somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ইভটিজিং, দায়ী কে?

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ১২:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইভটিজিং শব্দটির সাথে আমরা সবাই কম বেশী পরিচিত। ইভটিজিং সচরাচর নারীদেরকে করা হয় তা আমারা সবাই জানি কিন্তু ক্ষেত্রবিশেষ পুরুষেরাও ইভটিজিং এর স্বীকার হয় তবে সেটা ভিন্ন নামে প্রকাশ পায়।

এই ইভটিজিং এর পিছনে দায়ী কারা, নারী নিজে নাকি পুরুষেরা না নারী পুরুষ সবাই?
আসলে দায় সবারই, তারতম্য কম বা বেশী। অনেকে ইভটিজিং এর জন্য নারীর পোশাক পরিচ্ছদ আর চালচলনকে দায়ী করেন কিন্তু এটাই একমাত্র কারন নয় এটা অনেকগুলো কারণের একটা হতে পারে। বাজারে ভালে ভালো খাবার দেখলেই কি আপনাকে সেগুলোর উপর হামলে পড়তে হবে? দেখতে হবে সেগুলোর মালিক কে, আদেী কি আপনি সে খাবারগুলো কিনতে পারার যেীগ্য কিনা বা আপনার সামর্থ আছে কিনা? নারী অশালীন পোশাক পরলেই কি তাকে ইভটিজিং করতে হবে? আর নারী অশালীন পোশাক পরে বের হয়েছে বিধায় আপনি তাকে কটু কথা বলবেন অশ্লীল ইঙ্গিত করবেন আর নারী যখন পর্দার সাথে বের হয় তখন কি আপনি তাদেরকে সালাম করেন, তার ভালো গুনগুলো অনুসরন করেন? না আপনি তা করেন না, করবেন না, আপনার লক্ষ্য নারীর পোষাক নয় নারীই আপনার লক্ষ্য।

কেউ রাস্তায় উলংগ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকুক বা বোরকা পরে থাকুক তাতে মাথাব্যথা থাকবে কেন? সব অশ্লীল কাজ করার সামর্থ্য কি আমাদের আছে? নাই আমাদের যেমন সব ভালে কাজ করার সামর্থ্য নাই তেমনি সব খারাপ কাজ করার সামর্থ্যও আমাদের নাই। আর আমাদের নারীরা যদি তাদের পোশাক আশাকে একটু শালীনতা অবলম্বন করে নিজেদের রক্ষা করতে পারে তাহলে সেখানে তাদের আপত্তি থাকবে কেন? নারী যদি ইচ্ছা করে নিজেকে অন্যের কাছে পন্য হিসাবে উপস্থাপন করে তবে তা যাছাই বাছাই করার জন্য পুরুষ আসবেই। তাই নারী নিজেকে অন্যের কাছ থেকে রক্ষা করার জন্য পোশাক আশাক আচার আচরন চালচলনে শালীন হতে হবে। অশালীন চরিত্রের নারীরা সবচেয়ে বেশী নিগৃহিত হয় আর পর্দানশীন শালীন পোশাকের নারীরা ইভটিজিং এর স্বীকার হয়েছেন এমন নজির খুবই দূর্লভ।

আবার অনেকেই নারীর উপর পুরুষের প্রাধান্য কে দায়ী করে থাকেন যদিও বাংলাদেশে এখন সকল ক্ষমতাধর ব্যাক্তিরা নারী।কেবল নারীর ক্ষমতায়নই নারীর প্রতি অসদাচারন রুখতে পারবেনা যার প্রমান বাংলাদেশ। তাই নারীর ক্ষমতায়নের পাশাপাশি নারীর সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে এবং নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য উসকানিমূলক স্বভাব পরিত্যাগ করতে হবে।

এমনও লোক আছে যারা মনে করে অন্যায় অত্যাচার নারীরা মুখ বুজে সহ্য করে নেয় আর জোরালো প্রতিবাদ করতে পারেনা বিধায় তারা ইভটিজিং এর স্বীকার হয়।নারী প্রতিবাদ করলেই কি ইভটিজিং বন্ধ হয়ে যাবে? কয়েকজন সামর্থ্যবান পুরুষের সাথে একজন নারীর প্রতিবাদের ভাষা কতটুকু প্রভাব ফেলবে তা সহজেই অনুমেয়।

দেশের প্রচলিত আইন, বিচার প্রক্রিয়াকেও দায়ী করেন এক শ্রেনীর মানুষ। দেশের প্রচলিত আইনে ইভটিজারদের শাস্তির বিধান দূর্বল ও মামলার দীর্ঘসূত্রতা থাকায় ইভটিজাররা সহজে পার পেয়ে যায়। কঠোর নীতিমালা করে ইভটিজারদের শাস্তির আওতায় আনলে ইভটিজিং এর মাত্রা কমানো সম্ভব।

তবে সবচেয়ে বেশী যেীক্তিক একটি কারন হলো নারী পুরুষ সবার মাঝে ধর্মীয় অনুশীলনের অভাবই ইভটিজিং এর অন্যতম কারণ। ইসলামে চক্ষু ও লজ্জাস্থানের হেফাজতকে ফরজ করা হয়েছে আর যার চক্ষু ও লজ্জাস্থানের হেফাজত থাকবে তার দ্বারা ইভটিজিং কোন ভাবেই সম্ভব নয়। আমরা সবাই যদি ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলি, ধর্মীয় বিধিবিধান মেনে চলি, সবাই তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখি তাহলে ইভটিজিং কেন, কোন অপরাধই সংগঠিত হবে না। আর একমাত্র ধর্মীয় বিধানই পারে আমাদের এই অভিশাপ থেকে মুক্তি দিতে পারে।

ইভটিজিং এর কারণ যাই হোক ইভটিজিং বর্তমানে একটি সামাজিক ব্যধিতে পরিনত হয়েছে। এই ইভটিজিং এর স্বীকার হয়ে অনেক নারী আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। এই আত্মহনন কোন সমাধান নয় বরং ইভটিজারদের বিরুদ্ধে লড়াই করাই সঠিক সমাধান।ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে ইভটিজারদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে, আইন করে ইভটিজারদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। যার যার অবস্থানে থেকে সবাইকে ইভটিজারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে এবং নিজেদেরকে ইভটিজিং থেকে দূরে রাখতে হবে

- সংগ্রীহিত
৩১টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৩

ফেসবুক অ্যাক্টিভ মানেই- অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নয়।

বর্তমান ডিজিটাল যুগে ‘অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট’ একটি বহুল ব্যবহৃত পরিচয়। সামাজিক এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে এই পরিচয়ের কদর দিন দিন বাড়ছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে- ফেসবুকে নিয়মিত পোস্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×