবন্দী নেয়া দরকার।“ লেকু মিয়া বাড়িতেই ছিলো। পুলিশ কে তার বাড়িতে দেখে যেন একটু অবাক ই হইছে। অবশ্য এটা স্বাভাবিক, আমাদের দেশে সাধারন মানুষ চোর ডাকাত থেকে পুলিশ কে বেশি ভয় পায়। লেকু মিয়া সালাম দিয়ে,”আসেন স্যার ভিতরে আইসা বসেন।“
লেকু মিয়ার বাড়ির ভিতরটা তার আর্থিক দৈন্য অবস্থাই প্রকাশ করলো। আচ্ছা লেকু মিয়া যে রাতে হাঁসির মা খুন হয়, ঐ রাতে বাইরে কোন কিছু দেখেছেন? মানে সন্দেহজনক আর কি।“
“না স্যার আমার আবার ভুতের ভয় আছে। আমি রাত বিরাতে কাজ না থাকলে, খুব একটা বাইরে যাই না। প্রতিদিনের মত ওইদিন ও তাড়াতাড়ি শুয়ে পরি। সকালে উঠে গরুরে খাওন দিমু, এমন সময় হাঁসির চিৎকার শুইনা দৌড়াইয়া যাইয়া দেখি এই অবস্থা। পরে আশেপাশের সবারে খবর দেই।“
“আচ্ছা লেকু মিয়া তোমার চাচাতো ভাই রমিজ নাকি একবার হাঁসিরে বালাৎকার করার চেষ্টা করে? ঘটনা কি সত্যি?”
একথা শুনে লেকু মিয়ার মুখ শূকিয়ে গেল। হ্যাঁ স্যার সত্যি।“ জমীরউদ্দীন আবার জিগ্যেস করল, “তোমার ভাই তো সদরে থাকতো শুনলাম। মাস ছয়েক হল গ্রামে আসছে। সদর থেকে গ্রামে কেন আসছে?”
লেকু মিয়া উত্তর দেয়,”স্যার আমার চাচা ডা বুড়া মানুষ তারে তো দেখোন লাগবো। রমিজ্জা ছাড়া চাচা রে কেডা দেখবো?”

জমীরউদ্দীন বলল,“লেকু মিয়া চলেন আপনার চাচার বাড়িতে যাই।“
লেকু মিয়ার বাড়ির সাথে লাগোয়া বাড়িটাই রমিজদের। জমীরউদ্দীন সবাইকে নিয়ে রমিজদের বাড়িতে ঢুকতেই রমিজ মিয়ার দেখা পাইলো। রমিজ মিয়ার সাজসজ্জা দেখে মনে হইল, সে কোথাও যাওয়ার জন্য বের হইছে। জমীরউদ্দীনের কেন জানি মনে হইলো রমিজের সাথে চাষবাসের ব্যাপারটা যায় না। নাকি শহরে গিয়ে গ্রামের লেবাস ভুলে গেসে। যাইহোক পুলিশ দেখে রমিজ মিয়া বেশ অবাকই হইছে। পুলিশের সাথে লেকু মিয়ারে দেখে রমিজ জিগ্যেস করে,”লেকু ভাই পুলিশ কেন?” লেকু জবাব দেয়,”তোর সাথে পুলিশ একটু কথা কইবো। হাঁসির মার খুনের ব্যাপারে।“
জমীরউদ্দীন তিন জন কনস্টেবলকে বাইরে রেখে মেম্বার আর লেকু কে নিয়ে রমিজ মিয়ার ঘরে গিয়ে বসলো। রমিজ মিয়ার ঘরের অবস্থা লেকুর থেকে উন্নততর। আচ্ছা রমিজ মিয়া,”সদরে তুমি কতদিন ছিলে আর কি করতে?”
“স্যার সদরে আছিলাম বছর দুয়েক। একটা ছোট আবাসিক হোটেলে ফুট ফরমায়েশ খাটতাম” রমিজ মিয়া উত্তর দেয়।
“তা তুমি গ্রামে ফিরে আসলা কেন?”
“স্যার আমি ছাড়া এই বুড়া বাপটারে কে দেখবো?”
“বেশ কয়েকবছর আগে, তুমি নাকি তুমি হাঁসিরে বালাৎকারের চেষ্টা করছিলা?”
জমীরউদ্দীনের মুখে এ কথা শুনে রমিজ মিয়ার চোয়াল ঝুলে পরলো। জমীরউদ্দীন আরো বলল, গ্রামের সবার সামনে তোমাকে আর তোমার বাবকে যেঁ অপমান করা হয়। সেই অপমানের বদলা নিতেও তো হাঁসির মায়রে তুমি খুন করতে পারো।
এসব কিছু শুনে রমিজ মিয়ার মুখে কোন কথা যোগাল না। কোন রকমে মিনমিন করে বলল,”না স্যার। কি কন! আমি কেন খুন করতে যামু হাঁসির মায়রে। অইটা অনেক আগের কথা স্যার। তখন চেংরা আছিলাম বুঝতে পারি নাই তাই অমন করছিলাম।“ এইরকম কইরা আমি কোন দুঃখে নিজের কাধে বিপদ আনতে যামু?
জমীরউদ্দীন বলল, দুঃখে নারে রমিজ মিয়া। অপমানের বদলা নিতে এই বিপদ নিজের কাধে নিতে পার।“ আচ্ছা যাই হোক খুন তুমি করছো কি কর নাই সেটা দুই একদিনের মধ্যেই বের কইরা ফেলমু। তার আগে তোমার বাড়িটা একটু সার্চ করা লাগবো।“

চলবে....।।

প্রথম পর্বের লিংকঃ Click This Link
দ্বিতীয় পর্বের লিংকঃ Click This Link
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৮ রাত ১২:০২
৫টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সামহোয়্যারইন ব্লগ কেন বন্ধ?

লিখেছেন জাহিদ হাসান, ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৯ সকাল ১১:৩১

গত আগষ্ট মাসের ৫ তারিখে একটা পোস্ট করেছিলাম। ততদিন পর্যন্ত এই সামু ব্লগে আমি আমার ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট লাইন দিয়ে অনায়াসে ঢুকতে পারতাম। কিন্তু এর পর থেকেই এই সাইটে ঢুকতে গেলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

উপরের অর্ডার আসলে তা মানা ছাড়া উপায় নাই: অমিত সাহা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ২:৩২

অত্যন্ত মেধাবী একটি ছেলে (আবরার) বুয়েটে গিয়েছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে বলে। কিন্তু তার সহপাঠীরাই তাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।

এই মামলার অন্যতম প্রধান আসামি অমিত সাহা যুগান্তরকে বলেন, বুয়েটের ট্র্যাডিশনই এটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আবরাব একজন শিক্ষিত বুয়েটিয়ান হয়েও কিউবিক ফুট/সেকেন্ড মাপ না বুঝে ফেক নিউজে গা ভাসাইছিল।

লিখেছেন হাসান কালবৈশাখী, ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৯ দুপুর ২:৫১


ফেনী নদি। বাংলাদেশ অংশ থেকে তোলা।

একজন শিক্ষিত মেধাবী বুয়েটিয়ান হয়েও কোন স্টাডি নেই, বাঁশের কেল্লা টাইপ পেইজ থেকে জ্ঞান আরোহন।
আবরাব একজন শিক্ষিত বুয়েটিয়ান হয়েও কিউবিক ফুট/সেকেন্ড মাপ না বুঝে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অতি ভক্তি খন্দকার মোশতাকের লক্ষ্মণ...

লিখেছেন বিচার মানি তালগাছ আমার, ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৭



১. বুয়েটে ছাত্র রাজনীতি বন্ধ হওয়াতে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছাত্র/ছাত্রী ও অভিভাবকের প্রাথমিক বিজয় হয়েছে। তবে মিঁও মিঁও গ্রুপ এখনও আশা ছাড়ছে না এটা চালু রাখার। এদিকে এই মিঁও মিঁও গ্রুপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

অবলম্বন

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৩ ই অক্টোবর, ২০১৯ সন্ধ্যা ৬:০২


চোখের কাজল দেয়া কবে কবে ছেড়ে দিলে খেয়াল ই করিনি ।
ইদানিং তুমি আর অভিযোগ করোনা ।
সংসারের ঝঞ্ঝাটে সব স্বপ্নের জলছাপ মন থেকে মুছে গেছে মনে হয় ।
ক্রমশ মৃত্যুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×