somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এলোমেলো

১৭ ই মার্চ, ২০০৬ বিকাল ৪:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক গর্ধব কোথা থেকে যেনো একটা সিংহের চামড়া চুরি করেছিলো, সেই চামড়া পরে জংগলে ঘুরতো আলাদা ভাব নিয়ে মাঝে মাঝে খাস ঢাকাইয়া ভাষায় গাধামি করতো। আর মনটা একটু উদাস থাকলে সিংহের হুংকার দেওয়ার চেষ্টা করতো। গাধার গলায় সুর নেই, তাই তার বিশ্রী স্বরের কাঁপনে জঙ্গলের পশুকূল বিরক্ত হলেও হজম করতো, হাজার হোক গাধার মতো কাজ করছে এটা নিয়ে কিছুতো বলার নেই।
এক পিঁপড়ার প্রেম হয়েছিলো হাতির সাথে, অনেক আশনাইয়ের পর একদিন তারা বিয়ে করলো, বাসর রাতে তাদের মিলন হচ্ছিল বেল গাছের নীচে।
হাতির মাথায় পড়লো বেল, হাতি কেঁপে উঠলো। পিঁপড়া পেছন থেকে বলে, ডার্লিং বেশী ব্যাথ্যা দিয়ে ফেললাম নাকি?
কিন্তু বেলটা পড়েছিলো বেমওকা জায়গায়। সে আঘাতে হাতি ধরাশায়ি, পিঁপড়া গর্ব নিয়ে নীচেনামলো। মেনে বললো দেখতে হবে না , এমন পৌরুষ কি অন্য কারো আছে??
কিন্তু এর পরে সে কাঁদতে বসলো, হাউমাউ করে কান্দে,
বনের সব পশুপাখি যারা গতরাতেই আমন্ত্রিত অথিতি হয়ে বিয়ের খানা খেয়ে গেছে তারা এসে পিঁপড়াকে সান্তনা দেয়, বউ কি আর সবার থাকে রে পাগলা, এক দিন না একদিন তো সবাইকে মরতেই হবে,
পিঁপরার কান্না বাড়ে, অবশেষে ফোঁপাতে ফোঁপাতে যা বললো তা এ রকম, কাঁদি আমি আমার দুঃখে, এড় রাতের আনন্দের পর আমাকে সারা জীবন কবর খুড়তে হবে,

এক বার এক গন্ধগোকুল গিয়ে ল্যাজ নাড়ালো খরগোশের ঘরে, গন্ধে অন্ধ হয়ে খরগোশ ছুটলো দিকবিদিক জ্ঞানশুন্য হয়ে, তার দৌড় দেখে দৌড়ালো হাতি, হাতির পায়ের নীচে চাপা পড়লো শেয়ালের ছানা, এ দুঃখে শেয়াল কামড়ে দিলো জলহস্তিকে, জলহস্তির হলো জলাতঙ্ক, এখন সে থাকে গাছের ডালে, কিন্তু গাছের ডালে থাকা বাঁদরের পছন্দ হলো না তা, তার বিচার দিবে ঠিক করলো রাজার কাছে।
কিন্তু রাজ্যে কেউই বাঁদর দেখতে পারতো না, সবাই লাঠি হাতে তাড়া করতো, বাঁদরের উৎপাত বেড়ে যাওয়ায় এমন হয়েছিলো অবশ্য। এমন সময় বাঁদররা তাদের মুখপত্র নিয়োগ করলো গর্ধবকে।
গর্ধব একটা মানপত্র লিখে হাজির হলো রাজার দরবারে। হে মহান রাজন, আপনার রাজ্যে বাঁদরের অপমান হয়, আমি সিংহের অবর্তমানে বনের পশুসম্মান পুনরুদ্ধারের মহান দায়িত্ব নিয়েছি, আমার বাঁদর ভাইদের দুঃখে আমার চোখ ফেটে কান্না আসে, হুজুর আপনি বিহিত করেন , এভাবে বাঁদরের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলা কি কারও উচিত? দেখেন বাঁদর কতো সভ্য দলগত রাজনীতি করে, কিন্তু বাঁদরের বাচ্চার নিষ্পাপ মুখের দিকে তাকান, তার দু চোখের পানিতেও কি আপনার পাষান হৃদয় গলে না? আমি আপনার কাছে ন্যায় বিচারের দাবি নিয়ে এসেছি, আমি আপনাকেই রাজন মানি, আপনি এর বিহিত করেন হে রাজন।

সভাসদ হেসে উলটে পরে, গর্ধবের মেজাজ যায় খারাপ হয়ে, সে টাইম আউট নিয়ে টয়লেটে যায়, সেখানে গিয়ে সিংহের পোশাক পড়ে আবার সংসদে ফিড়ে আসে, এসে গাধার কণ্ঠে সিংহের ডাক ছাড়ে, খাস ঢাকাইয়া ভাষার হুংকার শুনে সভায় হাস্যরোল বয়, সবাই গড়াতে গড়াতে হাসতে হাসতে মরে যাওয়া অবস্থায়, এক জন বলেন, বাছা, তোমার পোশাকটা ভালোই , পোশাকের সাথে কেশরটাও মানিয়েছে কিন্তু তোমার গর্জনে তো আর গভভিনির গভভপাত হবে না, তুমি গাধা, তুমি হাজর গলা সাধলেও সেটা গাধার গলাই থাকবে, কেনো বৃথা সিংহ সাজতে চাও, তার চেয়ে গাধা হয়ে স্বরূপে যদি কথা বলতে ভালো লাগতো আমাদের।

বাঁদরের বাঁদরামি কমে নি, তবে বনে শৃংখলা ফিরেছে , মাঝখানে গাধা খুড়ের তাল ঠুকতে শিখেছে, সে এখন বনের সংগীত উপদেষ্টা, অবশ্য দুর্জনেরা বলে, ইজ্জত বেছতে পারলে গাধার মতো অনেকেই প্রধান মন্ত্রি হয়ে যেতো, গাধা বলেই এখনও উপদেষ্টা হয়ে আছে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×