উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-ভূমিকা
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-১
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-২
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৩
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৪
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৫
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৬
উপন্যাস : অবুঝ প্রেম-৭
-৮-
এখন সাগর নদীকে কি দিয়ে সারপ্রাইজ দিবে তা ভাবছে। আর অপর দিকে নদী ও ভাবছে সাগরকে কি দিয়ে সারপ্রাইজ দেওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত দুজনই ডিসিশন নিলো গোলাপ ফুল দেবার। কারণ ফুল যে কোন মানুষ ভালোবাসে, আর প্রকৃত পক্ষে যারা ফুল ভালোবাসেনা। তারা কোন দিন মানুষকে ভালোবাসতে পারে না। তাই সাগর ও নদী দুজনেরই ফুল খুব প্রিয়, আগামিকাল বৃহস্পতিবার ইংরেজী পরীক্ষা। সাগরের সারারাত একটুকুও ঘুম নেই শুধু পড়ছে আর লিখছে। পড়তে পড়তে ১২.৩০ বেজে গেলো। ঘুমাতে গেল সাগর।
ভোর বেলায় ফজরের নামাজের আযানের শব্দে ঘুম ভেংগে গেল সাগর ও নদীর। সাগর ও নদী দুজনেই অজু করে নামাজ পড়তে গেলো। নামাজ শেষে দুজন দুজনের পরীক্ষার জন্য দোয়া করতে লাগলো। নামাজ শেষে সাগর বাহিরে চেয়ে দেখলো লাল একটা আগুনের খন্ড পূর্ব দিকে আকাশের ভাসছে। এটা সুর্য’ সুর্য উদয় হওয়ার সাথে সাথে গাছে গাছে কত ফুল ফুটছে। পাখিরা কিচির মিচির করছে। সাগর রাতের বেলাই তার পরীক্ষার হলে যা কিছু লাগবে তা ঠিক করে রেখেছে। সকালে সাগর ভাবছে একটু ঘুরে আসি। কিছুক্ষণ হাটাহাটি করে সাগর দাঁত ব্রাশ করতে করতে আবার বাড়ী ফিরে আসলো। সাগর গোসল ও খাওয়া দাওয়া করতে করতে ৮.৩০ বেজে গেলো। মা ও বাবাকে সালাম করে প্রতিদিনের মত আজও গাড়িতে করে যাচ্ছে পরীক্ষা দিতে। ও পাশ দিয়ে নদী সাগরকে খুজছে কিন্তু পাচ্ছে না। সাগর স্কুলে গিয়ে গাড়িটা এক পাশে রেখে ভিতরে গেলো। এবার সাগর নদীকেও খুজছে কিন্ত নদীকে পাচ্ছে না। খুঁজতে খুঁজতে দুজন দুজনকে পেয়ে গেল। সাগর নদীকে এবং নদী সাগরকে একটি গোলাপ ফুল দিয়ে বলে এই নাও তোমাকে আমার ভালোবাসার উপহার দিলাম এবং যত দিন আমাদের পরীক্ষা শেষ না হচ্ছে ততদিন এই গোলাপের মাঝেই আমাকে খুঁজে পাবে। পরীক্ষার সময় হয়ে গেছে তাই সাগর ও নদী যার যার পরীক্ষার রুমে চলে গেল। কিছু সময়ের মধ্যে এসে শিক্ষকেরা খাতা দিতে লাগলো। খাতায় সবার নাম লেখা শুরু করল। নাম লেখা শেষ হতে না হতে ঘন্টা পড়ে গেলো। শিক্ষকরা সকলের হাতে প্রশ্ন পৌছে দিল। প্রশ্ন পেয়ে সকলে প্রশ্ন পড়তে লাগল। প্রশ্নে যা কিছু এসেছে সবকিছুই কমন পড়েছে। তাই সময় নষ্ট না করে সকলে লেখা শুরু করল। একে একে তিন ঘন্টা পার হয়ে গেলো। সকল খাতা শিক্ষকরা জমা করে নিলো। সাগর নদী ও অন্যান্য বন্ধুরা জিজ্ঞাসা করে কিরে পরীক্ষা কেমন হলো। সবার একই কথা লিখেছি তো ১০০ মার্কের উত্তর। তবে ৮০ নিচে পাবনা। এভাবে একটার পর একটা পরীক্ষা দিয়ে যাচ্ছে।
শেষ পরীক্ষার দিন সাগর সবাইকে এক জায়গায় জড়ো করে গল্প করছে। বিভিন্ন গল্প শেষে সাগর বলল এবার তো আমাদের পরীক্ষা শেষ লম্বা একটা ছুটি পেয়েছি, চল তাহলে এই সময়টাকে একটু আনন্দে কাটিয়ে আসি। বন্ধুরা বলে তাহলে সাগর কি বলতে চাস খুলাখুলি বল। সাগর বলে আমরা সবাই মিলে কুয়াকাটা থেকে পিকনিক করে আসি। কিছু সময় সকলে চিন্তার ভিতরে ডুবে গেল। চিন্তার রাজ্য থেকে সবাই ফিরে রাজি হলো। কিন্তু কবে যাবো আমরা পিকনিকে প্রশ্ন করলো অনেকে। সাগর ও তার বন্ধুরা মিলে ঠিক করলো আসছে সামনে মাসের ১৫ই এপ্রিল তারিখে। সবাইকে ৫০০ টাকা করে ধরা হলো। মোট যাবে ২৪ জন। প্রায় ১২০০০ টাকা হবে। সকলে বলছে ভালই হবে । সাগর বলল তাহলে ঐ কথাই রইল। আমরা ১লা এপ্রিল পিকনিকে যাব। সবাই যার যার মত বাড়িতে চলে গেল। সবার মনে খুব খুশি লাগছে । তবুও কেন যেন সময় কাটছে না। আগে সবাই পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত ছিল তাই কোন সময় যে দিন গিয়ে রাত আসতো তা বুঝতে পারতো না। কিন্তু এখন সময় কিছুতেই কাটছেনা মনে হয় ৮০ মিনিটে এক ঘন্টা। তবুও যাই হোক ৮০ মিনিটে যাক আর ৬০ মিনিটে যাক সময় কিন্তু ঠিকই পার হয়ে যাচ্ছে। দিন গিয়ে রাত আর রাত গিয়ে দিন দেখতে দেখতে চলে এল ২৮শে মার্চ। সাগর তার সকল বন্ধু বান্ধবদের বাড়ীতে খবর দিল। আজ বিকাল ৫টায় সবাই মাঠে টাকা নিয়ে হাজির হবেই। সকলে বিকাল ৫টায় টাকা নিয়ে আসলো বিভিন্ন আলাপ আলোচনা করছে আর এর ভিতরে সাগর সকলের কাছ থেকে টাকা নিল। সবাই টাকা দিল কেউ বাকি ছিল না। এখন সমস্ত চাপ পড়ল সাগরের উপর গাড়ী ভাড়া, ডেকরেটর ভাড়া,ভিডিও নেওয়া সহ বাজার করার দায়িত্ব ও সাগরের উপর পড়ল। সাগর দুদিনের ভিতরেই তার দুই বন্ধু কে নিয়ে সব কিছু ম্যানেজ করে ফেলল। তারপর..................

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


