somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শান্তার জন্য

১২ ই মার্চ, ২০০৬ রাত ১১:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক দিন পর কবিতা, কবিতা নয় নিজের গ্লানি লিখে রাখি,
অনেক দিন পর নিজের মানবজন্ম ত্যাগ করে পশুজন্মে ফিরে যেতে লোভ হয়
যদি তুমি আদরের বিড়াল হতে বা ফুটপাতের বেওয়ারিশ কুকুর
ক্ষতি হতো না শান্তা,
প্রতিদিনের আবর্জনার সাথে অসতর্ক পথচারির লাথি জুটতো কপালে
বিন্দুমাত্র ব্যাবধান নেই তোমার গন্তব্য বা ভবিষ্যতে
পথচারী বেওয়ারিশ কুকুরের মতো কালো ভ্যানে আসছে
কুকুর শিকারি মানুষের দল
বেওয়ারিশ কুকুর নিধনযঞ্জ হবে
আজ গর্ভের শিশুকে পদদলিত করা হবে,
গর্ভ ীনি কুকুরের পেটে লাথি মার
বেজন্মা বাচ্চা ঝরে যাক
খানকির সাহস কতো
মিছিলের সামনে সামনে হাঁটে
গরম পানি ঢাল বেশ্যার গায়ে
সব আবরন খসে যাক
মিরপুর রোড়ে দুপুরের রোদে তোমার জন্মন্তর হয়
তুমি মানুষ থেকে কুকুরে রূপান্তরিত হও
শান্তা লজ্জা মানুষের আবরন নয়
তোমাকে দেখে লজ্জিত হতে ভুলে যাই
আমার মানব জন্মের পাশবিকতা দেখে আভরন খুলে
মনে হয় তোমার পাশে শুয়ে
কুকুরের মতো লাথির বৃষ্টিতে নিজের অনাগত সন্তানের জীবন ভিক্ষা করি
কাঁদানে গ্যাসের আড়ালে পুলিশের মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাওয়ার পর
কিংবা সমসাময়িক সহঘটমান দৃশ্যগুলোকে
এখন স্পিলবার্গ ীয় মনে হয়
মনে পড়ে শোধনের নামে মানবতার চরম লাঞ্ছনা
গুপ্ত হত্যা বীভৎসতার সব ছবির
অদ্ভুত একাঙ্কিকা
কোথায় যাচ্ছিলে?
ধানমন্ডির স্কুলের বাজার থেকে নিজের সন্তানকে খুঁজে আনতে
সামনে মিছিলের জটলা,
পুলিশি বীভৎসতার নৈমিত্তি্বক চিত্রায়ন
তুমি রিকশা থেকে নেমে গেলে ফুটপাতে
নরক থেকে ঝড়ে পড়ে গরম নহর
কিঙ্করবৃষ্টি হয়
আবরাহা কিংবা নমরূদ কিংবা সা'দের মতো ইশ্বরের প্রতিপক্ষ ছিলে না
তুমি ছিলে বাঙ্গালি সাধারন মা
কি ভাবছিলে তুমি যখন তোমার পেটে লাথি মারলো কতিপয় জননি পুলিশ
বাছা আমার গর্ভেই তোর নিরাপদ আশ্রয় ছিলো,
সেখানেই কি তোর কবর হবে আজ?
কি ভাবছিলে যখন বীর পুঙ্গব কতিপয় নপুংশক ভ্যানের পিছনে উঠে ব্যাটনের এক অংশ
এভাবেই অনেকের অনেক ব্যাটন একে একে গর্ভে প্রবিষ্ট হয়
মিরপুর রোডে দুপুরের রোদের রক্ত ঝড়ে
মিরপুর রোদ আহা কবিতায় কত মনোরম
কি ভাবছিলে তুমি শান্তা
যখন গর্ভের শিশুর উপরে নামে পুলিশের বুট
কি ভাবছিলে তুমি শান্তা
যখন করূন আর্তি সব বৃথা
যখন গর্ভই কবরের মতো অনাগত ফুলকে পিষ্ট করে
কি ভাবছিলে তুমি
95 ইয়াসমিন
97 সীমা
99 রুবেল
আর 2001 থেকে 2006এর যাবতীয় নৃশংসতা দেখে মুঢ় জনতার রক্তক্ষরণের বিবশতা?
মানুষের চেতনা জুড়ে শুধু লাল রং
রক্তের লাল
প্রতিবাদের লাল
আর গর্ভের শিশুর ভেতরে অন্ধকার
অন্ধ শিশু
অবুঝ মিছিলের সামনে ছিলে তুমি
তোমার গর্ভে ছিলো শিশু
শিশুতো হরতাল বুঝে না
শিশুতো ধর্মঘট রাষ্ট্র ক্ষমতা বুঝে না
শিশুতো কখনই প্রকাশ্যে মানবতা লুণ্ঠন করে নি কোনো দিন
শিশুতো রক্ত আর রংয়ের ফারাক বুঝে না
শিশুতো এখনও পৃথিবীর পাপ মাখে নি গায়ে
তবুও
মিরপুর রোডে দুপুরের রোদে অন্ধকার ঝড়ে পড়ে
তবুও মিরপুর রোডে মিছিলের শেষে
তোমার গর্ভের শিশুর উপরে রাষ্ট্র লাঠিচার্জ করে
তবুও মানুষ পরদিন সকালে খবরের কাগজে নারকীয় বীভৎসতা আর চায়ের স্বাদু উত্তাপে মাখামাখি প্রাতঃকৃত্য
মিরপুর রোডের পরদিন তেমনই ব্যাস্ত যেমনটা গতকাল ছিলো
সেখানে তোমার নষ্ট গর্ভের স্মরনে কোনো মঞ্চ হবে না
সেখানে রাসেল স্কয়ারে
আবার জনসভা
ক্ষমতার দাবি
মানবতার দাবি উঠবে
সেখানে 32 নাম্বারের কৃষঞচুঁড়া এবার বৈশাখে তার মোনোহর রূপের পসরা সাজাবে
আমি নিজের গ্লানি ভুলে আবার নিজস্বআঁধারে মলিন হবো
দু এক ফোটা বৃষ্টি ঝড়বে
শান্তা ক্ষমা প্রার্থনা কোনো সমাধান নয়
আমি তোমার পাশে শুয়ে
যদি
যদি তোমার শিশুর উপরে পরা
একটা লাথি
একটা ব্যাটন
নিজের পিঠে নিতে পারতাম
যদি আমরা সবাই একএকটা লাথি আর ব্যাটনের আঘাত পিঠে নিয়ে
তোমার গর্ভের কবর থেকে উদ্ধার করে আনতে পারতাম আমাদের ভবিষ্যত
ভালো লাগতো
আবারও অন্ধকার একটা কবিতা লেখার লজ্জায় ম্রিয়মান আমি আজ কোনো আলো দেখাতে পারলাম না
আজ সারাদিন গ্রহণ
আজ সারাদিন শুধু রক্ত ঝড়ছে
বাংলাদেশের 56 হাজার বর্গমাইল
আজ শিশুর রক্তে মাখামাখি।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৩:৩৯
১১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির উত্থান বাংলাদেশের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ০৫ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:২৯

পশ্চিমবঙ্গের বিধান সভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয় এবং এর ফলে উদ্ভূত আদর্শিক পরিবর্তন কেবল ভারতের একটি প্রাদেশিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের খারাপ দিনের পর

লিখেছেন সামিয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪




আমার মাথা যেন আর কাজ করছিল না। বাইরে থেকে আমি স্বাভাবিক হাঁটছি, চলছি, পড়ছি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছি কিন্তু ভেতরে ভেতরে আমি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিলাম মায়ের কথা ছোট বোনটার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কিংকর্তব্যবিমূঢ়

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৩৩


দীর্ঘদিন আগে আমার ব্যক্তিগত ব্লগ সাইটের কোন এক পোস্টে ঘটা করে জানান দিয়ে ফেইসবুক থেকে বিদায় নিয়েছিলাম। কারণ ছিলো খুব সাধারন বিষয়, সময় অপচয়। স্ক্রল করে করে মানুষের আদ্য-পান্ত জেনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গেরুয়া মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গ: একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও শিক্ষা।

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৫ ই মে, ২০২৬ রাত ১০:৩৮


দীর্ঘ ১৫ বছরের টিএমসির শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অবশেষে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতীয় রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের এই ভূমিধস জয়ের পেছনে অবশ্য মোদি ম্যাজিকের চেয়ে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতার ব্যর্থতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিজের দোষ দেখা যায় না, পরের দোষ গুনে সারা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই মে, ২০২৬ রাত ২:১০


ভারতের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পতন নিয়ে বাংলাদেশে যে পরিমাণ চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে, তা দেখে অবাক না হয়ে উপায় নেই। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢুকলেই দেখা যায় অদ্ভুত সব তত্ত্ব। ফেইসবুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×