অনেক দিন পর কবিতা, কবিতা নয় নিজের গ্লানি লিখে রাখি,
অনেক দিন পর নিজের মানবজন্ম ত্যাগ করে পশুজন্মে ফিরে যেতে লোভ হয়
যদি তুমি আদরের বিড়াল হতে বা ফুটপাতের বেওয়ারিশ কুকুর
ক্ষতি হতো না শান্তা,
প্রতিদিনের আবর্জনার সাথে অসতর্ক পথচারির লাথি জুটতো কপালে
বিন্দুমাত্র ব্যাবধান নেই তোমার গন্তব্য বা ভবিষ্যতে
পথচারী বেওয়ারিশ কুকুরের মতো কালো ভ্যানে আসছে
কুকুর শিকারি মানুষের দল
বেওয়ারিশ কুকুর নিধনযঞ্জ হবে
আজ গর্ভের শিশুকে পদদলিত করা হবে,
গর্ভ ীনি কুকুরের পেটে লাথি মার
বেজন্মা বাচ্চা ঝরে যাক
খানকির সাহস কতো
মিছিলের সামনে সামনে হাঁটে
গরম পানি ঢাল বেশ্যার গায়ে
সব আবরন খসে যাক
মিরপুর রোড়ে দুপুরের রোদে তোমার জন্মন্তর হয়
তুমি মানুষ থেকে কুকুরে রূপান্তরিত হও
শান্তা লজ্জা মানুষের আবরন নয়
তোমাকে দেখে লজ্জিত হতে ভুলে যাই
আমার মানব জন্মের পাশবিকতা দেখে আভরন খুলে
মনে হয় তোমার পাশে শুয়ে
কুকুরের মতো লাথির বৃষ্টিতে নিজের অনাগত সন্তানের জীবন ভিক্ষা করি
কাঁদানে গ্যাসের আড়ালে পুলিশের মনুষ্যত্ব হারিয়ে যাওয়ার পর
কিংবা সমসাময়িক সহঘটমান দৃশ্যগুলোকে
এখন স্পিলবার্গ ীয় মনে হয়
মনে পড়ে শোধনের নামে মানবতার চরম লাঞ্ছনা
গুপ্ত হত্যা বীভৎসতার সব ছবির
অদ্ভুত একাঙ্কিকা
কোথায় যাচ্ছিলে?
ধানমন্ডির স্কুলের বাজার থেকে নিজের সন্তানকে খুঁজে আনতে
সামনে মিছিলের জটলা,
পুলিশি বীভৎসতার নৈমিত্তি্বক চিত্রায়ন
তুমি রিকশা থেকে নেমে গেলে ফুটপাতে
নরক থেকে ঝড়ে পড়ে গরম নহর
কিঙ্করবৃষ্টি হয়
আবরাহা কিংবা নমরূদ কিংবা সা'দের মতো ইশ্বরের প্রতিপক্ষ ছিলে না
তুমি ছিলে বাঙ্গালি সাধারন মা
কি ভাবছিলে তুমি যখন তোমার পেটে লাথি মারলো কতিপয় জননি পুলিশ
বাছা আমার গর্ভেই তোর নিরাপদ আশ্রয় ছিলো,
সেখানেই কি তোর কবর হবে আজ?
কি ভাবছিলে যখন বীর পুঙ্গব কতিপয় নপুংশক ভ্যানের পিছনে উঠে ব্যাটনের এক অংশ
এভাবেই অনেকের অনেক ব্যাটন একে একে গর্ভে প্রবিষ্ট হয়
মিরপুর রোডে দুপুরের রোদের রক্ত ঝড়ে
মিরপুর রোদ আহা কবিতায় কত মনোরম
কি ভাবছিলে তুমি শান্তা
যখন গর্ভের শিশুর উপরে নামে পুলিশের বুট
কি ভাবছিলে তুমি শান্তা
যখন করূন আর্তি সব বৃথা
যখন গর্ভই কবরের মতো অনাগত ফুলকে পিষ্ট করে
কি ভাবছিলে তুমি
95 ইয়াসমিন
97 সীমা
99 রুবেল
আর 2001 থেকে 2006এর যাবতীয় নৃশংসতা দেখে মুঢ় জনতার রক্তক্ষরণের বিবশতা?
মানুষের চেতনা জুড়ে শুধু লাল রং
রক্তের লাল
প্রতিবাদের লাল
আর গর্ভের শিশুর ভেতরে অন্ধকার
অন্ধ শিশু
অবুঝ মিছিলের সামনে ছিলে তুমি
তোমার গর্ভে ছিলো শিশু
শিশুতো হরতাল বুঝে না
শিশুতো ধর্মঘট রাষ্ট্র ক্ষমতা বুঝে না
শিশুতো কখনই প্রকাশ্যে মানবতা লুণ্ঠন করে নি কোনো দিন
শিশুতো রক্ত আর রংয়ের ফারাক বুঝে না
শিশুতো এখনও পৃথিবীর পাপ মাখে নি গায়ে
তবুও
মিরপুর রোডে দুপুরের রোদে অন্ধকার ঝড়ে পড়ে
তবুও মিরপুর রোডে মিছিলের শেষে
তোমার গর্ভের শিশুর উপরে রাষ্ট্র লাঠিচার্জ করে
তবুও মানুষ পরদিন সকালে খবরের কাগজে নারকীয় বীভৎসতা আর চায়ের স্বাদু উত্তাপে মাখামাখি প্রাতঃকৃত্য
মিরপুর রোডের পরদিন তেমনই ব্যাস্ত যেমনটা গতকাল ছিলো
সেখানে তোমার নষ্ট গর্ভের স্মরনে কোনো মঞ্চ হবে না
সেখানে রাসেল স্কয়ারে
আবার জনসভা
ক্ষমতার দাবি
মানবতার দাবি উঠবে
সেখানে 32 নাম্বারের কৃষঞচুঁড়া এবার বৈশাখে তার মোনোহর রূপের পসরা সাজাবে
আমি নিজের গ্লানি ভুলে আবার নিজস্বআঁধারে মলিন হবো
দু এক ফোটা বৃষ্টি ঝড়বে
শান্তা ক্ষমা প্রার্থনা কোনো সমাধান নয়
আমি তোমার পাশে শুয়ে
যদি
যদি তোমার শিশুর উপরে পরা
একটা লাথি
একটা ব্যাটন
নিজের পিঠে নিতে পারতাম
যদি আমরা সবাই একএকটা লাথি আর ব্যাটনের আঘাত পিঠে নিয়ে
তোমার গর্ভের কবর থেকে উদ্ধার করে আনতে পারতাম আমাদের ভবিষ্যত
ভালো লাগতো
আবারও অন্ধকার একটা কবিতা লেখার লজ্জায় ম্রিয়মান আমি আজ কোনো আলো দেখাতে পারলাম না
আজ সারাদিন গ্রহণ
আজ সারাদিন শুধু রক্ত ঝড়ছে
বাংলাদেশের 56 হাজার বর্গমাইল
আজ শিশুর রক্তে মাখামাখি।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৩:৩৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



